পৌত্তলিক হজ্জ প্রথা কিভাবে ইসলামের অংশ হয় ? পর্ব-২(কাল পাথর পুজা চালু)

হজ্জের সময় লাখ লাখ মুসল্লি কাবা ঘরের দেয়ালে রক্ষিত কাল পাথরকে চুম্বনের জন্যে উন্মাদ হয়ে যায়। কারনটাও বোধগম্য। সেটা চুম্বন বা স্পর্শ করলে নাকি সব পাপ মোচন হয়ে যায়। অথচ এটা কিন্তু মুহাম্মদেরও বহু আগ থেকেই পৌত্তলিকদের একটা আচার ছিল। তারা কাবা ঘরের কাছে এসে সেটাকে সাতবার প্রদক্ষিন করে , কাল পাথরটাকে চুম্বন করত। তারা বিশ্বাস করত তাতে তাদের সব পাপ মোচন হয়ে যায়।

মুহাম্মদ সেই পৌত্তলিক প্রথাকেই তার ইসলামে চালু করে বস্তুত: ইসলামকে ১০০% পাথরপুজার প্রথা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন কিন্তু মুমিনেরা সেটা বুঝতে পারে না।

মুহাম্মদ দাবী করছেন তিনি হলেন ইব্রাহিম , ইসহাক , মুসা , ইসা ইত্যাদির ধারায় সর্বশেষ নবী। ইব্রাহীম ইহুদি ও খৃষ্টানদেরও আদি পিতা। কাবা ঘর যদি ইব্রাহিম কর্তৃক নির্মিত হতো ,তাহলে সেটা ইহুদি ও খৃষ্টানদেরও পবিত্র গৃহ আর হজ্জও তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসাবে গৃহীত হতো। কিন্তু মক্কা মদিনা ও তার আশপাশের ইহুদি খৃষ্টানরা হজ্জ পালন করত না বা কাবা ঘরকে তাদের পবিত্র গৃহ হিসাবে গন্য করত না। তাদের পবিত্র ঘর হল জেরুজালেমে অবস্থিত সলোমনের টেম্পল। মুহাম্মদ যেহেতু আব্রাহিম ধর্মের ধারার শেষ নবী হিসাবে নিজেকে দাবী করতেন ,তাই তার ইসলাম প্রচারের প্রথম ১৫ বছরের মত তিনি নিজেও সলোমনের টেম্পলকে নিজের কিবলা হিসাবে বিবেচনা করতেন, কাবাকে নয়। কাবা যদি আদম কর্তৃক প্রথম আল্লাহর ঘর হতো , আর ইব্রাহীম যদি সেটা পূন:নির্মান করে থাকত , তাহলে ইসলাম প্রচারের প্রথম দিনেই মুহাম্মদের আল্লাহ তাকে জানিয়ে দিত যে কাবা ঘরই হলো দুনিয়ার প্রথম আল্লাহর ঘর , আর মুসলমানদের কিবলা হলো সেটাই। কিন্তু আল্লাহর ১৫ বছর সময় লেগে গেল সেটা জানাতে। কারনটাও বোধগম্য।

মুহাম্মদ মক্কায় প্রথম ১২/১৩বছর ইসলাম প্রচার করেছেন আর তখন জেরুজালেমের সলোমনের মন্দির ছিল তার কিবলা। মক্কায় বার বার ইহুদি খৃষ্টানদেরকে ইসলাম গ্রহনের আহবান করলেও তারা সেটা গ্রহন করে নি ,কারন তৌরাত ও ইঞ্জিল কিতাব অনুযায়ী, মুহাম্মদ কোনভাবেই নবী হতে পারেন না। মুহাম্মদ মদিনায় হিজরত করে , যখন একটা লুটেরা দল গঠন করে, মদিনার পাশ দিয়ে যাওয়া বানিজ্য কাফেলায় নিয়মিত আক্রমন ও লুটপাট করে কুরাইশদের বেশ দুর্বল করে ফেললেন , আর যখন তিনি নিশ্চিত হলেন যে ইহুদি ও খৃষ্টানরা কোনভাবেই তাকে নবী হিসাবে মানবে না , তখন হঠাৎ করেই তিনি জেরুজালেমের সলোমনের মন্দিরকে কিবলা বাদ দিয়ে কাবা ঘরকে কিবলা বানিয়ে ফেললেন। মুহাম্মদের সাগরেদরা সেটাই চাইত সব সময়, মুহাম্মদেরও সায় ছিল তাতে , আর তখনই মুহাম্মদের চাহিদা মোতাবেক আল্লাহ আয়াত নাজিল করে পাঠায় —

সুরা বাকারা -২:১৪৪: নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর। যারা আহলে-কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে।

উক্ত আয়াত খুব পরিস্কার ভাবেই বলছে , মুহাম্মদ বার বার আকাশের দিকে তাকান , কারনটা কি ? কারনটা হলো তিনি কাবা ঘরকে কিবলা বানাতে চান। আর সাথে সাথেই আয়াত হাজির। কি অদ্ভুত ব্যপার ? কাবা ঘর যদি দুনিয়ায় প্রথম আল্লাহর ঘর হয়, আর সেটাই যদি ইসলামের মূল কিবলা হয়, তাহলে সেটা তো আল্লাহর আগেই জানা থাকার কথা। সুতরাং মুহাম্মদের ইসলাম প্রচারের প্রথম দিনেই সেটা মুহাম্মদকে আল্লাহ জানিয়ে দেবে , কারন ইসলামের সাথে সাথে আল্লাহকে ডাকাডাকি করারও তো একটা ব্যাপার আছে আর সেটাই তো শুরু। কিন্তু মুহাম্মদ ১২/১৩ মক্কায় কাটিয়েছেন , তারপর মদিনায় গেলেন , সেখানেও প্রায় দেড় বছর অতিক্রমন হয়ে গেল, আর তখন মুহাম্মদ বার বার আকাশের দিকে তাকাচ্ছেন মক্কাকে কিবলা বানানোর আয়াত পাঠানোর জন্যে, ঠিক তখন আল্লাহ তাড়াহুড়া করে আয়াত পাঠাল। আগে এই কিবলা যে জেরুজালেমের সলোমনের মন্দির ছিল সেটাও বলা আছে কোরানে –

সুরা বাকারা – ২: ১৪২:এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান।

অর্থাৎ সলোমনের মন্দির থেকে কাবার দিকে কিবলা ফেরান হয়েছে। মদিনায় যাওয়ার কতদিন পর এটা পাল্টান হলো ? সেটা দেখা যাক হাদিস থেকে –

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৪ :: হাদিস ১০৭২
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও আবু বকর ইবন খালাদ (র)……… বারা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (সা)-এর সাথে ষোল অথবা সতের মাস বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে সালাত আদায় করেছি। অতঃপর আমাদেরকে কাবার দিকে ফিরিয়ে দেয়া হয়।

অর্থাৎ দেড় বছর পর। তার মানে মুহাম্মদ ও তার দলবল মক্কা ও মদিনা মিলিয়ে প্রায় ১৪/১৫বছর জেরুজালেমের দিকে মুখ করেই আল্লাহর আরাধনা করেছেন। কিন্তু এবার যেটা ঘটল সেটা হলো বিস্ময়কর। এটা সবাই জানে যে , মদিনায় যাওয়ার পর অষ্টম/নবম বছরে মুহাম্মদ মক্কা দখল করে অত:পর কাবা ঘর থেকে ৩৬০টা দেব দেবীর মূর্তিকে বের করে দেন। শুধুমাত্র কাল পাথরটাকে রেখে দেন। কিন্তু মাঝের এই সাড়ে ছয় বা সাত বছর পর্যন্ত মুহাম্মদ ও তার দলবল মূর্তি ভর্তি কাবা ঘরের দিকে মুখ করেই নামাজ আদায় করেছেন। এমন কি এই সময় মদিনা থেকে মুহাম্মদ মাঝে মাঝে হজ্জ করতে যেতেন মক্কায় তার লোকজন সহ , তখনও তারা সেই মূর্তি ভর্তি কাবা ঘরের সামনে গিয়ে নামাজ পড়েছেন ও সিজদা দিয়েছেন। কারন তখন তো কাবা ঘর কুরাইশদের দখলে ছিল। অর্থাৎ এই ছয় সাত বছর কাল মুহাম্মদ ও তার দলবল নামাজ বা সিজদা করার সময় বাস্তবে সেই দেব দেবী ও কাল পাথরের সামনেই মাথা নত করেছেন। মুহাম্মদ কিভাবে দেব দেবী ও কাল পাথরের সামনে মাথা নত করতে পারলেন ?

কিন্তু মুমিনেরা এসব জানে না। জানার দরকার বোধ করে না। কেউ যদি জানাতে যায় , তো সাথে সাথে চাপাতির কোপে তার মাথাটা ধড় থেকে আলাদা করে দেয়।

মক্কা দখলের পর মুহাম্মদ ৩৬০টা মূর্তি কাবা ঘর থেকে বের করে দেন কিন্তু কাল পাথরটা রেখে দেন। কি কারনে ? কারন তিনি পৌত্তলিকদের মতই বিশ্বাস করতেন , সেই কাল পাথর মানুষের পাপ মোচন করে। তাই তিনি যখনই কাবা ঘরে যেতেন তখন সযতনে নিজের পাপ মুক্ত হওয়ার জন্যে সেই কাল পাথরকে চুম্বন করতেন। সেটা দেখা যাক হাদিস থেকে –

সহিহ বুখারী :: খন্ড ২ :: অধ্যায় ২৬ :: হাদিস ৬৭৩
আসবাগ (র)… ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে মক্কায় উপনীত হয়ে তাওয়াফের শুরুতে হাজরে আসওয়াদ ইস্তিলাম (চম্বুন ,স্পর্শ) করতে এবং সাত চক্করের মধ্যে প্রথম তিন চক্করে রমল করতে দেখেছি।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ২ :: অধ্যায় ২৬ :: হাদিস ৬৮০
মুসাদ্দাদ (র)… যুবাইর ইবন ‘আরাবী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি হজরে আসওয়াদ সম্পর্কে ইবন ‘উমর (রা)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে তা স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি। সে ব্যক্তি বলল, যদি ভীড়ে আটকে যাই বা অপারগ হই তাহলে (চুম্বন করা, না করা সম্পর্কে) আপনার অভিমত কি? তিনি বললেন, আপনার অভিমত কি? এ কথাটি ইয়ামনে রেখে দাও। আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে তা স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি। মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ ফেরেবরী (র) বলেন, আমি আবূ জা’ফর (র)-এর কিতাবে পেয়েছি তিনি বললেন, আবূ ‘আবদুল্লাহ যুবাইর ইবন ‘আদী (র) তিনি হলেন কূফী আর যুবাইর ইবন ‘আরাবী (র) তিনি হলেন বসরী।

কি কারনে তিনি সেই কাল পাথরকে চুম্বন করতেন ? সেটা দেখা যাবে নিচের হাদিসে –

তিরমিজি , হাদিস -৮৭৭: ইবনে আব্বাস বর্নিত, নবী বলেছেন , হজরে আসওয়াদ(কাল পাথর) যখন বেহেস্ত থেকে পতিত হয় তখন তা দুধের চাইতেও সাদা ছিল। মানুষের পাপ মোচনের ফলে সে কাল হয়ে গেছে।

তিরমিজি, হাদিস -৯৫৯: ওমর বর্নিত , আমি নবীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন , হজরে আসওয়াদ( কাল পাথর )ও রুক ইয়ামানী উভয়কে স্পর্শ করলে মানুষের পাপ মোচন হয়।

মানুষের পাপ মোচন করার ক্ষমতা একমাত্র কার ? আল্লাহরই একমাত্র সেই ক্ষমতা বিদ্যমান। কিন্তু মুহাম্মদ বলছেন কাল পাথরেরও সেই ক্ষমতা বিদ্যমান। তার মানে বস্তুত: কাল পাথরটা হয় স্বয়ং আল্লাহ না হয়, আল্লাহর সমতূল্য কিছু। ঠিক সেই কারনে , মুহাম্মদ কাল পাথরকে চিরকালের জন্যে কাবা ঘরে রেখে দেন যাতে তার উম্মতরা সেটা চুম্বন বা স্পর্শ করে পাপমুক্ত হতে পারে। কিন্তু উম্মতরা মুখে বলে তারা আল্লাহ পুজারি , কিন্তু বাস্তবে তাদের আচরন দেখাচ্ছে তারা পাথর পুজারি , মুহাম্মদ খুব কায়দা করে সেটাই শিখিয়ে গেছেন। বর্তমানে কিছু শিক্ষিত ও চতুর মুমিন দাবী করে , তারা পাথর পুজা করে না , আর পাথরের কোন গুনও নেই , সেটা তারা দাবি করে নিচের হাদিস দিয়ে –

সহিহ বুখারী :: খন্ড ২ :: অধ্যায় ২৬ :: হাদিস ৬৬৭
মুহাম্মদ ইবনে কাসীর (র)… ‘উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে এসে তা চুম্বন করে বললেন, আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি একখানা পাথর মাত্র, তুমি কারো কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে কখনো আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না।

সহিহ বুখারী :: খন্ড ২ :: অধ্যায় ২৬ :: হাদিস ৬৭৫:
সা’ঈদ ইবন আবূ মারয়াম (র)… ‘আবদুল্লাহ ইবন ‘উমর (রা) থেকে বর্ণিত যে, ‘উমর ইবন খাত্তাব (রা) হাজরে আসওয়াদকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে! আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চিতরুপে জানি তুমি একটি পাথর, তুমি কারও কল্যাণ বা অকল্যাণ করতে পার না। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখলে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না। এরপর তিনি চুম্বন করলেন। পরে বললেন, আমাদের রমল করার উদ্দেশ্য কি ছিল? আমরা তো রমল করে মুশরিকদেরকে আমাদের শক্তি প্রদর্শন করেছিলাম। আল্লাহ এখন তাদের ধ্বংস করে দিয়েছেন। এরপর বললেন, যেহেতু এই (রমল) কাজটি রাসূলুল্লাহ (সঃ) করেছেন, তাই তা পরিত্যাগ করা পছন্দ করি না।

ওমর বলছে , কাল পাথরের নাকি ভাল বা মন্দ করার কোন ক্ষমতা নেই। প্রশ্ন হলো – ইসলামের নবী কে? মুহাম্মদ, নাকি ওমর? কার কথা বা বিধান ইসলামের বিধান ?মুহাম্মদের কথা বা বিধান, নাকি ওমরের ? আর কে ইসলাম সবচাইতে বেশী জানে ? মুহাম্মদ, নাকি ওমর ? কার কথা ইসলামের চুড়ান্ত কথা ? মুহাম্মদের, নাকি ওমরের ? সুতরাং ওমর বললেই সেটা ইসলামের বিধান হবে না যেখানে একই বিষয়ে মুহাম্মদের বিধান আছে। ঠিক সেই কারনেই , ওমর না চাইলেও শেষে মুহাম্মদের বিধান অর্থাৎ কাল পাথরকে চুম্বন করতে বাধ্য হয়েছে ওমর। সুতরাং এখানে ওমরের বিধান তো মুহাম্মদের বিধান খন্ডাতে পারে না।

মুহাম্মদ খুব সুচতুরভাবে কাল পাথরটাকেই আল্লাহর প্রতিরূপ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে সেটা কাবা ঘরে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। সারা দুনিয়ার মুসল্লিরা সেই কাবা ঘরের দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে , সিজদা দেয়। প্রশ্ন হলো : কাবা ঘরের মধ্যে কি আল্লাহ থাকে ? উত্তর সোজা ,সেটা হলো – আল্লাহ থাকে সাত আসমানের ওপর তার আরশে।

সুরা সেজদাহ- ৩২: ৪: আল্লাহ যিনি নভোমন্ডল, ভুমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশে বিরাজমান হয়েছেন। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক ও সুপারিশকারী নেই। এরপরও কি তোমরা বুঝবে না?

অর্থাৎ আল্লাহ সাত আসমানের ওপর তার আরশে বসে আছে। কাবা ঘরের মধ্যে আল্লাহ না থাকলে , কাবা ঘরের কাছে সিজদা দেওয়ার অর্থ কি হবে ?

কাবা ঘরে আছে হজরে আসওয়াদ বা সেই কাল পাথর , যার আছে পাপ মোচনের ক্ষমতা, অর্থাৎ প্রকারান্তরে যাকে মুহাম্মদ আল্লাহর প্রতিরূপ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন , কাবা ঘরে সিজদা দেয়ার অর্থ হলো সেই কাল পাথরের কাছেই সিজদা দেয়া। যে নাকি পাপ মোচনের ক্ষমতা রাখে ,মানুষ তার কাছেই তো সিজদা দেবে। কাল পাথরের আছে সেই ক্ষমতা , তাই নামাজের নামে মুসল্লিরা সেই কাল পাথরের কাছেই সিজদা দেয়, কিন্তু সেটা তারা আসলে জানে না। কাবা ঘরের কাছে বা দুর থেকে যারা নামাজ পড়ে কাবা ঘরের দিকে মুখ করে , তারা মনে করে তারা আল্লাহর কাছেই সিজদা দিচ্ছে , কিন্তু বাস্তবে তারা সিজদা দিচ্ছে কাবার কাল পাথরের কাছেই। এটাই হলো মুহাম্মদের সাফল্য। তিনি বস্তুত: পাথর পুজা চালু করে গেছেন ইসলামের নামে , কিন্তু দুনিয়ার একটা মুমিনও সেটা উপলব্ধি করতে পারছে না।

বাস্তবে মুমিনদের কাল পাথরের প্রতি কি সীমাহীন আকর্ষন , সেটা বোঝা যায়, হজ্জের সময় সেই পাথরকে চুম্বন করার প্রান পন চেষ্টা থেকে। উপরে উপরে যতই বলুক না কেন ,তারা পাথর পুজা করে না , বা পাথরের কোনই গুন নেই , কিন্তু কাবার সামনে গেলে তারা সবাই উন্মাদ হয়ে যায় পাথরকে স্পর্শ বা চুম্বন করার জন্যে।পাথর স্পর্শ করার সময়কার উন্মাদনায় এ পর্যন্ত কত হাজার মানুষ যে পদপিষ্ট হয়ে মারা গেছে , তার কোন ইয়ত্বা নেই ,কিন্তু তারপরেও তাদের পাথর স্পর্শ করা চাই , কিন্তু জিজ্ঞেস করলে মুখে বলবে – কাল পাথরের কি কোন গুন আছে নাকি ? তারা কি কাল পাথর পুজা করে নাকি ?

এটাই মুহাম্মদের বিস্ময়কর সাফল্য যে , তিনি ইসলামের নামে বস্তুত: পাথর পুজার প্রতিষ্ঠা করে গেছেন , কিন্তু দুনিয়ার একটা মুমিনও সেটা গত ১৪০০ বছর ধরে টের পায় নি।

পৌত্তলিক প্রথা হজ্জ কিভাবে ইসলামের অংশ হয় ?পর্ব-১(সাফা ও মারওয়া পাহাড় তাওয়াফ)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “পৌত্তলিক হজ্জ প্রথা কিভাবে ইসলামের অংশ হয় ? পর্ব-২(কাল পাথর পুজা চালু)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 71 = 74