গরু ও শুয়োর উভয়ই কী হারাম

সাম্প্রতিক, ভারতে গরুর মাংস কেনার অপরাধে দুজন নারীকে চড় থাপ্পড় লাত্থি মারা হয়েছে। প্রথমে হিন্দু মৌলবাদী নারীরা মারামারি শুরু করে এবং পরবর্তীতে সবাই মেলে আক্রমণ চালায়। পুলিশের চোখের সামনেই ঘটনাটি ঘটেছে। কিন্তু উত্তেজিত মূর্খ মৌলবাদী জনতার সামনে পুলিশ টাট্টু ঘোড়া হয়ে দাড়িয়ে ছিল। পরবর্তীতে পুলিশ বাহিনী অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছে। পুলিশ আক্রমণকারীদের গ্রেপ্তার না করে, বরং নির্যাতনে শিকার হওয়া দুজন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

বর্তমানে ভারতে যে সরকারটি ক্ষমতায় আছে তারা উগ্র ধর্মান্ধ হিন্দুত্ববাদকে সমর্থন করে। তাদের প্রত্যক্ষ সমর্থনে এই ধরণের আক্রমণের সংখ্যা দিনেদিনে বেড়ে যাচ্ছে। অনেক ঘটনাই অপ্রকাশিত। ভারতের সংবিধানে স্পষ্টভাবে লেখা আছে ‘সার্বভৌম ধর্ম নিরপেক্ষ সমাজতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্র’ অথচ তাদের কার্যক্রম কর্মকাণ্ড ভূমিকা পরিচালনা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বাঙলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা যেভাবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী, অবিশ্বাসী, শিয়া, ইত্যাদিদের উপর নির্যাতন চালায়, ঠিক তেমনই ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা মুসলমান, খ্রিস্টান, আদিবাসী, দালিতদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। বৌদ্ধ’দের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম অত্যাচার হয়। এক্ষেত্রে বাঙলাদেশ ও ভারতের অবস্থান একই।

হিন্দু ধর্মে গরুকে গোমাতা হিসেবে দেখানো হয়। ভারতে কোটি কোটি মানুষের চেয়ে একটি গরুর সম্মান ও মর্যাদা বেশি। এতই যদি গরুর প্রতি ভালোবাসা মায়া মমতা থাকে তাহলে ভারতে কীভাবে গরু বিক্রি হয়? গরুর প্রতি যদি এত শ্রদ্ধাবোধ থাকে তাহলে কোরবানি সময় বাঙলাদেশের কাছে কেনো লক্ষাধিক গরু বিক্রি করা হয়?

একজনে বলে গরু খাওয়া হারাম, আরেকজনে বলে শুয়োর খারাপ হারাম। হারামের কামড়াকামড়িতে নিরপরাধ ও শান্তিপ্রিয় মানুষদেরই মৃত্যু ঘটে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

67 − = 64