চাই সাংস্কৃতিক বিপ্লব

গত ১৯শে জুলাই ২০১৬ ইং, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এস এস এফের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মহা মূল্যবান একটি বক্তব্য রেখে তিনি বলেন ‘সন্তানদের সময় দেওয়া মা-বাবার কর্তব্য। সন্তানকে সময় দিতে হবে। তাদের খোঁজখবর নিতে হবে। তারা কার সঙ্গে মেশে, কোথায় যায়, সেটা জানতে হবে।

কথাটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত তখনি যখন বুঝতে পারবো সেই পিতামাতারা প্রকৃত অভিভাবক হতে পেরেছেন, কারণ আমরা সবাই জানি একটি শিশু একজন মানুষের সকল মানবিক অধিকার নিয়েই এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করে কিন্তু আমরা কজন সেই শিশুকে সেই অধিকার প্রকৃত অর্থে দিতে জানি বা পেরেছি, তাই আমাদের উচিত প্রতিটি পিতামাতা যেন সুশিক্ষায় প্রকৃত অভিভাবক হয়ে উঠতে পারে সেই দিকেই দৃষ্টি দেয়া আর প্রকৃত সুস্থ ও সবল মনের শিশুরাই হচ্ছে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ|

এখন প্রশ্ন দাড়ায় এই প্রকৃত অভিভাবক আমরা কোথায় খুঁজে পাবো বা প্রতিটি পিতামাতাকে কি ভাবে সেই শিক্ষায় দীক্ষিত করতে পারবো | আমি বলছিনা যে প্রতিটি পিতামাতাকে ধরে ধরে স্কুলের বেঞ্চে বসিয়ে Sigmund Freud শিক্ষা দিতে হবে, আমাদের পুরনো ধ্যান ধারনাকে পাল্টাতে হবে যেমন ধরুন একটি কিশোর দুরন্তপনায় তার পরিবেশ মুখরিত করবেই, এটাই কিশোরদের স্বভাব, যখন সেই দুরন্তপনা পিতা মাতার চোখে মাত্রার বাইরে চলে যায় তখনই সেই কিশোরটিকে তার বন্ধুদের সামনেই অপমান করে অকথ্য ভাষায় বকাঝকা অথবা প্রহার করি অথবা একটি স্কুল মাদ্রাসায় পায়ে শিকল দিয়ে বেধে রাখি , ভুলেও চিন্তা করি না এই অপমান একটি কিশোরের মনে সারা জীবনের জন্যে দাগ কেটে যায়, একটি প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণায় কিশোরটি কাউকে কিছু না জানিয়ে দিনের পর দিন মানসিক ভাবে দগ্ধ হতে থাকে, তারপর ? একটি চিন্তা করে দেখি কত ভয়াবহ এই চিত্র ,, তারপর যখন কোন অঘটন ঘটে যায় তখন সামাজিক পরিবেশের উপর দোষারোপ করতে থাকি, আমরা নিজেরাই ভুলে যাই যে প্রকৃত অভিভাবকের মত আচরণ করতে পারিনি বিধায় দোষটা অনেকটা আমাদের ঘাড়ের উপর বর্তায়। আমাদের সমাজের কিশোর ও যুবকদের সমাজের মাঝে পুরনো ঘুণে ধরা ধ্যান ধারণা থেকে মুক্তি দিয়ে নতুন সভ্যতার আলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে | রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুব সমাজকে উত্সাহী করে তুলতে হবে, স্কুল কলেজের পাশাপাশি খেলার মাঠে তাদের যায় জায়গা করে দিতে হবে, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটাতে এই যুব সমাজই হচ্ছে আমাদের এক মাত্র ভরসা |

আমাদের এই মুহূর্তে যেটা করণীয় সেটা হচ্ছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটানো আর তার মাঝেই আমাদের দেশের মানুষ প্রকৃত মানবতার শিক্ষায় দীক্ষা অর্জন করবে | একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লবই হচ্ছে সমাজের মানুষের মানসিক চিন্তা ধারার পরিবর্তন, পুরাতন রীতিনীতি, পুরাতন সংস্কৃতি পুরনো অভ্যাস এবং পুরানো ধ্যান ধারনা থেকে মুক্তি দিতেই আমাদের চাই সাংস্কৃতিক বিপ্লব |

যুব সমাজের মাঝে নতুন চেতনাকে উজ্জীবিত করার জন্যে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মাও সে তুং পার্টির পূর্নাঙ্গ অধিবেশনে ১৯৬৬ সালের আগস্ট মাসে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের ডাক দেন | চীনের যুব সমাজকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে, সামাজিক পরিবর্তন ছিল অপরিহার্য |

আমাদের দেশেও পুঁজিবাদী সমাজের কর্ণধারদের অনিয়ম ও উ-শৃঙ্খলতা আমাদের সমাজকে দিন দিন বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত আয়ের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে এক শ্রেণীর ক্ষমতা লোভী মানুষের পেটে, সৃষ্টি হচ্ছে শ্রেণী বৈষম্য ও দূরত্ব, দুর্নীতি ভয়াল গ্রাসে দেশের অর্থনীতি হচ্ছে দারুণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত | এই দূরত্ব সৃষ্টির প্রধান একটি কারণ ধর্মের নামে অধর্মের রাজনীতি | অসুস্থ রাজনীতি অসুস্থ সমাজ তৈরি করে, সেই অসুস্থ সমাজে মানবতা ও মানবিক মূল্যবোধ হ্রাস পেতে থাকে, আমাদের মনের অজান্তেই দিন দিন একটি জাতী তার মানবিক চেতনা-বোধ কে হারিয়ে ফেলে |

প্রতিটি মানুষেরই পিতামাতা হবার অধিকার থাকে আর প্রতিটি পিতামাতাই প্রকৃতির নিয়মে তাদের সন্তানকে প্রকৃত মানুষ হিসাবে তৈরি করতে চায় কিন্তু সেই পিতামাতাদের প্রকৃত অভিভাবক হিসাবে তৈরি করার দায় দায়িত্ব আমাদের সমাজের বা রাষ্ট্রের | রাষ্ট্র তার সমাজ ব্যবস্থাকে সুন্দর ভাবে পরিচালনার মাধ্যমেই তৈরি করতে পারবে প্রকৃত পিতামাতা যাদের মাঝে থাকবে অভিভাবকের দায়িত্ব বোধ ও জ্ঞান |
মাহবুব আরিফ /// সুইডেন

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

80 − 73 =