বিজ্ঞান ও মূর্খতা

বিভিন্ন ধর্মীয় জগাখিচুড়ি কাজকর্মের উত্তর যদি খুঁজতে যান, তো ওই অঞ্চলের জিওগ্রাফি দেখেন। অর্থনীতি দেখেন। ইতিহাস দেখেন।
খুব সলিড উত্তর পাবেন।

ইসলামে হিজাব আর কাপড় চোপড়ের জবরদস্তি কেন? জিওগ্রাফিক্যালি মরুভূমি থেকে আসা কালচারে শরীর থেকে মাথা না ঢেকে রাখলে চামড়া পুড়ে যায়, তাই এটাই আরবের কালচার ছিলো।
একইভাবে রাজস্থানের মরুভূমির মহিলারাও মাথা ঢেকে রাখেন শাড়ির লম্বা আঁচল দিয়ে। বালুর প্রভাবে মাথায় কাপড় চড়াতে হয়। এর সাথে জাকির নায়েকের ছিলা কলা, খোলা মিষ্টি, নারীর সম্মান জাতীয় বালছাল থিওরির কোনো কানেকশন নাই।

রমজান মাসে আরব, সিরিয়া, জর্ডান সহ বহু মিডল ইস্টার্ন দেশে খাবারের সাপ্লাই থাকতো না। এই সমস্যাকে চেক দেয়ার জন্য তৈরি হলো দিনের বেলা না খাওয়ার নিয়ম। সেটাই রোজা। সন্ধ্যাবেলায় খাবার পেয়ে গরীব দুঃখীর কষ্ট বোঝা যায় না, আর এশিয়াতে বসে এইরকম না খেয়ে থাকলে পেটে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। বিজ্ঞানের আবোল-তাবোল ব্যাখ্যা দিয়ে এইগুলাকে ঠিক প্রমাণ করার কোনো কারণ নাই।

নতুন ধানকে পোকার হাত থেকে রক্ষা করতে প্রাচীন ভারতবর্ষে প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা হতো, যাতে পোকাগুলো আগুনে ঝাঁপ দিয়ে মরে যায়। এটাই দীপাবলি। পেটের দায়ে সংস্কৃতি আসে, ধর্মের কোনো জায়গা এখানে নাই।

হেরা গুহার ভেতরে বিভিন্ন গ্যাসের সাইড এফেক্টে মোহাম্মদ হেলুসিনেশনে ভুগতেন। বৈচিত্রহীন মরুভূমির কারণে তিনি সম্ভবত বিভিন্ন ডিলিউশনের শিকারও ছিলেন।

আল-লাত নামের একটা দেবীকে পূজা করতো প্রাচীন আরবরা। সেই দেবীর প্রতীক ছিলো চাঁদ আর তারা। আল-লাতের রঙ ছিলো কালো, কাবার রংটাও কালোই।

ভগবান নামের কেউ নাই। আল্লাহ নামেও কেউ নাই। আল-লাতের কাহিনী বিবর্তিত হয়ে আল্লাহ এসেছে। কোরানের সম্ভাব্য রচয়িতা এগারোজন মানুষ, হাওয়া থেকে জ্ঞান লাফ দিয়ে পড়ে না।

আজকে শিবরাত্রি। গরুর দুধকে প্রাচীন ভারতে ধরা হতো ডিস-ইনফেকটেন্ট বা শুদ্ধকারী তরল। সেইজন্য দুধে ধোয়া তুলসিপাতা জাতীয় কথা শোনা যায়। স্বামীর সুস্বাস্থ্য কামনায় প্রাচীন ভারতে নারীরা স্বামীকে গরুর দুধ দিয়ে স্নান করাতেন। শিব হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী ইউনিভার্সাল স্বামীর ক্যারেক্টার, যেমন বাংলা ছবিতে আলমগীর। তাই আজকাল শিবের চিহ্ন পাথরকে দুধ দিয়ে স্নান করানো হয়।

আকাশ থেকে আজকাল আর ওহী নাজিল হয় না। রূপকথার ঘোড়া আজকাল আর আকাশে ওড়ে না। তারপরেও মানুষ সবকিছুই সত্য বলে বিশ্বাস করে। বানরের মুখে মানুষের বুলিও সত্য, অর্ধেক ঘোড়া আর অর্ধেক মানুষের বোরাকও সত্য।

সমস্যাটা হইলো, এইসব পাগলামি নিয়ে হাসাহাসি করবেন, তো আপনি শেষ। এক কোপে নেমে যাবে কল্লা! বাংলাদেশ হোক বা ভারত, নারায়ে তাকবীর হোক আর জয় ভগবান হোক, মিথ্যা কথা চিৎকার করে বলতে হয়, সেটাকে সত্যি হিসাবে স্থাপন করার জন্য।
সত্যি কথা চুপেচাপে বললেও চলে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “বিজ্ঞান ও মূর্খতা

  1. তুলসি পাতা নিয়ে বাক্যটার
    তুলসি পাতা নিয়ে বাক্যটার পিছনে এক কাহানী আছে । সেই প্যাঁচা দেখলেই পাখিরা তাড়া করারনোর মত কাহানী । যেমন বালিশে পাড়া দিলে ঘাড় ব্যাথা হয় — এমন অনেক কুসংস্কারের মতই সব কিছু কুসংস্কার ।

        1. তুলসী গাছের কাহিনীটা রামায়নে
          তুলসী গাছের কাহিনীটা রামায়নে পাবেন। রামায়ণ কিন্তু অত্যন্ত মজার এক আজগুবি পুস্তক। পড়লে মজা পাবেন। আশা করি পড়বেন। আগামী ব্লগ রামায়ণ থেকে করার চেষ্টা করবো।

          ধন্যবাদ মূর্খ চাষা,
          ধন্যবাদ পৃথু স্যন্যাল।

  2. শিয়ালরা সবসময় মুরগির
    শিয়ালরা সবসময় মুরগির স্বাধীনতার জন্য মায়া কান্ন করে। কারন মুরগি স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করলে, শিয়ালের মুরগি শিকার সহজ হয়। তেমনই লুচ্চারা সবসময় নারীর স্বাধীনতার জন্য মায়াকান্না করে। কারন নারী স্বাধীন ভাবে চললে লুচ্চাদের লুচ্চামি করতে সহজ হয়। যার এক কথায় প্রকাশ=বেজ্ঞান মনস্ক চিন্তা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

73 − 69 =