♦ আসুন না একটু নিজের আয়নায় নিজেকে একটু দেখি ♦

সবাই এখন Expert Opinion দিতে শুরু করে দিয়েছে। আমি জানি এসবও সাময়িক। আর মাত্র দিন সাতেক পরেই আমরা আবার সব ভুলে যাব। আমাদের বাঙলাদেশীদের মধ্যে ভুলে যাওয়ার মতো একটি ভালো রোগ আছে। কারণ যে প্রাণীর স্মরণ শক্তি যত কম সে প্রানী তত সুখী। ইতিহাসবিদগণ এই রোগের নাম দিয়েছেন “Willful cultural forgetfulness”। আসলে এই পিচ্ছিল গতিময় সময়ে সবই সাময়িক। মহাকালের দেয়ালে আচড় দেয়া এই সময়ে খুবই দুরুহ।

আমি লিখতে চাইনি এই লিখাটা যদি না আমার কতিপয় শিক্ষকের পোষ্ট আমাকে পীড়ন না দিত। তাদেরকে সম্মান করি। তারা আমার শিক্ষক এটি ভেবে আমি সুখও পাই। কারন তাদের নামের আগে পরে অনেক ডিগ্রী, সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি আছে। কেউ কেউ বিচার বিভাগেও কর্মরত। কিন্তু তাদের মতো জ্ঞানীজন যখন এতো শ্যালো কথাবার্তা লিখে যে আমার মতো অধম কলম ধরতে বাধ্য হয়। আশাকরি মূর্খের মূর্খতা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আগেই বলে নিই এই লিখা কাউকে আঘাত দেয়ার জন্য নয়, শুধুমাত্র objectively বিষয়টিকে দেখার চেষ্টা করেছি মাত্র।

১#
শুরুতেই মহাত্মা ছফার কথা দিয়েই শুরু করি। “বাঙালি মুসলমানের মন” প্রবন্ধে তিঁনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন-“বাঙালি মুসলমানের মন এখনও আদি অবস্থায়, তা বাঙালি হওয়ার জনও নয় এবং মুসলমান হওয়ার জন্যও নয়।” ছফা বাঙালি পন্ডিতদের যথার্থই উপলব্ধি করেছিলেন এই প্রবন্ধে তারই প্রমাণ পাওয়ান যায়- বাঙালি মুসলমান স্বাধীন চিন্তাকেই সবচেয়ে বেশি ভয় করে। তার মনের আদিম সংস্কার এখনও কাটেনি। ভাসা ভাসা ভাবে, অনেক কিছুই জানার ভান করে, আসলে তার জানাশোনার পরিধি খুবই সঙ্কুচিত” আমার শিক্ষকদের লেখাগুলো পড়ে আমার মত অধমেরও তাই মনে হয়েছে। ১ জুলাই ঘটনাটি যারা সংঘটিত করেছিল যে ৬/৭ জন তরুণ, যাদেরকে আমরা বলছি সন্ত্রাসী/জঙ্গী/বিপদগামী, তারা যাই কিছু হোক একথা সবাই একমত হবেন তারা স্বাধীন বাঙলাদেশের নাগরিক। এদেশের জলবায়ুতেই তারা বেড়ে উঠেছে। তাদের এই ঘৃণ্য কার্যে আমার আপনার কতটুকু অবদান ছিল তা আমি একটু খতিয়ে দেখতে চাই বা নিতান্ত পক্ষে খতিয়ে দেখার চেষ্টা করতে চাই।

২#
প্রথমে একটু সামাজিকভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করি। আমার কাছে যেটি প্রথম প্রশ্ন জেগেছে কেন এইসব তরুণ নিজের প্রাণ বিপন্ন করে এমন একটি জগণ্য কাজ করতে গেল? আপনারা হয়ত বলবেন Brainwash, কেউ বলবেন তারা ইসলাম ধর্ম বুঝেনি, কেউ বলবেন এটির নিছক কিছু তরুণদের adventure। আমার শিক্ষকরা চুক চুক করে নাকি সুরে বলছেন ধর্মে এসব নেই, এসব বাড়াবাড়ি, কেউ কেউ তাদের মূর্খ বলেছেন। মহাশয়, আপনিই শুধু ধর্ম বুঝে বসে আছেন, আর অন্যরা ধর্ম বুঝেনি এমন মনে করাটাও কি মূর্খতা নয়?

আপনি নিজের বুকে হাত দিয়ে অন্তত: একটি সত্য কথা বলবেন এখন। না, আমাকে বলতে হবে না, নিজের কাছে নিজে জিজ্ঞাসা করুন, তাতেই চলবে। গত ৪৫ বছরে আমরা যারা প্রগতির কথা বলে রাজনীতি করেছি বা প্রগতিশীল রাজনীতির পক্ষে কথা বলেছি, আমি এখানে আওয়ামিলীগ, বিএনপি ও বামদলগুলোর’র কথা বলছি, কারণ এদেশে জনপ্রিয়তার বিবেচনায় অন্য কোন রাজনৈতিকদল এ রাজনৈতিকদলগুলোর আশেপাশেও নেই, বিশেষ করে আওয়ামিলীগ ও বিএনপি। এ দুটি রাজনৈতিক দলে আপনি এমন একজন সৎ কিংবা দুর্নীতিমুক্ত মানুষের নাম বলুন যার পেছনে দাড়িয়ে আপনি বলতে পারেন-“ আমার জীবন মান আপনার হাতেই সপে দিলাম”। বলুন তো আছে কি না? যে তরুণটি জন্মের পরেই দেখেছে তার পিতার অবৈধ সম্পদের পাহাড়, আর্থিক অসততা, সমাজে চরম বিশৃঙ্খলা, সমাজের পরতে পরতে অন্যায়, মিথ্যা দিয়ে গড়া সমাজ ব্যবস্থা। সে এই সমাজকে নিজের ভাবতে পারে না। সে যখন অন্য এক সমাজের স্বপ্ন দেখে তখন আমি তার স্বপ্নকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু যখন তারা এই সমাজ বদলের স্বপ্নের চরিত্র নির্ধারণে কোন ধর্মগুরুদের সান্নিধ্য চায় তখন তারাই তাকে বিপথে টেনে নিয়ে যায়, ঐসব ধর্মগুরুরা নিজের স্বার্থ হাসিল করে ঐসব কোমলমতি তরুণদের ব্যবহার করে। আমি ঐসব তরুণদের দোষ দেয়ার আগে নিজেদের সুশীলীয় কপট-ভন্ড চেহারাটাও একটু দেখতে, দেখাতে চাই। মিথ্যে বলব না আমি আপনাদের মতো সুশীল কপট-ভন্ড। ঐসব তরুণরা যারা এই ধরনের ঘৃণ্য কাজ করতে গিয়ে নিহত হয়েছে অন্তত: তারা আমার আপনার চেয়ে সৎ, অন্তত তারা তাদের চিন্তার ক্ষেত্রে সৎ। তারা যা বিশ্বাস করেছে তার জন্য তারা জীবন দিতেও প্রস্তুত।

৩#
যেটি বলছিলাম, প্লীজ এই অংশটি পড়ে আমাকে আওয়ামিলীগ ট্যাগ দিবেন না। অন্তত পুরো লেখাটি পড়ে মন্তব্য করুন। ইতিহাস শুধু অতীত নয়, আমাদের বর্তমান হলো Logical continuation of past. তাই আমি ইতিহাসের দিকে একটু নজর দিবই। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাঙলাদেশে ইসলামাইজেশন করার প্রক্রিয়া শুরু হয় তৎকালীন সামরিক সরকার জিয়ার হাত দিয়ে। স্বাধীনতার বিরোধীতাকারী জামায়াত ইসলাম সহ সকল ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে রাজনীতি করার অনুমতি দিয়ে ১৯৭১ এর আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের যে অসম্প্রদায়িক চেতনা তার সাথে এক ধরনের betray করা হয়। শুরু হয় রাজনীতিতে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার, যার পেছনের কারণ ছিল সামরিক সরকারের দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার অভিলাস এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রচুর পেট্রোডলার আসার হাতছানি। এর ধারাবাহিকতা চলতে সামরিক সরকার এরশাদ এবং পরবর্তীতে বেগম জিয়ার ১৯৯৬ পর্যন্ত শাসনামল পর্যন্ত। আওয়ামিলীগও বাদ যায়নি, তারাও ১৯৭১ এর চেতনার ধারা আর সমুন্নত রাখতে পারেনি, compromise করেছে ধর্মভিত্তিকদলগুলোর সাথে নানান সময়ে/কারনে। মূলত: ৭৫ পরবর্তী সময়ে বাঙলাদেশে আর্দশগত কোন রাজনীতি হয়নি, হয়েছে যেন তেন ভাবে ক্ষমতায় আসার প্রতিযোগিতা। একে হালুয়া রুটির রাজনীতিও বলা যায়। যেনতেন ভাবে সামরিক বাহিনীকে সন্তুষ্ট করতে উঠে পড়ে লেগে যায় রাজনৈতিকদলগুলো। একটি উদাহরণ দিলেই বুঝা যায়, ১৯৭৫ এর বঙ্গবন্ধু সরকারের সর্বশেষ বাজেটে সামরিক বাহিনীর জন্য বরাদ্দ ছিল মোট জিডিপির ১৩%ভাগ আর ১৯৭৬ এ জিয়া তা বাড়িয়ে করে ৩৯% ভাগ। সামরিক বাহিনীতে রিক্রুটমেন্ট ৩০০% ভাগেরও বেশী করা হয় পূর্ববর্তী সরকারের চেয়ে। মূলত: পরবর্তী সরকারগুলো-২০১৬ পর্যন্ত- জিয়াকেই অনুকরণ করেছে। এর ফলেই ফুলে ফেপে উঠেছে এক শ্রেণীর মানুষ, আর দরিদ্র থেকে দরিদ্র হয়েছে আর শ্রেণীর মানুষ। একটু চোখ মেলে দেখুন, আমার চট্টগ্রামের কথায় বলি, আপনাদের মতো ভদ্দরলোককে প্রশ্ন রাখতে চায়, এখানে মেট্রোতে, একটি মানসম্মত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আপনি খুজে পাবেন যেটিতে আপনি আপনার সন্তানকে পড়তে দিবেন?? আমরা ধনীরা নিজেদের জন্য আলাদা একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে রেখেছি। বর্তমানে বাঙলাদেশে ৪/৫ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত। বাঙলা মাধ্যম, ইংরেজী মাধ্যম, ন্যাশনাল কারিকূলাম, মাদ্রাসা মাধ্যম(মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যেও আবার কয়েক ভাগ আছে), ক্যাডেট স্কুল ও কলেজ। আমরা তৈরী করছি ৪/৫ ধরনের প্রজন্ম। আবার আশা করছি তারা সবাই একই আচরণ করবে, এটি কি একটু বেশী চাওয়া নয়? একদিকে এখানে হোটেল রেডিসন এর মতো পাচ তারকা হোটেল হয় আর এক দিকে দারিদ্রের হাহাকার। আমরা রাষ্ট্রের মূলনীতিতে সমাজতন্ত্র রেখেছি কিন্তু কার্যত ৪৫ বছর ধরে হয়েছি পুজির নগ্ন দাস। আমি যেহেতু শিক্ষকতা পেশায় আছি প্রথমে আমার পেশার লোকদেরই কথা আগে বলি। আমরা কতটুকু সৎ?? কতটুকু সততা আমরা আমাদের পেশাগত জীবনে দেখায়? ঐ তরুণরা যাদেরকে আমরা পথভ্রষ্ট বলছি তারা যখন দেখে তার শিক্ষক ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান কিংবা ডীন কিংবা ভিসি হওয়ার জন্য, কিংবা নূন্যতম নিজ স্বার্থের জন্য কুকুরের মতো রাজনীতিবিদদের পদ লেহন করছে। বেশীদিন আগের কথা নয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যলয়ের বর্তমান এক ভিসিকে আমি এক রাজনৈতিক দলের নেতার বাসায় কুকুরের মতো চাটুকারিতা করতে দেখেছি। যেখানে তরুণরা তার শিক্ষকদের মধ্যে নূন্যতম ব্যক্তিত্ব দেখে না, মুদির দোকানদার আর শিক্ষকের মধ্যে পার্থক্য বের করতে কষ্ট হয়ে যায়, সেখানে আপনি আশা করছেন তরুণরা শুধু এসব দেখে যাবে, তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন। গতকিছুদিন আগে শিক্ষকরা যেভাবে নিজেদের বেতনের জন্য রাস্তায় নেমেছিল, খেয়ে না খেয়ে আন্দোলন করে তাদের দাবী আদায়ে সরকারকে বাধ্য করেছিল, খুব সুখী হতাম যদি এসব শিক্ষকরা নিজেদের বিভাগে সেশন জট কমানোর জন্য, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্বার্থ নিয়ে এভাবে ঝাপিয়ে পড়তেন। কিছুদিন পরপর বাঙলাদেশের সরকারগুলো শিক্ষার্থীদের নিয়ে একধরনের গিনিপিগ গিনিপিগ খেলা খেলে, খুব শ্রদ্ধা করতাম আমাদের শিক্ষকদের যদি তারা নিজেদের বেতনের জন্য যেভাবে ঝাপিয়ে পড়েছিল তেমনি এসব নিয়ে কখনও রাস্তায় নামত। কিভাবে নামবেন, এত এত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে হয়, স্ত্রী-সন্তানেরর জন্য দামী গাড়ি বাড়ি তো আগে দরকার। শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভাবার দরকার কি, সময় ই বা কৈ??। এই যদি হয় জাতির বিবেকদের চরিত্র তখন আমি ঐ পথভ্রষ্ট তরুণদের দোষ দেয় না, তারা অন্তত ভন্ড নয়, কপট নয়, নিজের চিন্তার কাছে তারা অন্তত সৎ, ঐসব তথাকথিত সারমেয় চরিত্রের চেয়ে ঐসব পথভ্রষ্ট তরুণদের আমি শ্রদ্ধার চোখে দেখি। যদিও তাদের পন্থাটি ভুল। এবার আইনজীবী/বিচারকদের কথা বলি, এক কথায় বিচার কার্যে যারা জড়িত তাদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের general perception হচ্ছে এদেশে বিচার হলো ধনীদের ব্যক্তিগত বিষয়। এদেশে বছরের পর বছর বিচার চলে, মামলার তারিখ হতে আরম্ভ করে নথি তোলা পর্যন্ত এমন কোন স্থান নেই যেখান অবৈধ পয়সার লেনদেন হয় না। তনু হত্যাকান্ড, সাগর-রুনি হত্যাকান্ড, মিতু হত্যাকান্ড এসব নিয়ে বিচারক/আইনজীবীদের ভূমিকা একটু বলবেন?? আইনজীবী/বিচারকরা আমার কথায় দয়া করে রাগ করবেন না, আমি নিজেও আপনাদের অংশ, দয়া করে সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে জিজ্ঞ্যেস করুন তারা বিচার বিভাগ নিয়ে কি ভাবে। আমি নিশ্চিত আমাদের নিয়ে তারা যা ভাবে তা যদি শুনেন আর অনুধাবন করেন তাহলে লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যাবে আপনাদের/ আমাদের।

৪#
এবার কোন কোন শিক্ষক নাকি সুরে (এরা লিবারেল মুসলিম) বলছে ধর্মে এসব নেই, ওরা ভুল পথে আছে। যেখানে প্রতিটি ধর্মের মূল কথাই হচ্ছে “আমি সেরা”, সেখানে গণতন্ত্র অচল। ধর্মগুলো নিয়ে কোন যৌক্তিক সমালোচনা করা কোন ধর্মই অনুমোদন দেয়না। উদাহরনস্বরূপ বোখারি শরীফ থেকে উল্লেখ করছি- “অপরাধ” নামক ১১তম অধ্যায়ের হাদীস নং- ১২২৯, ১২৩১, ১২৩২, ১২৩৩ হাদীসগুলো একটু দয়া করে পড়বেন। এই হাদীসগুলোর সারমর্ম হচ্ছে কেউ যদি একবার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আবার বের হয়ে যায় অথবা অবিশ্বাস প্রদর্শন করে তাহলে তাকে হত্যা করা বৈধ। প্লীজ, আমাকে নাস্তিক ট্যাগ দিবেন না, একটু হৃদয় দিয়ে হাদীসগুলো অনুধাবন করার চেষ্টা করুন। যেখান ভিন্ন মতকে কোন স্থান দেয়া হয় না, অন্যের মতামতকে যেখানে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয় না, সেখানে আপনি সুস্থতা আশা করছেন, গণতন্ত্র আশা করছেন?? এসব ধর্ম গ্রন্থগুলোতে এমন সব আয়াত বা বাণী আছে যেগুলো কোমলমতি তরুণদের হত্যা করাকে উৎসাহিত করে। ধর্মগুলো এখন মানুষের মুক্তির জন্য যতটুকু না সহায়ক তার চেয়েও বেশী সহায়ক পুজিবাদের জন্য, ধর্মগুলো পরোক্ষভাবে পুজিবাদের সেবক বা দাস হিসেবে কাজ করছে, যদি আমরা তা বুঝতাম!!

৫#
গত কিছুদিন আগে প্রথম আলোর মতো পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছিল পশ্চিমা বিশ্বে এক কিলোমিটার রাস্তা তৈরী করতে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয় তার চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশী অর্থ বেশী খরচ হয় বাঙলাদেশের এক কিলোমিটার রাস্তা তৈরী করতে। আবার কয়েকদিন আগে আমরা এও দেখেছি সুইস ব্যাংকে বাঙলাদেশীদের গচ্ছিত অর্থের পরিমান ৫০ গুণ বেড়েছে। আমার এখন বুঝতে অসুবিধা হয়না কেন আমাদের রাস্তা তৈরীতে বেশী যে অর্থ ব্যয় হয় ওগুলো কোথায় যায়। The Daily Star সংবাদপত্রটি বিদেশের একটি জার্নালের রেফারেন্স দিয়ে বলেছে গত ৩০ বছরে বাঙলাদেশ থেকে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। এই যখন অবস্থা তখন আমি/আমরা শিক্ষক, আপনারা বিচারক/আইনজীবী, প্রকৌশলী মহোদয়, কতবার রাস্তায় নেমেছি এসবের বিরূদ্ধে বলতে পারেন?? আমাদের তরুণদের সামনে বড় কোন আদর্শ নেই, বড় কোন নেতৃত্ব তাদের সামনে নেই, পাহাড় সমান ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন কোন শিক্ষক তাদের সামনে নেই এবং খুব স্বাভাবিকভাবেই তারা ধর্মকেই আশ্রয় মনে করছে এবং মুক্তির পথ ভাবছে। যদিও পথটি ভুল পথ কিন্তু জাতি হিসেবে shallow হওয়ার কারণে আমরা shallow পথকেই বেঁছে নিব এটিই স্বাভাবিক। এসব জঙ্গীবাদ বলেন/সন্ত্রাসী কার্যক্রম বলেন/বিপথগামী পথ বলেন, যাই বলেন না কেন এসবের জন্য আমি, আপনি দায়ী। যে বয়সে একটি তরুণ নিজের ভবিষ্যত নিয়ে রঙিন স্বপ্ন দেখার কথা সে বয়সে একটি তরুণ মানুষ হত্যাকে মুক্তির পথ হিসেবে বেছে নেয় তখন বুঝতে হবে ব্যাধিটি অনেক গভীরে। আসুন, crocodile tear না ফেলে নিজের আয়নায় নিজেকে একটু দেখি, একবার নিজেকে বলি আমি ভন্ড, কপট। আপনার বাসার পেছনে ময়লা আবর্জনার স্তুপ রেখে আপনি যতই insect killer ব্যবহার করুন না কেন লাভ নেই।

লিখেছেনঃ Ekram Uddin Khan.
(BGC Trust University, Chittagong)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

49 − = 43