মক্কাবাসীরা কি সত্যিই মুহাম্মদকে হত্যা করতে চেয়েছিল ?- পর্ব-১(ইতিহাসের ভিত্তিতে)

যখনই ইসলাম গ্রহন না করার জন্যে অমুসিলমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বা তাদেরকে হত্যা করার বিধান কোরান ও হাদিস থেকে তুলে ধরা হয় , তখনই মুমিনরা বলে , মক্কাবাসীরা যেহেতু মুহাম্মদকে হত্যা করতে চেয়েছিল , তাই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও তাদেরকে হত্যা করার কথাই কোরান হাদিসে বলেছে। যা আত্মরক্ষা বা প্রতিশোধের নামান্তর ও তাই তা বৈধ। কিন্তু প্রশ্ন হলো – যে মুহাম্মদকে মক্কাবাসীরা দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে মক্কাতে কিছুই বলল না , তাকে কেন হঠাৎ করে তারা হত্যা করতে চাইবে ? একই সাথে মদিনাবাসীদের মনও বা কিভাবে মুহাম্মদ জয় করতে পারেন ? বিষয়টা নিয়ে অনেক গবেষনা করেছি, আর সেটাই এখানে বলা হবে।

কোন ব্যাক্তির প্রকৃত পরিচয় জানতে , জানতে হয় সেই ব্যাক্তির ইতিহাস যদি তা সংরক্ষিত থাকে বা তার সম্পর্কে কিছু সাক্ষী থাকে তার বা তাদের মাধ্যমে। মুহাম্মদের জীবন ও তার কাজকর্ম জানতে তাই আমাদের জানতে হবে তার ইতিহাস। কোরান ও হাদিস এসব কোন ইতিহাসের কিতাব না , আর তাই সেসব পড়ে মুহাম্মদ সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য জানা যাবে না। মুহাম্মদের জীবন নিয়ে সর্বপ্রথম যিনি কিতাব রচনা করেন তার নাম ইবনে ইসহাক। তিনি সিরাত রাসুলাল্লাহ নামে মুহাম্মদের জীবনী রচনা করেন। এই ইবনে ইসহাক জন্মেছিলেন মদিনাতে আনুমানিক ৭০৪ খৃষ্টাব্দে আর মারা যান বাগদাদে ৭৬১-৭৭০ এর মধ্যে। মুহাম্মদ মারা যান ৬৩২ খৃষ্টাব্দে। তার মানে তার মারা যাওয়ার ৭০ বছর পর ইবনে ইসহাকের জন্ম , অর্থাৎ মুহাম্মদ মৃত্যুর প্রায় ১০০ থেকে ১২০ বছরের মধ্যেই মুহাম্মদের এই জীবনী তিনি রচনা শুরু করেন।

কেন ইবনে ইসহাকের বর্ননা অন্য যে কোন বর্ননা থেকে অধিক যুক্তিযুক্ত ও সত্য সেটা বুঝতে গেলে জানতে হবে , আমরা যেগুলোকে সহি সিত্তা বলি সেই হাদিস কিতাবগুলো – বুখারি , মুসলিম , আবু দাউদ , তিরমিজি ইত্যাদি এগুলোর রচনাকাল সিরাত রাসুলুল্লাহ- এরও প্রায় একশত বছর পর । সেটা বুঝতে , আমাদেরকে উক্ত ব্যাক্তিগুলোর জীবনকাল জানা দরকার।

ইবনে ইসহাক : জন্ম – ৭০৪ খৃষ্টাব্দ, মৃত্যু- ৭৬৭ খৃষ্টাব্দ। জন্মস্থান- মদিনা, মাতৃভাষা- আরবী। মুহাম্মদের মৃত্যুর – ৭০ বছর পর তার জন্ম।

বুখারি: জন্ম-৮১০ খৃষ্টাব্দ, মৃত্যু- ৮৭০ খৃষ্টাব্দ। জন্মস্থান -উজবেকিস্তানের বুখারা, মাতৃভাষা – পারসি। মুহাম্মদের মৃত্যুর ১৮০ বছর পর তার জন্ম।

মুসলিম: জন্ম ৮১৭ খৃষ্টাব্দ, মৃত্যু- ৮৭৫ খৃষ্টাব্দ। জন্মস্থান- ইরানের নিশাপুর। মাতৃভাষা- পারসি। মুহাম্মদের মৃত্যুর ১৯০ বছর পর তার জন্ম।

আবু দাউদ: জন্ম- ৮১৮ খৃষ্টাব্দ, মৃত্যু- ৮৮৯ খষ্টাব্দ। জন্মস্থান- ইরানের সিস্তান। মাতৃভাষা – পারসি। মুহাম্মদের মৃত্যুর ১৯০ বছর পর তার জন্ম।

তিরমিজি: জন্ম- ৮২৮ খৃষ্টাব্দ- মৃত্যু- ৮৯২ খৃষ্টাব্দ। জন্মস্থান- উজবেকিস্তান। মাতৃভাষা- আরবি। মুহাম্মদের জন্মের ২০০ বছর পর তার জন্ম।

সূত্র: https://en.wikipedia.org/wiki/Ibn_Ishaq
সূত্র: https://en.wikipedia.org/wiki/Muhammad_al-Bukhari
সূত্র: https://en.wikipedia.org/wiki/Muslim_ibn_al-Hajjaj
সূত্র: https://en.wikipedia.org/wiki/Abu_Dawood
সূত্র: https://en.wikipedia.org/wiki/Al-Tirmidhi

মুহাম্মদের জীবনি সম্পর্কে জানতে ইসলামী আলেমরা এই চারজন্য হাদিস বেত্তার উপরে বেশী নির্ভর করেন , কারন তারাই মুহাম্মদের কর্মকান্ড ও আদেশ উপদেশের বিস্তারিত বিবরন দিয়ে গেছেন। বলতে গেলে , গোটা ইসলামটাই প্রতিষ্ঠিত তাদের লিখিত হাদিসের ওপর। কারন , কোরানে নানা বিষয়ের যে বিধি বিধানের উল্লেখ আছে তা বিস্তারিতভাবে বর্নিত না থাকায়, এইসব হাদিস বেত্তারা সেসবের বিস্তারিত বিবরন দিয়ে গেছেন, যার ভিত্তিতেই মূলত: মুসলমানরা ইসলাম পালন করে থাকে।

সুতরাং একটা বিষয় দেখা যাচ্ছে , এইসব হাদিস বেত্তাদের একজনও মক্কা বা মদিনা বা্ এমনকি আরবে জন্মগ্রহন করেন নি , তাদের মাতৃভাষাও আরবী না। আর তারা প্রত্যেকেই মুহাম্মদের কর্মকান্ড সম্পর্কে লিখে গেছেন মুহাম্মদ মারা যাবারও প্রায় ২৪০-২৫০ বছর পর। আর তারা মুহাম্মদের জীবনি লেখেন নি , লিখেছেন শুধুমাত্র ইসলামের বিধিবিধান তাও সেই সব মানুষের কাছ থেকে শুনে , যাদের অন্তত: ৫/৬ পুরুষ পর্যন্ত বাস্তবে মুহাম্মদকে দেখে নি। পক্ষান্তরে ইবনে ইসহাকের জন্মস্থান মদিনায়, যেখানে মুহাম্মদ আসলে তার ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করেন ,তার মাতৃভাষা আরবী , আর তিনি মুহাম্মদ মারা যাবার পর মাত্রই ১০০ থেকে ১২০ বছর পর থেকে মুহাম্মদের জীবনি লেখা শুরু করেন আর তিনি তথ্য সংগ্রহ করেন মদিনারই লোকদেরকে কাছ থেকে যারা ছিল অন্তত: ২য় প্রজন্মের মুসলমান ও ৩য় প্রজন্মের মুসলমান।

এই যখন প্রকৃত অবস্থা , তখন আমরা কার বিবরনকে সর্বাপেক্ষা গ্রহনযোগ্য মনে করব ? অবশ্যই ইবনে ইসহাকের বক্তব্যই হবে সর্বাপেক্ষা বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য। পক্ষান্তরে বুখারি , মুসলিম ইত্যাদিদের বিবরনের মধ্যে অনেক অসত্য বা অতিরঞ্জিত তথ্য থাকার সম্ভাবনা। সুতরাং মুহাম্মদ সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জানতে আমাদেরকে ইবনে ইসহাকের ওপরেই বেশী নির্ভর করতে হবে । কারন তার আগে মুহাম্মদ সম্পর্কে আরব বা আরবের বাইরের কেউ কিছুই লিখে যায় নি।

দেখা যাক , মুহাম্মদ কিভাবে মদিনাবাসীদের মন জয় করেছিলেন, সে সম্পর্কে ইবনে ইসহাক কি বলেছেন। তবে তার আগে একটা সামাজিক তত্ত্ব আমাদের জানা দরকার, কারন মুহাম্মদের ক্ষেত্রে সেটা সবচেয়ে বেশী কাজ করেছিল। একটা প্রবাদ আছে – পীর তার নিজ গ্রামে সম্মান পায় না। কথাটা বাস্তবে যে কতটা সত্য সেটা বুঝতে গেলে আপনাকে আটরশি বা শর্ষিনা বা চরমোনাই ইত্যাদি পীরদের গ্রামে যেতে হবে। আশ্চর্য হলেও সত্য সেসব গ্রামের অধিকাংশ মানুষ এখনও এইসব পীরের মুরিদ না। বস্তুত: এই সব গ্রামের মানুষ এইসব কথিত পীরদেরকে শৈশব থেকেই দেখে আসছে, তাদের মধ্যে কোনরকম অতিপ্রাকৃত কিছুই তারা কখনও দেখেনি যাতে করে তাদেরকে পীর মানা যায়। তাই তারা সেসব পীরের মুরিদ হয় নি। কিন্তু যে কোন ভাবে হোক , পীরদের কিছু ভাড়াতে চ্যালা দুর দুরান্তে তাদের ওস্তাদ সম্পর্কে অতিরঞ্জিত নানা কিচ্ছা কাহিনী প্রচার করেছে , দুরের দুর্বল চরিত্রের মানুষ সেসব বিশ্বাস করেছে। কারন তাদেরও একটা মানসিক আশ্রয় দরকার নানা বিপদে আপদে। তাদের কাছে প্রচার করা হয়েছে ওমুক পীরের কাছে গেলে নানা রকম রোগ ব্যাধি, বালা মুসিবত সহ সকল রকম সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়। শুনে শুনে দুর্বল চিত্তের মানুষগুলো তাদের নানা সমস্যা সমাধানের জন্যে সেসব পীরের কাছে ধন্না দিয়েছে। এভাবেই এসব পীরদের প্রচার প্রসার বেড়েছে। এমনকি বর্তমান যুগেও হঠাৎ হঠাৎ করে কত পীর ফকিরের আবির্ভাব ঘটে , যাদের সম্পর্কে প্রচার করা হয়, তারা খোড়া , অন্ধ , পাগল ইত্যাদিদেরকে সুস্থ করে তোলে, হাজার হাজার লাখ লাখ লোক তাদের কাছে ধর্না দেয়। কিন্তু কিছুদিন পরই দেখা যায় তাদের জারিজুরি শেষ। অর্থাৎ দুর্বল চিত্তের মানুষের দুর্বলতার সুযোগে কিছু ধান্ধাবাজ চতুর লোক এভাবেই আসলে ব্যবসা বানিজ্য করে একেবারেই বিনা পুঁজিতে।

ঠিক এই তত্ত্বটাই মুহাম্মদের ক্ষেত্রে বিপুলভাবে কাজে লেগেছিল। সেটা কিভাবে কাজ করেছে সেটার বর্ননা আছে ইবনে ইসহাকের সিরাত রাসুলাল্লায়——-

মক্কার কিছু লোক মদিনায় গিয়ে মদিনাবাসীদের কাছে প্রচার করেছে মুহাম্মদ সম্পর্কে সব অতিরঞ্জিত কিচ্ছা কাহিনী। মূর্খ মদিনাবাসীদের কিছু লোক সেটা বিশ্বাস করেছে। তারপর ইহুদিদের একটা বিষয়ও সেই সাথে কাজ করেছে। মদিনা ও তার আশপাশে বসবাসরত ইহুদিরা মদিনায় প্রচার করত , তাদের তৌরাত কিতাবে লেখা আছে তাদের জন্যে একজন নবী আসবে যে নাকি তাদের সকল সমস্যা দুর করে দেবে। মক্কা থেকে মদিনায় যাওয়া সেই মুসলমানরা মদিনাবাসীদের মধ্যে প্রচার করে , ইহুদিদের সেই কথিত নবী হলো মুহাম্মদ। মদিনাবাসীরা তো আগ থেকেই ইহুদিদের কাছ থেকে সেই ভবিষ্যৎ নবীর কথা শুনেছিল , কিন্তু তারা জানত না , তৌরাত কিতাবে কোন বংশে কোথায় কিভাবে সেই নবী আগমন করবে, কারন তারা তো তৌরাত কিতাব পড়ে নি। মক্কার লোকদের প্ররোচনায় , মদিনাবাসীদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ ইহুদিদের সেই ভবিষ্যতের নবী হিসাবে মুহাম্মদকে বিশ্বাস করে ও মক্কাবাসীদেরকে আশ্রয় দেয়, এবং তারাও বলতে থাকে ,যদি মুহাম্মদ মক্কায় টিকতে না পারে , তাহলে তিনি মদিনায় চলে আসতে পারেন।

সূত্র: পৃষ্ঠা- ১৯৭-১৯৮, সিরাত রাসুলুল্লাহ- ইবনে ইসহাক
(https://archive.org/details/TheLifeOfMohammedGuillaume)

মক্কা থেকে কিছু মুসলমান মদিনায় হিজরত করে। কারন মক্কাতে কুরাইশরা তাদের সাথে সমস্ত রকম সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল তারা ইসলাম গ্রহন করার কারনে। সেই যুগে , প্রায় আদিম প্রকৃতির অার্থ সামাজিক ব্যবস্থায় এভাবে মক্কাতে টিকে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এছাড়া তারা ছিল হত দরিদ্র ও দাস শ্রেনীর। মুহাম্মদ তাদেরকে বেহেস্তের লোভ দেখিয়ে নিজের দলে ভিড়িয়েছিলেন। গরীব মানুষের কাছে বেহেস্তের লোভ সবচাইতে বড় লোভ। এই জগতে তো খেয়ে না খেয়ে জীবন কাটছে ,ইসলাম অনুসরন করে যদি বেহেস্তে গিয়ে হুর পরী সহ সকল রকম লোভনীয় খাবার পাওয়া যায় , তাহলে মুহাম্মদকে অনুসরন করাই বুদ্ধিমানের কাজ। বস্তুত: মুহাম্মদই তাদেরকে মদিনায় পাঠান ,তার সম্পর্কে অতিরঞ্জিক কিচ্ছা কাহিনী বলে মদিনাবাসীদেরকে আকৃষ্ট করার জন্যে। কারন দীর্ঘ দিন পার হয়ে গেল, মক্কাবাসীরা কোনভাবেই মুহাম্মদকে গ্রহন করছে না , তার ইসলামকেও গ্রহন করছে না। বরং তাকে তারা পাগল উন্মাদ ইত্যাদি হিসাবে উপহাস করছে। ঠিক আজকের দিনে নানা রকম ধান্ধাবাজ ,প্রতারক কথিত পীররা যেভাবে তাদের ভাড়াটে চ্যালাদেরকে বিভিন্ন যায়গায় পাঠায় তাদের পীর সম্পর্কে অতিরঞ্জিত কিচ্ছা কাহিনী প্রচারের জন্যে, এমন পদ্ধতিই মুহাম্মদ গ্রহন করেন ,তার চ্যালাদেরকে মদিনায় পাঠিয়ে।

চলবে===========================================

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “মক্কাবাসীরা কি সত্যিই মুহাম্মদকে হত্যা করতে চেয়েছিল ?- পর্ব-১(ইতিহাসের ভিত্তিতে)

  1. বরং তাকে তারা পাগল উন্মাদ

    বরং তাকে তারা পাগল উন্মাদ ইত্যাদি হিসাবে উপহাস করছে। ঠিক আজকের দিনে নানা রকম ধান্ধাবাজ ,প্রতারক কথিত পীররা যেভাবে তাদের ভাড়াটে চ্যালাদেরকে বিভিন্ন যায়গায় পাঠায় তাদের পীর সম্পর্কে অতিরঞ্জিত কিচ্ছা কাহিনী প্রচারের জন্যে, এমন পদ্ধতিই মুহাম্মদ গ্রহন করেন ,তার চ্যালাদেরকে মদিনায় পাঠিয়ে।

    হ্যা ঠিক। সেই অতিরঞ্জিত কাহিনী-কিচ্ছা সম্বলিত, উন্মাদ, ধান্দাবাজ নবী (সা) ধর্মটি হচ্ছে ইসলাম। যার ব্যাপ্তি দিন কে দিন বেড়েই চলেছে। নবী মুহাম্মদের(সা) ধর্মের বিস্তার আফ্রিকার প্রান্ত থেকে শুরু করে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত, ঠিক নীচের ছবির মতন–

    1. দিন দিন বাড়া বা কমা , এটা
      দিন দিন বাড়া বা কমা , এটা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই। আমাদের মাথা ব্যথা হলো , মিথ্যাচার করে কেন ইসলাম প্রচার করতে হবে। মুহাম্মদ যা না , তাকে সেটা বানিয়ে কেন কিচ্ছা প্রচার করতে হবে। আমরা প্রকৃত মুহাম্মদকে আবিস্কার করে , সেটাই প্রচার করছি মাত্র। আর কিছুই না।

  2. আপনি আসলে ভুল সময়ে জন্মেছেন।
    আপনি আসলে ভুল সময়ে জন্মেছেন। ১৪০০ বছর আগে আপনার জন্মান উচিত ছিল। মুহাম্মদের ভুজুং-ভাজুং তখনকার মানুষকে আপনি বোঝাতে পারলে আজকে আর ইসলামের জন্ম হত না। তখনকার মুশরিক, প্যাগানদের অনেক উপকার হত। ইশশ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1