কুরবানী: কিন্তু ইব্রাহীম কাকে কুরবানী দিয়েছিল ? ইসহাক , নাকি ইসমাইলকে?

রমজান শেষ হয়ে গেছে প্রায় মাস খানেক হলো। মুমিনেরা এখন তাদের চাপাতি জোগাড়ে ব্যস্ত পশু কুরবানী দেওয়ার জন্যে। তাদের বিশ্বাস পশু কুরবানী দিলে সেই পশুর প্রতিটা লোমের জন্য এক নেকি পূন্য জমা পড়বে তাদের খাতায়। সেই নেকি অর্জনের জন্যে সারা দুনিয়ায় কোটি কোটি নিরীহ পশু তাদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো , যে ঘটনার ভিত্তিতে এই পশু হত্যার বিশ্বব্যাপী মহা উৎসব ,সেটার সত্যতা বা যৌক্তিকতা কতটুকু ?

মুমিনদের দাবী বা তাদেরকে শত শত বছর ধরে জানান হয়েছে , ইব্রাহীম তার পূত্র ইসমাইলকে আল্লাহর নির্দেশে কুরবানী দেয়। সেই থেকে কুরবানীর শুরু। ঘটনাটা আদৌ সত্য কি না , মুমিনেরা সেসব নিয়ে গবেষনা করার দরকার বোধ করে না ,কারন সেটা নিয়ে গবেষনা করা তাদের জন্যে কঠিনভাবেই হারাম। অন্ধভাবে মুহাম্মদের নির্দেশ অনুসরন করতে হবে , না হলে খাটি মুমিন হওয়া যাবে না। এবার দেখা যাক , কোরানের কোথায় সেই ইব্রাহিমের পুত্রকে কুরবানী দেয়া হচ্ছিল–

সূরা আস সাফাত-৩৭:আয়াত:৯৯-১১১
হে আমার পরওয়ারদেগার! আমাকে এক সৎপুত্র দান কর। সুতরাং আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দান করলাম। অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম তাকে বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখিযে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বললঃ পিতাঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন। যখন পিতা-পুত্র উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহীম তাকে যবেহ করার জন্যে শায়িত করল। তখন আমি তাকে ডেকে বললামঃ হে ইব্রাহীম, তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে! আমি এভাবেই সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয় এটা এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তার পরিবর্তে দিলাম যবেহ করার জন্যে এক মহান জন্তু। আমি তার জন্যে এ বিষয়টি পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিয়েছি যে, ইব্রাহীমের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। সে ছিল আমার বিশ্বাসী বান্দাদের একজন।

হে মুমিনগন , তোমরা একটু ভাল করে উক্ত আয়াত পড়ে দেখ তো কোথাও সেখানে ইসমাইল নামটার উল্লেখ আছে কি না ? কোথাও নেই। উল্টে এমন এক কাহিনীর অবতারনা করা হয়েছে যা দুনিয়ার সব চাইতে উদ্ভট। কিশোর বয়েসী এক পূত্র বয়স কত হবে ? ১২/১৩ এরকম। তো এই বয়েসের একটা ছেলেকে তার বাপ বলছে যে সে স্বপ্নে দেখেছে তাকে জবাই করছে। এ বিষয়ে ইব্রাহীম সেই কিশোর পূত্রের মতামত জানতে চাইলে সে বলল – আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তাই করুন । দুনিয়ার কেউ কখনও এই ধরনের উদ্ভট কিচ্ছা শুনেছে ? সেই ছেলে সাথে সাথেই তাকে জবাই করার জন্যে তার পিতাকে অনুমতি দিয়ে দিল ? এ ধরনের অবস্থায় সাধারনত: কি ঘটবে ? এটাই ঘটবে যে , ছেলেটি তার বাপকে একটা পাগল বা উন্মাদ সাব্যাস্থ করবে ও তৎক্ষনাৎ বাড়ী থেকে পালিয়ে বাঁচবে। তাই না ? যাইহোক , তারপরেও কিন্তু উক্ত আয়াত সমূহে স্পষ্টভাবে ইসমাইলের নাম উল্লেখ নেই। অথচ মুমিনদের দাবী এই ছেলেই নাকি ইসমাইল। এবার একটু হাদিস দেখি, সেখানে কি বলে —-

সহী বুখারী, বই-৫৫, হাদিস নং-৫৮৪
ইবনে আব্বাস বর্নিত: তিনি বলেন যখন ইব্রাহীম ও তাঁহার স্ত্রী( সারাহ) এর যা হইবার তা হইয়া গেল অর্থাৎ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হইল, তখন ইব্রাহীম শিশুপূত্র ইসমাইল ও ইসমাইলের মাতা হাজেরাকে লইয়া বাহির হইয়া গেলেন। তাহাদের সাথে একটি মশক ছিল আর তাতে পানি ছিল। ইসমাইলের মাতা মশক হইতে পানি পান করিতেন আর শিশুপূত্রের জন্য তাহার দুগ্ধে প্রাচুর্য আসিত। শেষ পর্যন্ত ইব্রাহীম মক্কায় আসিয়া গেলেন এবং হাজেরাকে তার শিশুপূত্র সহ একটি বৃক্ষমূলে বসাইয়া রাখিলেন। তারপর তিনি তার নিজ স্ত্রী সারাহ এর নিকট ফিরিয়া চলিলেন। তখন ইসমাইলের মাতা তাহাকে অনুসরণ করিয়া কিছুদুর গেলেন ও ইব্রাহীমকে জিজ্ঞাসা করিলেন- হে ইব্রাহীম আমাদিগকে কাহার নিকট রাখিয়া যাইতেছেন? ইব্রাহীম বলিলেন- আল্লাহর নিকট। হাজেরা বলিলেন- আমি আল্লাহর নিকট থাকিতেই রাজি।
………………………………………………………………………….
ইবনে আব্বাস বলেন, জুরহুম গোত্রের একদল লোক প্রান্তরের মধ্য দিয়া পথ অতিক্রম করিতেছিল, হঠাৎ তাহারা দেখিল, একদল পাখী উড়িতেছে। তাহারা যেন তাহা বিশ্বাসই করিতে পারিতেছিল না।তাহারা বলিল, যেখানে পানি থাকে সেখানেই তো এইসব পাখি উড়িতে দেখা যায়। তখন তাহারা পাখী উড়িবার স্থলে তাহাদের একজন লোক পাঠাইল। সে তথায় গিয়া দেখিল সেখানে পানি মৌজুদ আছে। তখন সে দলের লোকদের নিকট ফিরিয়া আসিয়া তাহাদিগকে পানির খবর দিল। তারপর তহারা সকলেই হাজেরার নিকট আসিল এবং তাহাকে বলিল, হে ইসমাইল জননী! আপনি কি আমাদিগকে আপনার প্রতিবেশী হওয়ার বা আপনার সাথে বসবাস করিবার অনুমতি দিবেন ?হাজেরা তাহাদিগকে বসবাসের অনুমতি দিলেন এবং এইভাবে অনেক দিন চলিয়া গেল। “”””তারপর হাজেরার শিশুপূত্র প্রাপ্ত বয়স্ক হইলেন, তখন তিনি জুরহুম গোত্রেরই এক কন্যাকে বিবাহ করিলেন। ইবনে আব্বাস বলেন, অত:পর নির্বাসিত পরিজনের কথা ইব্রাহীম এর মনে উদয় হইল। তিনি তাহার স্ত্রী সারাহ কে বলিলেন, আমি আমার নির্বাসিত পরিজনের কথা জানিতে চাই। ইবনে আব্বাস বলেন, অত:পর ইব্রাহীম তাহাদের নিকট আসিলেন এবং সালাম দিলেন। তারপর জিজ্ঞাসা করিলেন- ইসমাইল কোথায় ?ইসমাইলের স্ত্রী বলিল- তিনি শিকারে গিয়াছেন।””””””…………………..

হাদিসটিতে কি বলছে? বলছে যে , হাজেরাকে তার শিশু পূত্র ইসমাইল সহ মক্কাতে নির্বাসন দেয়ার পরে , সেই শিশু পূত্র যৌবনপ্রাপ্ত হয় , তার মা মারা যায়, আর তারপর যুবক ইসমাইল যখন বিয়ে করে ঘর সংসার করছে , তখন মাত্র ইব্রাহীম তার সাথে দেখা করতে আসে। এর আগে সে কখনই দেখা করতে আসে নি , সেটাই হাদিসটা বলছে।

তাহলে প্রশ্ন হলো —— কিশোর বয়েসী ইসমাইলকে ইব্রাহীম কুরবানী দিল কখন ???

সম্ভবত: এই সমস্যাটা ধরতে পেরে , ইসলামের প্রাথমিক যুগের অধিকাংশ আলেমরা বিশ্বাস করত যে ইসমাইল নয়, বরং ইসহাককেই ইব্রাহীম কুরবানী দিয়েছে। সেটা জানা যাবে উক্ত আয়াতগুলোর তাফসির থেকে —

ইকরামা , ইবনে আব্বাস , আলী, জায়েদ ইবনে জোবায়ের, মুজাহিদ , শাবি, উবায়েদ ইবনে উমায়ের, জায়িদ ইবনে আসলাম, আব্দুল্লাহ ইবনে শাকিক, কাশিক ইবনে আবি বুরযা, মাকহুল, উসমান ইবনে আবি হাযির, সুদ্দি , হাসান, কাতাদা, আবু হুযায়েল, ইবনে সাবিত , কাবুল আহবার প্রভৃতি আলেমরা এই মত পোষণ করেন যে , যাবীউল্লাহ হযরত ইসহাকই ছিলেন। অর্থাৎ ইসহাককেই কোরবানী করা হয়েছিল। ইবনে জারিরও একই মত পোষণ করেছেন।

এরপরে আবার বলছে শাবি , ইবনে উমায়ের, মুজাহিদ হাসান বসরি , মুহাম্মদ ইবনে কায কারাজি ইত্যাদি আলেমরা বলেছেন ইব্রাহীম ইসমাইলকেই কুরবানী দিয়েছিলেন।

তবে এসব ব্যাপারে আল্লাহ তালাই সর্বাধিক জ্ঞানের অধিকারী।

সূত্র: পৃষ্ঠা- ২১৭-২১৮, ১৬শ খন্ড, তাফসির ইবনে কাসির(http://www.quraneralo.com/tafsir/)

ইসলামের আদি যুগের অধিকাংশ আলেমরাই মত দিয়েছেন যে ইসহাককেই কুরবানী করা হয়েছিল, অল্প কয়জন মত দিয়েছেন ইসমাইলকে কুরবানী করা হয়েছিল। অত:পর ইবনে কাসির উক্ত দুই দলের ঠেলাঠেলিতে কোন সিদ্ধান্ত দিতে না পেরে বলছেন – আল্লাহই ভাল জানে। হা হা হা , কি অদ্ভুত সিদ্ধান্ত। কিন্তু সমস্যা হলো, যে বিষয় আল্লাহ ভাল জানে , বর্তমানে দেখা যাচ্ছে , মুমিনেরা আল্লাহর চাইতেও ভাল জানে , কারন তারা নিশ্চিতভাবেই বলে থাকে ইসমাইলকেই নাকি কুরবানী করা হয়েছিল। আজকের মুমিনেরা কেন ইসমাইলকে কুরবানী দেয়া হয়েছে বলে গায়ের জোরে দাবী তোলে তারও কারন আছে।

কারনটা হলো- ইসহাকই যদি যাবীউল্লাহ হয়ে থাকেন , তাহলে কিন্তু মুহাম্মদ আর নবী হতে পারেন না। কারন তখন আল্লাহর সব আশীর্বাদ ইসহাকের ওপর বর্তায়। ইসহাক হয়ে পড়ে আল্লাহর বিশেষ পছন্দের পাত্র। তাই পরবর্তীতে সকল নবী আসবে ইসহাকের বংশ থেকে। বস্তুত: বিষয়টাও তাই। তৌরাতে পরে বলা হয়েছে, ইসহাকের পূত্র ইয়াকুব যার অন্য নাম ইসরাইল, তার বংশেই নবী আসবে বলে ভবিষ্যদ্বানী করা হয়েছে। অর্থাৎ ইসহাককে কুরবানী করা হয়েছে ধরে নিলে , মুহাম্মদ ভূয়া নবী বা মিথ্যাবাদী প্রমানিত হয়।

অর্থাৎ কে আসলে যাবীউল্লাহ হয়েছিলেন , তার ওপর নবুয়ত্ব নির্ধারিত হবে। ইসলামের প্রাথমিক দিকে বল প্রয়োগে ইসলাম প্রচার করা হতো , একের পর এক রাজ্য জয় করে সেখানে জোর করে মানুষকে মুসলমান বানান হতো , তাই তখন এইসব গভীর মারেফতি তত্বের তেমন কোন দরকার ছিল না। কিন্তু বর্তমানে অবস্থা ভিন্ন। মানুষ এখন কিতাব নিয়ে গবেষনা করে। তারা জানতে চায় আসল তথ্য ও রহস্য। সব জ্ঞান আল্লাহর আছে ঠিক , কিন্তু কিছু কিছু জ্ঞান মানুষও জানতে চায় , তারা জানতে চায়, কার কথা সঠিক। তা করতে গিয়েই লেগে গেছে গন্ডগোল।

যাইহোক , কোরান , হাদিস ও তাফসির মোতাবেক কোনমতেই ইসমাইলকে কুরবানী দেয়া হয়েছিল, তা প্রমান করা যাচ্ছে না। বরং তৌরাত কিতাবে যে সুন্দর বর্ননা দেয়া আছে , তাতে দেখা যায়, ইসহাককেই কুরবানী দেয়া হয়েছিল , যার সাথে সিংহভাগ ইসলামের আদি যুগের আলেমরাও একমত। এমতাবস্থায়, কুরবানীর প্রকৃত মর্যাদা কোথায় থাকে ? মুহাম্মদই বা কিভাবে নবী হন? আর তার ইসলামই বা কিভাবে সত্য ধর্ম হয় ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “কুরবানী: কিন্তু ইব্রাহীম কাকে কুরবানী দিয়েছিল ? ইসহাক , নাকি ইসমাইলকে?

  1. যাইহোক , কোরান , হাদিস ও

    যাইহোক , কোরান , হাদিস ও তাফসির মোতাবেক কোনমতেই ইসমাইলকে কুরবানী দেয়া হয়েছিল, তা প্রমান করা যাচ্ছে না। বরং তৌরাত কিতাবে যে সুন্দর বর্ননা দেয়া আছে , তাতে দেখা যায়, ইসহাককেই কুরবানী দেয়া হয়েছিল , যার সাথে সিংহভাগ ইসলামের আদি যুগের আলেমরাও একমত।

    ,

    আপনি যেহেতু পয়সা খেয়ে ইসলাম বিদ্যেষ ছড়ান তাই মাঝে মধে বিরাট ভুল করে ফেলেন। ইবনে কাথীরের নীচের অংশগুল পড়লেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে–

    ইবনে কাথীর -পৃ ২১৮

  2. আপনার দারুন উত্তরের জন্যে
    আপনার দারুন উত্তরের জন্যে ধন্যবাদ।

    দেখুন , আমাকে আপনি পেইড এজেন্ট বলেছেন। ভাল কথা। অথচ আমার লেখায় যে সূত্র ব্যবহার করা হয়েছে , তারা কিন্তু সবাই সহিহ মুসলমান , কেউই কিন্তু ইহুদি বা খৃষ্টান না। কিন্তু আপনার সেসব সূত্রের লেখা পছন্দ না। তার মানে দেখা যাচ্ছে , সেইসব কথিত সহিহ মুসলমানরও পেইড এজেন্ট ছিল, কি বলেন ?

    পরে আপনি আবার সেই একই সূত্র ব্যবহার করে , উত্তর দিয়েছেন। তার মানে আপনি ডবল স্টান্ডার্ড গেম খেলেছেন।

    এবার আসল কথায় আসি। দেখুন আমার লেখায় কিন্তু ইসমাইল ও ইসহাক উভয়ের ব্যাপারে যারা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তাদের নাম উল্লেখ আছে আর আপনি সেসব নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন। যারা এই মতামত দিয়েছেন তাদের অনেকেই কিন্তু মুহাম্মদের সরাসরি সাহাবি ছিল। তারপরেও কেউ ইসহাকের পক্ষে , কেউ ইসমাইলের পক্ষে মত দিয়েছেন। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে ,মুহাম্মদ নিজে তাদের কাছে বিষয়টা কখনই খোলাসা করেন নি। সেটা আরও বোঝা যায়, আমার দেয়া হাদিসটাতে। হাদিসটা পড়লে দেখা যাচ্ছে , ইব্রাহীম কখনই ইসমাইলের কিশোর বয়েসে দেখা করে নি। তাই ইব্রাহিম কিভাবে কিশোর ইসমাইলকে কুরবানী দিল সেটা বোধগম্য না। আপনার নজর অবশ্য হাদিসটাকে এড়িয়ে গেছে।

    এসব বিষয় ইবনে কাথিরে নজরে ভালমতই পড়েছে। তাই তিনি নিজেও সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে না পেরে বার বার বলেছেন – আসল জ্ঞান আল্লাহই জানে। । যদি তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে আসতে পারতেন , তাহলে অবশ্যই এই আসল জ্ঞান আল্লাহই জানে একথা বলতেন না।

    এখন দেখুন , আপনি শুধুমাত্র ইসমাইলকে যে কুরবানী দেয়া হয়েছিল সেটার পক্ষে যা পেয়েছেন সেটাই উত্থাপন করেছেন। অথচ একই সূত্রে , ইসহাককে কুরবানী দেয়া হয়েছিল বলে বহু আলেম মতামত দিয়েছে। তাহলে সমস্যা কারা তৈরী করেছে ? ইহুদিরা নাকি খৃষ্টানরা ? নাকি নাস্তিক কাফিররা ? সমস্যা তো তৈরী করেছে আপনারা যাদেরকে আদর্শ মুসলমান মানেন সেই মুহাম্মদের সাহাবিরা , তাই না ? তো তারা যে সমস্যা নিজেরা তৈরী করে গেছে , সেটার তো আপনি সমাধান দিতে পারেন না। কারন আপনি তো আর তাদের চাইতে বেশী ইসলাম জানেন না। নাকি দাবী করছেন তাদের চাইতে বেশী ইসলাম জানেন ?

    সুতরাং কুরবানী সংক্রান্ত সমস্যার তৈরীর মূলে প্রথমে মুহাম্মদ দায়ী, কারন তিনি পরিস্কার করে কিছু বলেন নি। পরবর্তীতে মুহাম্মদের এই সৃষ্ট সমস্যার ভিত্তিতে সমস্যাকে আরও জটিল করেছে তার সাহাবীরা। সেখানে আপনার সিদ্ধান্ত তো ইসলামের সিদ্ধান্ত হতে পারে না। কি বলেন ?

  3. খ্রিষ্টান মিশনারীরা তাদের
    খ্রিষ্টান মিশনারীরা তাদের ধর্ম প্রচার করার জন্য অনেক আগে থেকেই এ নিয়ে প্রচার চালিয়ে আসছিল।এখন তাদের দলে নাস্তিকরাও যোগ দিয়েছে। এ যেন চোরে চোরে মাসতুতো ভাই!

    ইসলামী আকিদা হচ্ছে—নবী ইব্রাহিম(আ) এর বড় ছেলে ইসমাঈল(আ)কে কুরবানীর জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল অর্থাৎ ইসমাঈল(আ) হচ্ছেন ‘জবিহুল্লাহ’।কুরআন দ্বারা এটি প্রমাণিত এবং এ ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর ইজমা রয়েছে।অপরদিকে বাইবেল বলে যে, ইব্রাহিম(আ) এর অন্য ছেলে ইসহাক(আ)কে কুরবানীর জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল।বাইবেলের Old Testament(পুরাতন নিয়ম) অংশটি ইহুদি ও খ্রিষ্টান উভয় ধর্মালম্বীদের ধর্মগ্রন্থ।কাজেই এ নিয়ে মুসলিমদের বিশ্বাস এক এবং ইহুদি-খ্রিষ্টানদের বিশ্বাস আরেক।নাস্তিকরা মূলত ইসলামের বিরোধিতা করে এবং অনেক সময়েই অটোমেটিক চয়েস হিসাবে ইহুদি-খ্রিষ্টানদের অবস্থানকে ডিফেন্ড করে। আমরা এখন কুরআন-হাদিস এবং বাইবেল সকল প্রকারের উৎস থেকেই ইব্রাহিম(আ) এর কুরবানীর ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে আলোচনা করব এবং দেখব আসলে কে কুরবানির জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন—ইসমাঈল(আ) নাকি ইসহাক(আ)।

    কুরআনে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে ইব্রাহিম(আ) এর বড় ছেলে অর্থাৎ ইসমাঈল(আ)কে কুরবানী দেবার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।দেখুনঃ সুরা আস সফফাত ৩৭:৯৯-১১২ {{এখান থেকে আয়াতগুলো দেখুনঃ https://goo.gl/Po8LXS }}। এখানে পুরো কুরবানীর ঘটনা বর্ণণা করার পরে ১১২নং আয়াতে ইসহাক(আ) এর জন্মের কথা বলা হয়েছে।অর্থাৎ ঐ ঘটনার সময়ে ইসহাক(আ) এর জন্মই হয়নি।আরো দেখুন, সুরা হুদ ১১:৬৯-৭১ {{এখান থেকে আয়াতগুলো দেখুনঃ https://goo.gl/3ewS1T}}। এখানে স্পষ্টত বলা হচ্ছে ফেরেশতারা একই সাথে ইব্রাহিম(আ)কে ইসহাক(আ) ও ইয়া’কুব(আ) এর সুসংবাদ দেন।ইসহাক(আ) যদি জবিহুল্লাহ হয়ে থাকেন,তাহলে ইয়া’কুব(আ) এর সংবাদ কিভাবে দেওয়া হবে? তিনি তো কুরবানীই হয়ে যাবেন! তাহলে তো ইব্রাহিম(আ)কে কোন পরীক্ষা করা হল না।পরীক্ষার ফল আগে থেকেই জানা,ইসহাক(আ) বেঁচে যাবেন ও তাঁর ছেলে ইয়া’কুব(আ) নবী হবেন! কুরআন থেকে এভাবে মুসলিম উম্মাহ নিঃসন্দেহে বিশ্বাস করে ইসমাঈল(আ) হচ্ছেন জবিহুল্লাহ।

    খ্রিষ্টান-মিশনারী কিংবা নাস্তিকরা এই বলে জল ঘোলা করে যেঃ কুরআনে কেন সরাসরি নাম বলা হয়নি? আমরা ইতিমধ্যেই দেখেছি যে সরাসরি নাম না বললেও কুরআনে এটা স্পষ্ট যে ইসমাঈল(আ)ই জবিহুল্লাহ।কুরআনে কুরবানীর পুরো ঘটনা উল্লেখ করে(সুরা আস সফফাত ৩৭:৯৯-১১২) জবিহুল্লাহর নাম উহ্য রাখা হয়েছে।ঘটনা বর্ণণা শেষ করার পরে ইসহাক(আ) এর বৃত্তান্ত শুরু করা হয়েছে।এরপর মুসা(আ) ও হারুন(আ) এর বৃত্তান্ত।এ দ্বারা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে কুরবানীর উদ্যেশ্যে ইসহাক(আ)কে নেওয়া হয়নি বরং বড় ছেলে অর্থাৎ ইসমাঈল(আ)কে নেওয়া হয়েছিল।মুসলিম,ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা একমত যে ইসমাঈল(আ) বড় ছেলে।কুরআন অনেক সময়েই মহিমান্বিত ব্যক্তির নাম উহ্য রেখে বিশেষণ দিয়ে ঐ ব্যক্তিকে প্রকাশ করা হয়েছে।এটা কুরআনের একটি বর্ণণাভঙ্গি।ইসমাঈল(আ) ছাড়াও ইউনুস(আ) এর নাম উহ্য রেখে এক স্থানে তাঁকে ‘যান নুন'(মাছওয়ালা) বলে উল্লেখ করা হয়েছে[দেখুনঃ সুরা আম্বিয়া ২১:৮৭; https://goo.gl/qJKoeR ]।
    Muhammad Mushfiqur
    এবার আমরা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের গ্রন্থ থেকে ঘটনাটি বিশ্লেষণ করব।
    ইহুদি-খ্রিষ্টানদের গ্রন্থ [ইহুদিদের তানাখ, খ্রিষ্টানদের বাইবেলের পুরাতন নিয়ম(Old Testament) অংশের ‘আদিপুস্তক’(Genesis)] ইব্রাহিম(আ) কর্তৃক তাঁর বড় ছেলে ইসমাঈল(আ)কে পারানের(আরবদেশ) মরুভূমিতে রেখে আসার ঘটনাটি বর্ণণা করেছে।
    সহীহ বুখারীতেও [৩১২৫ নং হাদিস] ঘটনাটি আছে {{হাদিসটি দেখুন এখান থেকেঃ https://goo.gl/xrvAeV }}।
    হাদিস এবং আদিপুস্তক(Genesis) এ ব্যাপারে একমত যে—ইসমাঈল(আ)কে যখন পারানের(আরব দেশ) মরুভূমিতে রেখে আসা হয়, তখন তিনি ছিলেন ছোট শিশু।
    ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের ধর্মগ্রন্থে ঘটনাটি যেভাবে আছে—-

    [ঈশ্বর বললেন] “আমি দাসীর ছেলেটিকেও এক মহা জাতিতে পরিণত করব কারণ সে তোমার বংশধর।” পরদিন সকালে আব্রাহাম[ইব্রাহিম(আ)] কিছু খাবার এবং চামড়ার থলেতে পানি নিলেন এবং হাগারকে(বিবি হাজিরা) দিলেন।তিনি সেগুলোকে তার কোলে তুলে দিলেন এবং ছেলেটির সাথে তাকে পাঠিয়ে দিলেন।তিনি[হাগার/বিবি হাজিরা] চলে গেলেন এবং বেরশেবার মরুভূমিতে ঘুরতে লাগলেন।চামড়ার থলের পানি যখন শেষ হয়ে গেল, তিনি বাচ্চাটিকে ঝোঁপের নিচে রাখলেন।তিনি উঠে গেলেন এবং কাছেই তীর ছোড়ার দূরত্বে গিয়ে বসে পড়লেন।
    কারণ তিনি ভাবছিলেন, “আমি বাচ্চাটার মরণ দেখতে পারব না।” তিনি কাছে বসে ছিলেন এবং বাচ্চাটি কাঁদতে শুরু করল।
    ঈশ্বর বাচ্চাটির কান্না শুনলেন।ঈশ্বরের স্বর্গদূত স্বর্গ থেকে হাগারকে আহ্বান করলেন, “কী হয়েছে হাগার? ভয় পেয়ো না।ঈশ্বর বাচ্চাটির কান্না শুনতে পেয়েছেন কারণ ও এই স্থানে শুয়ে আছে।
    বাচ্চাটিকে তোল এবং কোলে নাও, কারণ আমি তাকে এক মহান জাতিতে পরিনত করব।”
    অতঃপর ঈশ্বর তাঁর চোখ খুলে দিলেন এবং তিনি পানির এক কূপ [জমজম কূপ] দেখতে পেলেন। তিনি সেদিকে গেলেন, চামড়ার থলে পানি দিয়ে ভর্তি করলেন এবং বাচ্চাটিকে পানি খাওয়ালেন।ঈশ্বর সেই ছেলেটির সাথে ছিলেন, এবং সে আস্তে আস্তে বড় হল। সে মরুভূমিতে বাস করতে লাগলো এবং একজন তীরন্দাজ হল।সে পারানের মরুভূমিতে থাকতো এবং তার মা মিশরের একটি মেয়ের সাথে তার বিয়ে দিলেন।”
    (বাইবেল, আদিপুস্তক(Genesis) ২১:১৩-২১)

    কিন্তু ইহুদি-খ্রিষ্টানদের আদিপুস্তক(Genesis) এর বর্ণণায় এখানে একটা বড়সড় সমস্যা আছে। ২১নং অধ্যায়ে পরিষ্কার বলা হচ্ছে যে ইসমাঈল(আ)কে মরুভূমিতে রেখে আসার সময়ে তিনি এক ছোট শিশু ছিলেন। ঠিক যেভাবে রাসুল(স) এর হাদিসে বলা হয়েছে।
    কিন্ত,একটু আগেই,ঐ একই অধ্যায়ে[আদিপুস্তক ২১:৫-১১] বলা হচ্ছে—ইসমাঈল(আ)কে মরুভূমিতে রেখে আসার কারণ ছিল তিনি ইসহাক(আ)কে ভেঙিয়েছিলেন! এ কী করে সম্ভব, যে ছেলে একটা কাউকে ভেঙানোর মত বড়, এক অধ্যায় পরেই সেই ছেলেটি একটি দুধের শিশুতে পরিনত হয় যে পানির জন্য কাঁদে??

    “ইসহাকের যখন জন্ম হয়, তখন আব্রাহামের[ইব্রাহিম(আ)] বয়স ১০০বছর। সারা বললেন, “ঈশ্বর আমার মুখে হাসি ফিরিয়ে দিলেন। আর যে এ খবর শুনবে, সেও হাসবে।”
    তিনি আরো বললেন, “আব্রাহামকে কেই বা বলতে পেরেছিল যে সারা একসময় বাচ্চা লালনপালন করবে? তারপরেও আমি বৃদ্ধা বয়সে তাঁকে একটা সন্তান এনে দিলাম।”
    বাচ্চাটি বড় হল এবং দুধ খাওয়া ছাড়ল। আর যেদিন ইসহাক দুধ খাওয়া ছাড়ল, সেদিন আব্রাহাম এক বিশাল ভোজের আয়োজন করলেন।
    কিন্তু সারা লক্ষ্য করলেন যে, আব্রাহামের মিশরীয় দাসীর ছেলেটি[ইসমাঈল(আ)] ভেঙচি কাটছিলো।
    সারা আব্রাহামকে বললেন, “ঐ দাসী আর তার ছেলেটাকে বের করে দাও।কারণ দাসীর ছেলে আমার ছেলে ইসহাকের উত্তরাধিকারের অংশীদার হতে পারে না।”
    (আদিপুস্তক(Genesis) ২১:৫-১২)

    বাইবেলের বর্ণণামতে ইসমাঈল(আ) ছিলেন ছোট ভাই ইসহাক(আ) এর চেয়ে ১৪ বছরের বড় [দেখুন আদিপুস্তক ১৬:১৬ ও ২১:৫]। ইসহাক(আ)এর দুধ ছাড়াতে ২ বছর লাগার কথা। সেই হিসাবে ইসহাক(আ) এর দুধ ছাড়ানোর ভোজসভার সময়ে ইসমাঈল(আ) এর বয়স ছিল ১৪+২=১৬ বছর। বাইবেলের বর্ণণামতে, ১৬ বছরের ছেলেটিকে ভেংচি কাটার জন্য তার মা-সহ ইব্রাহিম(আ) বের করে দিয়েছিলেন। অথচ বের করে দেবার পরেই আদিপুস্তক(Genesis) ২১:১৩-২১ এর বর্ণণায় ইসমাঈল(আ) দুধের শিশু হয়ে গেলেন!!!

    এর অর্থ হচ্ছে—ইসমাঈল(আ) কর্তৃক ভেংচি কাটার ঘটনাটি একটি বানোয়াট ঘটনা। এই ঘটনার কারণেই বাইবেলে এত বড় স্ববিরোধিতা দেখা দিচ্ছে।

    মুহাম্মাদ(স) এর হাদিস এবং আদিপুস্তক(Genesis) ২১:১৩-২১ উভয়ের বর্ণণা অনুযায়ী বের করে দেবার সময়ে ইসমাঈল(আ) ছিলেন শিশু। কুরআনের বর্ণণা অনুযায়ী—ইসহাক(আ) এর জন্মের সুসংবাদ দেওয়ারও আগে ইসমাঈল(আ)কে কুরবানী দিতে নিয়ে যাবার ঘটনা ঘটেছিল [দেখুন সুরা আস সফফাত ৩৭:৯৯-১১২]।এর মানে ইসমাঈল(আ)কে মরুভূমিতে রেখে আসার ঘটনাটাও ঘটেছিল ইসহাক(আ) এর জন্মেরও বহু আগে। কাজেই ইসমাঈল(আ) কর্তৃক ইসহাক(আ) এর ভোজসভায় ভেংচি কাটার ঘটনা ঘটবার প্রশ্নই আসে না।

    বাইবেলের বর্ণণায়ও দেখা যায় যে ইব্রাহিম(আ)কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাঁর একমাত্র পুত্রকে কুরবানী দিতে নিয়ে যাবার জন্য [দেখুন আদিপুস্তক ২২:২], অথচ নামের জায়গায় ইসহাক(আ) এর নাম। ইসহাক(আ) কখনোই ইব্রাহিম(আ) এর একমাত্র পুত্র ছিলেন না কারণ তিনি ছিলেন তাঁর ২য় ছেলে। কেবলমাত্র বড় ছেলে ইসমাঈল(আ) এরই ইব্রাহিম(আ) এর “একমাত্র পুত্র” হওয়া সম্ভব। ইসহাক(আ) এর জন্মের আগ পর্যন্ত ১৪ বছর ধরে তিনিই ছিলেন ইব্রাহিম(আ) এর “একমাত্র পুত্র”।
    .
    প্রকৃতপক্ষে ঝামেলাটা আছে ইহুদি-খ্রিষ্টানদের গ্রন্থে। ইহুদিরা এই ঘটনায় ইসমাঈল(আ) ও ইসহাক(আ) এর নাম অদলবদল করতে গিয়ে ফ্যাকরাটা বাঁধিয়েছে। ইহুদিরা চেয়েছিল কুরবানীর ঘটনায় ইসমাঈল(আ) এর নাম বদলে ইসহাক(আ) এর নাম বসানোর কারণ ইসহাক(আ) তাদের পূর্বপুরুষ। এই কুকাজটা করতে গিয়ে তাদের কিতাবে এই হাস্যকর বৈপরিত্য বা স্ববিরোধিতা দেখা দিয়েছে।

    কাজেই আমরা দেখতে পাচ্ছি যে—কুরআন ও হাদিসের বর্ণণায় কোন বৈপরিত্য বা ঝামেলা নেই।বরং ইহুদি-খ্রিষ্টানদের ধর্মগ্রন্থ তানাখ ও বাইবেলে ইসমাঈল(আ) ও ইসহাক(আ) এর নাম অদল-বদল করে ইসমাঈল(আ)কে কুরবানীর ঘটনা থেকে সরানো এবং ইসমাঈল(আ) এর নামে একটি বানোয়াট ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করবার কারণেই তাদের গ্রন্থে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। কুরআন ও হাদিসের বর্ণণা মেনে নিলে আর এই সমস্যা থাকে না বরং ব্যাপারগুলো খাপে খাপে বসে যায়। অথচ নাস্তিক-মুক্তমনারা অন্ধভাবে ইহুদি-খ্রিষ্টানদের গ্রন্থের বিবরণের উপরেই নির্ভর করে, শুধুমাত্র ইসলামকে ভুল প্রমাণ করার জন্য। অথচ এ দ্বারা তাদের নিজেদের ভুল অবস্থান তো প্রমাণ হলই, ইহুদি-খ্রিষ্টানদের ধর্মগ্রন্থের বিকৃতিও প্রমাণ হল।আমরা মুসলিমগণ আল্লাহর প্রেরিত পুরুষদের মধ্যে পার্থক্য করি না[সেখুন সুরা বাকারাহ ২:২৮৫], আমরা সকল নবী-রাসুলকেই বিশ্বাস করি ও ভালোবাসি।কুরআন-হাদিসে যদি বলা হত ইসহাক(আ) জবিহুল্লাহ, তাহলে আমরা নির্দ্বিধায় তা মেনে নিতাম।ইসমাঈল(আ) ও ইসহাক(আ) উভয়কেই আমরা ভালোবাসি।কিন্তু ব্যাপার হচ্ছে কুরআন-সুন্নাহ এবং বাইবেল সকল সূত্র থেকেই এটা প্রমাণিত যে ইসমাঈল(আ)ই জবিহুল্লাহ। আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার থেকে রক্ষা করুন।

    এ ছাড়া এই টপিকে খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর(র) এর একটি অসাধারণ বই আছেঃ ।“তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ও কুরআনের আলোকে কুরবানী ও জাবীহুল্লাহ”। বইটির ডাউনলোড লিঙ্কঃ goo.gl/dw8HXm

পার্থিব শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 1 =