“ধর্ম ও নারী সম্মান”

পৃথিবীতে অগনিত প্রতিষ্ঠিত ধর্ম রয়েছে । আর এই প্রতিষ্ঠিত ধর্মের ধর্ম গ্রন্থগুলো পুরুষ রচিত। সেখানে নারীর কোন স্থান নাই, নেই কোন সম্মান। পুরাণ , রামায়ণ থেকে শুরু করে পুরনো বাইবেল, নতুন বাইবেল এমনকি কোরান পুরুষদের রচিত। প্রতিটা ধর্মের ঈশ্বর থেকে শুরু করে প্রধান দেবতা, ব্যাক্তি অথবা পয়গম্বর বা নবীরা ছিলেন পুরুষ। এখন অব্দি কোন নারী ঈশ্বর বা পয়গম্বরের দেখা আমারা পাইনি। এই অবহেলা ধর্মে নারীর অসম্মানে উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

তারপরেও নারীরা কেন পুরুষদের থেকে বেশী ধর্মকর্ম করেন তা একটি জটিল প্রশ্ন। প্রতিটা ধর্মই দাবী করেন তারা নাকি নারীদের দিয়েছে সর্বচ্চো সম্মান। সেই সম্মান অন্য যে কোন ধর্ম থেকে বেশী এবং নিজ ধর্মে নারীরা হয়েছে খুব বেশী সম্মানিত। কেউ নারীকে ফুল বলেছেন কেউ বসিয়েছেন দেবীর আসনে। তাদের পুঁজো চলে বছরের বিশেষ সময়ে উৎসবের আকারে।কিছুদিন আগে এক নারী তার লেখায় প্রমোদবালাদের সম্মান দেখাতে গিয়ে তার লেখার শেষে লিখলেন, দুর্গা পূজোয় ওই বেশ্যাদের দরজার মাটি লাগে, সেই মাটি ছাড়া পূজো হয় না। অর্থাৎ বুঝে নাও হিন্দু ধর্ম কত মহান, তারা বেশ্যাদের কতটুকু সম্মান করে। অন্য ধর্ম কি সেই সম্মান দিয়েছে? দুর্গা পূজোর সময় দশ ধরনের মাটি প্রয়োজন হয়। তার মধ্যে বেশ্যার দরজার মাটি অপরিহার্য। কিন্তু কেন? কারণ বেশ্যার দরজার মাটিতে পুরুষরা নিজেদের পূর্ণ ঢেলে বেশ্যার ঘরে প্রবেশ করেন। অর্থাৎ সেই মাটিটি হয়ে ওঠে পূর্ণে ঠাঁসা। দুর্গা পূজার সময় সেই মাটি ব্যবহার করে মূলত মনে করিয়ে দেওয়া হয়, পুরুষ তোমরা সাবধান হও কারণ বেশ্যার ঘরে প্রবেশ করার আগে তোমারা তোমাদের সকল পূর্ণ বিসর্জন দিয়ে সেখানে প্রবেশ করছ। এখানে বেশ্যাদের কোন সম্মান দেখানোর ব্যাপার নাই। তাদের নিকৃষ্ট হিসেবে দেখানো হচ্ছে। কারণ সেখানে পুরুষরা নিজেদের পূর্ণ হারাচ্ছে। বরং খুব সহজে বলা যায় এখানে বেশ্যাদের অপমান ও ছোট করা হচ্ছে। তাই দুর্গা পূজোয় বেশ্যার দরজার মাটি নারীদের সম্মানিত করা সংক্রান্ত কোন ব্যাপার নয়।

হিন্দু ধর্মে ‘মনু’ নামক বিধান কর্তাটি পৌরাণিক যুগে ভারতীয় সমাজের বিদ্ধান তৈরি করেছিলেন। হিন্দু ধর্ম মতে তাকে বলা হয় প্রথম মানব । তার প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল নারীদের প্রতি চূড়ান্ত অপমান, লাঞ্ছনা ও বিদ্বেষমূলক। মনু তার বিধানে নারী জাতি সম্পর্কে স্পষ্ট ভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, পিতা রক্ষতি কৌমরে ভর্তা রক্ষতি যৌবনে। রক্ষতি স্থবিরে পুত্রা ন স্ত্রী স্বাতন্ত্রমহতি।। ‘ অর্থাৎ কুমারী কালে নারীদের রক্ষা করবে পিতা, যৌবন কালে রক্ষা করবে স্বামী এবং বৃদ্ধা কালে রক্ষা করবে ছেলে। এখানে নারী জাতির কোন স্বাধীনতা ও নিজেকে নিজে রক্ষা করার কোন বিধান নাই। বলে দেওয়াই হচ্ছে নারী নিজেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ। একমাত্র পুরুষরাই তাদের রক্ষা করতে পারেন। এই রক্ষাকারীদের জন্য নারী জাতির প্রতি ‘মনু’ আর একটি নির্দেশ হল, ” শত দোষ স্বত্বেও বিশ্বস্ত স্ত্রীর কাজ হবে সর্বদা স্বামীকে ভগবান স্বরূপ পূজা করা।” এবার বুঝে দেখুন, স্বামী যদি লম্পট, মাতাল, অপরাধী যাই হোক না কেন ভাল স্ত্রীদের কাজ হবে তাদের দেবতা তুল্যে পূজা করা। বাহ, ভাল ও বিশ্বস্ত স্ত্রী হওয়ার কি সুন্দর বিধান। ‘মনু” আরও বলেছেন, ” স্বামীকে ভগবান মেনে পূজা না করলে, ঐ নির্দেশ লঙ্ঘন করলে এই বিশ্বে স্ত্রীর মর্যাদার হানি হবে, পরের জন্মে শেয়ালের গর্ভে প্রবেশ করবে এবং ওই পাপের জন্য বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে নারীরা শাস্তি ভোগ করবে।” কি নারীরা শেয়ালের গর্ভে জন্ম নিতে চান? বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে কাঁটাতে চান জন্ম থেকে জন্মান্তর? হিন্দু ধর্মের আচরণবিধির প্রধান প্রবক্তা কেমন নারীবিদ্বেষী ছিলেন তা পাঠকদের বুঝতে বাকি নাই। তার আরও কিছু বিধানের দিকে চোখ বুলাই। ‘মনু’ বলেছেন, ” যে মহিলা নিজের চিন্তা, কাজ ও কথাকে সংযত করে ভগবানরূপী স্বামীকে কখনো উপেক্ষা করে না, মৃত্যুর পর সে সবামির সঙ্গে স্বর্গবাস করবে এবং গণ্য হবে ধার্মিক নারী হিসেবে। ” ভেবে দেখুন কোন স্বামী যদি অশ্রদ্ধার পাত্র হয় কিন্তু তাকে অশ্রদ্ধা না করলে তার সাথে স্ত্রীর স্বর্গবাস হবে! কোন নারী কি অশ্রদ্ধার স্বামীকে শ্রদ্ধা করে তার সাথে স্বর্গবাস নামক নরক চাইবে? মনে হয় না। ‘মনু’ বলেন, ” পরিবারের পুরুষেরা ভোগ-বাসনা লিপ্ত থাকলেও মহিলারা দিন রাত সব সময় পুরুষদের অধীনে এবং শাসনে থাকবে।” পুরুষ যতই অন্যায়, বহুগামিতা করে বেরাক না কেন, নারী তাদের শাসনে শোষিত হবে এটাই ‘মনুর’ বিধান। ‘মনু’ পুরুষদের আবার উল্টো নির্দেশ দিয়েছেন নারীদের সম্পর্কে, ” স্বামীর কর্তব্য হল স্ত্রীর প্রতি কড়া নজর রাখা”; তার কারণ দেখাতে গিয়ে তিনি বলেছেন ” পরপুরুষের প্রতি আসক্তি, অস্থির মেজাজ আর নিষ্ঠুর হৃদয়ের জন্য স্বামীর অনুগত না থাকা।” অর্থাৎ নারীকে কি পরিমান সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে তা ‘মনুর’ বিধান থেকে স্পষ্ট। সেই বিধান আমাদের সমাজে অতি মাত্রায় বিদ্যমান তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ছেলে মানুষ হল সোনার আংটি, তা বাঁকা হলে সোনা । এই ধরনের কথা ‘মনুর’ বিধান থেকে আমাদের সমাজে এসেছে। ” স্বামী সুন্দর বা কুৎসিত হলেও নিজের বয়স আর সৌন্দয্যের প্রতি মহিলারা দৃষ্টি রাখবে না। নিজের সাথে তা তুলনা করবে না।” কারণ পুরুষ মানেই তো সোনা!

কৃষ্ণের ছিলেন একজন লম্পট ও প্রতারক। তবুও তিনি সর্বাধিক পূজিত ও সবচেয়ে জনপ্রিয় দেবতা ও ঈশ্বর হিন্দুদের কাছে। পৌরাণিক সূত্র অনুযায়ী রাধার সঙ্গে কৈশোরে বহু রাসলীলা থাকলেও কৃষ্ণ তাঁকে বিয়ে করেননি। বলা হয়, রাধাকে বৃন্দাবনে রেখেই কংসকে নিধন করতে মথুরা চলে যান কৃষ্ণ। আর ফেরেননি। পরে একাধিক বিয়ে করেন। সন্তানের জনক হন। মহাভারতের যুদ্ধে ভূমিকা নেন। কিন্তু বৃন্দাবনে আর ফিরে আসেননি। রাধিকা তাঁর চির বিরহে দিন কাটিয়ে গেছেন। জনশ্রুতি, মথুরা যাওয়ার আগে কৃষ্ণকে আকুল প্রশ্ন করেন শ্রীরাধিকা | কেন কৃষ্ণ তাঁকে বিয়ে করে মথুরা নিয়ে যাচ্ছেন না? উত্তরে কিছু না বলে এগিয়ে যান শ্রীকৃষ্ণ। তাতে রেগে আরও অধৈর্য হয়ে পড়েন শ্রীমতি। এর পরে বাসুদেব উত্তর দেন, বিয়ে করার জন্য দুটো আলাদা আলাদা আত্মা বা সত্ত্বার দরকার হয়। তিনি রাধিকাকে বিয়ে করবেন কী করে? তাহলে তো পীতাম্বরকে নিজের সঙ্গে নিজেকে বিয়ে করতে হয়। অর্থাৎ রাধা-কৃষ্ণ আসলে একটাই সত্ত্বা, তাঁরা একাত্মা। কি চমৎকার, চরিত্রহীন আর প্রতারক পুরুষদের কি সুন্দর যুক্তি ও বুদ্ধি শিখিয়ে দিয়ে গেছেন কৃষ্ণ। তবুও পুরুষদের থেকে নারী কৃষ্ণ ভক্তের সংখ্যা অত্যাধিক বেশী। তারা কি কৃষ্ণের মত প্রতারক প্রেমিক চান নাকি! অন্য দিকে রাঁধার মত প্রেমিকা হতে? যিনি সারাটি জীবন কাটিয়ে দিয়েছিলেন কৃষ্ণের বিরহে।

এবার বৌদ্ধ ধর্মের কথা বলি, বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে আমারা সর্বদা সব ভাল কথা শুনে থাকি। বৌদ্ধ ধর্ম কোন ধর্ম নয়, ইহা দর্শন ইত্যাদি বলে তার পক্ষে সাফাই গাই কিন্তু এই ধর্ম কতটুকু নারীদের সম্মান দিয়েছেন? প্রথমে আসি ২৮ জন বুদ্ধের নামের দিকে, ১) তৃষঙ্কর বুদ্ধ২) মেধঙ্কর বুদ্ধ৩) শরণংকর বুদ্ধ৪) দীপংকর বুদ্ধ৫) কোন্ডণ্য বুদ্ধ৬) সুমঙ্গল বুদ্ধ৭) সুমন বুদ্ধ৮) রেবত বুদ্ধ৯) সোভিত বুদ্ধ১০)অনোমদর্শী বুদ্ধ১১)পদুম বুদ্ধ১২)নারদ বুদ্ধ১৩)পদুমুত্তর বুদ্ধ১৪)সুমেধ বুদ্ধ১৫)সুজাত বুদ্ধ১৬)প্রিয়দর্শী বুদ্ধ১৭)অর্থদর্শী বুদ্ধ১৮)ধর্মদর্শী বুদ্ধ১৯)সিদ্ধার্থ বুদ্ধ২০)তিষ্য বুদ্ধ২১)ফুসস্ বুদ্ধ২২)বিপশী বুদ্ধ২৩)সিখী বুদ্ধ২৪)বেসস্ভূবুদ্ধ২৫)কুকুসন্ধ বুদ্ধ২৬)কোণাগমন বুদ্ধ২৭)কশ্যপ বুদ্ধ২৮)গৌতম বুদ্ধ
গৌতম বুদ্ধের পরে আরও একজন বুদ্ধে আসবেন, যা গৌতম বুদ্ধ নিজে বলে গেছেন। তিনি হবেন শেষ বুদ্ধ। তার নাম অমিতাভ বুদ্ধ। এই ২৯ জন বুদ্ধের মাঝে একজনও কি নারী বুদ্ধ দেখছেন? না। দেখছেন না কারণ বৌদ্ধ ধর্মে নারীরা হল, দুর্গন্ধ যুক্ত মলের ন্যায়। স্বয়ং গৌতম বুদ্ধ স্ত্রীলোকদের নির্বাণ লাভের অযোগ্য বলে বিবেচিত করেছেন। গৌতম মনে করতেন, নারীর প্রতি মনযোগী হলে, নারীর দিকে তাকালে সেই পুরুষের বিচ্যুতি ঘটবে। যে ব্যাক্তি নারীকে নারী হিসেবে দেখে নারীকে স্পর্শ করবে তিনি বুদ্ধের শিষ্য হওয়া যোগ্যতা হারাবেন। কিন্তু দেখুন গৌতমের স্ত্রী সন্তান সব ই ছিল। পরবর্তীতে তিনি তার স্ত্রীকে এক হিসেবে ত্যাগ করেন। হিন্দু ধর্মে নারীকে যেমন বলা হয়েছে “নরকে দ্বার” তেমনি বৌদ্ধ ধর্মে বলা হয়েছে একটু ভিন্ন ভাবে।

পুরনো ও নতুন বাইবেলে নারীদের খুব সম্মান দেওয়া হয়েছে ভেবে থাকলে ভুল করবেন। ইহুদী ধর্মে নারীদের চূড়ান্ত হীন ও তুচ্ছ করে বলা হয়েছে, ” নারী থেকেই পাপের জন্ম”। বাহ কি সম্মান। আমার মাতা, ভগ্নী ও স্ত্রী থেকে পাপের জন্ম! তাদের সম্মান করবো কি করে? ইহুদী ধর্মে আরও বলা হয়েছে ” নারীরা হচ্ছে মৃত্যুর দূত”। যে নারী মৃত্যুর দূত সেই নারীর কাছাকাছি থাকা নামে তো নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনা। কিন্তু দেখুন পুরুষ শাসিত সমাজে কি সুন্দর বহু বিবাহের চলন বিদ্যমান। এতোগুলো মৃত্যু নিয়ে পুরুষরা থাকবে কি করে সেই এক প্রশ্ন।যে সকল খ্রিষ্টানরা লম্বা একটি শ্বাস আস্তে আস্তে ছেড়ে বলবেন, এই গুলো সব ইহুদী ধর্মের নিয়ম। খ্রিষ্টান ধর্মের সাথে এর কোন সম্পর্ক নাই। তাদের ধারণা ভূল। কারণ যীশু বলেছেন,” মনে করিও না যে, আমি ব্যবস্থা কি ভাববাদীগ্রন্থ লোপ করিতে আসিয়াছি; আমি লোপ করিতে আসি না, কিন্তু পূর্ণ করিতে আসিয়াছি।” মথিঃ ৫; ১৭অর্থাৎ পুরনো বাইবেলের কোন অংশ যীশু বাতিল করেন নাই বরং তিনি তা আরও পূর্ণ ও পুরনাঙ্গ করেছেন। সেই পুরনাঙ্গতা সরূপ বাইবেলে বলেছেন,” তাদের ভাল মেয়ে বলা হয়েছে যারা অনুগত, বিশ্বাসী, গৃহরক্ষা ও সন্তান পালনে ইচ্ছুক।” বুঝতেই পারছেন খ্রিষ্টান ধর্মের ভাল মেয়ের সংজ্ঞা কি। না সংজ্ঞাটি নেহাত খারাপ নয়! শুধু সূরা বাকারার নারীরা শস্যক্ষেত টাইপের আরকি।

ইসলামের কথা আসতে ইসলামের উল্লেখিত নারী মর্যাদার কিছু আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছি, ১।নারীর অবস্হান পুরুষের নিচে। (Quran 4:34, 2:228)২। তাদের মর্যাদা পুরুষের অর্ধেক। (Quran 2:282, 4:11 Sahih Bukhari 3:48:826, 1:142)৩। নারী পুরুষের যৌনদাসী। (Ibn Hisam-al-Sira-al-nabawiyya, Quran 4:251)৪। তারা পুরুষের অধিকৃত সম্পত্তি। (Sahih Bukhari 1:9:490, 1:9:493, 1:9:486, Sahih Muslim 4;1032, 4:1034, 4:1038-39, Abu Dawud 2:704)৫। এরা ভালোবাসার অযোগ্য। (Sahih Bukhari 7:62:17, Abu Dawud 41:511)৬। নারীরা কুকুরের সমতুল্য। (Sahih Bukhari 1:9:490, 1:9:493, 1:9:486, Sahih Muslim 4:1032, 4:1034, 4:1038-39, Abu Dawud 2:704)৭। তাদের বন্ধক রাখা যায়। (Sahih Bukhari 5:59:369)৮। রজঃচক্র চলাকালীন তারা অপবিত্র (Qursn 2:222, Al Tabari Vol. No-1, p.280) হজ্জ্ব করার।৯। তারা নিকৃষ্ট (Sahih Bukhari 9:88:219) বুদ্ধিহীন (Sahih Bukhari 2:24:541) অকৃতজ্ঞ (Sahih Bukhari 1:2:28) খেলার পুতুল (Al- Musanat, Vol no-1, part 2, p. 263) হাঁড়ের মতো বক্রতাযুক্ত (Sahih Bukhari 7:62:113, 7:62:114, 4:55:548)১০। তারা পুরুষের চাষযোগ্য ক্ষেত্র। ( Quran 2:224, Abu Dawud 11:2138)১১। তারা শয়তানের রূপ (Sohih Muslim 8:3240)১২। তাদের মাঝে নিহিত আছে যাবতীয় খারাপ। (Sahih Bukhari 4:52:110, 4:52:112)১৩। তারা বিশ্বাসঘাতক। (Sahih Bukhari 4:55:547)১৪। পুরুষের জন্য ক্ষতিকারক (Sahih Bukhari 7:622:33)১৫। নেতৃত্ব দেওয়ার অযোগ্য। (Sahih Bukhari 9:88:219)১৬। প্রার্থনা ভঙ্গ হওয়ার কারন। (Sahih Bukhari 1:9:490, 1:9:493)১৭। স্বামীর যৌনাকাঙ্ক্ষা পূরন করতে তারা বাধ্য। (Sahih Muslim 8:3368)১৮। পুরুষ কর্তৃক ধর্ষনের অনুমোদন (Quran 70:29-30, Abu Dawud 11:2153, 31:4006, Sahih Bukhari 5:59:459)১৯। স্বামীর বাধ্য না হলে তাদের প্রার্থনা গৃহীত হবে না।( Muslim Scholar Al-Suyuti while commenting on Quran 4:34 Miskat al masabih, book 1 section ‘duties of husband and wife’, Hadith no.2, 60)পুরুষ পারবে চারজন নারীকে বিয়ে করতে। (Quran 4:3)২০। তালাকের অধিকার রয়েছে শুধু পুরুষের। (Sahih Bukhari 8:4871-82)২১। স্ত্রীর গায়ে হাত তোলার অধিকার রয়েছে পুরুষের। (Quran 4:34) যার কারনে কোন জবাব চাওয়া হবে না।( Abu Dawud 11:2142)২২। বেহেশতে পুরুষের জন্য রয়েছে বহু রমনী সম্ভোগের ব্যবস্হা (Quran 33:48, 44:51-54, 55:56-58, 78:31-35)২৩। শুধুমাত্র নীরবতাই তাদের বিয়ের সম্মতি। (Sahih Bukhari 9:86:100, 9:86:101, 9:85:79)২৪। স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে অন্য পুরুষের কাছে যাওয়া নিষিদ্ধ। (Sahih Bukhari 4:52:250)২৫। তাদের একমাত্র কাজ পুরুষের সেবা করা। ( Miskat al Masabih, book-1, Duties of husband and wife, Hadith no-62)২৬।। সর্বদা নিজেকে আবদ্ধ রাখকে হবে পর্দায়।( Sahih Bukhari 5:59:462, 6:60:282)২৭। মৃত্যুর পর তাদের অধিকাংশের জন্য রয়েছে দোজখের আগুন। (Sahih Muslim 36:6596, 36:6595, Sahih Bukhari 7:62:124, 1:2:29, 7:62:124, 2:18:161)এরপরেও কি আপনারা নারীর মর্যাদায় ইসলামের অবদান কে অবিশ্বাস করবেন? অতঃপর অবিশ্বাসীরা কেবল জাহান্নামেই নিক্ষিপ্ত হবে। (সংগৃহীত) উপরের আয়াত ও হাদিসগুলো পড়ার পর নতুন করে ব্যাখার কিছু নাই।

আদম আর ইভের গল্পের দিকে তাকালে দেখবো, পুরুষের হাড় থেকে নারীর জন্ম। কিন্তু বাস্তবতা এই গল্পকে ব্যাঙ্গ ই করবে শুধু। আমার আপনার সকলের জন্ম কোন না কোন নারীর শরীরে। সেই শরীরে আমারা বেড়ে উঠেছি একটু একটু করে। তবুও ধর্ম কি সুন্দর মিথ্যে গল্প ফেদে বসেছে। আমারা তা বিশ্বাসও করছি। প্রকৃতিকে অস্বীকার করে নিজেদের নিজেরাই বোকা বানাছি । ইহুদী, খ্রিষ্টান ও ইসলামে এই বোকা বানানোর গল্পটি মানুষ সৃষ্টির মূল ভিত্তি। বিখ্যাত পণ্ডিত আগস্ট বেবেল তার বিখ্যাত গ্রন্থ, Woman in the Past, Present, Future গ্রন্থে লিখেছেন, ” মানব জাতির মধ্যে নারীই সর্বপ্রথম দাসত্বের শৃঙ্খল পরেছে। নারীর দাসত্ব শুরু হয়েছে ইতিহাসের দাস প্রথারও পূর্বে। হিন্দু, মুসলমান, খ্রিষ্টান বা ইহুদী কোন ধর্মে নারীদের অসম্মান, লাঞ্ছনা ও অবহেলা শেষ নেই, সব ধর্মে নারীদের দেখা হয়েছে নিকৃষ্ট জীব হিসেবে। এর অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ, সন্তানের পিতৃত্বের বিষয়ে সুনিশ্চয়তা। আগে পিতৃত্বের প্রমান করার কোন মাধ্যম ছিল না। শুধু অনুমানের ও বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে তা নির্ণয় করা হতো, আর এই সুযোগটি পুরুষ ভাল ভাবে কাজে লাগিয়ে নারীর প্রতি অত্যাচার ও অসম্মান চালিয়ে গিয়েছে হাজার হাজার বছর ধরে। নারীরা সকল ধর্মে অবহেলিত, নির্যাতিত। পুরুষরা উপার্জন করে তাদের খাওয়াবে, রক্ষা করবে, নিরাপত্তা দেবে, দেখভার করবে বলে তাদের উপর সকল ধরনের অধিকারর পুরুষদের আছে। এই সবের জন্য নারীরা তাদের বশ্যতা স্বীকার করে তাদের পূজা করবে, দেবতাতুল্যে আরাধনা করে স্বর্গ লাভের স্বপ্ন দেখবে। এটাই তো ধর্মের বিধান, নারীদের সর্বচ্চো সম্মান!যখন সকল ধর্মে নারীদের সর্বচ্চো সমান দানের কথা বলা হয় তখন বাংলা ব্যাকারনের ” ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না” প্রবাদ প্রবচনটি মনে পরে যায়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on ““ধর্ম ও নারী সম্মান”

  1. মুসলমান ছাড়া কেউই অস্বীকার
    মুসলমান ছাড়া কেউই অস্বীকার করে না ধর্মে নারীদের এই চুড়ান্ত অবমাননাকর অবস্থার কথা, তারা ঐগুলিকে পরিত্যাক্ত বাতিল বলে বিশ্বাস করে। এখন দেখবেন, ভোকচোদ মুসলমানরা ইনিয়ে বিনিয়ে চেগিয়ে আসবে ঐ সব অসুস্থ্যকর আয়াত আর হাদীসগুলি justify করতে, এই সময়ে এর ‘উপযোগীতা প্রমান’ করতে । এই জন্য দুনিয়ার মধ্যি এরা আসলেই ইউনিক।

    1. ব্যাপারটি আসলে একটু ভুল বলেন।
      ব্যাপারটি আসলে একটু ভুল বলেন। সব ধর্মই বলছে তারাই দিয়েছে নারীদের সর্বচ্চো সম্মান। সব ধর্মের মানুষরা আধুনিকালে নিজের ধর্মকেআধুনিক হিসেবে প্রমান করতে চায়। আর নারীর সম্মান ব্যাতিত আধুনিক কাল চিন্তা করা যায় না।

  2. আধুনিক বিজ্ঞান আমাদেরকে
    আধুনিক বিজ্ঞান আমাদেরকে যেখানে দেখাচ্ছে মানব কোষ সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ে Mitochondrial DNA (যা শুধু মেয়েদের কাছ থেকে অক্ষত অবস্থায় পরবর্ততী বংশধরদের মাঝে স্থানান্তরিত হয়। সংক্ষেপে একে Mitochondrial Eve বলা হয়) এর উৎপত্তি Y-MRCA Adm এর উৎপত্তির কমপক্ষে ৫০,০০০ বছর আগে।

    অর্থাৎ ইভের জন্ম আদমের জন্মেরও প্রায় পঞ্চাশ হাজার বছর আগে ( যদিও এখানে Y-MRCA, ও Mitochondrial Eve বাইবেলে বর্নিত আদম আওয়া নয়)।

    অথচ শক্তিমত্তায় বলিয়ান (কিছুটা হিংস্রও) পুরুষ নারীকে করেছে শৃঙ্খলিত, দাস। ওদিকে মানবতার জয়গান গাওয়া ধর্মগুলো নারীদের প্রতি করেছে-করে চলছে অবিচার, তাদেরকে পশুতুল্য বলতেও পিছ পা হয়নি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 − 6 =