আপনি কি জানেন, আপনার সন্তানকে আপনি নিজেই জঙ্গি বানিয়েছেন?- পর্ব-১(জঙ্গিবাদের হাতে খড়ি)

আপনার শান্ত শিষ্ট সন্তানটা যখন জঙ্গি হামলা করতে গিয়ে নিহত হচ্ছে বা ধরা পড়ছে , আপনার মাথায় তখন আকাশ ভেঙ্গে পড়ছে। আপনি বুঝতে পারছেন না কিভাবে শান্ত শিষ্ট ছেলেটা জঙ্গি হয়ে গেল। পাড়ার লোকজনও একই কথা বলে। অর্থাৎ আপনি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না যে আপনার ছেলে জঙ্গি হয়ে গেছে।

দৃশ্যত: কোন কারন খুজে না পেয়ে সব দোষ চাপাচ্ছেন ইহুদি নাসারাদের ওপর। কিন্তু আপনি কি জানেন , আপনার ছেলেকে আপনি নিজেই জঙ্গি বানিয়েছেন ? আর সেটা বানিয়েছেন তার শৈশবেই , কিন্তু আপনি সেটা টের পান নি।

স্মরন করুন তো , আপনার ছেলের শৈশবে যখন প্রথম কথা ফোটে, তখন আপনি তাকে প্রথম কি শিখিয়েছিলেন ? কি দিয়ে তার লেখাপড়া শুরু করিয়েছিলেন ? মনে পড়ে কিছু ?

আপনি তাকে প্রথম আল্লাহ ও মুহাম্মদের নাম শিখিয়েছিলেন। তারপর আরবী ও কোরান খতমের জন্যে তাকে পাঠিয়েছিলেন পাশেরই কোন মসজিদে। সেখানে সে শৈশবের প্রথমেই শিখেছিল –

মুহাম্মদ হলো দুনিয়ার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট আদর্শ মানুষ, যাকে সকলের অনুসরন করা উচিত। ইসলাম হলো একমাত্র সত্য ধর্ম বাকি সব ভুয়া। মুসলমানরা হলো শ্রেষ্ট মানুষ, ভিন্ন ধর্মী মানুষরা সবাই নিকৃষ্ট প্রানীর(কুকুর ও শুকর) মত। একমাত্র মুসলমানরাই বেহেস্ত নামক কল্পিত রাজ্যে যাবে , বাকী সবাই যাবে দোজখে , সেখানে তারা আগুনে পুড়বে অনন্তকাল।

একটা শিশুর প্রথম শিক্ষাটাই যদি শুরু হয় ঘৃণার মাধ্যমে , তাহলে তার বাকী জীবনটা কি রকম হতে পারে ? এরপর এই শিশু যদি ভবিষ্যতে উদার ও ভাল মানুষ হয়, তো বুঝতে হবে , সেটাই আশ্চর্য ঘটনা। অত:পর এই শিশুকে আপনি যতই ইংরেজী মাধ্যমে স্কুল বা কলেজে পড়ান না কেন ,শৈশবের সেই ঘৃনার শিক্ষা কোনদিনই তার মাথা থেকে যায় না। বরং সেটা দিন দিন বৃদ্ধিই পেতে থাকে।কারন অত:পর যতই সে বড় হতে থাকে ,ততই সে ওয়াজ শোনে , ইসলামী পন্ডিতদের বয়ান শোনে , ডজন ডজন ইসলামী টিভি চ্যানেলে ইসলামের পক্ষে রাত দিন চব্বিশ ঘন্টা ভাল ভাল কথা শোনে , যার অধিকাংশ জুড়েই থাকে ভিন্ন ধর্মী মানুষের প্রতি ঘৃনা। বিপরীতে সে ইসলামের বিরুদ্ধে কোন যুক্তিই শুনতে পায় না , কারন সেসব প্রচার সকল মাধ্যমেই নিষিদ্ধ, যারাও বা ব্লগ ফেসবুকে সীমিত আকারে প্রচার করে , তাদেরকে ধরে ধরে সহিহ মুমিনেরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

কিন্তু শিক্ষার কি এখানেই শেষ? এরপর আপনার সন্তান যখন বড় হয়, তখন সে নানা রকম মানুষের সংস্পর্শে আসে। দুনিয়া ব্যাপী বা অন্তত: দেশের মধ্যে যারা ইসলামী শাসন কায়েম করতে চায়, তারা তো তক্কে তক্কে থাকে। আর মসজিদ হচ্ছে তাদের জন্যে আদর্শ স্থান। স্কুল , কলেজ , বিশ্ববিদ্যালয় সর্বত্রই , ক্লাস করার জন্যে যদি পর্যাপ্ত জায়গা না থাকে , তো নামাজ পড়ার জন্যে যায়গার অভাব নেই। নামাজ পড়তে গেলেই ইসলামী হুকুমত কায়েমকারীরা তাদের পিছে লাগে , আস্তে আস্তে তাদের সাথে ভাব জমায়। তারা তখন তাদেরকে যা শিক্ষা দেয় , তা কি ইসলাম বিরোধী ? কি মনে হয় আপনাদের ? এবার দেখুন , তারা আপনার সন্তানদের কি শিক্ষা দেয়, কোরান হাদিস থেকেই দেখাচ্ছি—-

সুরা আল ইমরান- ৩: ২৮: মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কেন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কেন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে।

সুরা আল ইমরান – ৩: ১১৮: হে ঈমানদারগণ! তোমরা মুমিন ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না, তারা তোমাদের অমঙ্গল সাধনে কোন ক্রটি করে না-তোমরা কষ্টে থাক, তাতেই তাদের আনন্দ। শত্রুতাপ্রসুত বিদ্বেষ তাদের মুখেই ফুটে বেরোয়। আর যা কিছু তাদের মনে লুকিয়ে রয়েছে, তা আরো অনেকগুণ বেশী জঘন্য। তোমাদের জন্যে নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করে দেয়া হলো, যদি তোমরা তা অনুধাবন করতে সমর্থ হও।

সুরা আল মায়েদা – ৫: ৫১: হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।

অর্থাৎ প্রথমেই কোরান থেকে তাদেরকে শিখান হয়, তারা যেন কোন অমুসলিমকে বন্ধু রূপে গ্রহন না করে। যদি করে , তাহলে সে আর মুসলমান থাকবে না। কি বুঝলেন ? আপনি বলবেন , এটা মুহাম্মদের আমলের কোন প্রেক্ষিতের কথা ? জ্বী না , যে প্রেক্ষিতেই উক্ত আয়াত মুহাম্মদ বলে থাক না কেন, কোরানের বিধান না সর্বকালের জন্য ? তাহলে উক্ত বিধান শুধুই মুহাম্মদের সময়ের জন্যে প্রযোজ্য হবে কেন ?

আপনার সন্তান হয়ত প্রশ্ন করতে পারে , সে কেন এ ধরনের নির্দেশ মান্য করবে ? আপনার সন্তানকে তখন জিজ্ঞেস করা হয় – সে ইসলাম বিশ্বাস করে কি না। মুহাম্মদকে নবী মানে কি না , কোরান মানে কি না। আপনার সন্তান কি উত্তর দেবে ? সে তো শৈশবেই এসব মানতে শিখেছে , তাই তার উত্তর হয় – হ্যা , সে কোরান মানে ,ইসলাম মানে , মুহাম্মদকে মানে । এরপর তার সামনে হাজির করা হয় নিচের আয়াত –

সুরা নিসা-৪: ৫৯: হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।

দেখুন , কত পরিস্কার ও সহজভাবে বলছে আল্লাহর নির্দেশ মানতে হবে , রসুলের নির্দেশ মানতে হবে , আর মানতে হবে যারা বিচারক অর্থাৎ যারা আলেম তাদের নির্দেশ। এখন আলেমই আপনার সন্তানকে কোরান থেকে এসব বের করে দেখাচ্ছে , আর বলছে , তার নির্দেশ মান্য করার জন্যে আল্লাহ বলেছে। তখন আপনার সন্তান কি করবে ? তাকে কি মান্য করবে না ? আলেম তো আর কোরান হাদিস বহির্ভুত কিছু শিখাচ্ছে না। তাই তো ? আর দুনিয়াতে মুহাম্মদই হলো চুড়ান্ত বিচারক , সেটাও বলছে কোরান –

সুরা নিসা -৪: ৬৫: অতএব, তোমার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে। অতঃপর তোমার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোন রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা হূষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে।

তাহলে এখন কি বোঝা গেল ? এটাই বোঝা গেল, যদি কেউ নিজেকে মুসলমান দাবী করে , তাহলে তাকে অবশ্যই কোরান ও হাদিস মানতে হবে। কোরান ও হাদিসে যা যা বলা হয়েছে , খাটি মুসলমান হতে গেলে , তাকে অক্ষরে অক্ষরে সেসব মানতে হবে। এখন বলুন তো , আপনার সন্তান কি আর ইসলামপন্থি ওস্তাদের কোন কথাকে অমান্য করতে পারে ? বিশেষ করে সেই ইসলাম পন্থি ওস্তাদ যদি হয় একজন প্রফেসর বা প্রসিদ্ধ আলেম বা প্রসিদ্ধ মাদ্রাসার শিক্ষক?

চলবে ===========================================

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “আপনি কি জানেন, আপনার সন্তানকে আপনি নিজেই জঙ্গি বানিয়েছেন?- পর্ব-১(জঙ্গিবাদের হাতে খড়ি)

  1. ভাই আপনার এই লেখা পরে আমার
    ভাই আপনার এই লেখা পরে আমার এখনই শহিদ হতে মন চাচ্ছে, আমি অনেক দিন যাবত চেষ্টা করছি কোন জিহাদি সংগঠনে যোগ দেয়ার জন্য কিন্তু খুজে পাচ্ছি না, যাদেরকে পাচ্ছি তারাও বলছে রিকক্রমেন্ট এখন বন্ধ,সব সিট ফিলাপ হয়ে গেছে,সময় হলে বলব, কি যে করি, আল্লাহ পাক কি আমাদের মত পাপিষ্টকে এত মহান সুযুগ কখনো দিবে?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 1