অপারেশন কল্যানপুরঃ জনমনে স্বস্তি

জঙ্গিবাদের ভয়াল থাবা বিশ্বজুড়ে। কোন দেশই নিরাপদে নেই, অামরাও না। চারপাশের মানুষজন অচেনা হয়ে যাচ্ছে। অামার প্রিয় সন্তানকেই চিনতে পারছিনা। স্বাধীনতার নামে কোথায় চলেছে তারা, কোথায় যাচ্ছে স্বদেশ? কল্যানপুরের অভিযান ব্যর্থ হলে যে পরিস্থিতি হতো, ভাবতেই শিউড়ে ওঠি। একটি সম্ভাব্য ‘গুলশান ট্র্যাজেডি’ ভন্ডুল করায় যৌথবাহিনীকে অভিনন্দন।

অাজ যারা (বিএনপি) কল্যানপুরের জঙ্গিদের ভালো মানুষের সার্টিফিকেট দিচ্ছেন তারাই বাংলাদেশী জঙ্গিবাদের স্রষ্টা। ঠান্ডা ঘরে বসে সারাদেশে জঙ্গিদের লেলিয়ে দিয়ে হোটেল সোনারগাঁও-এর অাফগান মোরগ-পোলাউ দিয়ে পিকনিক করে এরা। জঙ্গিরা ধরা পড়লে যে তাদের নীলনকশায় চির ধরে। তাই তো জঙ্গি মারা গেলে অতি সাধের মুখরোচক খাবারও তিতা-বিস্বাধ ঠেকে।

সাধুবাদ জানাই গোয়েন্দা বাহিনীকে। লাল সালাম যৌথ বাহিনীর সময়োচিত ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’কে। তাদের দুরদর্শিতায় দেশ নিশ্চিত একটি রক্তপাত এড়াতে পেরেছে। শুধু তা-ই নয়, গুলশান ও শোলাকিয়া ট্র্যাজেডির পর জনমনে যে অাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল, সেখানেও একটি শান্তির বাতাবরণ তৈরী হয়েছে। ঐ রাতের প্রত্যক্ষ দর্শীদের বর্ণনায় ওঠে এসেছে জঙ্গিদের কথোপকথনের বর্ণনা, যা ভয়াবহ।

যত কিছুই হোক, জীবন থেমে থাকার নয়। পেটের তাগিদে মানুষকে শত বিপত্তি সত্বেও বেরুতে হয় পথে। কিন্তু ঘটে চলা দুর্ঘটনার পর পারতপক্ষে মানুষ বাইরে যেতে চাইছে না। সারাদেশে মানুষ ধীরে ধীরে জেগে উঠছে। তার মধ্যে অাশার অালো ‘কল্যানপুরের সফল অপারেশন’। এই ঘটনাটি অামাদের ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করছে। অামাদের যৌথবাহিনীকে সেল্যুট।

তবে এখানেই থামলে চলবে না, যেতে হবে দীর্ঘ পথ। যত সাফল্যই বর্ণনা করি, জঙ্গিবাদ দমন করতে না পারলে, জনগণ উন্নয়নের সুফল পাবেনা। সরকার, অাইন-শৃঙ্খলাবাহিনী এবং সর্বোপরি জনগণ – এই তিনের সমন্বয় হলে জঙ্গিবাদ মোকাবেলা কঠিন কাজ নয়। কারন প্রকৃতিগত ভাবেই বাংলার মাটি অসাম্প্রদায়িক এবং জঙ্গি উৎপাদনের পরিপন্থী। এ যুদ্ধে জনগনের জয় হবে, পরাজিত হবে পশুশক্তি।

খোরশেদ আলম, লেখক ও গবেষক

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 4 =