সাধারণ জীবন বনাম জঙ্গি জীবন

বাংলাদেশের কোন মানুষ জঙ্গিবাদ সমর্থন করেনি, আর করবেও না। এমনকি তাদের বাবা-মা তাদের লাশ নিতে আসেনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ শাসন করার কারণে জনগণের সমর্থন পেয়েছে বর্তমান সরকার। যে কোন মূল্যে জঙ্গিবাদ ধ্বংস করতে হবে। এটাই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি কল্যাণপুরে নিহত নয় জঙ্গির মধ্যে একজনের পরিচয় জানা যায়নি। ফেসবুকে এবং ন্যাশন্যাল আইডি কার্ডের মাধ্যমে এ পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। আমাদের সমাজ প্রতিষ্ঠায় একটু গলদ আছে। এখানে প্রশ্নহীন আনুগত্য তৈরি হলে সমাজে বুদ্ধি বন্ধুত্বের সৃষ্টি হয়। একজন ছেলেকে যখন বোঝানো হয় তুমি যদি জঙ্গি হও এবং মানুষ হত্যা কর, তাহলে বেহেস্তে যেতে পারবে। এই লোভ তাকে দেখানো হচ্ছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি মদদের অভিযোগ আছে। তেমনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিজবুত তাহরির কর্মকান্ড নিয়ে গণ মাধ্যমে অসংখ্য বার এসেছে। জঙ্গিবাদ একটি জাতীয় সমস্যা। এর সাথে আপোষ করার কোন সুযোগ নাই। বিএনপির পক্ষ থেকে একটি জাতীয় ঐক্য চাওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- ঐক্য হয়ে গেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে বিএনপির সাথে কোন ঐক্য হয়নি, কিন্তু সরকার এর বিচার করতে পেরেছে। জঙ্গিবাদ সমস্যা সব সময় ছিল, বর্তমানে হচ্ছে, অতীতে ছিল, ভবিষ্যতে হবে। তবে আমাদের সচেতন থাকতে হবে।। আমরা যদি সঠিকভাবে পদক্ষেপ নিতে পারি তাহলে জঙ্গি হুমকি মোকাবেলা করা যাবে। আমাদের তরুণদের শিক্ষা সংস্কৃতির দিকে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। জঙ্গিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে আমাদের প্রত্যেকের সচেতন বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদের পরিবার থেকে শুরু করে, সমাজ, দেশ ও জাতির সচেতনতা হতে হবে। শোলাকিয়া-গুলশানের মতো হামলা যাতে আর না হয়, তার জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। আর যারা নাশকতা তৈরি করছে, তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। আমাদের সঠিক সাংস্কৃতিক চর্চা করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধার চেতনা সবার মধ্যে জাগ্রত করতে হব। তাহলে আমাদের দেশ জঙ্গিমুক্ত হব।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

79 − = 78