মুমিনের আচরন

আজ খুব ভোর বেলা যখন মরনিং ওয়ার্কের জন্য বের হয়েছি কিছু সময় পর দুই জন ইসলাম ধর্ম পালনকারি মুসলিমের সাথে দেখা হয়, এর আগে মাঝে মাঝে দেখা হত হাই হেলো কেমন আছেন এতটুকুই শেষ। আজ একটু বেশি সময় নিয়ে তাদের সাথে কথা বললাম, তারা প্রথমে আমার নাম জানতে চাইলো,আমি কোন ধর্মের তা জানতে চাইলো উত্তরে আমি বললাম আমি তো মানুষ তাই মানবতার ধর্মই পালন করি। আবার বলল আপনি কি খ্রিষ্টান, হিন্দু না মুসলিম আমি বললাম প্রতিষ্ঠনিক কোন ধর্ম ই আমি পালন করি না। ফিসফিস করে পাশের ব্যাক্তিটি বলল এরাই হল নাস্তিক কোন ধর্ম মানে না। আমি পুরোপুরি শুনতে পেয়েছি।

তার পর শুরু হল তাদের বয়ান এটা কেনো ধর্ম হল নামাজ নাই রোজা নাই এটা কিসের ধর্ম। আপনি ভুল কিছুর মধ্য দিয়ে জিবন অতিবাহিত করছেন,এখন কিছু না বুঝলেও মরার পর টের পাবেন। সব চেয়ে শান্তির ধর্ম হল ইসলাম, আল্লার মুখের বানী হল কোরান। পৃথিবীতে কোরান নাকি মহা মূল্যবান সম্পদ। তার পর বলল একটা গল্প তিনি একবার জেলে গিয়েছেন তখন একটা আমুসলিম ছেলে মুসলিম মেয়ের সাথে বিবাহ করায় ছেলেটি কে জেলে আসতে হয়েছে, তিনি তাকে কোরান পড়িয়ে বুঝিয়ে শুনিয়ে ইসলাম গ্রহন করিয়েছেন।

আমি শুধু তার কথা শুনে যাচ্ছি, তিনি বলতে লাগল ঈহুদি নাসারা বিজ্ঞানিরা নাকি রীতিমত কোরান নিয়ে রিসার্চ করে, কোরানে লেখার আলোকে নাকি সব নতুন নতুন আবিস্কার হচ্ছে। কোরানে সব কিছু উল্লেখ আছে যা পড়ে পড়ে বিজ্ঞানিরা সব কিছু আবিস্কার করছে, যদি সেটা ভুল হত তবে এত নতুন নতুন আবিস্কার কি করে হত, আপনি কোরান পড়ুন দেখবেন আল্লা আপনার প্রতি রহম করবে নতুবা জীবনে অনেক কষ্ট পেতে হবে।

আমি তাদের বলতে লাগলাম বিশ্বের যত বড় বড় বিজ্ঞানি আছে, নাসারা আছে তারা তো সকলে নাস্তিক, তারা তো কখনো কোরান বাইবেল থেকে নিয়ে কোন কিছু রিসার্চ করে নি, ইসলাম যদি শান্তির ধর্ম হয়ে থাকে তবে ইসলামি রাষ্ট্র গুলোতে এত অশান্তি বিরাজ করছে কেন?

তা ছাড়া কোরান যে শান্তির কথা বলে আর কি কি বলে তা আমি দেখতে চাই ,আপনার নিমন্ত্রন রইলো, আমরা এক সাথে বসে কোরান রিসার্চ করব আর বির্তক করব। কথাটি বলতে না বলতে রেগে গেলেন তিনি বললেন কোরান কি বিতর্ক করার বস্তু না কি? আমি নাকি তার কোরান কে অবমাননা করেছি। নাস্তিক দের সাথে কথা বলা নাকি হারাম, আল্লা অমার গুনাহ্ মাপ করুন, এই বলে আমাকে গালা গালি দিতে দিতে চলে গেলেন।

তারপর থেকে আমি চিন্তায় আছি ইসলামি মুমিন গুলো এমন হয় কি করে? ইসলাম আর কোরান এদের মাথা টা পুরো টুকু খেয়ে ফেলেছে মনে হয়। নতুন করে কি ভাবে তাদের মাথা খাটানোর ব্যাবস্থা করা যায় তা নিয়ে ভাবছি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “মুমিনের আচরন

  1. আপনার সামান্য একটু ভুল হয়ে
    আপনার সামান্য একটু ভুল হয়ে গেছে। আপনার জিজ্ঞেস করা উচিত ছিল তারা নিজেরা কখনও নিজের মাতৃভাষায় কোরান হাদিস পড়েছে কি না। আপনি নিশ্চতভাবেই উত্তর শুনতেন ,পড়ে নি।

    হ্যা এদের মাথা পুরাই খারাপ হয়ে গেছে। তার কারন অলস সৌদি পেট্র ডলার। পেট্র ডলারে কল্যানে দুনিয়াতে লাখ লাখ মসজিদ , মাদ্রাসা , ইসলামী টিভি চ্যানেল , ব্লগ, ফেসবুক গ্রুপ গড়ে উঠেছে। সেসব যায়গায় ২৪ ঘন্টাই ইসলাম , কোরান , মুহাম্মদ এসবের গুনকীর্তন করা হয়। একটা মিথ্যা কথাকে হাজারবার কানের কাছে প্রচার করলে , এক সময় সেটা সত্য মনে হয়। এইসব মুমিনের সেটাই হয়েছে।

  2. অজ্ঞ সেন্সলেস মুমিনরা এমনই হয়
    অজ্ঞ সেন্সলেস মুমিনরা এমনই হয়, যারা সত্যই কোরান রিসার্চ করে এবং তার মরমার্থ উপলব্ধি করতে পারে তারা কখনই এধরণের আচরন করবেনা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1