ইসলাম নিজেই যদি জঙ্গিবাদ হয়, তাহলে ইসলামকে বাদ দিয়ে কিভাবে জঙ্গিবাদ দমন করবেন ?

সম্প্রতি দেশে জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযান চলছে। জঙ্গি ধরার জন্যে সাড়াশি অভিযানও চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- জঙ্গি কারা বা জঙ্গিবাদ কি জিনিস – সেটার সংজ্ঞা কি নির্ধারন করা হয়েছে ? চোর, ডাকাত , পকেটমার ইত্যাদি অপরাধীদের সাথে জঙ্গিদের তফাৎ কোথায় ? সুতরাং জঙ্গিবাদের সংজ্ঞা নির্ধারন না করে কিভাবে জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযান চলবে আর কিভাবেই বা জঙ্গিবাদ দমন করা যাবে ? সর্ব প্রথমেই দেখা যাক , জঙ্গিবাদ আসলে কি জিনিস।

জাতিসংঘ ১৯৯৬ সালে ৫১/২১০ নং রেজুলেশনে জঙ্গিবাদের যে সংজ্ঞা নির্ধারন করেছে তা নিম্নরূপ:

“Criminal acts intended or calculated to provoke a state of terror in the general public, a group of persons or particular persons for political purposes are in any circumstance unjustifiable, whatever the considerations of a political, philosophical, ideological, racial, ethnic, religious or any other nature that may be invoked to justify them”
(সূত্র: https://en.wikipedia.org/wiki/Definitions_of_terrorism)

বাংলা অনুবাদ: সাধারন জনগনের মনে বা কোন গোত্রের মানুষদের মনে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপরাধমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের উদ্দেশ্যে ভীতি সঞ্চার করা- এটা্ই সন্ত্রাসবাদ। এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে সঠিক প্রমান করতে এর পক্ষে যে কোন ধরনের রাজনৈতিক , দার্শনিক, আদর্শিক, জাতিগত, নৃতাত্ত্বিক, ধর্মীয় বা যে কোন ধরনের আদর্শ প্রচার করা হলেও সেটা অবৈধ ও অন্যায়।

বাংলাদেশ সরকার যেহেতু জাতিসংঘের এই রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেছে , তার অর্থ বাংলাদেশ সরকারও এই সংজ্ঞাকে গ্রহন করেছে এবং এটা সরকার মানতে বাধ্য যদি তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদেরকে সভ্য দেশ হিসাবে প্রমান করতে চায়। এখন দেখতে হবে , কথিত জঙ্গিরা কি আসলেই জঙ্গিবাদের এই সংজ্ঞায় পড়ে কি না। দেখা যাচ্ছে কিছু মানুষ ইসলাম ধর্মের বিধিবিধানকে রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করতে হত্যা সহ নানারকম সন্ত্রাসী বা জঙ্গি কর্মকান্ডের আশ্রয় নিচ্ছে , যা কি না আন্তর্জাতিক সংজ্ঞায় জঙ্গিবাদ। এখন বাংলাদেশের ৯০% মানুষই হলো মুসলমান ,তারা বিশ্বাসও করে ইসলামই একমাত্র সত্য ধর্ম, তাছাড়া তারা অধিকাংশই হলো ধর্মপ্রান মুসলমান। ইসলাম চুড়ান্তভাবে মুসলমানদেরকে শারিয়া প্রতিষ্ঠা করতে বলে যা হলো একটা ইসলামী শাসন। অর্থাৎ ইসলামের চুড়ান্ত রূপ হলো রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠান ও রাষ্ট্র চলবে ইসলামের আইনে। এখন দেশে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার উপায় কি ?

মুহাম্মদ নিজে স্বয়ং কোন শান্তিপূর্ন উপায়ে তার শরিয়া ভিত্তিক ইসলামী রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেন নি। যখন অধিকাংশ মানুষ ইসলামী রাজ্য চায় না , তখন সেটা কিভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়, সেসবের বিধান আছে কোরান হাদিসে। বর্তমানে বাংলাদেশে যদি একটা সমীক্ষা করা যায়, দেখা যাবে এদের অধিকাংশ মুখে মুখে বলবে তারা শরিয়া আইন চায় ,কিন্তু সেটার বাস্তবায়ন চায় না। কারন তারা জানে , দেশে শরিয়া আইন চালু হলে খুব দ্রুতই অর্থনীতির পতন ঘটবে , স্বাভাবিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার ভয়াবহ পরিনতি ঘটবে , যার ফলে দেশব্যাপী শুরু হবে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, মহামারী, বেকারত্ব ইত্যাদি। অর্থাৎ তারা ইসলাম প্রিয় কিন্তু প্রকৃত পক্ষে দেশে শরিয়া শাসন চায় না, এর অর্থ হলো তারা আসলে মুনাফিক। এমতাবস্থায় কোরান ও হাদিসে খুব পরিস্কারভাবে বলা আছে জিহাদের মাধ্যমে সমাজে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যেমন –

সুরা তাওবা -৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সুরা তাওবা -৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

স্বয়ং মুহাম্মদ নিজেই বলে গেছেন কিভাবে উক্ত বিধান কার্যকর করতে হবে —

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০:
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩১:
আহমাদ ইবন আবদ আয-যাবিব (র)………আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই,-এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি । এগুলো মেনে নিলে তারা তাদের জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে শরীআতসম্মত কারণ ছাড়া ।আর তাদের হিনাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে ।

শুধু তাই না , মুহাম্মদ বলে গেছেন কোন প্রক্রিয়ায় তিনি সফল হয়েছেন —

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০:
ইয়াহ্ইয়া ইব্ন বুকাইর (র)……………আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমি প্রেরিত হয়েছি এবং শত্রুর মনে ভীতির সঞ্চারের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। একবার আমি নিদ্রায় ছিলাম, এমতাবস্থায় পৃথিবীর ধনভান্ডার সমূহের চাবি আমার হাতে অর্পণ করা হয়। আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তো চলে গেছেন আর তোমরা তা বের করছ।

ভীতি সঞ্চার বা সন্ত্রাস বা জঙ্গিপনার মাধ্যমেই মুহাম্মদ জয়ী হয়েছেন। কোরান , হাদিসে পরিস্কার বলছে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠায় সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদের আশ্রয় নিতে হবে। আর সেটা একমাত্র সত্য ধর্ম ইসলামের প্রধান পথ। সুতরাং দেখা যাচ্ছে , ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও শরিয়া প্রতিষ্ঠার প্রধান উপায়ই হলো জঙ্গিবাদ, এমতাবস্থায় , একজন ধর্ম প্রান মুসলমান কিভাবে জঙ্গিবাদ বিরোধী হতে পারে ? দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রি সহ সকল নেতা নেতৃবৃন্দ সবাই ধর্ম প্রান মুসলমান , তাদের নবী নিজেই বলে গেছেন সমাজে শরিয়া প্রতিষ্ঠার জন্যে জঙ্গিবাদ হলো মুল মাধ্যম , সেখানে সেই তারা নিজেদেরকে মুসলমান দাবী করে কিভাবে জঙ্গিবাদ বিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে পারে ?

আমরা সবাই জানি ,ইহুদি নাসারা কাফির ইত্যাদিরা বাংলাদেশসহ দুনিয়ার কোথাও যাতে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠিত না হয়, তার জন্যে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে। অর্থাৎ তারা আমাদের শত্রু। আবার যারা নামে মুসলমান কিন্তু বাস্তবে শরিয়া আইন চায় না , বা সেটা প্রতিষ্ঠা করতে কোন রকম সাহায্য করে না ,তারা হলো মুনাফিক। উক্ত ৯:৫ ও ৯:২৯ আয়াত ও পরের হাদিস দ্বারা পরিস্কার বলা হয়েছে , এইসব ইহুদি নাসারা কাফির মুনাফিক ইত্যাদির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ করে তাদেরকে কতল করে, তাদের মনে ভীতির সঞ্চার করতে হবে ,তাহলেই সমাজে শরিয়া প্রতিষ্ঠা্ করা যাবে। গুলশানে যারা বিদেশীদেরকে হত্যা করেছে ,শোলাকিয়ায় যারা আক্রমন করেছে , এর আগে যারা মুক্তমনাদেরকে হত্যা করেছে – তারা কোরান হাদিসের এসব বিধান মেনেই সেটা করেছে। অর্থাৎ তারা খটি সহিহ ইসলামী পথই অবলম্বন করেছে। অথচ এখন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, নেতা পাতি নেতা দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী সবাই বলছে , তারা নাকি ইসলাম বিরোধী কাজ করেছে ,ইসলাম নাকি এ ধরনের হত্যা সমর্থন করে না ইত্যাদি ধানাই পানাই। ইসলাম সম্পর্কে এ ধরনের মিথ্যাচার যারা করে , তারাও মুনাফিক। আর তাদেরও কল্লা কাটার বিধান কোরান হাদিসে বিদ্যমান।

তো , ইসলাম প্রতিষ্ঠার মূল বিধানই যেখানে জঙ্গিবাদ , সেখানে মুসলমান বলে দাবীদাররা কিভাবে জঙ্গিবাদ দমন করবে , কিভাবেই বা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান করবে ?যদি করে , তাহলে কি তারা আর মুসলমান থাকে ? বা তারা কি তাহলে আর ইসলামের মধ্যে থাকে ? নাকি মুনাফিক মুর্তাদ হয়ে যায় ?,

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “ইসলাম নিজেই যদি জঙ্গিবাদ হয়, তাহলে ইসলামকে বাদ দিয়ে কিভাবে জঙ্গিবাদ দমন করবেন ?

  1. এই পোস্টে দেখি কোন মুমিন
    এই পোস্টে দেখি কোন মুমিন বান্দা কান্দাকান্দি করল না। মুমিনদের জন্য এক ফেসবুক কবির একটা ছোট্ট কবিতা এখানে কোড করলামঃ

    ঈশ্বর আমি তোমার মতো শুওরের বাচ্চার নাম মুখে নিয়েছি প্রথমে
    আমার লিঙ্গ চেনার পূর্বে তোমাকে চিনেছি।
    আমি নারী দেখার আগেই তোমার লোভ লালসায় হিংস্র হয়েছি।
    আমি মানুষ পাঠ করার পূর্বে তোমার মতো বলদের বই পড়েছি।

    বিশ্বাস করো ঈশ্বর তুমি আমার অনেক ক্ষতি করেছো
    তুমি আমার আমার মার আমার বাবার জীবন ধংস করে দিয়েছো।
    ঈশ্বর তুমি বাঞ্চুত তুমি পুরুষ তুমি কবিতা পড়না।

    আমি তোমাকে ঘৃণা করি ঈশ্বর আমি তোমাকে অপমান করি ঈশ্বর
    আমি তোমার পাছায় লাত্তি মারি ঈশ্বর
    কারন আমি মাতাল নই আমি জাগ্রত মানুষ
    এই জাগ্রত মানুষ কখনো ঈশ্বরের বাল ধরে থাকে না ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 6