আগামীর পথে হাটতে হবে আমাদের

এগিয়ে চলেছে দেশ। অনেক ধকল পেরিয়ে আমরা আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি। এখনও আমাদের অনেক সমস্যা আছে এটা যেমন সত্যি, আমাদের সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে এটাও সত্যি। দেশের কোনো অংশ উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে, আবার কোনো অংশে উন্নয়ন অতিসামান্য। শহর ও গ্রামের মধ্যে ব্যবধান দেখলে তো আঁতকে উঠতে হয়। শহরের মানুষের জীবনযাত্রার মান, আয়, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসুবিধা, যোগাযোগ ব্যবস্থার মান গ্রামের মানুষের চেয়ে অনেকগুণ বেশি। বিভাগীয় শহর ও রাজধানীর মধ্যে দেখা যায় অনেক বৈষম্য। অধিকাংশ কলকারখানা, ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন দপ্তর রাজধানীকেন্দ্রিক। এর ফলে সারা দেশ থেকে মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে আর অতিরিক্ত চাপের কারণে ঢাকা হয়ে উঠেছে দূষণ, যানজট, কোলাহলপূর্ণ নগরী এবং সারা বিশ্বের মধ্যে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার নাম দ্বিতীয় স্থানে চলে এসেছে। এই অবস্থানের জন্য বাংলাদেশের প্রতি সমগ্র পৃথিবীর মানুষের বিশেষ করে পর্যটকদের একটা নেতিবাচক ধারণা চলে আসছে। দেশ বলতে শুধু ঢাকাকেই বোঝায় না। ঢাকা একটি জেলা মাত্র। শুধু সারা দেশের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে যোগাযোগের জন্য রাজধানীর দরকার পড়ে বলে একটি জেলাকে রাজধানী ঘোষণা করা হয়। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যে ঢাকার বাইরে আরো ৬৩টি জেলা আছে। অধিকাংশ উন্নয়ন ঢাকাকেন্দ্রিক হবে এরকম চিন্তা-ভাবনায় পরিবর্তন আনতে হবে। দেশের সকল অংশে সমভাবে উন্নয়ন সাধন করতে হবে। আমরা যদি গার্মেন্টসশিল্পের কথা চিন্তা করি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির অধিকাংশ শ্রমিক রংপুর অঞ্চলের। এ ক্ষেত্রে যদি কিছু গার্মেন্টস রংপুর অঞ্চলে গড়ে তোলা হয় তাহলে যেমন ঢাকার ওপর চাপ কমবে তেমনি কম বেতনে অধিক পণ্য উত্পাদন করা সম্ভব হবে। শ্রমিকরাও তাদের ব্যক্তিজীবনের উন্নয়ন ঘটিয়ে জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে। দেহের কোনো একটি অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হলে যেমন গোটা শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে তেমনি দেশের কোনো অঞ্চল উন্নত কোনো অঞ্চল অনুন্নত হলেও কখনো সমগ্র দেশ উন্নত হতে পারে না। নিশ্চয় মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিল শোষণ ও বৈষম্যর বিরুদ্ধে। তাই কোনো অঞ্চল যেন বৈষম্যর শিকার না হয় সেটা আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

91 − 81 =