একনিষ্ঠতা বনাম পঞ্চাশনিষ্ঠতা


যারা একনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী তারা অসুস্থ, বিকারগ্রস্ত, উন্মাদ। বিংশ শতাব্দীর এক মণিষী বলেছেন, ‘আধুনিক পুরুষতন্ত্রের সবচেয়ে বড়ো কুসংস্কারের নাম হচ্ছে প্রেম।’ প্রেম বলতে কী বোঝায় বাঙলা ভাষায়? কখনো কখনো সাধারণ ভালোবাসা বোঝালেও প্রায় সবসময়ই বোঝায় যৌনপ্রেমকে। কিশোরদের কাছে ‘যৌনপ্রেম’ শব্দটি অবশ্য খুবই আপত্তিকর, তারা প্রেম বলতে শুধু ছোঁয়াছুঁয়ি আর ভালোবাসাবাসি বোঝে, এটার সাথে যে কামের মিশেল আছে তা শুনতে লজ্জা পায়, বিরক্ত ও বিব্রত হয়। এটা শোনার সাথে সাথে তাদের মনে পড়ে তাদের প্রেমিক বা প্রেমিকার কথা। তাদের সাথে কী তারা কামে জড়াবে? লজ্জা পায় তারা : ছিঃ ছিঃ! অমন কখনো করবে না, করলে কী ভাববে তাদের প্রেমিক-প্রেমিকারা? তারা খুব খারাপ ভাববে। তাদের সাথে কখনোই তারা কামে জড়াবে না, চিরকাল হাত ছোঁয়াছুঁয়ি ক’রে যাবে।

আপনারা অনেকেই পড়েছেন রিচার্ড ডকিন্সের ‘সেলফিস জিন’ বইটি। জীবের মধ্যে রয়েছে এই সেলফিস জিন। এটি জীবের দ্বারা সমস্ত কিছু করাচ্ছে শুধু নিজের বংশ রেখে যাওয়ার জন্যে, সহজ ভাষায় এটিই বলা যায়। একটি চিরন্তন সারাদিন পেশীশক্তির চর্চা করছে, একটি চিরন্তনী সারাদিন রূপের চর্চা করছে বিপরীত লিঙ্গের কাছে নিজেকে গ্রহণযোগ্য ক’রে তোলার জন্যে এটা যে হচ্ছে তা এই সেলফিস জিনের কারণেই। কী ভয়ংকর ব্যাপার একবার ভেবে দেখুন। একটি শিশু জন্ম নিলো, বড়ো হলো, তারপর বাড়ি-গাড়ি-টাকাপয়সা-রূপ-ভালো ফলাফল সবই করলো উত্তরসূরী রেখে যাওয়ার জন্যে বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষণ করার কারণে। তারপর তার শিশুটিও একই কাজ করলো। ভয়াবহ নিরর্থক এই জীবন। মহত্ মানুষেরাই এই জীবন থেকে শুধু বেরিয়ে আসতে পারেন। আর সবাই পচে গোরবের স্তূপে।

তো একটি সময় যে মানুষের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের মতো বন্যার মতো কালবোশেখির মতো ভয়ানক আবেগ আসে কোনো বিপরীত লিঙ্গের প্রতি এটি প্রকৃতি দেয় কামের সম্পর্ক স্থাপনের জন্যেই। সর্বপ্রথম কামের কথা মনেই থাকে না, কামের চিন্তা করতেই ঘেন্না হয়, এমনকি প্রেমের সময় মানুষ হস্তমৈথুন একেবারেই কমিয়ে দেয়। কিন্তু প্রেমে পড়ার পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে মানুষ এগিয়ে যায় কামের দিকে। কেনই বা এগোবে না? এটা তো প্রাকৃতিক। সংস্কৃতি প্রকৃতির আজ্ঞা মেনে চলে না। প্রকৃতির নিয়ম বদলানোর ক্ষমতা তার রয়েছে যেহেতু মানুষের সৃষ্টি সে আর মানুষের ক্ষমতা প্রকৃতির থেকে অনেক বেশি। তবে প্রকৃৃতির নিয়ম না বদলে নিজের নিয়ম সৃষ্টি করার অধিকার তার নেই আর সে কোনো মানুষের অধিকারে হাত দিতে পারে না। কামের সম্পর্ক হওয়ার পরেও কিন্তু টিকে থাকে প্রেম, অন্তত চার বছর। তারপরে প্রেম আর থাকে না, বন্ধুত্ব বা হাল্কা ভালোবাসা থাকতে পারে। প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকাদের যন্ত্রণা হলে খারাপও লাগতে পারে, কিন্তু তার প্রতি ঘন প্রেম আর থাকে না। শাশ্বত প্রেম বলতে কিছু নেই। শাশ্বত প্রেমের চিন্তা হচ্ছে অসীম ভণ্ডামি। বড়জোর দশ বছর একটি প্রেম টেকে, তারপর আবার আরেকজনের প্রতি প্রেম বোধ হয়। কখনো একই সাথে পাঁচ-ছয়টির প্রতি মানুষ প্রেম বোধ করতে পারে। পাঁচ-ছয়জনের দেখেই একজন মানুষের রক্ত ও হৃদপিণ্ড ঝনঝন ক’রে বেজে উঠতে পারে, আসতে পারে ঘন প্রেমের নিবিড় কুয়াশা। এতে সবার সাথেই ভালো সম্পর্ক থাকে, উদাহরণ হিশেবে বলা যায় বিশ শতকের দুই মহান স্থপতি মণিষী সার্ত্র ও মণিষী সিমোন দ্য বোভোয়ারের কথা। সিমোন সার্ত্রের সাথে সম্পর্ক থাকা অবস্থায়ই প্রেম করেছেন অনেক পুরুষের সাথে, সমকাম বা সমপ্রেমও করেছেন তিনি, সার্ত্রও করেছেন অনেক নারীর সাথে। বিশ শতকের কিংবদন্তী মহান ঔপন্যাসিক মণিষী আলবেয়ার কামুর প্রতিও প্রেম বোধ করেছেন সিমোন। সার্ত্র অবশ্য তখন ঈর্ষা বোধ করেছিলেন, বুঝতে পারি সার্ত্রের মধ্যে কিছুটা নষ্টামি ছিলো। যাই হোক, একই সাথে কয়েক জনের সাথে সম্পর্কের জন্যে তাঁদের দুজনের সম্পর্কটা মৃত্যু পর্যন্ত টিকে ছিলো, যা অসম্ভব ব্যাপারই বটে।

আমার এক খালাতো বোনের সাথে কিছুদিন আগে একনিষ্ঠতা নিয়ে তর্ক হয়েছিলো আমার। সে আচমকা উঠিয়েছিলো জুলফিকার নিউটনের কথা। জনৈক তিলোত্তমা আন্টির(মূল উচ্চারণ) স্বামী সে। একটি ‘চরিত্রহীন’। আপনাদেরকে আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে আমার খালাতো বোন নিউটনের কুম্ভীলকগিরির কথা জানতো না। তো আমি তার কথা শুনে খুব অবাক হলাম। বাংলার তরুণসমাজের সম্পর্কে আমার ঘৃণা রয়েছে, এরা খুবই নিম্নমানের, এরা অতিরিক্ত মল সৃষ্টি করে, অনুবাদ হিশেবে পরিচিত মলে দেশ ভ’রে যাচ্ছে। জি এইচ হাবিব (মার্কেজের মহান বইটির অসামান্য অনুবাদ করেছেন) আর সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ (তিনি তরুণ না বৃদ্ধ তা ঠিক জানি না, তবে প্রবন্ধ প’ড়ে তাঁর বক্তব্য প’ড়ে তাঁকে তরুণ ব’লে মনে হয়েছে) এবং মাত্র কয়েকজন অনুবাদক ছাড়া সবাইকেই মনে হতো…। নিউটনের ‘অনুবাদ’ ছিলো স্নিগ্ধ, সুন্দর, মনোহর। আমি আমার খালাতো বোনকে বললাম, ‘তিনি তো খুবই প্রতিভাবান। (তখনও জানতাম না তিনি আসলেই চরিত্রহীন নয়তো মানসিক রোগী, বিন্দুমাত্র প্রতিভা নেই, কুম্ভীলকগিরি করেছেন।)

তারপর থেকে আমার বোন আর আমার কথোপকথনের সম্পূর্ণ অংশ তুলে দিচ্ছি:

আমার বোন: সে খুবই চরিত্রহীন। পার্সনাল লাইফে। (ভাবছিলাম লোকটি চোর, ডাকাত, খুনি, ধর্ষক, অত্যাচারী নাকি। : সুপূ)

আমি: কীভাবে চরিত্রহীন?

আমার বোন: চরিত্রহীন মানে তো বোঝোই। (আমি বুঝে গেলাম ওর কথাটি শুনে। সে একটি চরিত্রহীন শব্দ ব্যবহার করছে। : সুপূ)

আমি: এটা তো কখনোই চরিত্রহীন কাজ হতে পারে না।

আমার বোন: এই একটা কাজই শুধু চরিত্রহীন। (আমি তখন পুরোই নিশ্চিত হয়ে গেছি যে আমার খালাতো বোন একটা চরিত্রহীন। : সুপূ)

আমি: তোমার কথার স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

আমার বোন: তুমি আগে বলো যে কেন এটা চরিত্রহীন নয়।

আমি: হ্যাঁ-বোধকটার পক্ষেই আগে যুক্তি দিতে হয়। (মনে মনে বললাম: ঘোড়ার ডিম নেই এটা প্রমাণ করো।)

আমার বোন: জুলফিকার নিউটন অনেক মেয়ের সাথে নষ্টামি করে।

আমি: এইটা স্বপক্ষের যুক্তি? এই কাজটাই কেন খারাপ তা প্রমাণ করো।

আমার বোন: সে কিন্তু একটি মেয়ের সাথে নয়, অনেক মেয়ের সাথে করে।

আমি: (একই কথা ঘুরে ঘুরে আসছে ব’লে কথা ঘোরালাম) একটা প্রেমের সম্পর্ক কখনো চিরজীবন চলতে পারে না।

আমার বোন: নানা-নানির সম্পর্ককে তুমি কী বলো?

আমি: তাদের মধ্যে তো কোনো প্রেম ছিলো না। নানার মৃত্যুর সংবাদে নানি শুধু বলেছে, একটি জায়গা দেখিয়ে, ‘উইখানে কবর দিবো।’

আমার বোন: সে এতোই শোক পেয়েছিলো যে অধিক শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিলো।

আমি: (কেউ বাস্তবতাকে যদি সরাসরি অস্বীকার করে তখন কিছুই বলার থাকে না। আমি আগের কথাটাই আবার বললাম:- ) একটা প্রেমের সম্পর্ক চিরজীবন কখনো চলতে পারে না।

আমার বোন: তাহলে সেটা ভালোবাসা হলো না। হলো শারিরীক ব্যাপার।

আমি: ‘প্রেম’-এর সাথে কাম মিলেমিশে থাকে।

আমার বোন: তুমি যা বলেছো তা এতোই নোংরা যে আমি নিশ্চিত নই এটা তুমি ভালোভাবে বুঝে বলেছো কীনা।

আমি: ভালোভাবে বুঝেই বলেছি।

আমার বোন: বিষয়টা তুমি খুবই সংকীর্ণ ক’রে ফেলেছো। ভালোবাসা…

আমি: ভালোবাসা ও প্রেমের মধ্যে বাঙলা ভাষায় রয়েছে অনেক পার্থক্য।

আমার বোন: না, না, ওই যে বলে ‘রাসুলপ্রেমে জিহাদ করছি।’

আমি: সেটা তো বলে প্রতীক হিশেবে যে প্রেমের সময় যে তীব্র আবেগ উপস্থিত হয় তেমনিই বোধ হচ্ছে রাসুলের প্রতি। কথা হচ্ছে ভালোবাসা সারা জীবন টিকে থাকতে পারে, সেটি ঘূর্ণিঝড়ের মতো নয়, সেটিতে কাম থাকে না, অন্যদিকে প্রেম টিকতে পারে বড়োজোর দশ বছর, সেটি ঘূর্ণিঝড়ের মতো, সেটিতে কাম থাকে।

আমার বোন: তোমাকে একটি উদাহরণ দিই। আমার বাবাকে আমি ভালোবাাসি। এই ভালোবাসা কখনো ফুরোবে না। আমার বাবাকে আমি এতোটাই ভালোবাসি যে সে আমাকে মেডিকেলে পড়াতে চেয়েছে ব’লে বুয়েটে পড়ার সম্পূর্ণ যোগ্যতা ও ইচ্ছে থাকলেও আমি মেডিকেলেই যোগ দিয়েছি।

আমি: সেটা তো অন্য ব্যাপার। একটি ছেলেকে দেখে তোমার যেই আবেগ হবে বা হতে পারে, যেহেতু তুমি মেয়ে, একটি মেয়েকে দেখে তেমন তো হবে না ( অথবা হতেও পারে যদি তোমার মধ্যে সমকামী:সমপ্রেমী প্রবণতা থাকে)।

আমার বোন: কেনই বা হবে না? (যাক্ বাবা, তুমি বলতে চাইছো প্রেম ও ভালোবাসার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, কিন্তু যৌনসম্পর্ক থাকলে তোমার ওই ভালোবাসায় সমস্যা হয় না কিন্তু প্রেমে সমস্যা হয়। নিউটনের বৌর খুব দুঃখ যে তার স্বামীর অন্য মেয়ের সাথে যৌনসম্পর্ক আছে এটা তুমি মনে করো। তাহলে তো তুমি নিজে প্রেম ও কামকে সমার্থক মনে করো যেহেতু তুমি বলতে চাও একাধিক প্রেম আসলে প্রেমই নয়, তথাকথিত প্রেম, ওইদিকে যৌনসম্পর্ক করলে প্রেম আর এক থাকে না, হয় একাধিক।
আর ভালো তো তোমার কাছে শুধু একজনকেই না বাসা পাপ না, তোমাদের এক পদ্যকারই তো বলেছেন, ‘সবাইকেই বাসোরে ভালো,’ তুমি সম্ভবতো এটা মানো নাকি মানো না? শুধু বাবাকেই ভালোবাসো? কিন্তু ওই প্রেমের বেলায়, দেখো, তুমি মনে করো শুধু একজনের সাথেই প্রেম না করাটা পাপ। অতএব কতো পার্থক্য! : সুপূ)

আমি: একটা ছেলের প্রতি তোমার অবশ্যই অন্যরকম আবেগ আসবে। ওই যে বলে না প্রথম দর্শনেই প্রেম।

আমার বোন: এইটা তো ইসলামে হারাম!

আমি: ইসলামে হারাম না আরাম তা আমার জানার প্রয়োজন নেই! কথা হচ্ছে এটি একটি সুন্দর মানবিক অনুভূতি। তবে মেয়াদ১০/১২ বছর।

আমার বোন: শুয়োর চেনো : শুয়োর? বিচ? এর মধ্যে রয়েছে শুধু কাম। যৌনসম্পর্ক স্থাপন করে বিভিন্নটার সাথে, তারপরে ভুুলে যায়।

আমি: এখানে শুয়োর-কুকুরের আখ্যান টানার দরকার নেই। (কেননা এই সম্পর্কের সাথে শুয়োরের তথাকথিত নষ্ট কীর্তির অনেক অমিল। আর, সবচেয়ে বড়ো কথা হলো, বেশিরভাগ মানুষের সাথেই শুয়োরের খুব মিল। একটি শুয়োর, সমস্ত প্রাণীই, চালিত হচ্ছে সেলফিস জিনের দ্বারা। এদের জীবনটা শুধুমাত্র উত্তরসূরী রাখার জন্যে। ৯৯% মানুষই তাই। মুসলমানেরা তো ১০০% শুয়োরের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। ওরা কি আলবেয়ার কামুর কথা জানে? শুনেছে র্য্যাঁবো বা বোদলেয়ারের নাম? নিম্নমানের মলজ মূত্রজ কীট ওরা, শুয়োর-কুকুরও অবশ্য বলা যায়। জীবন নিরর্থক। এটির আশ্রয় হচ্ছে বই। সাহিত্য-দর্শন-বিজ্ঞান : বই দ্বারাই যাপন করা যেতে পারে এ-নিরর্থক জীবন। আমরা নিয়ত সিসিফাসের মতো পাথর ঠেলে চলেছি। এই নিরর্থকতার বোধ আসে কয়জনের? গুটিকয়েকের। এই কয়েকজন অর্জন করেছে মহত্ব। আর সব সুন্দর দেহের গালফোলা ঝোলা ঠোঁটের শুয়োর নয়তো কুকুর।)

আমার বোন: সে ওইসব করতে পারতো কিন্তু কেন বিয়ে করলো। এতো যে হৈ চৈ : যে তসলিমা সেও কিন্তু রুদ্রকে বলেছিলো, ‘তুমি যেহেতু বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছো, তাই এমন করতে পারো না। তুমি বন্ধনে আবদ্ধ হতে না।’ (কী আপদ! বিয়ের মতো শক্তিশালী নষ্ট প্রথার মধ্যে মানুষ জড়িয়ে যেতেই পারে, কিন্তু এতে জড়িয়ে যাবে ব’লে মানবিক অনুভূতি চাপা দেবে কেন? : সুপূ)

আমি: তসলিমার খুব ঈর্ষা হয়েছিলো। রুদ্র নেলী খালা, তারপর তুলি নাকি তুলসির কাছে চিঠি লেখে।

আমার বোন: তোমার বউ কয়েকজনের সাথে ক’রে বেরাক এটা তুমি সহ্য করবে? (কথা শুনুন! আমি নাকি পুরুষতন্ত্রের ওইসমস্ত মালিক হয়ে উঠবো! আমার বউকে নাকি নিয়ন্ত্রণ করবো আমি! এইসব মালবৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মেয়ের সাথে আমি তো সম্পর্ক গড়বই না। আর আমি তো বিয়ের ভেতরেই যাবো না, ঢুকবো প্রেমের অন্দরে।:সুপূ)

আমি: আমার তাতে কোনো সমস্যাই নেই। কষ্ট-টষ্ট লাগবে না। (কষ্ট কীভাবে লাগতে পারে? মেয়েটি একটি পুরুষের সাথে স্বর্গীয় কাজ ক’রে এলো। এতে আমার সমস্যা কোথায়?)

আমার বোন: লাগবে না, না? ঠিক আছে, লাগবে না, তাহলে তো কিছু বলার নেই। যার যার রুচির ব্যাপার। (তোমার রুচিই যে উন্নত তা তুমি নিশ্চিত? আর আমরা প্রত্যেকেই কিন্তু নিষ্ঠ। কেউ একে নিষ্ঠ, কেউ পঞ্চাশে নিষ্ঠ। তুমি একের প্রতি নিষ্ঠ হও, আমি পঞ্চাশটার প্রতি নিষ্ঠ হই।:সুপূ)

আমি: এই সম্পর্ক অনেকের সাথে হতেই পারে। এই যে দেখো এটি নিয়ন্ত্রণ করতে চায় বিয়ে। তাই তো চারদিকে ভেঙে পড়ছে সব সম্পর্ক। প্রত্যেকটা সংসারে যেয়ে দেখো সেখানে অশান্তি, ভাঙন, আসলে ভেঙেই গেছে, নারী ও পুরুষটি শুধু মাঝেমধ্যে সঙ্গম করে, পুরুষটি হুকুম দেয়, নারীটি তা মান্য করে, একে অন্যের প্রতি তাদের কোনো সংবেনশীলতা নেই, ভালোবাসা নেই। (আসলে প্রাকৃতিকভাবে সব মানুষই বহুগামী। পুরুষ চিরকাল বহুগামী থেকেছে। নিম্নস্তরের কীট পুরুষ থেকে সব মণিষী পুরুষরা বহুগামী ছিলেন। নারীকে পুরুষতন্ত্র ও পুরুষ বহুগামী হতে দেয় নি, আর তার মধ্যে এটি সম্পর্কে ঘেন্না ঢুকিয়ে দিয়েছে।)

আমার বোন: কখনোই না। প্রত্যেকের সম্পর্ক খুব ভালোভাবে টিকে আছে। তারা প্রথমে একে অপরকে ভালোবেসে বাচ্চার জন্ম দেয়, পরে ওই বাচ্চার প্রতি ভালোবাসা জন্মে দুজনের, বাচ্চার প্রতি সেই ভালোবাসাটা লীন হয় একে অন্যের প্রতি ভালোবাসায়, ফলে ভালোবাসাটা গভীর হয়। (এটা হচ্ছে সরাসরি বাস্তবটাকে উপেক্ষা করা।:সুপূ)

আমি: যা দেখছি তা তো ফেলে দেয়া যায় না।

আমার বোন: কিন্তু জুলফিকার তো তার সন্তানকে ভালোবাসে না। আমি মনে করি পারিবারিক দিক দিয়ে সে একটি চরম ব্যর্থ মানুষ। তুমি কি মনে করো? সে কি পারিবারিক দিক দিয়ে ব্যর্থ নাকি সফল?

আমি: পারিবারিক ব্যর্থতা বা সফলতার আমার কাছে কোনো মূল্য নেই। এটি তুচ্ছ।

আমার বোন: মূল্য নেই? এটির মূল্য সবচেয়ে বেশি। এটি তুচ্ছ নয়, খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আমি: হয়তো গুরুত্ব আছে। কিন্তু আলোচনা এটা নিয়ে তো হচ্ছিলো না। বিভিন্ন মেয়েদের সাথে জুলফিকারের নষ্টামি নিয়ে আলোচনাটা হচ্ছিলো।

আমার বোন: তোমার কাছে পারিবারিক সফলতাটা কেমন?

আমি: আলোচনা অন্যদিকে ঘুরছে।

আমার বোন: আমার এখন খুব মাথাব্যাথা করছে। তুমি তো তোমার পারিবারিক সফলতার ডেসক্রিপশনই দিতে পারলে না। আমি যাচ্ছি।

আমি মনে করি শিশুকে বড়ো ক’রে তোলার দায়িত্ব সমাজের। মা-বাবা চাইলে সেটা করতে পারে। সেক্ষেত্রে মা-বাবা দুজনেই শিশুর জন্যে কাজ করতে পারে এবং অবশ্যই করবে। যেমন: মা শিশুটিকে খাওয়ালো, বাবা শিশুর মলমূত্র পরিষ্কার ক’রে দিলো, মা বাজার থেকে শিশুর জন্যে কিছু কেনাকাটা করলো, বাবা নদীর ধারে বা পার্কে শিশুকে নিয়ে গেলো, মা উদ্যান বা রাস্তা বা খোলা মাঠে শিশুর সাথে খেলা করলো, বাবা শিশুকে পিঠে নিয়ে ঘোড়া সাজলো। এখন, মা ও বাবা অনেক নারী-পুরুষের সাথে সঙ্গম করলে শিশুর তো কোনো যায়-আসছে না। শিশুর তো কোনো সমস্যা নেই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 5 = 5