তিন স্বপ্নদ্রষ্টার অনন্য রুপ ‘সূবর্ণ প্রাঙ্গণ’

নিজের বাড়ি তো দূরের কথা, বস্তিতে এই শহরের অনেক শ্রমিকের মাথা গোজার ঠাঁই হয় না। শেষ পর্যন্ত কোনো ছাপরা ঘরে থাকার ‘ভাগ্য’ হলেও গাদাগাদি হয় শেষ ভরসা। প্রতিমাসে শ্রমিকরা যে টাকা দিয়ে বস্তিতে থাকেন, সেই টাকায় কয়েক বছরের ব্যবধানে ফ্লাটের মালিক হতে পারেন। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির আরবান ল্যাব ঢাকা শহরের কয়েকটি বস্তিতে জরিপ চালিয়ে শ্রমিকদের এমন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। মোহাম্মদী গ্রুপ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় সেই স্বপ্ন তারা বাস্তবায়ন করার পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে। আমাদের সমাজের এইসব ছিন্নমূল মানুষকে উন্নত জীবনের ছোঁয়া দিতে গাজীপুরের দোগরি এলাকার মির্জাপুর রোডের পাশে জমি কিনে ফ্ল্যাট তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে। প্রজেক্টের নাম দেয়া হয়েছে ‘সূবর্ণ প্রাঙ্গণ’। শ্রমিকদের জন্য মূলত এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন তিন ‘স্বপ্নদ্রষ্টা’-বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান জামিল আজহার, মেয়র আনিসুল হকের সহধর্মিণী সালমা হক এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য আর্কিটেকচার ইকবাল হাবিব। ঢাকা শহরের বেশ কয়েকটি বস্তি ঘুরে ঘুরে এই প্রোজেক্টের ডিজাইন করা হয়েছে। শ্রমিকরা নিজেরাই ডিজাইন তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন। তাদের পছন্দ মতো খেলার মাঠ, রাস্তা নির্মাণ করা হবে। এই প্রজেক্টের জন্য ইতিমধ্যে ১.৭ একর জমি কেনা হয়েছে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা। আবাসিক অংশে পরিবার নিয়ে থাকার জন্য ১৯৬টি ইউনিট থাকবে। এ ছাড়া ব্যাচেলরদের জন্য থাকবে ১০৫টি ইউনিট। এর মধ্যে মেয়েদের জন্য ৭৩টি এবং পুরুষদের জন্য ৩২টি ইউনিট থাকবে। নামমাত্র কিস্তিতে ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একজন শ্রমিক ডরমিটরিতে থাকতে চাইলে প্রতিমাসে ভাড়া দিবেন ২ হাজার টাকা। পরিবার নিয়ে থাকলে মাসিক ভাড়া পড়বে ৬ হাজার ৮০০ টাকা। এভাবে ৮ থেকে ১০ বছর ভাড়া দেয়ার পর ওই ফ্ল্যাটটি তার নিজের হয়ে যাবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

73 − 64 =