রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বনাম সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলন

২০১৩র সেপ্টেম্বরে সুন্দরবন লংমার্চে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিলো, কখনো হয়তো সেই স্মৃতিচারণ করা যাবে। এবার যেতে পারলাম না আম্মার অসুস্থতার কারণে। মার্চ ১০ ২০১৬ থেকে শুরু হওয়া জাতীয় কমিটির চারদিন ব্যাপী জনযাত্রার সহযোদ্ধাদের সাথে হৃদয় থেকে সংহতি প্রকাশ করছি। ঘরে বসে সর্বোচ্চ যেটা করতে পারি আমি, সুন্দরবন নিয়ে সরকার আসলে কি করছে, সে সম্পর্কে যাঁদের এখনো সুস্পষ্ট কোনো ধারণা নেই অথবা সরকারি অপপ্রচারে যাঁরা বিভ্রান্ত হয়ে আছেন তাঁদের জ্ঞাতার্থে কিছু লিখতে পারি।

২৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬তে জাতীয় কমিটি প্রকাশিত প্রচারণাপত্র ((http://ncbd.org/wp-content/uploads/2016/03/National-committee-Booklet-March-2016-Final.pdf) থেকে তথ্য নিয়ে লেখাটি তৈরি করছি। অনুগ্রহপূর্বক লেখাটি পড়ুন। আমি ‘নিরপেক্ষ’ নই, জনগণের মুক্তির পক্ষে, তাই আমার কাছ থেকে অনুগ্রহপূর্বক কেউ কথিত ‘নিরপেক্ষতা’ আশা করবেন না।

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল প্রতিষ্ঠান ভারতের এনটিপিসি, বাংলাদেশের পিডিবির সাথে মিলে, ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী বিদ্যুৎ কোম্পানি’ বানানো হয়েছে। ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা। প্রকল্পের জন্য ২৭ ডিসেম্বর ২০১০এ ১৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করার আদেশ জারি করা হয় এবং বিপিডিবি ও এনটিপিসির মধ্যে জয়েন্ট ভেঞ্চার চুক্তি সাক্ষরিত হয় ২৯ জানুয়ারি ২০১২তে। পরিবেশ সমীক্ষা অনুমোদন পায় ৫ আগস্ট ২০১৩তে। ১২ এপ্রিল ২০১৫তে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের টেন্ডার আহবান করা হয়, মনোনীত হয়, ভেল। এই ভেল হচ্ছে ভারতের হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড। প্রাথমিক তথ্য এটুকু।

নির্মাণ পর্যায়ে কি কি ক্ষতিকর প্রভাব আছে?

– বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের মালামাল ও যন্ত্রপাতি পরিবহনের ফলে বাড়তি নৌযান চলাচল, তেল নিঃসরণ, শব্দ দূষণ, আলো, বর্জ্য নিঃসরণ ইত্যাদি।
– প্রকল্পের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, যানবাহন, জেনারেটর, বার্জ ইত্যাদি থেকে ক্ষতিকর সালফার ও নাইট্রোজেন নিঃসরণ।
– কঠিন ও তরল বর্জ্য নির্গত হয়ে নদী, খাল দূষণ।
– বালি ভরাটের সময় এবং ভরাট করা জমি থেকে বাতাসে ধুলার মাত্রা বৃদ্ধি।
– ড্রেজিং এর ফলে নদীর পানি ঘোলা হওয়া এবং তেল, গ্রীজ ইত্যাদি নিঃসৃত হয়ে নদীর পানি দূষণ।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু থাকা অবস্থায় ক্ষতি কি?

– মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ফায়েত্তি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বছরে ৩০ হাজার টন সালফার ডাই অক্সাইড নির্গত হত। এতে টেক্সাসের হাইওয়ে ২১এর ৪৮ কিমি এলাকা জুড়ে গাছ ধ্বংস হয়ে গেছে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বছরে ৫২ হাজার টন সালফার ডাই অক্সাইড নির্গত হবে।
– পশুর নদী থেকে প্রতি ঘন্টায় ৯১৫০ ঘনমিটার হারে পানি প্রত্যাহার এবং ৫১৫০ ঘনমিটার হারে আবার নদীতে ফেরত যাবে। পানি দূষণ ও পানির লবনাক্ততা বাড়বে, নদীর পলি প্রবাহ, প্লাবন, জোয়ার ভাটায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নদীসংশ্লিষ্ট ইকো সিস্টেমের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।
– পশুর নদীর তীরে ২৫ একর আকৃতির ছাইয়ের পুকুর একটা খুব বড়ো আশঙ্কার কারণ। ডিসেম্বর ২০০৮এ কিংস্টন ফসিল ফুয়েল প্ল্যান্ট থেকে ৪২ লক্ষ ঘনমিটার ফ্লাই অ্যাশ স্লারি এমোরি ও ক্লিনচ নদীতে ছড়িয়ে পড়ে। ফেব্রুয়ারি ২০১২তে ডিউক এনার্জির কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাইয়ের পুকুর থেকে ৫০-৮২ হাজার টন ছাই ও ২ কোটি ৭০ লক্ষ গ্যালন দূষিত পানি নর্থ ক্যারোলিনার ড্যান নদীতে ছড়িয়ে পড়ে।
– কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি থেকে এবং কয়লা পরিবহন ও জাহাজ থেকে কয়লা উঠানো-নামানোর কারণে যে শব্দ দূষণ হবে তাতে সুন্দরবনের জীবজন্তুর বাসযোগ্যতা বিনষ্ট হবে।
– বছরে ৪৭ লক্ষ টন কয়লা পুড়িয়ে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টন ফ্লাই অ্যাশ ও ২ লক্ষ টন বটম অ্যাশ উৎপাদন করা হবে, ছাইয়ে থাকা বিভিন্ন ভারী ধাতু বায়ু দূষণ ঘটাবে, যা পশুপাখির জীবন বিপন্ন করবে, বিষাক্ত ছাই মাটিচাপা দেয়ার কারণে ভূমি উর্বরতা হারাবে, পানি দূষিত হবে, পরিশেষে, বন ধবংস হবে।
– জাহাজের কয়লাস্তূপ থেকে চুইয়ে পড়া কয়লা-ধোঁয়া বিষাক্ত পানি, জাহাজ চলাচলের শব্দ, ঢেউ, জাহাজ-নিঃসৃত তেল-আবর্জনা, কয়লার গুঁড়া, বনের ভেতরে জাহাজের তীব্র সার্চলাইটের আলো, জাহাজের ইঞ্জিন থেকে নিঃসৃত বিষাক্ত সালফার ও নাইট্রোজেন গ্যাস ইত্যাদির ক্ষতিকর প্রভাব অবর্ণনীয়।
– কয়লার জাহাজ ডুবির ফলে কি ধরণের ক্ষতি হতে পারে তা কল্পনা করাও কঠিন।

সরকারের পরিবেশ সমীক্ষা অনুসারে সুন্দরবন থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূরত্ব ১৪ কিমি, অথচ খোদ ভারতের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ইআইএ গাইড লাইন ২০১০ অনুসারে, নগর,জাতীয় উদ্যান, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পরিবেশগত স্পর্শকাতর এলাকার ২৫ কিমির মধ্যে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। সুন্দরবনের ১২ কিমির মধ্যে ২০০ একর জমিতে ৫৬৫ মেগাওয়াটের আরেকটা কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানাতে যাচ্ছে ওরিয়ন, এবং এই দ্বিতীয় প্রকল্পটির ক্ষেত্রে, কোনো পরিবেশ সমীক্ষাই করা হয় নাই! রামপাল ও ওরিয়ন কয়লা বিদ্যু কেন্দ্র সম্মিলিতভাবে বছরে ৭৪ হাজার টন সালফার ডাই অক্সাইড, ৪৪ হাজার টন নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, ৮৪২ পাউন্ড আর্সেনিক, ৪২৮ পাউন্ড সীসা, ১১ লক্ষ টন ফ্লাই অ্যাশ, এবং, ৩ লক্ষ টন বটম অ্যাশ তৈরি করবে। সুন্দরবনের ১৪ ও ১২ কিমি এলাকার মধ্যে। কল্পনার চোখে সেই সুন্দরবনটা দ্যাখার চেষ্টা করেন। যে বিপদ আসতে যাচ্ছে, তার কিছু আলামত, আমরা ইতোমধ্যতেই এই ঘটনাগুলোতে দেখতে পেয়েছিঃ

– ৯ ডিসেম্বর ২০১৪ঃ সুন্দরবনের শেলা নদীতে তেলের ট্যাংকার ডুবি
– ৩ মে ২০১৫ঃ সুন্দরবনের ভোলা অদে সার বোঝাই জাহাজডুবি
– ২৭ অক্টোবর ২০১৫ঃ সুন্দরবনের পশুর নদে ৫১০ টন কয়লা বোঝাই কার্গো ডুবি।

প্রতিটি ঘটনায় তেল/সার/কয়লা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, এবং ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধারে মারাত্মক অবহেলা-সমন্বয়হীনতা দ্যাখা গেছে। স্থানীয় জনগণ নিজেরা যতোটা পেরেছে ক্ষতি কমিয়েছে। সরকারের, বলাই বাহুল্য, এসব নিয়ে মাথাব্যথা নাই। সুন্দরবনে নানাবিধ ‘উন্নয়ন’ প্রকল্পের হিড়িক পড়ে গেছে। তার চারপাশের জমি দখল করা বৃদ্ধি পেয়েছে। দখলকৃত জমিতে জাহাজ ভাঙা শিল্প, এলপিজি প্ল্যান্ট, আরএমজিসহ নানাবিধ শিল্পের পরিকল্পনা দ্যাখা যাচ্ছে। অর্থাৎ সুন্দরবনকে ধবংস করার প্রকল্প জোরেশোরেই চলছে।

সরকার ‘বন্ধুরাষ্ট্রকে’ তুষ্ট করতে মরিয়া হয়ে গেছে। তাই কারো আপত্তিতেই সে কান দিচ্ছে না। এর তিনটি নজির সংক্ষেপে পেশ করা যাক। ইউনেস্কো রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারকে প্রথম চিঠি দেয় ২২ মে ২০১৩তে, একই বছরের ১২ ডিসেম্বর রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবেশ সমীক্ষার রিপোর্টের ত্রুটি বিচ্যুতি ও অসম্পূর্ণতা উল্লেখ করে আরেকটা চিঠি দেয়, এবং ওরিয়ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে চিঠি দেয় ১১ এপ্রিল ২০১৪তে। জলাভূমি সংরক্ষণ বিষয়ক রামসার কনভেনশনের সচিবালয় থেকে ২২ জুন ২০১১ তারিখে বাংলাদেশের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় বরাবর একটি চিঠি প্রেরণ করা হয়। এই চিঠিতে সুন্দরবনের পাশে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্টে কয়লা লোড আনলোড, এবং সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীমার মধ্যে শিপইয়ার্ড ও সাইলো নির্মাণের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। প্রধান বন সংরক্ষক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমদ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১১তে সরকারকে একটি চিঠি দেন, যাতে তিনি সরকারকে অনুরোধ করেন, রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ সমস্ত জীববৈচিত্র্যকে বিপন্ন করা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্তটি পুনঃবিবেচনা করার জন্য। সরকার এসব চিঠির উদ্বেগ-জবাবদিহি আমলে নেয় নাই। নেয়ার কথা না। ‘বন্ধুরাষ্ট্রের’ সন্তুষ্টিকামনায় সুন্দরবনকে তারা কুরবানি করে দেবে। সুন্দরবন বাংলাদেশের ফুসফুস। ফুসফুস অকার্যকর হয়ে গেলে মানুষ বাঁচে না। বাংলাদেশ কিভাবে বাঁচবে?

বিদ্যুৎ আমাদের প্রয়োজন। প্রাণ-প্রকৃতি বিপন্ন না করে এবং ঋণ-দুর্নীতির পথ পরিহার করে ঝুঁকিহীনভাবে ও স্বল্পখরচে বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের ৭ দফা দাবি তুলেছে জাতীয় কমিটি। এগুলো হচ্ছে সুন্দরবনবিনাশী বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সকল অপতৎপরতা বন্ধ করা, সর্বজনের সম্পদে শতভাগ জাতীয় মালিকানা নিশ্চিত করে শতভাগ সম্পদ দেশের কাজে ব্যবহার করা, দুর্নীতি করবার দায়মুক্তি আইন বাতিল করে খনিজসম্পদ রফতানি নিষিদ্ধকরণ আইন প্রণয়ন করা, পিএসসি প্রক্রিয়া বাতিল করে স্থলভাগে ও সমুদ্রে নতুন নতুন গ্যাস-ক্ষেত্র অনুসন্ধানে জাতীয় সংস্থাকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-ক্ষমতা-বরাদ্দ দেয়া, দরকার পড়লে সাবকনট্রাক্টর নিয়োগ করা, রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট চালু-মেরামত-নবায়ন, শেভ্রণ ও নাইকোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণবাবদ ৫০ হাজার কোটি টাকা আদায় কতে তা খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান, উত্তোলন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পদ বিকাশে জাতীয় সংস্থার কার্যক্রম এবং বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপনে ব্যয় করা, এশিয়া এনার্জিকে (নতুন নাম জিসিএম) দেশ থেকে বিতাড়িত করা এবং উন্মুক্ত খনন পদ্ধতি নিষিদ্ধ করে ফুলবাড়ি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করা, জাতীয় সম্পদের ওপর জাতীয় কর্তৃত্ব নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় সক্ষমতার বিকাশ, পরিবেশ ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পদের সর্বোত্তম মিশ্রণ ঘটিয়ে একটি জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করে তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্মাণ করা এবং জনশক্তি তৈরির কাজ শুরু, জনবিধবংসী পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দেয়া। এসব কিছুই আমি এই ফ্যাশিস্ত, লুঠেরা, গণবিরোধী শাসকগোষ্ঠীর কাছ থেকে আশা করি না। একমাত্র একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও মানবিক সমাজই পারে জাতীয় কমিটির এই ৭ দফা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে। সুন্দরবন রক্ষার লড়াই সেই বৃহত্তর লড়াইয়ের অংশ।
_____________________________________

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প, সুন্দরবন রক্ষার জনযাত্রা, সর্বোপরি ফড়িয়া উন্নয়ন নিয়ে আরো জানতে চান? নিচে কিছু লেখার লিংক দিয়ে দেয়া হল। এই প্রতিবেদন/লেখাপত্র/ভিডিও লিংকগুলো জোগাড় করে দিয়েছেন কামরুস সালাম সংসদ, তাহসিন মাহমুদ, নাসরিন খন্দকার লাবণী, সায়মা আমান, নাদিয়া ইসলাম এবং রাজশাহিয়াস সাগল; তাঁদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

http://www.theguardian.com/environment/2016/mar/02/thousands-to-march-protest-coal-plant-threat-bangladeshs-sundarbans-forest
http://www.dhakatribune.com/bangladesh/2016/mar/10/mass-procession-rampal-plant-begins

এই নিরাপত্তাবলয় কী যথেষ্ট নয়?



http://www.thedailystar.net/­op-ed/politics/­save-the-sundarbans-v­s-how-save-the-sunda­rbans-789316?utm_cam­paign=shareaholic&ut­m_medium=facebook&ut­m_source=socialnetwo­rk
http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/795193/সুন্দরবন-অভিমুখী-জনযাত্রা-শুরু
http://www.bonikbarta.com/2016-03-12/news/details/69103.html

Rampal and the seductive power of feel good development

Posted by Kallol Mustafa on Tuesday, March 8, 2016

https://www.facebook.com/­notes/mahbub-rashid/­রামপাল-বিদ্যুতকেন্দ্র­ের-লাভ-ক্ষতি/­10152103966350828

http://opinion.bdnews24.com/­2013/09/19/­rampal-power-plant-a-­project-of-deception­-and-mass-destructio­n/
http://earthjustice.org/­blog/2016-february/­coal-plants-threaten-­tigers-dolphins-and-­people
http://www.climatechangenews.com/2015/06/08/­india-pm-modi-endorse­s-controversial-sund­arbans-coal-plant/
http://e360.yale.edu/­feature/­a_key_mangrove_forest­_faces_major_threat_­from_a_coal_plant/­2704/
https://www.change.org/p/­government-of-banglad­esh-unesco-no-coal-p­ower-plant-at-the-co­st-of-the-sundarbans
http://endcoal.org/­2014/12/­sundarbans-oil-spill-­shows-why-bangladesh­s-rampal-coal-plant-­is-a-bad-idea/
http://www.dailymail.co.uk/­wires/afp/­article-3485682/­Long-march-Bangladesh­-against-Sundarbans-­power-plant.html
http://news.mongabay.com/­2016/02/­bangladesh-sticks-wit­h-coal-power-plant-p­roject-despite-major­-backlash/
http://www.climatechangenews.com/2015/11/03/­bangladeshi-protest-i­ntensifies-against-r­ampal-coal-plant/
https://ejatlas.org/­conflict/­rampal-thermal-power-­plant-rampal-banglad­esh –
http://www.theecologist.org/­News/news_analysis/­2986635/­coal_plant_threatens_­worlds_largest_mangr­ove_forest_and_bangl­adeshs_future.html
http://bagerhatsociety.com/­apanel/admin/­download/­tdwn2573136.pdf
http://www.banktrack.org/­ems_files/download/­rampal_equator_princi­ples_full_analysis_p­df/­rampal_equator_princi­ples_full_analysis.p­df
http://www.eoearth.org/view/­article/156336
http://newagebd.net/212044/indian-green-activists-throw-weight-behind-resistance-to-rampal/

“জনযাত্রা থেকে আমরা দাবি জানাচ্ছি, আগামী ১৫ই মে’র মধ্যে রামপাল-ওরিয়ন সহ সুন্দরবন বিধ্বংসী প্রকল্প বাতিল করতে হবে। প্রয়োজনে এই সময়ের মধ্যে প্রকাশ্য আলোচনা বা বিতর্কে আসার জন্য আমরা আহবান জানাচ্ছি। সরকার যদি এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য মহাবিপর্যয়ের প্রকল্প বাতিল করতে ব্যর্থ হয় তাহলে আমরা দেশের সকল পর্যায়ের মানুষকে সাথে নিয়ে ঢাকামুখি লংমার্চ, অবস্থান কর্মসূচী, ঘেরাও, হরতাল, অবরোধসহ আন্দোলনের বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো।’’ – সুন্দরবন ঘোষণা ২০১৬ থেকে

আক্রান্ত হলে সুন্দরবন, জবাব দেবে জনগণ!

১২.০৩.২০১৬

সরকার, বলাই বাহুল্য, প্রকল্প বাতিল করে নি। জুলাই মাসে রামপাল চুক্তি সই হয়ে গেছে। জাতীয় কমিটির তার প্রস্তাবিত ৭ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ২৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে একটি বিক্ষোভ মিছিল ডেকেছিলো। পুলিশ সেই মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে, টিয়ার শেল ছুঁড়েছে, আহত হয়েছেন আনু মুহাম্মদসহ অর্ধশতাধিক। তৃষা বড়ুয়া (অ্যাকটিভিস্ট) মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে গেছিলেন। গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বিভিন্ন সমাজপরিবর্তনকামী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। সুন্দরবনকে ভালবাসার অপরাধে।

কিন্তু মানুষকে দাবিয়ে রাখা এতো সোজা না।

বাগেরহাটের ছেলে অনুপম দেবাশীষ রায়, উচ্চতর অধ্যয়নজনিত কারণে এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আছে, সুন্দরবনের পক্ষে একটা ভিডিও বানিয়েছে।

১ আগস্টে ফেসবুকে দেয়া ভিডিওটা এখন পর্যন্ত ২,৭০০০০ বার দেখা হয়েছে, আর শেয়ার করা হয়েছে ৯০০০বারেরও বেশি।

আপনার জীবন থেকে মাত্র ১১ মিনিট ২১ সেকেন্ড বের করে পুরো বিষয়টা বুঝতে ক্লিক করুন এই লিংকেঃ https://www.facebook.com/ADR1971/posts/1363582246992496

২৮ তারিখে জাতীয় কমিটির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের আক্রমণের প্রতিবাদ করে সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনের পক্ষে চিঠি লিখে সংহতি জানিয়েছে ভারতের ৪৫টি সংগঠন।

সেই চিঠির লিংকঃ
Indian Peoples Movements and Civil Society Groups condemn the attack on Save-Sundarbans protesters

দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের অনির্বাচিত সরকার আর ভারতের শাসকগোষ্ঠী ও তাদের ভাড়া খাটা কথিত ‘গবেষক’ ও ‘বিশেষজ্ঞরা’ ছাড়া আর কেউ সুন্দরবন ধবংস করে কয়লা বিদ্যুকেন্দ্র করার পক্ষে নেই। ভারতের গণতন্ত্রপরায়ণ জনগণের সংহতি-সমর্থন-সহমর্মিতা আমাদের মুগ্ধ করে, আমাদের প্রেরণা যোগায়, স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহসী করে। তাই তাঁদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। সুন্দরবন মহাপৃথিবীর সম্পদ। তাই তা রক্ষার দায়িত্বও আমাদের সকলের, আমরা মহাপৃথিবীর মানুষেরা, সুন্দরবন ধবংস করে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র হতে দেবো না। বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প আছে, সুন্দরবনের বিকল্প নাই। সরকারের বিকল্প আছে, সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নাই।

যে কোনো মূল্যে রামপাল বিদ্যুকেন্দ্র ঠেকাতে হবে।

যে কোনো মূল্যে।

০৫.০৮.২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

28 + = 30