লুসিফারের আত্মহনন

লুসিফারের অস্তিত্বকে থোড়াই কেয়ারে
জিন মেশানো মনুষ্যরক্তে আকন্ঠ মাতাল আমি।
চিরায়ত রূপকথায় হার মেনে গেছে কয়।
পাহাড়ের ওপাশে নড়বড়ে সাঁকো পার হতে গিয়ে
মহাকালের অতলে হারিয়ে গেছে তিনটি বুনো ছাগল।

সবুজাভ নীলিমায় অনাগত ভবিষ্যৎকে শূলে চড়িয়ে দিয়েছিলাম
ডাহুকটা যখন তার জীবনীশক্তির শেষ মুহুর্তটায়
উপস্থিতির খাতায় স্বাক্ষর করছিল।

গোগ্রাসে গিলতে থাকা নজরুলসমগ্র কখন যে
ভ্যাম্পায়ার হয়ে কন্ঠনালীতে দাঁত প্রবিষ্ট করে দিয়েছে
টের পাওয়া যায়নি। অথচ,
সেইই মুহুর্তে সূর্যটা গলায় দড়ির ফাঁস আটকে দিয়ে
ঝুলে গিয়েছিল নিয়ন সাইনের সংকেতে
মরা ল্যাম্পপোস্টটায়।

নিস্তব্ধতা প্রবল আক্রোশ হেনেছে কবরস্থানে।
শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এসে
নগরভবনের অভ্যর্থনা কক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছে
মৃত ঘোষণা করে অন্ধকারে ফেলে দেয়া মানুষগুলো।

কারো কন্ঠে সুকান্ত ফিরে এসেছেন রাতের
নির্জনতার রানার হয়ে। বিফলতায় খুঁজে ফেরে যে
মৃত ডাকঘর।

কেউ আবার মগজে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছেন
স্লোগানের মাতাল করা তালে।

অথচ,
জীবিত নামে ডাকা মানুষগুলো তখনও
গভীর মরণঘুমে আচ্ছন্ন।

হায় লুসিফার!
আফশোস তোমার জন্য।
এক শব্দে সমবেদনাও জানাতে পারলামনা।

যাও। ঐ যে অবশিষ্ট হেমলক হাতে সক্রেটিস দাঁড়িয়ে আছেন।
একটাই চুমুক দেয়ার সুযোগ পাবে তুমি।

.

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 3 =