আগষ্টের সতর্কবার্তা!

কিছুদিনের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে জঙ্গি আক্রমণের দ্বিতীয় পর্ব, অল্টারনেট এ্যাটাক। বিমানবন্দর, পুলিশ ষ্ট্যাশন, র‍্যাব কার্য্যালয়, সরকারী ভবন, হাসপাতাল, শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দূতাবাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে অঘোষিত ‘রেড এ্যালার্ট’। বছরব্যপী গোপনে ঝটিকা হামলায় টার্গেট কিলিং (ব্লগার, পুরোহিত, যাজক, বিদেশী নাগরিক হত্যা)-এ হাত পাকানোর পর প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে দেশী বিদেশি ইন্ধন ও সহায়তাপ্রাপ্ত এবং সরকারী অবহেলায় পরিপুষ্ট জঙ্গিরা। তবে প্রত্যাশিত সুবিধা করতে না পারায় জঙ্গিদের ফ্রন্ট গ্রুপটা আপাতত স্লিপিং মুডে চলে যাচ্ছে। গুলশানে প্রত্যাশিত ফল (অধিক সংখ্যক বিদেশী হত্যা) পেলেও তাতে পরিকল্পনামাফিক সুবিধা আদায় করতে পারেনি তারা বরং পরবর্তীতে গুলশানের জেরে প্রশাসনের কঠোরতায় ভেস্তে যায় সম্ভাব্য আক্রমণগুলো (শোলাকিয়া ও কল্যাণপুর)। সারাদেশে ব্যপক অভিযান ও আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাভাবিকভাবেই কৌশলগত কারনে জঙ্গিদের ফ্রন্ট সেল চলে যাচ্ছে স্লিপিং মুডে এবং ফ্রন্টে স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে দ্বিতীয় গ্রুপটা। এই দ্বিতীয় সেলে কারা আছে ধারণা করতে পারছেন? আসুন জেনে নেয়া যাক।

বর্তমানে দেশে সক্রিয় জঙ্গিসংগঠনগুলোর অন্যতম হলো জামাতুল মুজাহিদীন (জেএমবি), হরকাতুল জিহাদ (হুজি), হিজবুত তাহরির, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি), আল হারাত আল ইসলামিয়া, জামায়তুল ফালাইয়া, তাওহিদি জনতা, বিশ্ব ইসলামী ফ্রন্ট, জুমাতুল আল সাদাত, শাহদাত ই নবুওয়াত, জামাত ই ইয়াহিয়া আল তুরাত, জইশে মোস্তফা বাংলাদেশ, আল জিহাদ বাংলাদেশ, ওয়ারত ইসলামিক ফ্রন্ট, জামায়াত আস সাদত, আল খিদমত, হরকত এ ইসলাম আল জিহাদ, মুসলিম মিল্লাত শরিয়া কাউন্সিল, ওয়ার্ল্ড ইসলামিক ফ্রন্ট ফর জিহাদ, জইশ-ই-মোহাম্মদ, কালেমার দাওয়াত, ইসলামী দাওয়াতি কাফেলা, আল ইসলাম মার্টায়ারস ব্রিগেড, লস্কর-ই- তৈয়বা, হিজবুল্লাহ ইসলামী সমাজ, হরকত উল মুজাহিদীন, মামায়াতুল মুজাহেদুল বাংলাদেশ, নুসরাতুল মুসলেমিন এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রশিক্ষিত কয়েকটি শাখা। এই প্রত্যেকটি সংগঠনের আবার রয়েছে এক বা একাধিক ব্যাকআপ টিম, মহিলা শাখা। যেমন; হিযবুতের ‘ছাত্রীমুক্তি’, এবিটির নারী দল, জামায়াতের ছাত্রীসংস্থা ইত্যাদি। বিএনপি-জামায়াত আমলে জামায়াত নেতাদের সরাসরি মদদে বেড়ে উঠা জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাই এর স্ত্রীদ্বয়ের সাজা হয়েছে জেএমবির নারী আত্মঘাতী দলের নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে। সাম্প্রতিক হামলা, গ্রেপ্তার ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে খোঁজ মিলছে নারীদের ব্যাপক সংশ্লিষ্টতা, অর্থাৎ প্রতিটি জঙ্গি দলেরই আছে এক বা একাধিক নারী উপদল। গোয়েন্দারা জেনেছেন বর্তমানে দেশে সক্রিয় আছে প্রায় দেড় হাজারের মত নারী জঙ্গি! তবে এতগুলো জঙ্গিদলের রিক্রুট নারী সদস্য আরো বেশি হবার সম্ভাবনা রয়েছে যাদের সম্পর্কে এখনো কিছু জানা সম্ভব হয়নি। পত্রিকা মারফত জানা যায়, টাঈাইলের নারী জঙ্গি রোজিনা বেগমকে ৪ জুলাই পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধরা হয় সাজিদা আক্তার ও জেমিকে। সাজিদার স্বামী নজরুল ইসলাম ভয়ংকর এক জঙ্গি যে পঞ্চগড়ের পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর রায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী, রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি ও মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যাকাণ্ডে জড়িত। আর জিজ্ঞাসাবাদে তিন নারীই স্বীকার করেছে, তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির মহিলা শাখার সক্রিয় সদস্য। তাদের স্বামীরাও একই সংগঠন করে। তারাই এদের এ পথে এনেছে। র‍্যাব ও পুলিশ বলছে, সারা দেশেই জেএমবিসহ বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠনে এখন রিক্রুট করা হচ্ছে নারীদের। তাদের কাছে এর একটা তালিকাও আছে। তাতে দেড় সহস্রাধিক সক্রিয় সদস্য থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে হামলা চালানোর জন্য এদের ব্যবহারের পরিকল্পনা আছে উগ্রবাদীদের। নারী জঙ্গিরা জেলা পর্যায়ে পাড়া-মহল্লায় ধর্ম প্রচারের নামে ও ছোট ছোট সাপ্তাহিক ধর্মসভার আড়ালে কাজ করে যাচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলোর মতে, নারী জঙ্গি সৃষ্টিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে হিযবুত তাহরীর। নিষিদ্ধ এ জঙ্গি সংগঠনের ছাত্রী মুক্তি সংস্থা নামে একটি শাখা আছে। এর বাইরে জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, আল্লাহর দলসহ প্রতিটি জঙ্গি সংগঠনের আলাদা নারী ইউনিট রয়েছে। এবং কয়েকদিন আগেই ইডেন কলেজ ক্যাম্পাস থেকে জঙ্গি সন্দেহে লিপি আক্তার, নাজমা সুলতানা, নাসরিন সুলতানা ও নুরুন্নাহার নামে হিযবুত তাহ্রীরের চার মহিলা সদস্যকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, তারা সবাই হিযবুত তাহ্রীরের মহিলা ইউনিট ছাত্রী মুক্তি সংস্থার সদস্য।
?oh=dec857d6814b8054bcd28ba165674f3f&oe=585DFEFF” width=”400″ />

হ্যাঁ, জঙ্গিদের দ্বিতীয় অস্ত্র বা বি টিম এই নারী জঙ্গিদল। পরবর্তী হামলা হতে যাচ্ছে নারী জঙ্গিদলের মাধ্যমেই এবং তার সম্ভাব্য সময়সূচী এই আগষ্ট মাস! সম্প্রতি নারী জঙ্গিদের ব্যপারে খোদ প্রধাণমন্ত্রীই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, “জামায়াত-শিবির আগে থেকেই মাঠে রয়েছে। এখন তারা লেডি সুইসাইডাল স্কোয়াড গঠন করেছে। আগস্ট মাসে আত্মঘাতী হামলার সতর্কবার্তা আছে। জামায়াতে ইসলামীর সুইসাইডাল স্কোয়াড আগে থেকেইসক্রিয়। এবার সেই স্কোয়াডে নারীরাও যোগ হয়েছে।“ প্রধণমন্ত্রীর এই বক্তব্য এসেছে মূলত দেশী বিদেশি গোয়েন্দাদের সরবরাহ করা তথ্য থেকেই। কিছুদিন আগেও কয়েকজন মন্ত্রী এব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন। আজ সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আগস্টে বেশ কিছু হামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বস্তুত, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য কাণ্ডগুলো আগষ্ট মাসেই হয়! (বঙ্গবন্ধু হত্যা, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা, ১৭ আগষ্ট দেশজুড়ে বোমা হামলা ইত্যাদি ধর্তব্য)। এছাড়া মহিলা জঙ্গি সম্পর্কে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম গতকাল বলেন, জঙ্গি সংগঠনগুলোর আলাদা আলাদা মহিলা ইউনিট রয়েছে। তাদের মাধ্যমে যেকোনো সময় নাশকতা চালানো হতে পারে বলে তথ্য পেয়ে তাঁরা সতর্ক রয়েছেন।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে সারা পৃথিবীতেই জুন-জুলাই-আগষ্ট-সেপ্টেম্বর এই চার মাসে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। আর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ‘উপযুক্ত’ হলো আগষ্ট মাসটাই। এই নোটের উদ্দেশ্য আতঙ্ক ছড়ানো নয় বরং সতর্ক করা। সাধারণ জনগনের সতর্কতার ও সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। আশার ব্যাপার হলো, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বর্তমানে প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এরপরও আমাদের উপর দায়িত্ব বর্তায় আমরা যে আমাদের চোখ কান খোলা রাখি এবং জঙ্গি দমনে আইনশৃঙ্ক্ষোলা বাহিনীকে সহায়তা করি। আগষ্ট মাসটা হতে যাচ্ছে হয় জঙ্গিদের সফলতার নয়তো বাংলাদেশের অপরাজিত থাকার। দেশের ইতিহাসে আগষ্ট বারবার কলঙ্ক বয়ে এনেছে, এবারের আগষ্ট হোক জঙ্গি নির্মূলের স্বস্তিবার্তা।

সবাই ভাল থাকুন, নিরাপদ থাকুন এবং অবশ্যই সতর্ক থাকুন। প্লে-স্টোর থেকে ‘report 2 rab’ নামক এ্যাপটা ইন্সটল করে রাখুন ফোনে। একেবারেই ছোট এ্যাপ, বড় কাজে লেগে যেতেও পারে!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 9 =