রাস্তা কাহিনী

নগরীর অধিকাংশ চালু থাকা ঘড়িতে একযোগে সকাল পৌনে নয়টা বাজিল। এমন সময় হঠাৎ করিয়া নগরীর প্রধান প্রধান কিছু সিগন্যালের সামনে ট্রাফিক পুলিশেরা দুই হাত প্রসারিত করিয়া যান-বাহন চলাচল বন্ধ করিয়া গ্যাট করিয়া রাস্তার মাঝখানে দাড়াইয়া গ্যালেন। সিগন্যালের চারিপাশ হইতে কালা,হলুদ, বাদামী,ডোরাকাটা রঙের বিভিন্ন বাহিনী কাধের বন্দুক হাতে লইয়া দুই পা চ্যাগাইয়া রাস্তার পাশে সতর্ক অবস্থান গ্রহন করিলেন। ইহা দেখিয়া বউবাচ্চা পোষা অফিসযাত্রীদের ভেতর অধিকাংশ দুর্বল হৃদয়ের মানুষের টাকে ঘাম ও মনে ভীতি সঞ্চার হইলে, যেহেতু নগরীতে প্রতি দশ জনে একজনের আক্কল দাত উঠিয়াছে, তাই প্রত্যেক বাসেই কমছে কম চারজন আক্কলওয়ালা লোক পাওয়া গেলো। তাঁহারা তাহাদের আক্কলের পরিচয় দিয়া লোকজনকে নানা সম্ভাবনার কথা বর্ণনা করিয়া বুঝাইতে থাকিল। কেহ কহিল, “মনে হয়, রাস্তা ঝাড়ু দিবো। ঝাড়ুদারেরা বোধহয় রাইতে মশার কামড়ে ঘুমাইতে পারে নাই, দেরী কইরা ঘুম থেইকা উঠছে।” যাহাদের আক্কল দাত উঠে নাই তারা অনেকেই সায় দিয়া, নগরীতে ইদানিংকালে কিভাবে তারা মশার কামড়ে রাত জাগিয়া কাটাইয়া দিতাছে তার বর্ণনা সবিস্তারে বলিতে লাগিলো । অপর আরেক জায়গায় আরেক আক্কল দাত ওয়ালা ব্যাক্তি বিরক্তির স্বরে কহিলেন,”হালায় পিটি করনের আর টাইম পাইলো না, এগো ম্যালা দিন ধইরা কোনো কাম কাইজ নাই। সামনে নগর দিবস আছে না, এই লাইগ্যাই মনে লয় হালারা সক্কাল সক্কাল এমুন নাচুন কুদুন শুরু করছে।” এইখানেও যথারীতি তার বক্তব্যের পক্ষে-বিপক্ষে বাহাস শুরু হইয়া গ্যালো।

ঐদিকে এক বুড্ডা ব্যাটা যাহার জীবনেও আক্কেল হইবার সম্ভাবনা নাই, তিনি কোনো দিকে না চাহিয়া রাস্তা পার হইবার উদ্যোগ নিয়া হাটা শুরু করিলেন। এই ব্যাক্তি জীবনে কোনো সুপারহিরোদের কায়-কারবার নিয়া সিনেমা না দেখিলেও, তিনি এই বৃষ্টিস্নাত সকালে এরুপ একজনের সাক্ষাত পাইলেন এবং শুধু সাক্ষাত নয় যাহাকে বলে হাড়ে হাড়ে, জয়েন্টে জয়েন্টে টের পাইলেন। বুড্ডা ব্যাক্তি যখন তার স্বল্প চোখের দৃষ্টি ও মাথার অল্প বুদ্ধি নিয়া রাস্তা পার হইবার চেষ্টা করিতেছিলেন, একজন নীল উর্দি পরিহিত বাহিনীর ব্যাক্তি তাহার গতিবিধি লক্ষ্য করিয়া সন্দিহান হইয়া উঠিলেন, অতঃপর বুড্ডা ব্যাক্তিকে নিরপত্তার জন্য হুমকি বিবেচনা করিয়া তিনি দৌউড়াইয়া গিয়া উহার চিমসা পাছা লক্ষ্য করিয়া মারিলেন এক ফ্লাইং কিক। কিক খাইয়া বুড্ডা ব্যাক্তি উলটা হইয়া রাস্তায় পড়িবার সাথে সাথে একটি নীল গাড়ি সাইরেন বাজাইয়া আসিলো এবং উহার হাতে হাতকড়া পড়াইয়া তাহাকে গাড়িতে উঠাইল। বুড্ডা ব্যাক্তি কিক খাইয়া যা বিড়ম্বনায় পড়িয়াছিলেন, হাতকড়া বাধা থাকায় কিক খাওয়া পাছায় হাত বুলাইয়া ব্যাথা উপশম করিবার প্রচেষ্টা করিতে না পারায় তাহার চেয়ে বেশি বিড়ম্বনা বোধ করিলেন।

রাস্তার পাশে হাতে একজোড়া ছেড়া পাদুকা লইয়া এক দার্শনিক ব্যাক্তি ঘটনা পর্যবেক্ষন করিয়া এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে পৌছাইলেন, “মানুষের ফুসফুস যদি বুকে না হইয়া তাহার পশ্চাতদেশে হইতো, তবে গ্যাস্টিকই হইতো সবচেয়ে মরণঘাতি রোগ এবং এই বুড্ডা ব্যাটা নির্ঘাত এক্ষুনিই বায়ুর সাথে প্রাণ ত্যাগ করিয়া মর্গে যাত্রা নিশ্চিত করিত।” অতঃপর মানুষের সৌভাগ্যের কথা চিন্তা করিয়া তিনবার সৃষ্টিকর্তার নাম স্বরণ করিয়া দার্শনিক ব্যাক্তি তাহার নিজস্ব পাছায় হাত বুলাইয়া এই চিন্তার আরো গভীরে আকর্ণ ডুবিয়া গ্যালেন।

ওদিকে এক ডায়রিয়া রোগী এম্বুলেন্সের ভেতর গরম পানির প্রবাহ ছড়াইয়া স্ট্রেচার হইতে ঝরণা ধারা গাড়ির ফ্লোরে বহাইয়া দিয়া তাহার নিভু নিভু দুর্বল চোখ দিয়া প্রাণ-পণে জানালা দিয়া বাহিরে তাকাইয়া কি ঘটিতেছে বোঝার চেষ্টা করছিলেন এবং তাহার নাচার স্বজনেরা ব্যবহার যোগ্য সমস্ত কাপড় তাহাদের নাকের সম্মুখে চাপিয়া ধরিয়া আরো বেশি মনযোগ দিয়া পুরা ঘটনা বুঝবার চেষ্টা করিতে লাগিলো।

এই সব চিন্তা, ভাবনা ও ঘটনা ঘটিতে ঘটিতে ঘড়িতে সোয়া নয়টা বাজিয়া গ্যালেও যখন জ্যামে আটকানো ব্যাক্তিগণ কোনো কিছু ঠাহর করিতে না পারিয়া বিরক্ত হইয়া উঠিলো, কেহ কেহ এই নগরে আরো কিসব দুর্দশার ভিতরে তাহারা জীবন যাপন করিতেছেন তার লিস্টি জনসম্মুখে প্রকাশ করিয়া নিজেদের পর্যবেক্ষন ক্ষমতার প্রমাণ দিতে লাগিলেন। ঠিক তখনই নগরীর আকাশ-বাতাস বিদির্ণ করিয়া সাইরেনের শব্দ তুলিয়া লাল-নীল বাত্তি জ্বালাইয়া কতিপয় মোটর বাইক সিগন্যালগুলাকে রেকি করিয়া অতিক্রম করিয়া যাইতে লাগিলো।

অতঃপর নগরীর সমস্ত প্রকারের দাঁতওয়ালা ব্যাক্তিগণ একযোগে বুঝিতে পারিলো এই দাঁড়াইয়া থাকা জ্যামের কারণ, নগরীর প্রধানব্যক্তি আজ সকাল সকাল এই ব্যস্ত রাস্তায় তাহার গাড়ির ধূলা দিয়া নগরবাসীকে উদ্ধারে প্রবৃত্ত হইয়াছেন। আজ নগরসভার বৈঠক থাকায় তিনি সকাল সকাল নগরবাসীর স্বার্থেই নগরালয়ে গমণ করিতেছেন।

ওদিকে প্রধানব্যাক্তি তাহার নগরবাসী প্রদত্ত নগকারি গাড়িতে বসিয়া ল্যাপটপে অপর এক গ্যালাক্সির কোনো খেলোয়ারের গাওয়া চাম্পিয়ন নামক একটি গান শুনিতেছিলেন। বাড়ি হইতে বাইর হইয়া পুরা রাস্তায় তিনি প্রায় দশবার গানটি শুনিয়া মুখস্ত করিয়া ফেলিয়াছেন। সাবটাইটেল দেওয়া থাকায় গানখানা বুঝিতে তাহার বেশি একটা কষ্ট করিতে না হইলেও তাহার গ্যালক্সিতে এমন সমাঝদার শিল্পি ও গীতিকারের অভাব বোধ করিয়া কষ্ট পাইলেন। তাহার নাম লইয়া আজ অবধি কেহ গান গাইয়া ধন্য হয় নাই। তিনি ও তাহার পরিবার এই নগরীর জন্য খাটিয়া খাটিয়া মরিয়া গ্যালেও কেহ তাহাদের কষ্ট বুঝিলো না।

মাত্র সাতচল্লিশটা গাড়ি নিয়া আজ তিনি নগরালয়ে যাচ্ছেন। যাহার অধিকাংশই চৌকা চতুর্ভুজ টাইপ গাড়ি। শিল্পিরা সমাজের সেবক, অন্য এক গ্যালাক্সির শিল্পিদের তিনি দেখিয়াছেন গান গাহিতে আসিলে তাহারা লম্বা এক প্রকার গাড়ি নিয়া আসে যাহার ভেতরে শান্তিতে নিশ্বাস নেওয়া যায়, গলায় আরাম করিয়া কড়া পানীয় ঢালা যায়, চাহিলে দুই পার্শ্বে দুই জন ও সামনে একাধিক রমণী লইয়া রিল্যাক্স করিয়া যেকোনো শুভকাজের উদ্ভোদন করিতে যাওয়া যায়। তিনিও সমাজ সেবক, নগরীর প্রধানব্যাক্তি হিসাবে প্রায় সারাক্ষণই তাহাকে নানা দুশ্চিন্তায় ডুবিয়া থাকার দরকার পরে, তারপরে আছে প্রধান বিরোধীব্যাক্তির দলকে শায়েস্তা করার কৌশল নিয়া চিন্তা-ভাবনা করা।নগরীর স্বার্থেই তো তিনি এসব করেন ও ভাবেন। অথচ তাহার সামান্য একটি লম্বা গাড়ির সাধ এই নগরে পূরণ হওয়ার নয়। তাহার যান-বাহন বিষয়ক উপদেষ্টাকে এই আকাংখার কথা জানাইবার পরে, সে নগরের প্রধান সড়ক সমূহে লম্বা গাড়ি ঘুরাইবার জায়গা হইবে না বলিয়া ভেটো দিয়াছিলো। এই কথা শুনিয়া তিনি তার আগে নগরের ক্ষমতায় থাকা কালিন দুর্নীতি ও বাজে শাসনের কথা তুলিয়া হা-হুতাশ করিয়াছিলেন। এবং উক্ত তথ্য নানা নাগরিক বক্তব্য সমাবেশে উল্লেখ করিয়া বিরোধীপক্ষকে আমড়াকাঠ দিয়া উপর্যুপরি পিটাইয়া পিটাইয়া ধূইয়া সাফ করিয়া দিয়াছিলেন। চিকন রাস্তার বদলে নাগরিকদের চওড়া রাস্তা প্রদান করিবার আশ্বাসও তিনি ব্যক্ত করিয়াছেন। অপরদিকে প্রধান বিরোধীব্যাক্তি ও তার কতিপয় চ্যালারা এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করিয়া নগরীর অপ্রশস্ত রাস্তা সমূহ আটকাইয়া পুরা নগরে জ্যাম বাধাইয়া দিলে, নগরীর মানুষেরা ধূম করিয়া আলোকপ্রাপ্ত হইলেন যে চওড়া রাস্তা ছাড়া তাহাদের আর বাচার উপায় নাই। এইরুপ শক্ত জনমত পাইয়া,অচিরেই নগরে অসংখ্য মোটা রাস্তা করিয়া দেবার আশ্বাস প্রদানের ভেতর দিয়া নগরের প্রধানব্যাক্তির চিকন বুদ্ধির প্রকাশ পাইলো। একইসাথে নগরের উন্নয়ন ও নিজের সাধ পূরণের দুর্দান্ত বুদ্ধি করিতে পারিয়া তিনি সেই রাত্রেই তিন পেগ কড়া পানীয় বেশি পান করিয়া ফেলেছিলেন। পরবর্তী দিনে হ্যাংওভারের কারণে তাহার সকালে উঠতে দেরী হয়। তবে ঘুম হইতে উঠিতে দেরী হইলেও তিনি তাহার সড়ক বিষয়ক উপদেষ্টাকে ফোন দিয়া জলদি বৈঠক ডাকিতে হুকুম করিতে দেরী করিলেন না। তাই পরের দিন সকাল বেলা নগরবাসীর অনেককে অফিসে বসের ঝাড়ি খাইবার, কাহারো পরীক্ষায় দেরী করিবার, মুমূর্ষু রোগীদের মর্গে শোয়াইবার, বুড্ডা ব্যাক্তিকে জেলে পাঠাইবার ব্যবস্থা করিয়া দিয়া তিনি নগরালয়ে বৈঠক করিতে যাইতেছেন।

ওদিকে প্রধানব্যাক্তির আগমনের খবর পাইয়া নগরালয়ে সাজ-সাজ রব পরিয়া গিয়াছে। নগরে নতুন প্রকল্প শুরু করার তোড়জোড় হইলেই, প্রধানব্যাক্তির আস্থাভাজন লোকজন আসিয়া নগরালয়ের সদরদরজায় হাজির হয়। তাহারা জানে প্রধানব্যাক্তি যেদিন নগরালয়ে আসেন সেদিনই কোনো না কোনো প্রকল্প পুরাপুরি ফাইনাল করিয়া দিয়া যান। তাহাদের প্রত্যেকের সাথে একাধিক গাড়িতে নানা উপঢৌকন নিয়া তাহারা সম্পুর্ণ রুপে প্রস্তুত। এইসব উপহারের জোরে কেহ যদি কাজ পাইয়া যায়, তবে তো কেল্লাফতে। এক মরশুম ডাল-ভাতের চিন্তা ছাড়াই কাটাইয়া দেয়া যাইবে। চারিদিকে নিরাপত্তার জাল বিস্তার করিয়া বিভিন্ন কালার ও মাল্টিকালার বাহিনী প্রধানব্যাক্তির আগমণের অপেক্ষা করিতে লাগিলো।

অতঃপর সকাল সাড়ে নয় ঘটিকায় গাড়ি বহর নিয়া প্রধানব্যাক্তি নগরালয়ে প্রবেশ করিলেন। নগরসভায় প্রবেশ করিবার পর পরই নগরের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত বিভিন্ন নগর ব্যাক্তিত্ব ছুটিয়া আসিয়া প্রধানব্যাক্তি ও তার পালিত সংকর জাতের কুত্তার শরীরের খবর নিয়া বাতচিত আরোম্ভ করিয়া দিলেন। এইরুপ খবর নিতে নিতে কেহ কেহ কাছাকাছি আসিয়া প্রধানব্যাক্তির স্যুটখানা খুলিয়া হ্যাঙারে ঝুলাইয়া দিলো, কেহ জুতার ফিতা খুলিয়া দিলো, কেহ জুতা খুলিয়া চকচকে স্যান্ডেল পড়াইয়া দিলো। এর ভেতরেই একজন ব্যাক্তি দেখিলেন প্রধানব্যাক্তির প্যান্টের চেইন খোলা, ইহাকে উনি চরম সৌভাগ্য মনে করিয়া হাত বাড়াইয়া উহা বন্ধ করিয়া নগরনেতার আরো ক্লোজ হওয়ার সুযোগ গ্রহনে মনোসংযোগ করিলেন। উহার একবিষ্টতা লক্ষ্য করিয়া সুযোগ সন্ধানী আরো কিছু বিশিষ্ট নগর ব্যাক্তি একইকাজে প্রতিযোগীর মনোভাব নিয়া উদ্যোগী হইয়া পড়িলেন। অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট হইবার সনাতন প্রবাদখানাকে সত্য প্রমাণ করিয়া তাহারা যখন লোলুপ দৃষ্টিতে প্রধানব্যাক্তির নিম্নদেশের স্টিল দরজার দিকে তাকাইয়া সার্টের হাতা গুটাইয়া মহান কাজে লিপ্ত হইবার উদ্যোগ নিলো। প্রধানব্যাক্তি পুরো ব্যাপারটাকে উলটা বুঝিয়া যারপনাই ঘাবড়াইয়া ও রাগিয়া গ্যালেন। তৎক্ষনাত বিশেষ ক্ষমতাবলে উক্ত ব্যাক্তিবর্গকে শূলে চড়াইবার আদেশ দিয়া, নগরীর বিশেষ উন্নয়ন সভায় তিনি আসন গ্রহন করিয়া বসিলেন। ইতিমধ্যেই উক্ত ঘটনায় সভার সভ্যদের মধ্যে ভীতির সঞ্চাল হইয়াছে। তাই তাহারা ভীত মনে সভায় বসিয়া নিজেদের সৌভাগ্যের কথা ভাবিতে ভাবিতে শুকনো গলা মিনারেল ওয়াটার দিয়া ভিজাইতে লাগিলেন। প্রধানব্যাক্তি ইহা লক্ষ্য করিয়া সভার পরিবেশ ফিরাইয়া আনিতে তাহার পার্সোনাল সেক্রেটারিকে চাম্পিয়ন গানটি বাজানোর আদেশ দিলেন। আদেশমত কাজ করিবার সুবাদে হলরমে গানটি বাজিয়া উঠিল এবং দেখা গেলো গানটি ইতিমধ্যেই নগরের বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গের মধ্যে ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়া লইয়াছে। বিশিষ্ট ব্যাক্তিগণ গলা মিলাইয়া, মাথা দুলাইয়া গানটিতে ঠোট মিলাইয়া হেড়ে গলায় সঙ্গীত প্রসব করিতে লাগিলেন। ইহার ফাকে একজন বিশিষ্ট ব্যাক্তি গানের চরণের একজায়গায় প্রধানব্যাক্তির নাম যোগ করিয়া গান গাহিয়া উঠিলে, প্রধানব্যাক্তি তাহার দিকে স্নেহ ও প্রশ্রয়ের দৃষ্টি মেলিয়া তাকাইলেন। ইহাতে উক্ত ক্রিয়েটিভ ব্যাক্তি আপ্লুত অনুভব করিয়া আনন্দের অতিসজ্যে চোখ ভিজাইয়া ফেললেন। অতঃপর গান শেষে হালকা খানা-পিনা করিয়া রাস্তা বিষয়ক উপদেষ্টাকে ডাকিয়া চওড়া রাস্তার জন্য অনুমোদনপত্রে সই দিয়া প্রধানব্যাক্তি বাড়ির পথে যাইবার জন্য চেয়ার ছাড়িয়া উঠিবার সময় কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যাক্তি তাহাকে কয়েকটা হাসপাতাল, স্কুল, ব্রিজ, কার্লভার্ট বানানোর বিল আগাইয়া দিলে উনি মাছি তাড়াইবার ভঙ্গি করিয়া এইসব পরে আরেকদিন হবে বলিয়া গুনগুন করিয়া, “আই আম দ্যা চাম্পিয়ন” গান গাহিতে গাহিতে নগরবাসীদের আরেকপ্রস্থ জ্যামের ভেতর ফেলাইয়া দিয়া রাত্রি বেলায় জাতীয় কুচকাওয়াজ দলের আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ দেখিবার মনস্কামনা করিয়া সকাল সাড়ে দশ ঘটিকায় বাড়ির পথে ফিরিয়া গ্যালেন।

[বিশেষভাবে দ্রষ্টব্যঃ ইহা যে সম্পুর্ণই একটি কাল্পনিক গল্প, তাহা বুঝিবার মত বুদ্ধি যদি কাহারো ঘটে না থাকে এবং বাস্তবের সাথে কেহ নূন্যতম মিল খুজিবার চেষ্টা করে তবে অতিসত্ত্বর তাহাকে মনরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হইবার অনুরোধ থাকে( লেখাটিকে ইচ্ছাবশত গুরুচণ্ডালী দোষের ও ভুল বানানের শিকার করা হইয়াছে, তাই ব্যকরণবিদদের বরিশাল গিয়া হাতে ভাজা লাল ধানের মুড়ি খাইবার সাজেশন দেওয়া যাইতেছে)]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 7 = 1