“আমি ধর্ম প্রচারক না। আমি কমিউনিস্ট”।

১.
ফিদেল ক্যাস্ট্রোকে সাংবাদিকেরা একবার হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেছিল, আপনি কি ঈশ্বরে বিশ্বাসী? তিনি উত্তরে বলেছিলেন, আপনি কি যাজক নাকি পুরোহিত?- এগুলো আমার একান্তই নিজস্ব ব্যাপার। আমি শুধু একটি কথাই বলবো। যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন এবং যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না, তাঁদের সবাইকে আমি শ্রদ্ধা করি। আপনি যদি বলেন আপনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না, তাহলে যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করে তাদের আপনি অপমান করছেন। আবার যদি বলেন বিশ্বাস করি, তাহলে যারা বিশ্বাস করে না তাদেরও অপমান করা হয়। এই ধরনের কথা বলে আপনি নিজেকে একজন ধর্মপ্রচারকে পরিনত করছেন। আমি ধর্মপ্রচারক না। আমি কমিউনিস্ট।

ধর্ম নিয়ে বামপন্থি- কমিউনিস্টদের অবস্থান কি? মার্কস ধর্মের ব্যাপারে কি ধারনা পোষণ করেন?- এই ব্যাপারটা নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা ও ভুল ধারণা সবসময়- সব দেশেই আছে। মার্কসের বহুল প্রচারিত “ধর্ম জনগণের জন্য আফিম স্বরুপ”- এই উদ্ধৃতিটি খণ্ডিত ভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বামপন্থি- কমিউনিস্টদের ‘ধর্মের শত্রু’ ও ‘নাস্তিক’ আখ্যা দিয়ে এক ধরনের পরিকল্পিত প্রোপাগাণ্ডা চালানো হয় সব দেশে, সব সমাজেই। রাষ্ট্র ও সমাজে শোষণ ও আগ্রাসী পূঁজিবাদি- সাম্রাজ্যবাদি ব্যবস্থা যারা টিকিয়ে রাখতে চায় তাদের এই প্রোপাগাণ্ডা বরাবরই সফল হয়েছে। অপরদিকে যারা বামপন্থি রাজনৈতিক কর্মী তারা এটাকে প্রাকটিক্যালি ও থিওরিটিক্যালি কখনোই সঠিকভাবে মোকাবেলা করতে পারে নি। উপরন্তু, কমিউনিজম ও মার্কসবাদ সঠিকভাবে না পড়ে, না বুঝে ঢালাওভাবে ধর্ম বিরোধিতা ও নাস্তিকতাকে বামপন্থি- কমিউনিস্ট রাজনীতির মৌল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করার এক ধরনের ঝোঁক অধিকাংশ বামপন্থি- কমিউনিস্ট রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যেও প্রবলভাবে দেখা যায়। যে কারনে কোন বামপন্থি রাজনীতিক ধর্মীয় কোন রিচ্যুয়াল পালন করলেই অনেকেরর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। উল্টোদিকে, ধর্মের সাথে সমন্বয় সাধনের মধ্য দিয়ে এই বিষয়টাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার প্রবণতাও কোন কোন ঘরানার বামপন্থিদের মধ্যে লক্ষনীয়। এমনকি নিজেদের ধার্মিক হিসেবে জাহির করবার ঘটনাও চোখে পড়ে। দুই ক্ষেত্রেই মার্কসবাদি দৃষ্টিভঙ্গির বিকৃত অবশেষ চরম ভাবে প্রকাশ পায়। যার ফলে কমিউনিস্ট রাজনীতির বিরোধী শিবিরের প্রোপাগাণ্ডা আরো পাকা- পোক্তভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে শিকড় গেড়ে বসে। ফলশ্রুতিতে, কমিউনিজম এবং ধর্ম বিরোধিতা ও নাস্তিকতা সমার্থক রুপ ধারন করে সমাজে পরিচিতি পায়।

আসলেই কী বিষয়টা এই রকম নাকি এটা বিকৃত অসম্পূর্ণ ব্যখ্যা?- উপরে ক্যাস্ট্রোর ধর্ম সম্পর্কে যে দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত হয়েছে, সেটা বুঝলেই এই প্রশ্নের একটা মীমাংসা হয়ে যায়। সেই বিষয়ে বিশদ আলোচনার খাতিরে কিছু প্রাক- আলোচনা জরুরি।

২.

ইদানিং একশ্রেনীর তরুনদের মধ্যে নাস্তিকতাকে আধুনিকতা ও রোমান্টিক- র‌্যাডিক্যাল চিন্তা হিসেবে নেয়ার একটা প্রবণতা বেশি মাত্রায় দেখা যায়। এর মধ্য দিয়ে নিজেদের অন্যদের থেকে অগ্রসর- প্রগতিশীল চিন্তার মানুষ হিসেবে জাহির করার একটা উদ্দেশ্যও থাকে। এদের মধ্যে অনেকেই- ধর্মের বিরোধিতা করা ও নাস্তিকতাকে সঠিক প্রমাণ করবার উদ্দেশ্যে- ধর্ম নিয়ে উগ্র কটূকথা বলতে বা ধর্মকে তাচ্ছিল্য করতে দ্বিধাবোধ করে না। কেউ কেউ নিছক কূসংস্কার বলে একে বাতিল ঘোষণা করে। এমনকি অনেকেই ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক নানা প্রমাণ হাজির করে একে মিথ্যা প্রমাণ করার জোর প্রচেষ্টা চালায়। কুরান –পুরানসহ নানা ধর্মীয় গ্রন্থ ঘেটে ভুলের ফিরিস্তি তুলে ধরে। অনেক ক্ষেত্রে সমগ্র বিষয়কেই হাস্য- রসাত্মক- নিরর্থক একটা বিষয়ে পরিণত করতেও পিছপা হন না। মোটকথা, ধর্মতাত্ত্বিক যায়গা থেকে ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে, এক ধরনের উগ্র নেতিবাচক প্রচারণার মাধ্যমে এরা কার্যত ধর্মেরই প্রচারণা জারি রাখেন। এটাও স্বীকার্য যে, সেগুলোর মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে সত্যতা থাকে বৈকি। সেটা মেনেই এটা বলা যায়, এই ধরনের দায়িত্বহীন কাজ ও চিন্তা বাস্তবিক অর্থেই সমাজের গণবিরোধি নিয়ন্ত্রকদের স্বার্থের অনূকুলে কাজ করে। অথচ এধরনের কাজে যারা লিপ্ত তাদের কারো পক্ষেই এভাবে ধর্মের অসারতা কখনো প্রমাণ করতে পারা সম্ভব হয় না। বরং এই ধরনের প্রচারনার মধ্য দিয়ে সমাজের কোন ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়ন করা যায় না; তার বদলে সমাজকে ‘ধর্ম রক্ষক’ ও ‘ধর্ম বিরোধি’ দুটি পরষ্পর বিরোধি শিবিরে বিভক্ত করে ফেলা হয়। যার ফলে মানুষের মূল সমস্যা সবসময় আড়ালে থেকে যায় এবং পুরো বিষয়টাই শুধুমাত্র ধর্মতাত্বিক বিতর্ক হিসেবে থেকে যায়। অন্যান্য আরো অনুসঙ্গের সাথে একে কাজে লাগিয়ে নানা সময়ে পূঁজিবাদি ও সাম্রাজ্যবাদি শাসকেরা খুব সহজেই প্রয়োজনে একে সংঘর্ষ হিসেবে সমাজে/ রাষ্ট্রে টিকিয়ে রাখতে সমর্থ হয়।

বামপন্থি রাজনীতিক ও মার্কসবাদিদের অবশ্যই এই ধরনের ঢালাওভাবে ধর্ম বিরোধিতা ও উগ্র নাস্তিকতার বিষয়ে সজাগ থাকা ও তফাতে থাকাটা জরুরি- ক্যাস্ট্রো এটা জানেন বলেই এত বড় বিপ্লবী হয়েও নিজেকে নাস্তিক হিসেবে ঘোষনা করে তিনি ধর্ম প্রচারকে পরিনত হতে চান নি। কেননা, মার্কসবাদি ও সমাজ পরিবর্তনের একজন যোদ্ধা হিসেবে তিনি জানেন- নাস্তিকতার ধারনাই আগা- গোড়া ভ্রান্ত একটি ধারনা। একইসাথে এই ধরনের চিন্তা- প্রথমত, উগ্র স্থূল বস্তুবাদি চিন্তা, দ্বিতীয়ত, এই চিন্তা শেষপর্যন্ত ভাববাদে গিয়ে পর্যবসিত হতে বাধ্য।

বিষয়টা একটু পরিষ্কার করা দরকার। ধরা যাক, কেউ যখন নিজেকে ‘আস্তিক’ হিসেবে পরিচিত করে। তখন এই ‘আস্তিক’ শব্দটার মধ্য দিয়ে এমন একটা অসীম ক্ষমতাধর শক্তির অস্তিত্বকে কল্পনা করা হয়, যেটা চিরন্তন ও সত্য বলে সে স্বীকার করে নেয়। অপরপক্ষে, যখন কেউ নিজেকে ‘নাস্তিক’ হিসেবে পরিচিত করে; তখন এই ‘নাস্তিক’ শব্দটা দিয়েও কিন্তু একই ধরনের অসীম ক্ষমতাধর শক্তির একটা অস্তিত্ব কল্পনা করা হয়। যার নেতিকরনের মধ্য দিয়ে সেটাকে সে অস্বীকার করে। অর্থাৎ, ‘আস্তিক’ ও ‘নাস্তিক’ উভয় শব্দের মধ্য দিয়েই একটা ‘অসীম ক্ষমতাধর শক্তি’ কল্পনা করা হচ্ছে; যাকে ধর্মভেদে ‘আল্লাহ’, ‘ঈশ্বর’, ‘ভগবান’, ‘গড’ ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়। লক্ষনীয় বিষয়, দুই চিন্তারই উতস কিন্তু অভিন্ন- কল্পিত বিমূর্ত শক্তির অস্তিত্ত্ব কেন্দ্রিক; পার্থক্য সূচিত হচ্ছে কেবল স্বীকার করা ও নেতিকরনের মাধ্যমে অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে। এই ধরনের স্থূল বস্তুবাদি চিন্তার মাধ্যমেই মূলত ‘নাস্তিকতা’র ধারনা (concept) গড়ে ওঠে, যার শেষ পরিণতি ভাববাদের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পন করা। যে কারনে, ধর্মের পক্ষে উগ্র মত প্রদান করে ভিন্ন মতাবলম্বিদের প্রতি আগ্রাসী হয়ে ‘নিজ ধর্মই শ্রেষ্ঠ’ বা ‘ধর্ম রাজ্য’ কায়েমের লক্ষ্যে একদল লোক যেমন ধর্মের প্রচারনা চালায়। তেমনি অপরদিকে আরেকদল লোক ধর্মকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য খড়গহস্ত হয়ে- ধর্ম কেন এখনো সাধারন মানুষের কাছে টিকে আছে কিংবা ধর্ম ঠিক কী কারনে সাধারন মানুষের কাছে অনিবার্য- তা সঠিকভাবে বিচার- বিশ্লেষন না করে যখন নাস্তিকতার স্বপক্ষে প্রচারনা চালান তারাও মূলত ঐ ধর্মেরই প্রচারণা করেন। মার্কসবাদ স্পষ্টতইঃ ভাববাদ ও এই ধরনের স্থূল বস্তুবাদি চিন্তা ও দর্শনকে সমর্থন করে না। বরং এটা মনে রাখা দরকার ভাববাদি দর্শন এবং এই ধরনের যান্ত্রিক- স্থূল বস্তুবাদি চিন্তা ও দর্শনের কবর খুড়েই মার্কসবাদি দর্শন ও কমিউনিস্ট রাজনীতির আবির্ভাব।

অন্য আরেকদল লোক আছেন যারা ক্যাস্ট্রোর বক্তব্যে, agnosticism বা অজ্ঞেয়বাদ খুজেঁ পেতে চাইবেন। অনেকেই বলবেন কৌশলি উত্তর এবং অনেকেই এসব ভেবে পুলকিতও হবেন। আমরা জানি, অজ্ঞেয়বাদি মানুষ যেখানে পর্যন্ত বিজ্ঞান পৌঁছাতে পেরেছে এবং যে পর্যন্ত মানুষ জানে; সেই পর্যন্ত তারা বস্তুবাদি। কিন্তু বিজ্ঞানের বাইরে যে বিষয়, যা সম্বন্ধে এখনো জানা যায় নি- সেই অজ্ঞতাকে তারা গ্রীকে অনুবাদ করে বলে agnosticism বা অজ্ঞেয়বাদ। যেকারনে এই ঘরানায় বিশ্বাসীরা ঈশ্বর সংক্রান্ত আলোচনাকে পাশ কাটিয়ে যেতে চান কিংবা সংশয়ী মনোভাব পোষণ করেন। এছাড়া ধর্মকে নিয়ে যে রাজনীতি ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের বিষয়ে তারা একধরনের সুবিধাবাদি অবস্থান গ্রহণ করেন। এই ধরনের চিন্তার সমগ্রটাই মূলত একধরনের সুবিধাবাদি ও সংশয়ী চিন্তায় নিমগ্ন। অথচ বিষয়টা পরিষ্কার ক্যাস্ট্রো বা কোন কমিউনিস্টই এইরূপ ধারণা পোষণ করেন না। কেননা অজ্ঞেয়বাদি চিন্তাও মূলত ভাববাদি চিন্তার কারন। সুতরাং যারা এর মধ্যে অজ্ঞেয়বাদ খুঁজছেন তারা আসলে অন্ধকার ঘরে কালো বিড়াল খুঁজে বেড়াচ্ছেন। ক্যাস্ট্রো খুব স্বাভাবিক ভাবেই ঈশ্বর বিশ্বাসের প্রশ্নে যে উত্তরটি দিয়েছেন তা দায়িত্বশীল যায়গা থেকে একজন মার্কসবাদি- কমিউনিস্টের পক্ষ থেকে যা বলা প্রয়োজন সেটাই বলেছেন। তিনি নাস্তিকতার প্রচারনার মধ্য দিয়ে যেমন ধর্ম প্রচারকে পরিনত হতে চান নি, তেমনি কৌশলের আশ্রয় নিয়ে কোন সুবিধাবাদি অবস্থানও গ্রহন করেন নি।

৩.

ক্যাস্ট্রো তাহলে তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কী বোঝাতে চেয়েছেন কিংবা মার্কস আসলে ধর্মকে কিভাবে দেখেছেন?- সেই প্রশ্নের উত্তর আমাদের মার্কসের থেকেই জেনে নিতে হবে। এই ক্ষেত্রে মার্কসের একটা উদ্ধৃতি খুব প্রাসঙ্গিক। তিনি বলছেন-

“নাস্তিকতা ঈশ্বর আছে এই সত্য অস্বীকার করে, যে অস্বীকৃতির মধ্য দিয়ে মানুষই আছে সেই সত্য প্রকাশ করা হয়। কিন্তু সমাজতন্ত্রের জন্য এই ধরনের ঘোরা পথের দরকার পড়ে না”।

-কার্ল মার্কস তার ‘অর্থনৈতিক ও দার্শনিক চিন্তার খসড়া’ নামক পাণ্ডুলিপিতে এই কথা বলছেন। যাতে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি না হয়, সে কারনেই এর প্রারম্ভেই তিনি বলেছেন,

“পৃথিবীর ইতিহাস নামে যে সামগ্রিক ইতিহাসের কথা বলা হয়, সমাজতান্ত্রিক মানুষের কাছে সেই ইতিহাস মানুষের শ্রমে এবং প্রাকৃতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে মানুষের নিজেকেই নিজে সৃষ্টির ইতিহাস। অতএব তার নিজের দ্বারা নিজের জন্ম সম্পাদন। সে নিজেই যে নিজের আবির্ভাবের কারন সেটা তার নিজের ইন্দ্রিয়ের ধরা –ছোঁয়ার মধ্যে এসে যায় এবং তার প্রমান অকাট্য হয়ে ওঠে। যেহেতু মানুষ ও প্রকৃতির সত্তার প্রামান্যতা (essentiality) –অর্থাৎ মানুষ রুপে মানুষের জন্য প্রকৃতির অস্তিত্ববান হয়ে থাকা এবং মানুষের জন্য মানুষের অস্তিত্বমানতা হিসেবে প্রকৃতির হাজির থাকা বাস্তবে এবং ইন্দ্রিয়গতভাবে মানুষেরই উপলব্ধির বিষয়। তখন মানুষ ও প্রকৃতির বাইরে অপর কোন সত্তার অস্তিত্বের প্রশ্ন কার্যত অসম্ভব হয়ে ওঠে। যে প্রশ্ন বহাল রাখার অর্থ বাস্তবের মানুষ আর প্রকৃতির অবাস্তবতা স্বীকার করে নেওয়ার শামিল। নাস্তিকতার অর্থ আসলে যা এই অবাস্তবতারই অস্বীকার। তাহলে তার আর কোন অর্থ থাকে না।

আমার ধারণা যারা মার্কসের এই উদ্ধৃতি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন এবং বুঝবেন, অন্তত তাদের কাছে উপরে উপস্থাপিত বক্তব্যগুলোর একটা অর্থ তৈরি হবে। মার্কসের কাছে ঈশ্বরের অস্তিত্বের থাকা না থাকার বিষয়টা খুব পরিষ্কার। এই কারনে তাঁর থাকা বা না থাকার প্রশ্নটাই তিনি খারিজ করে দেন। যে কারনে ক্যাস্ট্রো পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন; তিনি ঐ প্রশ্নকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেন। কেননা মার্কস থেকেই তিনি জানেন, এই প্রশ্ন বহাল থাকার মানেই হলো, স্বীকার করে হোক আর অস্বীকার করে হোক –কোন না কোন ভাবে ‘ঈশ্বরের’ অস্তিত্বকে জিইয়ে রাখার বন্দোবস্ত করা। যা আদতে ধর্মতাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যেই কেবল সীমিত থাকে, বাস্তব জগতের সাথে এবং সাধারন মানুষের চাওয়া- পাওয়ার সাথে সম্পূর্ণ সম্পর্কহীনভাবে। আসলে এই প্রশ্নের মীমাংসা হয়ে গেছে; মানুষের সামগ্রিক বিকাশের ইতিহাসই এর সাক্ষ্য বহন করছে। কাজেই ঈশ্বর থাকা বা না থাকার বিষয়টা কিংবা ধর্ম সত্য না মিথ্যা এটা প্রমাণ করা বা না করা এখন আর বিতর্কের বিষয় নয়। এখন কাজ করার সময়- সেই কাজ হচ্ছে- যে আর্থ- সামাজিক প্রেক্ষাপটে এবং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কারনে ধর্ম এবং ঈশ্বর বিশ্বাস সমাজের ধনী- গরীব নির্বিশেষে সমাজের অধিকাংশ মানুষের কাছে অনিবার্য হয়ে টিকে আছে সেটার কারন অনুসন্ধান ও অনুধাবন করা। যে কাঠামোর কারনে তা অনিবার্য রুপ ধারন করেছে তার বিরুদ্ধে লড়াই করাটাই সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনের মূল কাজ। একটা বিষয় খুব পরিষ্কারভাবে জানা থাকা জরুরি, মার্কসবাদ অন্যান্য বস্তুবাদের মত ধর্ম ও ঈশ্বর বিশ্বাসকে খারিজ করে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। সে আরো গভীরে যায়। সে যেমন ঈশ্বরের অবাস্তবতা সম্পর্কে নিঃসন্দেহ, তেমনি গরীব –খেটে খাওয়া পশ্চাদপদ মানুষ, শহুরে মধ্যবিত্ত মানুষ, শ্রমিক –কৃষক ও বড় অংশের মানুষের মাঝে ধর্ম ও ঈশ্বর এখনো কেন অনিবার্য সেটারো মূল সে ধরতে চায়। তারা ধর্মকে ও তার অনিবার্যতাকে ঐতিহাসিক ও দ্বান্দিকভাবে পর্যালোচনা করতে চায়।

৪.

এখানেই ক্যস্ট্রো ও মার্কসবাদি কমিউনিস্টদের সাথে তথাকথিত নাস্তিক ও ভাসা –ভাসা জ্ঞান নিয়ে যারা বামপন্থি রাজনীতি করেন তাদের তফাত। তথাকথিত নাস্তিক তারাই যারা ধর্মকে ও তার অনিবার্যতাকে ঐতিহাসিক ও দ্বান্দ্বিকভাবে পর্যালোচনা করতে নারাজ। উপরন্তু, আদাজল খেয়ে মানুষের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে কটাক্ষ করে; ধর্মকে ভূয়া, মিথ্যা, গাল –গল্প হিসেবে প্রমান করার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠে। লেনিনের ভাষায় এদেরকে আমরা বুর্জোয়া নৈরাজ্যবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারি। যাদের অধিকাংশই অসচেতন ভাবেই, শাসকশ্রেণি ও ধর্ম নিয়ে যারা ব্যবসা করেন তাদের এজেণ্ডাই বাস্তবায়ন করে। আবার এদের মধ্যে অনেকেই তা করে সচেতনভাবেই –আপাত প্রগতিশীলতার মুখোসে পূঁজিবাদি ও সাম্রাজ্যবাদি প্রভূ ও ধর্ম ব্যবসায়ীদের পেইড এজেন্ট হিসেবে।

লেনিন প্রশ্ন করেছিলেন, কেন ধর্ম টিকে থাকছে শহুরে প্রলেতারিয়েতের পশ্চাদপদ স্তরগুলোর মধ্যে, আধা –প্রলেতারিয়েতের ব্যাপক স্তরের মধ্যে, কৃষকদের মধ্যে? তিনিই উত্তরে বলেছেন, “–জনগনের অজ্ঞতাবশত, উত্তর দেয় বুর্জোয়া প্রগতিবাদী, র‌্যাডিক্যাল অথবা বুর্জোয়া বস্তুবাদী। মার্কসবাদী বলে, এটা ঠিক নয়। এ মত হলো ভাসা –ভাসা, বুর্জোয়া সীমাবদ্ধ সংস্কৃতিপনা। এ মত ধর্মের মূল ব্যাখ্যা করছে যথেষ্ট গভীরে নয়- বস্তুবাদীর মতো নয়- ভাববাদীর মতো। সমসাময়িক পুজিবাদী দেশগুলিতে এর মূল প্রধানত সামাজিক”।

এটা বুঝতে পারা খুব কঠিন না যে, এই সমাজে বৈষম্য- শ্রেণি দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। এছাড়া শাসক শ্রেণির অব্যাহত শোষনের ফলে এবং বর্তমান পুঁজিবাদি ও সাম্রাজ্যবাদি আগ্রাসনের যুগে মানুষ ক্রমাগত এক ধরনের অনিশ্চিত, ভয়ঙ্কর কষ্ট, যন্ত্রণা, লাঞ্ছনা, বঞ্চনার শিকার হয়ে দিনাতিপাত করছে। ফলশ্রুতিতে পূঁজির অন্ধ শক্তির সামনে সকলেই মাথা নত করতে বাধ্য হচ্ছে। ভয় থেকেই যেমন ঈশ্বরের কাছে সকলে মাথা নত করে, একইভাবে সেই ভয় থেকেই সকলে পূঁজির সামনেও মাথা নত করে। এই দ্বন্দ্ব সকলের বুঝতে হবে। তা না বুঝলে মূল সমস্যা সবসময় আড়ালেই থেকে যাবে। সমাজে এক ধরনের মতাদর্শিক শুন্যতা তৈরি হবে- এই শুন্যতার কারনে, মানুষ তার মুক্তির জন্য পার্থিব ঈশ্বরের অভাবে স্বর্গীয় ঈশ্বরের স্মরনাপন্ন হবে। ধর্মের মধ্যেই তার মুক্তির আকাঙ্খা বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখবে। ধর্ম ভিত্তিক ও সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক মতাদর্শই তখন পূঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধি লড়াই এর যায়গা দখল করবে। যা আদতে অতীতাশ্রয়ী- প্রতিক্রিয়াশীল- মৌলবাদি রুপে হাজির হতে বাধ্য।

ঐতিহাসিক ও দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের ভিত্তিতে ধর্মের পর্যালোচনা করতে হবে মার্কসবাদের এটাই ভিত্তি। যেখানে ‘ধর্মের রাজনীতিকীকরণ’ ও ‘রাজনীতির ধর্মীয়করণ’ উভয়ের বিরুদ্ধেই সংগ্রাম পরিচালিত করার ব্যাপারে সচেতন প্রয়াস থাকতে হয়; মার্কসবাদ এই দুই রুপের কারো সাথে আপোস করে না, কোন লোক দেখানো ভণ্ডামিও করে না। লেনিন যেমন বলছেন,

“ধর্মের সাথে লড়াই করতে জানা চাই, তার জন্য জনগণের কাছে ঈশ্বর বিশ্বাস ও ধর্মের উতস বোঝানো দরকার দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদি পদ্ধতিতে। ধর্মের সঙ্গে সংগ্রাম শুধুমাত্র বিমূর্ত ভাবাদর্শগত প্রচারে সীমাবদ্ধ রাখা চলে না, প্রচারে পরিণত করা চলে না; সে সংগ্রামকে হাজির করতে হবে ধর্মের সামাজিক মূলোচ্ছেদের লক্ষ্যে চালিত শ্রেনী সংগ্রামের মূর্ত –প্রত্যক্ষ কর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত করে”।

এর অর্থ অত্যন্ত পরিষ্কার যে, একজন কমিউনিস্ট সচেতন ভাবেই ঈশ্বর থাকা না থাকার প্রশ্নটাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তারচে বরং এই প্রশ্ন করেন যে, মানুষ প্রকৃতিতে এত অকাট্য প্রমান থাকা সত্তেও এখনো তাদের বড় অংশ ঐ ধারনা থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না কেন?- এতেই তারা থেমে থাকে না, আরো এগিয়ে যায়। তাকে তারা বুঝতে চায় তার আর্থ –সামাজিক অবস্থান থেকে; ধর্মবিশ্বাসী মানুষগুলো যে ঐতিহ্য –সংস্কৃতি লালন করছে যুগ যুগ ধরে তা তারা অনুধাবন করতে চায়। কেননা একজন কমিউনিস্ট জানেন যে, সেখান থেকে তাদের বের করতে হলে আগে তাদের ঐ প্রয়োজনটা পূরন করতে হবে। যখন সেটা সম্ভব হবে তখনই কেবল তাদের মর্মবেদনা অনুভব করতে পারা সম্ভব হবে। তখনই কেবল তাদের এই অসহায় আত্মসমর্পনের আসল হেতু জানতে পারা যাবে।

৫.

আজকাল নাস্তিক কিংবা অজ্ঞেয়বাদি হওয়া বেশ সহজ- কমিউনিস্ট হওয়ার সাথে যার কোন সম্পর্ক নেই। যে কারনে কমিউনিস্ট আন্দোলনের শত্রুদের সকল অপ-প্রচার মোকাবেলা করা ও তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া যেমন জরুরি; তেমনি বামপন্থি রাজনৈতিক কর্মীদের ধর্ম ও ঈশ্বর সম্পর্কে সঠিক ভাবে মার্কসবাদি দৃষ্টিভঙ্গি আত্মস্থ করতে পারাটাও জরুরি। মার্কদসবাদ আমাদের এটাই শেখায় যে, মানুষ তার ‘মানুষ’ পরিচয়েই পরিচিত হবে। ধর্মের ভিত্তিতে যেমন ‘মুসলিম’, ‘হিন্দু’, ‘বৌদ্ধ’, ‘খৃস্টান’ হিসেবে সে পরিচিত হবে না। তেমনি ঈশ্বর বিশ্বাসের ভিত্তিতে ‘আস্তিক’, ‘নাস্তিক’ কিংবা ‘অজ্ঞেয়বাদি’ হিসেবেও সে পরিচিত হবে না। আজকে সময় এসেছে- যে কমিউনিজম মানুষের চিন্তা ও কাজের ঐতিহাসিক ব্যখ্যা প্রদান করেছে ঐতিহাসিক ও দ্বান্দিক ভাবে তাকে উর্ধ্বে তুলে ধরা। সময় এসেছে ক্যাস্ট্রোর মত দৃড়কণ্ঠে ঘোষনা করার- “আমি ধর্ম প্রচারক না। আমি কমিউনিস্ট”।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on ““আমি ধর্ম প্রচারক না। আমি কমিউনিস্ট”।

  1. “পৃথিবীর ইতিহাস নামে যে
    “পৃথিবীর ইতিহাস নামে যে সামগ্রিক ইতিহাসের কথা বলা হয়, সমাজতান্ত্রিক মানুষের কাছে সেই ইতিহাস মানুষের শ্রমে এবং প্রাকৃতিক বিকাশের মধ্য দিয়ে মানুষের নিজেকেই নিজে সৃষ্টির ইতিহাস। অতএব তার নিজের দ্বারা নিজের জন্ম সম্পাদন। সে নিজেই যে নিজের আবির্ভাবের কারন সেটা তার নিজের ইন্দ্রিয়ের ধরা –ছোঁয়ার মধ্যে এসে যায় এবং তার প্রমান অকাট্য হয়ে ওঠে। যেহেতু মানুষ ও প্রকৃতির সত্তার প্রামান্যতা (essentiality) –অর্থাৎ মানুষ রুপে মানুষের জন্য প্রকৃতির অস্তিত্ববান হয়ে থাকা এবং মানুষের জন্য মানুষের অস্তিত্বমানতা হিসেবে প্রকৃতির হাজির থাকা বাস্তবে এবং ইন্দ্রিয়গতভাবে মানুষেরই উপলব্ধির বিষয়। তখন মানুষ ও প্রকৃতির বাইরে অপর কোন সত্তার অস্তিত্বের প্রশ্ন কার্যত অসম্ভব হয়ে ওঠে। যে প্রশ্ন বহাল রাখার অর্থ বাস্তবের মানুষ আর প্রকৃতির অবাস্তবতা স্বীকার করে নেওয়ার শামিল। নাস্তিকতার অর্থ আসলে যা এই অবাস্তবতারই অস্বীকার। তাহলে তার আর কোন অর্থ থাকে না।

  2. পুরো লেখাটি পড়ে মনে হল
    পুরো লেখাটি পড়ে মনে হল বস্তুবাদী চিন্তার রসদ খুঁজছেন ভাববাদী দর্শন থেকে। রাজনীতির প্রয়োজনে রাজনীতিবিদরা তাৎক্ষণিক অনেক কথাই বলেন। সময়ের প্রয়োজন ও অপ্রয়োজনে অনেক কিছুই করতে হয়। যখন আপনি দর্শনগত চর্চায় যাবেন, তখন অবশ্যই আপনাকে দর্শনের উপরই আলোকপাত করতে হবে। ধর্ম নিয়ে মার্কস ও লেলিনের বেশ স্পষ্ট নির্দেশনা আছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও আছে। ঐ নির্দেশনা ও সিদ্ধান্তগুলোকে আপনি পাশ কাটাবেন কি করে?

    নাস্তিকতা একটি বস্তুবাদী চিন্তা বা দর্শন। মার্কসবাদী দর্শন শতভাগ বস্তুবাদী। পার্টির বাইরে বস্তুবাদীদের সাথে কাজ করা নিয়ে লেলিন বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন। ‘সংগ্রামী বস্তুবাদের তাৎপর্য্য” প্রবন্ধে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করেছিলেন, পার্টির বাইরে যে সকল বস্তুবাদী আছেন তাদের সাথে যৌথ ভাবে কাজ করবার কথা। তিনি বলেছিলেন-

    “অন্তত রাশিয়ায় অকমিউনিস্টদের শিবিরে এখনো বস্তুবাদীরা আছেন ও নিঃসন্দেহে আরও দীর্ঘদিন থাকবেন। দার্শনিক প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে, তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের দার্শনিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সুসঙ্গত ও সংগ্রামী বস্তুবাদের সমস্ত অনুগামীদের সম্মিলিত কাজের মধ্যে টেনে আনা আমাদের অবশ্য কর্তব্য।”

    রুশ বিপ্লবের পরে লেখা বেশ কিছু প্রবন্ধে লেনিন সারা রাশিয়াতে নিরীশ্বরবাদ প্রচারের উপরে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি সরাসরি উল্লেখ করেছেন, প্রয়োজনে পশ্চিমের বিভিন্ন লেখক যারা কমিউনিস্ট নন কিন্তু ধর্মের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানসম্মত সমালোচনা, প্রচারণামূলক লেখা লিখেছেন, তাদের পুস্তক রাশান ভাষায় অনুবাদের কথা। শুধু অনুবাদ ও নাস্তিকতা প্রচারের গুরুত্বের কথাই বলেননি লেনিন, বরং তিনি নিজেদের আত্মসমালোচনাও করেছিলেন এই ভাবে-

    “এঙ্গেলস অনেক আগেই জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রচারের জন্য আঠারো শতকের শেষের সংগ্রামী নিরীশ্বরবাদী সাহিত্য অনুবাদের পরামর্শ দিয়েছিলেন আধুনিক প্রলেতারিয়েত নেতাদের। আমাদের পক্ষে লজ্জার কথা, এতদিন পর্যন্তও আমরা সেটা করিনি”।

    নিরীশ্বরবাদ বা নাস্তিকতা বিষয়ে লেলিনের আরেকটি উদ্ধৃতি নীচে কোড করলাম-

    ” লক্ষ লক্ষ যে জনগণ কে (বিশেষ করে কৃষক ও কারুজীবী) আধুনিক সমাজ যে তমসা, অজ্ঞতা ও কুসংস্কারে নিপতিত করেছে তাঁরা কেবল বিশুদ্ধ মার্ক্সবাদী জ্ঞানের সোজাসুজি পথে এ তমসা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে, একথা ভাবা হবে মার্ক্সবাদীর পক্ষে সম্ভবত সবচাইতে বড় ভুল এবং জঘন্য ভুল। এই জনগণকে দেয়া উচিত নিরীশ্বরবাদী সকল মাল-মসলা, পরিচয় করিয়ে দেয়া উচিত জীবনের নানা ক্ষেত্রের তথ্যের সঙ্গে, নানা ভাবে এগুতে হবে তাদের দিকে যাতে তাদের আকৃষ্ট করা যায়, জাগিয়ে তোলা যায় ধর্মের ঘুম থেকে, নানা দিক দিয়ে বিচিত্রতম উপায়াদি মারফত ঝাঁকুনি দিতে হবে তাদের”।

    ধর্ম, নাস্তিকতা, বস্তুবাদ নিয়ে মার্কসীয় দর্শনের ভাবনা বিষয়ে কিছু কাজ করার জন্য তাগিদ অনুভব করছি অনেক দিন ধরেই। খুব দ্রুত কাজে হাত দেব। আশাকরি সেই লেখায় আরো বিস্তারিত আলোচনা করব।

    1. নুর নবী দুলাল ভাই, আপনাকে
      নুর নবী দুলাল ভাই, আপনাকে অগ্রিম অভিনন্দন জানাচ্ছি। একারনে যে আপনি এই ব্যাপারে কাজ করতে আগ্রহী। এই বিষয়ে আপনার বিস্তারিত লেখার অপেক্ষায় থাকলাম।

      যাই হোক, আপনি এই লেখার প্রেক্ষিতে লেনিনের যে উদ্ধৃতি গুলো দিয়েছেন; সেগুলো আমার জানার মধ্যেই ছিল। এই মন্তব্য গুলোর ব্যাপারে আমার কোন দ্বিমতও নাই। কিন্তু আমার জানার ইচ্ছা এটা যে, এগুলোর সাথে এই লেখাটা ঠিক কোথায় সাংঘর্ষিক মনে হয়েছে আপনার? আপনি যদি স্পেসিফিক করেন, তাহলে আমি তার ব্যখ্যা দিব।

      আরেকটা বিষয়, পুরো লেখাটা পরে কেন আপনার মনে হলো যে, এখানে ভাববাদি যায়গা থেকে বস্তুবাদি চিন্তার রসদ খোঁজা হচ্ছে- এটা জানতে পারলে খুব উপকৃত হব।

      আমি মার্ক্স, এঙ্গেলস বা লেনিনের কোন কিছুকেই এড়িয়ে যেতে চাই নি। তবে এত অল্প পরিসরে এত বিশদ একটা বিষয় তুলে ধরা বেশ কঠিন। তাই আরো অনেক বিষয়- যা প্রয়োজন ছিল- তা নিয়ে আসা সম্ভব হয় নি। সেটা লেখকের সীমাবদ্ধতাও বলতে পারেন।

      ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

69 + = 75