কথিত ‘ইসলামী-ব্যাংক’ নামক ‘জঙ্গী-ব্যাংক’ সচল রেখে জঙ্গী-দমন করবেন কীভাবে?

ঠাস-ঠাস করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে গোটা কয়েক জঙ্গী মারলেই জঙ্গীদমন হয় না। এতে হয়তো জঙ্গীতৎপরতা সামান্য হ্রাস পায়—কিন্তু জঙ্গী হ্রাস পায় না। আর মেরে বা হত্যা করে কখনও কাউকে দমন করা যায় না।

জঙ্গী একটা ভাইরাস। আর এই ভাইরাস-দমন করার জন্য শক্তিশালী একটি অ্যান্টি-ভাইরাস প্রয়োজন। অকার্যকর ও দুর্বল অ্যান্টি-ভাইরাস দিয়ে ভাইরাস-দমন করতে গেলে অ্যান্টি-ভাইরাসই খতম হয়ে যাবে। কিন্তু ভাইরাসের আগ্রাসীমনোভাব বা ধ্বংসাত্মক-আগ্রাসন এতে বিন্দুপরিমাণ কমবে না। তাই, জঙ্গী-ভাইরাস-দমন করতে হলে এদের শিকড় কেটে দিতে হবে। আর এদের এই পাপের শিকড় হলো অর্থ এবং অযাচিত-অর্থ এবং যাবতীয় কালো-অর্থ।

জঙ্গী হওয়ার মূলে রয়েছে অর্থ। আর এই অর্থের অন্যতম জোগানদাতা হলো দেশের একমাত্র ‘ইসলামীব্যাংক’ নামক ‘জঙ্গীব্যাংক’। এদের নামেই বিভ্রান্তি। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এদের সকল কার্যক্রমে দুই-নাম্বারি। এরা নিজেদের ‘ইসলামীব্যাংক’ বলে দাবি করে। আসলে, এরা কিন্তু ‘ইসলামীব্যাংক’ নয়। এদের সমস্ত কার্যক্রম সুদভিত্তিক। আর এরা এদেশের সরল-ধর্মপ্রাণ-নামধারী-মুসলমানদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য নিজেদের সবসময় ‘ইসলামী’ বলে প্রচার করে। আর তারা ইসলামের দৃষ্টিতে ‘হারাম’ বা ‘নিষিদ্ধ’ সুদকে নিজেদের স্বার্থে ‘সুদ’ না বলে তাকে ‘মুদারাবা’ বলে থাকে। আসলে, এই ‘মুদারাবা’ হলো সুদের বাপ! শুধু এদেশের মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য এদের এই অপকৌশল মাত্র।

দেশে পাকিস্তানীকায়দায় প্রতিষ্ঠিত তথাকথিত ‘ইসলামীব্যাংকটি’ আসলে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীসংগঠন জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন। বাংলাদেশের বর্তমান জামায়াত-শিবির এর পরিচালক ও মালিক কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে কথিত ‘ইসলামীব্যাংকে’র দেশবিরোধী অপতৎপরতার কয়েকটি দৃষ্টান্ত এখানে তুলে ধরা হলো:

দেশের ৬৪ জেলার বিভিন্নস্থানে স্থাপিত ‘ইসলামীব্যাংকে’র হেডঅফিস থেকে শুরু করে প্রতিটি আঞ্চলিকঅফিস আর শাখাঅফিস জামায়াত-শিবিরের আঞ্চলিক বা স্থানীয় কার্যালয়। ব্যাংকের কার্যক্রম শেষ হয়ে গেলে প্রতিদিন সন্ধ্যার পরে এখানে জামায়াত-শিবিরের লোকদের গোপন-বৈঠক শুরু হয়ে যায়। এরা এখানে বেশ নিরাপদে নিজেদের ষড়যন্ত্রের জালবিস্তার করার সুযোগ পেয়ে থাকে। কথিত ‘ইসলামীব্যাংকে’র সাইনবোর্ডের আড়ালে জামায়াত-শিবির তাদের দেশবিরোধী দলীয় কার্যক্রম ও ষড়যন্ত্র পরিচালনা করে থাকে।

‘ইসলামীব্যাংকে’র অঢেল অর্থ তাদের দলীয় ক্যাডার ও মহিলা-ক্যাডারদের মাসিক ভাতাসহ বিভিন্ন মাসোহারার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। জামায়াত-শিবিরের পুরুষ ও মহিলা-ক্যাডারগণ এখান থেকে নিয়মিত ভাতা পেয়ে থাকে। এই ভাতা ব্যাংক সরাসরি দেয় না। তারা সংগঠনের মাধ্যমে সবকিছু পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের জন্য দেশবিরোধী নানাবিধ ষড়যন্ত্রমূলক অপরাজনীতির অপকর্মে এখান থেকে অর্থ-সরবরাহ করা হয়েছে। আর তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এই ব্যাংকের একটি টাকাও দেশের কোনো সাধারণ গরিব-দুঃখীকে দেওয়া হয় না। সমস্ত টাকাপয়সা দলীয় ক্যাডারদের প্রতিপালন ও নিজেদের সন্ত্রাসীলালনপালনের অপকর্মে ব্যয় করা হয়।

আজ পর্যন্ত ‘ইসলামীব্যাংকে’র একটি টাকাও বাংলাদেশের কাজে ব্যবহার করা হয়নি।

ইসলামীব্যাংকে জামায়াত-শিবিরের আকিদাহসম্পন্ন-লোকজন ব্যতীত আর কাউকেই নিয়োগ দেওয়া হয় না। সাধারণ শিক্ষিত ও উচ্চশিক্ষিত মানুষজনকে এই ব্যাংকের কাজে যোগ্য মনে করা হয় না।

তবুও বাংলাদেশে আজও টিকে আছে এই ব্যাংক! কিন্তু কার স্বার্থে? তাই, আজ বলতে হচ্ছে: দেশের মাটিতে এখনও ইসলামীব্যাংক নামক জঙ্গীব্যাংকটি জিন্দা রেখে জঙ্গীদমনের নাটক করে কোনো লাভ নেই। আন্তরিকভাবে দেশ থেকে জঙ্গীদমন করতে চাইলে বা দেশের মঙ্গল চাইলে আজ-এক্ষুনি ‘ইসলামীব্যাংক’টিকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত-সম্পত্তি-ঘোষণা করতে হবে।

আর তাই, দেশ ও জাতির স্বার্থে ইসলামীব্যাংকটি এখনই সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া জরুরি।

[বি.দ্র. অতিসম্প্রতি বর্তমান-সরকার ইসলামীব্যাংকে চারজন পরিচালক নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু এতেও কাজের কাজ কিছুই হবে না। এটি পুরাপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। আর এটিকে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত-সম্পত্তি-ঘোষণা করতে হবে।]

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
২৮/০৭/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “কথিত ‘ইসলামী-ব্যাংক’ নামক ‘জঙ্গী-ব্যাংক’ সচল রেখে জঙ্গী-দমন করবেন কীভাবে?

  1. ইসলামি ব্যাংক= জঙ্গি ব্যাংক
    ইসলামি ব্যাংক= জঙ্গি ব্যাংক
    অতএব, ইসলাম= জঙ্গি

    আপনি নিজেই প্রমান করলেন , যে ইসলাম আসলে একটা জঙ্গি আদর্শ। কিন্তু জানি এখনই আপনি আবার এর বিরোধীতা করবেন। সেটা এই বলে যে , এই যে ইসলামী ব্যাংক এটা আদৌ ইসলামী ব্যাংক না। কিন্তু ভাইজান , এই জামাত শিবির এদের লোকজন কোরান হাদিস পড়ে , কিন্তু আপনি পড়েন না। তাই ইসলাম কি জিনিস , সেটা জামাত শিবির ভাল করেই জানে, আপনি জানেন না। কিছু মাত্র না পড়ে , না জেনে , শুধু শুনে শুনে ইসলাম শান্তির ধর্ম এই আপ্ত বাক্য প্রচার করে , আর বেশী দুর এগোন যাবে না। তাই এইসব বাদ দিয়ে কোরান হাদিস পড়ুন , দেখুন ইসলাম আসলেই শান্তির ধর্ম কি না, তারপর এসে কথা বলুন।

    1. ইসলাম একটি ধর্ম। আমি নিজেও এই
      ইসলাম একটি ধর্ম। আমি নিজেও এই ধর্মে বিশ্বাসী।ধর্ম কখনও জঙ্গী নয়। ধর্মকে আশ্রয়গ্রহণ করে যে-সব ভণ্ড বা ইসলামের নামে যে-সব ভণ্ড নিজেদের স্বার্থে মানুষখুন-সহ যাবতীয় খুন-খারাবি করছে, আমাদের লড়াই সেইসব শয়তানের বিরুদ্ধে।
      আমি নিজে ধর্ম মানি। পৃথিবীর সকল ধর্মের প্রতি আমার রয়েছে শ্রদ্ধাবোধ।

      আমাদের লড়াই হোক ভণ্ডের বিরুদ্ধে।ধর্মের বিরুদ্ধে লড়াই করাটা বোকামি।

      সকল ধর্মেই শান্তি আছে। অশান্তির মূলে হলো ভণ্ডশয়তানগুলো।

      আসুন, আমরা ভণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করি।

      আপনাকে ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 − = 15