ইসলামকে দুরে রেখে জঙ্গিবাদ দুর করা যাবে না। পর্ব- ১

যে যত কথাই বলুক না কেন ,আর জঙ্গিবাদের জন্যে যতই ইহুদি নাসারাদের ওপর দোষ চাপান হোক না কেন, যাদেরকে জঙ্গি বানান হয় তাদেরকে কোরান ও হাদিসের বানী দ্বারাই ব্রেইন ওয়াশ করা হয়। এসব তরুন জঙ্গিদেরকে ব্রেইন ওয়াশ করার জন্যে আর কোনই মন্ত্র নেই। জঙ্গিবাদের কারন হিসাবে ইহুদি ,নাসারা , ব্রেইন ওয়াশ , ইত্যাদিকে দোষারোপ না করে , আমাদের ইসলামের দিকে দৃষ্টি দিলেই কাজ বেশী হবে। ইসলামকে বাদ দিয়ে , দুনিয়ার বাকী সবাইকে দোষারোপ করে জঙ্গিবাদ দুর করা যাবে না। এবার জঙ্গিবাদ দুর করতে যা যা করনীয় তা বলা হলো।

কোরানের যে সব আয়াত আমাদের তরুন তরুনীদেরকে সোজাসুজি জঙ্গি বানায়, সেগুলোর কিছু নিচে দেয়া হলো –

সুরা বাকারা – ২: ২১৬: তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।

কি কারনে যুদ্ধ ফরজ করা হলো ? কারন মুহাম্মদ তখন মদিনায় একটা ইসলামী রাজ্য গঠন করে একটা বাহিনী গঠন করেছেন। মদিনার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া বানিজ্য কাফেলায় মুহাম্মদ ও তার দলবল নিয়মিত চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে বনিকদের হত্যা করে তাদের মালামাল গনিমতের মাল হিসাবে ভাগ বাটোয়ার করছেন ,তখন মদিনার কিছু লোক বিষয়টাকে ভাল চোখে দেখেনি। ঠিক তখনই উক্ত আয়াতের অবতারনা।

প্রচার করা হয়ে থাকে , কুরাইশরা মক্কায় মুহাম্মদের ওপর নির্যাতন করত, মুসলমানদেরকে মক্কা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল তাই মুহাম্মদ তাদের বানিজ্য কাফেলায় আক্রমন করত। কিন্তু এসব সবই ভুয়া কথা ও প্রচারনা যার কোনই ভিত্তি নেই , দলিল নেই। মুহাম্মদ মক্কায় দীর্ঘ ১১ বছর ইসলাম প্রচার করলেন নির্বিঘ্নে , কেউ তাকে কিছুই বলল না। কুরাইশরা শুধু তাকে কাবা ঘরে ঢুকে তার ইসলাম প্রচার করতে নিষেধ করত। কিন্তু মুহাম্মদ সেটা শুনত না। তাহলে কুরাইশদের কি করনীয় ছিল ? কাবা ঘর ছিল কুরাইশদের মন্দির। তাদের মন্দিরে ঢুকে মুহাম্মদ তাদের ধর্মকে অবমাননা করে তার ইসলাম প্রচার করত , তখন কুরাইশরা কি তাকে ফুল তুলে পুজো করবে ?

ঘটনা যদি এমন হয়, বর্তমানে কোন খৃষ্টান বা হিন্দু কোন মসজিদে ঢুকে তাদের খৃষ্টান বা হিন্দু ধর্ম প্রচার করে , তাহলে মুসলমানরা কি করবে ? সাথে সাথে তার কল্লা ফেলে দেবে। অথচ সেখানে কুরাইশরা বস্তুত: মুহাম্মদকে কিছু ভর্ৎসনা করা ছাড়া কিছুই করত না। তার মানে ,মুহাম্মদ নিজেই আগ বাড়িয়ে কুরাইশদের সাথে গন্ডগোল করত, কিন্তু তার পরেও কুরাইশরা কিন্তু তাকে কিছুই বলে নি ১১ বছর। অথচ , প্রচার করা হয়, কুরাইশরা নাকি মুহাম্মদকে অত্যাচার করত। ঘটনা যদি সত্য হতো , তাহলে মুহাম্মদ কি তার ইসলাম প্রচার করার জন্যে মক্কায় ১১ বছর সময় পেত ?

অর্থাৎ যে অন্যায় কুরাইশরা করে নি , সেই দোষ কুরাইশদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে মুহাম্মদ তাদের বানিজ্য কাফেলা আক্রমন শুরু করে। আর তারপরই মুহাম্মদ তার সাঙ্গপাঙ্গদেরকে উত্তেজিত করার জন্যে আল্লাহর বানীর নামে নিচের আয়াতগুলো নাজিল শুরু করে –

বাকারা -২: ১৯০-আর লড়াই কর আল্লাহর ওয়াস্তে তাদের সাথে, যারা লড়াই করে তোমাদের সাথে। অবশ্য কারো প্রতি বাড়াবাড়ি করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে পছন্দ করেন না।

বাকারা-২: ১৯১: আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে। বস্তুতঃ ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ। আর তাদের সাথে লড়াই করো না মসজিদুল হারামের নিকটে যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথে সেখানে লড়াই করে। অবশ্য যদি তারা নিজেরাই তোমাদের সাথে লড়াই করে। তাহলে তাদেরকে হত্যা কর। এই হল কাফেরদের শাস্তি।

বাকারা- ২: ১৯৩: আর তোমরা তাদের সাথে লড়াই কর, যে পর্যন্ত না ফেতনার অবসান হয় এবং আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর যদি তারা নিবৃত হয়ে যায় তাহলে কারো প্রতি কোন জবরদস্তি নেই, কিন্তু যারা যালেম (তাদের ব্যাপারে আলাদা)।

এভাবে কোরানে একশতের ওপর আয়াত পাওয়া যাবে যাতে ক্রমাগত মুসলমানদেরকে অমুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বা হত্যা করার আদেশ জারি করা হয়েছে। মুহাম্মদ তার জীবনে সর্বশেষ বিধান জারি করে , তা দেখা যাবে সুরা তাওবায়, আর এই সুরা তাওবা নাজিল হয় সম্পূর্ন শান্তির সময়,তার অর্থ, কেউ যখন মুহাম্মদকে আক্রমন করতে যাচ্ছিল না , মক্কা ও মদিনা যখন মুহাম্মদের করতলগত , ঠিক তেমনি সময় শুধু ইসলাম গ্রহন না করার কারনে সুরা তাওবার যুদ্ধ ও হত্যার বিধান জারি করা হচ্ছে—

তাওবা – ৯: ৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাওবা -৯:২৯:তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

এইসব আয়াতের সুন্দর ব্যখ্যা করে গেছে স্বয়ং মুহাম্মদ নিজেই ,যেমন –

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০:
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

অর্থাৎ অমুসলিমরা ইসলাম গ্রহন না করা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে ও তাদেরকে হত্যা করতে হবে। মুহাম্মদ নিজেই বলেছে –

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০:
ইয়াহ্ইয়া ইব্ন বুকাইর (র)……………আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমি প্রেরিত হয়েছি এবং শত্রুর মনে ভীতির সঞ্চারের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। একবার আমি নিদ্রায় ছিলাম, এমতাবস্থায় পৃথিবীর ধনভান্ডার সমূহের চাবি আমার হাতে অর্পণ করা হয়। আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তো চলে গেছেন আর তোমরা তা বের করছ।

অর্থাৎ মুহাম্মদ নিজেই বলছে , জঙ্গিবাদের দ্বারাই তার বিজয় হয়েছে অর্থাৎ ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অথচ কিছু ভুইফোড় লোকজন যারা জীবনে কোনদিন কোরান হাদিস পড়ে নি ,তারা বলছে ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম, ইসলাম তো কাউকে হত্যা করতে বলে না। আর তারাই বলছে ,জঙ্গিবাদের কারন নাকি ইহুদি ষড়যন্ত্র । কোরান হাদিস নিজেই যখন একটা জঙ্গিবাদী আদর্শ, ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার মূল উপায় যখন জঙ্গিবাদ, খোদ মুহাম্মদ নিজেই জঙ্গিবাদের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার করে গেছে , সেখানে এইসব ভুইফোড় লোকজন বলছে ইসলাম শান্তির ধর্ম। আর তারা এইসব ভুয়া কথা বার্তা বলে জঙ্গিবাদ দুর করতে চায়। কিন্তু যারা কোরান হাদিস চর্চা করে , যারা মনে প্রানে বিশ্বাস করে ইসলাম হলো একমাত্র সত্য ধর্ম, তারাই মুহাম্মদের দেখান পথে জঙ্গিবাদের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার জন্যে জীবন দিচ্ছে , আর ইসলাম না জানা কিছু মুনাফিক , দাবী করছে , এসব জঙ্গিদের পিছনে নাকি আছে ইহুদিরা।

চলবে ======================================

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “ইসলামকে দুরে রেখে জঙ্গিবাদ দুর করা যাবে না। পর্ব- ১

  1. কোরান হাদিসের কথা গুলো বলা এই
    কোরান হাদিসের কথা গুলো বলা এই ভাবে-( এখানে প্রশ্রাব করিবেন না। করিলে ৫০ টাকা জরিমানা ।)
    আর নাস্তিক কুল প্রচার করে এই ভাবে- (এখানে প্রশ্রাব করিবেন । না করিলে ৫০ টাকা জরিমানা ।)

  2. আরেকটু যদি ভেঙ্গে বলতেন, ভাল
    আরেকটু যদি ভেঙ্গে বলতেন, ভাল হত। এখানে লেখক তো রেফারেঞ্চ উল্লেখ করেছেন এবং সেটা তো ঠিকই আছে যেটুকু মিলিয়ে দেখলাম। তাহলে ভুলটা ঠিক কোথায়? কুরান/হাদিস/সহি বুখারির যে রেফারেঞ্ছ দিয়েছেন, তাহলে কি ধরে নিব যে তা সঠিক নয়? ব্যাখ্যা করবেন কি?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 12 = 19