রাষ্ট্রের মালিক কে? গণতন্ত্র কিংবা সংবিধানের নানা মারপ্যাচ কি বলে?


৭৷ (১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে৷

জ্বী ভাই এবং বোনেরা, খালা এবং মামারা, দাদা দাদী নানা কিংবা নানীরা, ইহাই সংবিধানের ৭ এর (ক) অনুচ্ছেদ। কোথাও বলা নাই দেশের মালিক জনগণ, বলা আছে প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।

অনেকে বইলা থাকেন দেশের মালিক জনগণই, কিন্তু দেশের কোন নাগরিকই কখনো আদালত বা অন্য কোথাও দাড়াইয়া কি বলতে পারবেন যে, আমি নিঃস্ব, আমার পয়সা চাই। আর যেহেতু আমিও দেশের মালিক, তাইলে সকল রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ষোলকোটি ভাগের একভাগ আমাকে দিয়া দেন কিংবা ওই পরিমাণ অর্থ আমাকে দিয়া দেন, আমি ওইটা বেইচা বিদেশ গিয়া আরামে থাকমু? পারবেন না কেউ। কিন্তু কেন পারবেন না সেইটা যদি বুঝতে না চান, তাইলে বলবো, মামলা লড়েন মন চাইলে, আমি আপনার লগে আছি। আমিও আমার ভাগ আদায় কইরা বৈদেশ যামু।

যাইহোক, একজন নাগরিক যখন ভোট প্রদান করেন, তখনই তিনি তার নিজের সকল মতামতের, পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাওয়ার অফ এটর্নী তার নির্বাচিত প্রতিনিধির উপর সমর্পণ করেন। গণতন্ত্রের মুলমন্ত্র যদিও “জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস”, তারপরেও যখন তাদেরনির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয় সেটা চইলা যায় তাদের হাতে। এক অর্থে সরকারের হাতে। তাদের তো জনগণ জাইনা বুইঝাই নির্বাচিত করবার কথা। এই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সবাই আবার সরকারে থাকবে এমনও হয়না গণতন্ত্রে। সরকার সেই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ্য অংশ নিয়াই গঠিত হয়। নির্বাচিত বিরোধীদলের প্রতিনিধিদের হাতে সামান্য ক্ষমতা থাকে কিন্তু রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী অবস্থানে থাকেন কেবলমার সরকার গঠনকারী অংশের প্রতিনিধিরা।

আরও প্যাচ আছে গণতন্ত্রে, এইখানে সরকার গঠন করে ফেলতে পারে এমন দলও যারা হয়তো জনগনের মাত্র এক তৃতীয়াংশ সমর্থন পাইলো। কিভাবে হবে এইটা?

ধরি, দেশে প্রধান রাজনৈতিক দল তিনটা। এদের মধ্যে একটা দল পাইলো ৩৩ ভাগ ভোট, বাকী দুই দল মিলে পাইলো ৫০ ভাগ ভোট, আর বাকী ১৬% ভোট পাইলো খুচরা দলগুলা। কিন্তু মাত্র ৩৩% ভোট পাইয়াও সরকারের আসনে বসলো প্রথম দলই। কারণ, তারা হয়তো মার্জিনাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়া অর্ধেকের বেশি আসন লাভ করলো। গণতন্ত্র এইরকম পরিস্থিতিও তৈরী করে। তখন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নানা ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন ওই কম অংশের প্রতিনিধিত্বকারীরাই। নানা ইস্যুতে বিরোধীতাকারী জনগণের সংখ্যা বেশি হইলেও তাদের প্রতিনিধিত্বকারীরা নিবেন না।

আসল কথা হইলো, গণতন্ত্রে জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের হাতে সব তুইলা দেন। তারা তো সেইটা জাইনা শুইনাই তুইলা দেন। আবার সরকার গঠন করে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রতিনিধিরা, তাই তাদের মতই মানতে হবে যদি গণতন্ত্র মানেন।

গত কয়দিনে এই বস্তুটা ফেবুতে ভাইরাল হইছে। যার মাথায় এই বস্তু আসছিলো তিনি সম্ভবত গণতন্ত্র জানেন না, কিংবা সংবিধানটা নিজেই মন দিয়া পড়েন নাই।

আমি হেন তেন,
জন্মসূত্রে বাংলাদেশের একজন ‪#‎নাগরিক‬ এবং সংবিধানের ৭ এর (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের ‪#‎মালিক‬।
আমি রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের তীব্র ‪#‎প্রতিবাদ‬ জানাচ্ছি।
বিদ্যুৎ আমিও চাই কিন্তু ‪#‎সুন্দরবন‬ ধ্বংস করে আমার বিদ্যুৎ এর দরকার নাই। দয়া করে আপনিও আমার এ প্রতিবাদ আমলে নিন।
বি:দ্র: আমরা এখনো সংখ্যায় অনেক কম । ২০০০ জনও যদি লেখে তাহলেই চিন্তাকরুন আমরা একা নই আরো ২০০০ জন। এভাবে এত মানুষের মত আমলে না নিতেও সরকার কে ভাবতে হবে।
** লেখাটা কপি পেস্ট করে আপনারা প্রত্যেকের টাইমলাইনে প্রতিবাদের আওয়াজ তুলুন।
প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশকে রক্ষা করুন।
‪#‎SaveSundarban‬
‪#‎NoToRampal‬
‪#‎AsIfTheGovernmentEverListens‬

আমার কথা হইলো,

দেশের মালিক না, দেশের সকল ক্ষমতার মালিক জনগন। কিন্তু সেই ক্ষমতা জনগণ নিজে প্রয়োগ করেনা, করে তাদের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। এখন যদি কেউ মনে করেন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভুল করতেছে কিংবা আদৌ নির্বাচিত না, তাইলে তাদের ক্ষমতা থাইকা সরাইতে রাস্তায় নামেন। আজাইরা স্ট্যাটাস দিয়া প্রমাণ কইরেন না যে রাষ্ট্র, গণতন্ত্র কিংবা এমনকিছু সম্পর্কে আপনি সম্পূর্ণ অবহিত না।

হয় নিজের পরিস্কার যুক্তি লইয়া মাঠে নামেন, যেমন ছাত্ররা নামছিলো ভ্যাটের বিরুদ্ধে। সরকার টু শব্দ করবারও সাহস করেনাই। ঢাকা ছিলো অচল, কোন ভাংচুর ছাড়াই। সরকার যদি জনগণের বা দেশের ক্ষতি করতেছে বইলাই আপনার মনে হয়, যদি আপনি মনে করেন আপনি সম্পূর্ণ কনভিন্সড, তাইলে রাস্তায় নামেন। সরকার আপনার পক্ষের হইলে কথা শুনতে বাধ্য। ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে জণগনের উপর অযোউক্তিক কিছু চাপাইলে তারা সেইটা মাইনা নেয়না।

নাইলে চুপই থাকেন, না জাইনা এর তার স্ট্যাটাস কপি পেস্ট কইরা নিজের নির্বুদ্ধিতার প্রমাণ দেয়ার থাইকা চুপ থাকাই ভালো।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “রাষ্ট্রের মালিক কে? গণতন্ত্র কিংবা সংবিধানের নানা মারপ্যাচ কি বলে?

  1. আপনার বুঝার ভুল আছে। এটি একটি
    আপনার বুঝার ভুল আছে। এটি একটি সিম্বোলিক প্রতিবাদ। সরকারের চেলাচামুণ্ডারা এটা প্রচার করে আসছিল যে, দেশের অধিকাংশ মানুষ বিদ্যুৎ চায়, বিদ্যুৎ চায় না ফেসবুকের কিছু বাম এক্টিভিস্ট। উন্নয়ন বিরোধীরা বিদ্যুৎকেন্দ্র না করার পক্ষে কথা বলছে। কিন্তু এই ভাইরালটি দিয়ে অন্তত এটা বুঝা অনেকেই সুন্দরবন ধ্বংস করে বিদ্যুঃকেন্দ্র চায়না। এটি একটি প্রতিবাদ, সুন্দরবন বিরোধী কার্যক্রমের স্বপক্ষে থাকার মত প্রদান হিসাবে দেখা উচিত।

    1. আমার বোঝার ভুল থাকতেই পারে,
      আমার বোঝার ভুল থাকতেই পারে, আমার জ্ঞান সীমিত। কিন্তু এই পোস্টটা যারা ভাইরাল করতেছে তারা সম্ভবত না জেনেই করতেছেন। ইস্যুটা এখন রামপাল থেকে রাষ্ট্রের মেইল কে সেইদিকে চলে গেছে।

      রামপাল ইস্যুতে অবস্থান হওয়া উচিত যুক্তির ভিত্তিতে আর সেই যুক্তিগুলাও আবার দেশের বেশিরভাগ মানুষের মাথায় ঢুকবে না। কারণ, সেটা বুঝবার মত শিক্ষাগত যোগ্যতা তাদের নাই। এই ইস্যুতে প্রচারণা হওয়া উচিত যুক্তির ভিত্তিতে, দেশের সচেতন অংশদের নিয়ে। তারা রাস্তায় না নামলে পোস্ট ভাইরাল করে কিছু হবেনা। বড়জোর আবার দুই চারদিন ফেবু বন্ধ করে রাখতে পারে সরকার।

  2. কেন আপনার কি মনে হয় বাংলার
    কেন আপনার কি মনে হয় বাংলার মানুষ রাস্তায় নামে নি??? তাদেরতো উপর পুলিশ বাহিনি হামলা চালিয়েছে। অনেককে গ্রেপ্তার করেছে। মনে রাখবেন আজ আপনারা যাদের কিউট বিপ্লবি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তারাই প্রকৃত দেশপ্রেমিক। এরাই সোচ্ছার ছিল শাহাবাগে এরা এখনো সোচ্ছার জঙ্গিদের বিপক্ষে। দলের পক্ষে গেলে মিস্টি আর বিপক্ষে গেলে তেতো।

    1. মানুষ আজকাল ভাবছে, নতুন
      মানুষ আজকাল ভাবছে, নতুন বিপ্লবগুলো বোধ হয় ফেসবুকেই করা যাবে !
      রাস্তায় নামতে হবে না।

      ক্ষুদ্র অংশ রাস্তায় নামলে লাভ হয়না, সমর্থন লাগে নগরের একটা বড় অংশের, সেটা কি এখনো গড়ে উঠেছে? সুন্দরবনের পাশে বিদ্যুতকেন্দ্র চাইনা, কিন্তু কেন চাইনা বেশিরভাগ বিরোধীতাকারীই জানেনা, এরমধ্যে যোগ হয়েছে দেশের মালিক বিতর্ক। ভালোই তো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

57 + = 63