আমার স্বপ্নের নাম “তুমি”

মামা চায়ে চিনি কম দিও। চিনি বেশী থাকলে কিন্তু চায়ের দাম দিব না। আর শোন একটা বেনসন দিও।

ঠিক আছে মামা। সিগারেট টা নেন।

সিগারেট টা হাতে নিয়ে রাস্তার বিপরীত পাশে তাকাতেই দেখি মাইশা আসছে।তার হাতে একটা বড়সর ব্যাগ। ব্যাগের ওজনে সে কিছুটা কুজো হয়ে হাটছে। কোথাও যাবে নাকি ? আমাকে তো কিছুই বলল না। একটু চোখাচোখি হতেই সিগারেট টা ফেলে দিলাম। আমি এত বেশী সিগারেট খাই সেটা মাইশার পছন্দ না। তাই লুকিয়ে খেতে হয়।

মামা চা নেন।

চায়ের কাপ হাতে নিতেই মাইশা আমার চোখের সামনে।
সিগারেট খাচ্ছিলে?

হুম।কিন্তু তুমি দেখলে কিভাবে ? তোমার দেখার আগেই তো ফেলে দিলাম।

খেতে দেখিনি।

তবে ?

তুমি হয়ত ভুলে গেছো আমি বোমক্যেশের ভক্ত। শিষ্যও বলতে পারো। আমার সাথে চোখাচোখি হতেই দেখলাম তোমার হাত পিছনে। তুমি আমাকে দেখে কিছুটা হলেও বিস্মিত হয়েছো। আর বিস্মিত হলে মানুষের হাত পিছনে থাকবে না, থাকবে সামনে। কারন মানুষ বিস্মিত হলে কিছুটা সময়ের জন্য ভাবলেশহীন হয়ে যায়। তুমি হাত পিছনে নিয়েছো কারন আমাকে দেখে ভয় পেয়েছো।

ওরে বাপরে! তারিফ করতেই হয়।

অবাক হওয়ার কিছুই নেই।গোয়েন্দা বিদ্যা নির্ভর করে যুক্তির উপর। আর যুক্তি কোন অবাক হওয়ার বিষয় নয়। গোয়েন্দাদের অবাক হতে নেই।

বাই দ্যা ওয়ে সরি। একটু টেনশনে ছিলাম তাই নিকোটিনের প্রয়োজন ছিল।
মাইশা কিছুটা হেসে জবাব দিল সরি বলতে হবে না। আমি তোমার এই কান্ডে কিছুটা খুশী।

খুশী !

হ্যা খুশী। তুমি আমাকে ভয় পেয়ে সিগারেট ফেলে দিছো। জহির চাচা বলেছেন প্রেমিকদের প্রেমিকাকে সম্মানীয় ভয় পাওয়া উচিত।

জহির চাচা কে ?

জহির চাচা হল আমার মায়ের খালাত ভাই। আমার মতে তার থেকে বেশী জ্ঞানী মানুষ অন্তত এই বাংলাদেশে নেই।

একটা কথা বলি ?

হ্যা বল

ব্যাগে কি ?

মাইশা কিছুটা গম্ভীর হয়ে জবাব দিল, আমার জামা কাপড় আর কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস। এখন থেকে তোমার সাথে থাকবো।

আমার সাথে থাকবে মানে ! তোমার বাবা-মা জানে ?

বাবাকে বলে এসেছি যে স্বামীর সাথে থাকতে যাচ্ছি। বিয়ের পর মেয়েদের আবাস স্বামীর ঠিকানায় হওয়া উচিত।

আমি কিছুটা অবাক হয়ে বললাম, বাবা কিছু বলল না ?

বলেছে তুমি একটা অকর্মণ্য। আমার মাথাটা তুমি নষ্ট করেছো। আমি বলেছি, সে অকর্মণ্য না। সে কাজের জন্য কাজ খুছছে।

বাবাকে এভাবে বিয়ের কথা জানানো ঠিক হয় নি। তুমি তাদের একমাত্র কন্যা।তারা মনে কষ্ট পাবে।

সেটা আমি জানি। তোমার বলতে হবে না। কিন্তু প্রতিদিন প্রপোজালের ঝামেলা, পাত্রের সাথে নাটক অভিনয় করা আমার পক্ষে সম্ভব না। মনে হয় পরকীয়া করছি।

আমি হেসে দিলাম।

হাসবা না। তোমাকে অনেক কাজ করতে হবে। মাসের বাকী সাত দিন। এই সাত দিন আমি তোমার মেসে থাকবো। তোমার রুমমেট কে বলবা এই সাত দিন অন্যরুমে থাকতে। আমি একটা সাবলেট দেখে এসেছি। এক রুম। জয়েন্ট বাথরুম আছে। একটা হিন্দু ফ্যামিলি। হাজবেন্ড, ওয়াইফ এন্ড তাদের ছোট একটা ছেলে থাকে। সব ঠিক আছে শুধু মহিলা পান খায়। পানের গন্ধ বিরক্তিকর। সমস্যা নেই। এয়ারফ্রেশ্নার ইউজ করলে গন্ধ নাকে আসবে না।

সবই ঠিক আছে কিন্তু আমি এখনো তো কিছু করি না। একটা পার্ট টাইম জব করি। তাতে যা আসে তাতে আমার হয়ে যায়। সংসারের খরচ চালানো আমার পক্ষে এখন সম্ভব না।

আমার কাছে যে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স আছে তাতে বছর খানেকের ভাড়া হয়ে যাবে। আর তোমার যা আসে তাতে দুজনের খাওয়া দাওয়া করেও কিছু বেচে যাবে। আর একবছরের মধ্যে আশাকরি আমি কিংবা তুমি দুজনের কেও না কেও অন্তত চাকরি পেয়ে যাব। আশার সময় পত্রিকা হাতে নিয়ে দেখলাম একটা সরকারী দপ্তরে কিছু সংখ্যক পিয়ন নিয়োগ দেয়া হবে। ওখানে তুমি এপ্লাই করবা।

মাস্টার্স করে আমি পিয়ন পদে এপ্লাই করবো?

কেন পারবা না। বেশকিছুদিন আগে দেখেছি ভারতে পিয়ন পদে পিএইচডি হোল্ডাররাও এপ্লাই করেছে। পিএচডি হোল্ডার যদি পিয়ন পদে এপ্লাই করতে পারে তুমি কেন পারবে না ?

আমি কিছুটা রাগ করে বললাম, করব।

মাইশা স্মিত হেসে উত্তর দিল। রাগ করতে হবে না। দেশের বেকারদের উপর মায়া লেগে জিদে কথাগুলো বললাম। আমার একটা কথা রাখবা ?

কি ?

শত কষ্ট হলেও আমার পাশে থাকবা ? অনেক বড়মুখ করে বলে এসেছি আমার সুখ, বিলাসিতা শুধু তোমার সাথে থাকাতে, তোমার পাশে থাকাতে। আমি ছোট ঘরে থেকে বড় সুখ নিয়ে বাঁচবো। যেদিন থেকে তোমার সাথে আমার পথচলা শুরু সেদিন থেকে আমার একটা স্বপ্ন একেছি মনে মনে। আমার স্বপ্নের নাম তুমি।

আমি স্মিত হেসে জবাব দিলাম। সাথে থাকব। কথা দিলাম।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “আমার স্বপ্নের নাম “তুমি”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

98 − 93 =