সঙ্গীতের আড়ালে হামিন-শাফিন নামক দুই আগাছা-পরগাছা আসলে সন্ত্রাসবাদী?

সঙ্গীতের আড়ালে হামিন-শাফিন নামক দুই আগাছা-পরগাছা আসলে সন্ত্রাসবাদী?
সাইয়িদ রফিকুল হক

গলায় একখান গিটার ঝুলাইলেই গায়ক হওয়া যায় না। পাগলা-কিছিমের ছাগল হওয়া যায়। এই দেশে এখন অনেকেই জনপ্রিয়তা-অর্জন করার জন্য নানারকম শয়তানী ও বদমাইশীর আশ্রয়গ্রহণ করেছে। এদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। পাবলিকের কাছে বা মাঠে-ময়দানে যখন কারও জনপ্রিয়তা থাকে না, তখন একশ্রেণীর পাগল-ছাগল রাজনীতির লোক না হয়েও রাজনীতিতে নামলিখিয়ে নিজেদের স্বার্থহাসিলের প্রাণান্তকর অপচেষ্টা চালাতে থাকে। আর এই শ্রেণীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: বাংলাদেশের কিছুসংখ্যক গায়কগায়িকা-নামধারী কুলাঙ্গারশ্রেণী। এরা সস্তা-জনপ্রিয়তা-অর্জনের জন্য রাজনীতিমুখী হচ্ছে। এইসব অমেরুদণ্ডী-প্রাণীদের মধ্যে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—কলগার্ল-টাইপের গায়িকা ন্যান্সি, বেবী নাজনীন; ভোদাইমার্কা-গায়ক মনির খান ইত্যাদি। আর হালে এই কাতারে শামিল হয়েছে বাংলাদেশের দুই জাতীয় কুলাঙ্গার ও আগাছা-গায়ক মাইলস-ফাইলসের স্বত্বাধিকারী হামিন-শাফিন নামক দুই-ভাই।

হামিন-শাফিন দুই-ভাই একসময়কার প্রখ্যাত সুরকার কমলদাশ গুপ্তের সন্তান হলেও আসলে তাদের বংশগত-ঐতিহ্য হচ্ছে পাকিস্তানপ্রীতি। তার মাতৃবংশীয় সকল আত্মীয়স্বজনই পাকিস্তানের একনিষ্ঠ-ভক্ত। পাকিস্তান তাদের জানের জান। আর পাকিস্তান তাদের বাপ। হামিন-শাফিন বাপের নাম মুখে আনে না। ওদের মুখে শোভা পায় পাকিস্তানী-গায়কগায়িকা আর নায়কনায়িকার নাম! এরা জাতে ভণ্ড। আর তারচেয়ে বড় কথা হলো: এই দুই জানোয়ার আগাছা-প্রকৃতির জীব! আর এরা ধ্যানে-জ্ঞানে পুরাপুরি পাকিস্তানী। বাংলাদেশে যে কয়েকটি নামকরা ‘আগাছা’ আছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এই হামিন-শাফিন। আরে, এরা কী গান গায়? আর এরা গানের জানেই বা কী? হয়তো এরা বাপ-মার নাম বেচে খাচ্ছে! এদের গান কে শোনে? এরা কীসের গায়ক? এরা গানের ছদ্মাবরণে পাকিস্তানের দালাল। আর এরা ছাড়া আমাদের দেশে গায়কগায়িকা ও নায়কনায়িকা সবই আছে। আর তাই, এইজাতীয় পাকিস্তানীদালালশ্রেণীর লোকদের কোনো প্রয়োজন নাই। এরা বাংলাদেশে বসবাস করে অহরহ বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী-অপকাণ্ডে নিয়োজিত। কথিত-সঙ্গীতশিল্পী বলে এদের পা যেন আর মাটিতে পড়ে না! এরা এই দেশে বাস করে ধরাকে সরাজ্ঞান করছে।

হামিন-শাফিনরা আসলে মৌলবাদীদের সেবাদাস ও আত্মস্বীকৃত দালাল। এরা মৌলবাদীদের বিভিন্ন অনলাইন-ব্লগে-সাইটে ইতঃপূর্বে নিজেদের শয়তানীরূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। এদের বাংলাদেশবিরোধী বিভিন্ন লেখা বহু মানুষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

বাংলাদেশে একটি দালালশ্রেণী আছে—অবশ্যই পাকিস্তানের দালাল—আর এরা সবসময় ইসলামধর্মকে পুঁজি করে নিজেদের আখের গোছাতে চায়। এরা আসলে মুসলমান কিংবা কোনোপ্রকার ধার্মিকও নয়। এরা জাতে লম্পট আর একশ্রেণীর পুরুষপতিতা। এরা সামাজিকভাবে বাংলাদেশে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পবিত্র ধর্মকে ঢাল বা হাতিয়ার হিসাবে গ্রহণ করেছে।

এই দেশে এখন একটি শ্রেণী রাজনীতির নামে, দেশপ্রেমের নামে কথায়-কথায় ভারতকে গালি দিয়ে নিজেকে পণ্ডিত হিসাবে কিংবা দেশপ্রেমিকরূপে জাহির করতে চাচ্ছে। আসলে, এরা কেউই দেশপ্রেমিক নয়। এরা সোজাসাপটা পাকিস্তানের দালাল। আরে, ভারত আমাদের প্রতিবেশীরাষ্ট্র। আমরা যেকোনো সময় তাদের গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারি। তাই বলে মনে চাইলেই আমরা ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে মনগড়া-বিষোদগার করতে পারি না। মনে রাখবেন: আমরা যদি অহেতুক কাউকে গালি দেই—তাহলে, অন্য কেউ আমাদেরও গালি দিতে পারে। আর প্রতিবেশীরাষ্ট্রের সঙ্গে কখনও গালিগালাজের সম্পর্ক নয়। এই দেশে যারা এখন ইন্ডিয়াকে ‘রেন্ডিয়া’ বলে সম্বোধন করে—তারা নিঃসন্দেহে পাকিস্তানী-বীজের ফসল। এরা নিজেদের ঢেকে রাখার চেষ্টা করলেও পারবে না। এদের বদসুরত ও নগ্নস্বরূপ জাতির সামনে আজ সহজেই উন্মোচিত। এরা ইন্ডিয়াকে অহেতুক গালি দিয়ে বাংলাদেশকে ভালোবাসে না। এরা পাকিস্তানকে জাতির সামনে ভালোভাবে তুলে ধরার জন্য সারাক্ষণ ইন্ডিয়ার পিছনে লেগে থাকে। এদের পূর্বপুরুষরাও সেই ১৯৪৭ সাল থেকে ইন্ডিয়ার পিছনে লেগে ছিল। আর এখন একইভাবে তারা লেগে আছে। এরা আসলে, জন্ম-রক্ত-বংশে পাকিস্তানের প্রেতাত্মা।

সম্প্রতি কলকাতার আজাদী-কনসার্টে হামিন-শাফিনের মাইলসের সঙ্গে রূপম ইসলামের ফসিলসের দ্বন্দ্ব। আর এই দ্বন্দ্বের সুবাদে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। হামিন-শাফিনের পাকিস্তানপ্রীতি। আর তাদের মনগড়া ইন্ডিয়া-বিদ্বেষ। এরা বংশগত ও পারিবারিকভাবে পাকিস্তানের সেবাদাস। ভারতের রূপম ইসলামরা হামিন-শাফিনদের সঙ্গে একমঞ্চে গান গাইতে রাজী না হওয়ায় তাদের ভারত-সফর ভেস্তে যায়। আর এতে পাকিস্তানের দুই দালাল—হামিন-শাফিন একেবারে উলঙ্গরূপে ভারতের বিরুদ্ধে নানারকম উস্কানীমূলক বক্তব্য দিতে দ্বিধাবোধ করেনি। এরা কথায়-কথায় ভারতকে গালি দিয়ে আনন্দলাভ করে থাকে। কিন্তু পাকিস্তান এদের ‘বাপ’ হয়!

আসুন, এবার দেখি হামিন-শাফিনদের ইতিহাস। আর জেনে নিই তাদের আত্মপরিচয়:

১. হামিন-শাফিনদের পরিবারের কেউই ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয়নি।
২. তাদের পরিবারের কেউই কখনও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেনি। এমনকি শাফিনরা তাদের ফেসবুকে একাত্তরের চিহ্নিত-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে প্রহসন বলে অভিহিত করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে! এরা এই দেশের মুক্তিযুদ্ধকে মানে না। এরা ভালোবাসে তাদের পরমাত্মীয় রাজাকারদের।
৩. এই পরিবার কখনও ১৯৫২ সালের পবিত্র ভাষাআন্দোলনকে সমর্থন করেনি। এরা বাংলাভাষাকে কখনও মনেপ্রাণে ভালোবাসে না। আর অন্য কোনো ভাষায় গান গাইতে পারে না বলেই তারা বাংলায় গান গায়।
৪. শাফিনদের ফেসবুক সবসময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা পরিপন্থী অপকাণ্ডে পরিচালিত।
৫. শাফিনরা সবসময় ভালোবাসে পাকিস্তানের মেহেদী হাসান আর গুলাম আলীকে।
৬. এদের বাসায় হয়তো এখনও টাঙ্গানো আছে জিন্না-আইয়ুব-ইয়াহিয়া-টিক্কার ছবি!
৭. গানের ছদ্মবেশে এরা দেশবিরোধী-অপকাণ্ডে নিয়োজিত।
৮. এরা কখনও বাংলাদেশকে ভালোবাসে না।
৯. এরা ইন্ডিয়ার সমালোচনা করতে জানে না। কিন্তু শ্রাব্য-অশ্রাব্য ভাষায় ইন্ডিয়াকে গালিগালাজ করে থাকে। কারণ, ১৯৭১ সালে ইন্ডিয়া বাঙালি-জাতির সঙ্গে মিলেমিশে পাকিস্তানকে কবর দিয়েছিলো। আর সেই দুঃখ ওরা আজও ভোলেনি।
১০. এরা ভণ্ডশয়তানদের আখড়া শাহ আহমেদ শফীর নেতৃত্বাধীন ‘হেফাজতে শয়তানদের’ সমর্থক। আর এরা এমনই জানোয়ার যে মতিঝিলের শাপলাচত্বরে হেফাজতীদের আন্দোলন নস্যাৎ হয়ে যাওয়ার পর তারা সরকারের বিরুদ্ধে হাজার-হাজার হেফাজতী মারার মিথ্যাঅভিযোগ তুলে নিজেদের ফেসবুকে বানোয়াট ও অসত্য তথ্য প্রচার করে। আর এই সময় তাদের বক্তব্য ছিল হেফাজতীদের আমিরের মতো! এদের ধৃষ্টতা এখানেই থেমে নাই। এরা এখনও বাড়াবাড়ি করে চলেছে।
১১. এরা ভারতবিদ্বেষী হওয়ার নাম করে আসলে পাকিস্তানের পা-চাটা-কুকুর। এরা বিনা প্রয়োজনে, যখন-তখন আর পাকিস্তানের স্বার্থে ভারতকে গালিগালাজ করে এদেশের মানুষের মনে পাকিস্তানপ্রীতি বাড়িয়ে তুলতে চায়!
১২. ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কিংবা ভারতের সঙ্গে অন্য-যেকোনো দেশের ক্রিকেট-খেলা শুরু হলে এরা পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে কিংবা ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নিজেদের ফেসবুকে মারাত্মক অশালীন মন্তব্য করতে থাকে।
১৩. এরা উগ্রবাদী আর সন্ত্রাসবাদী।

এই দেশে নানাভাবে এখন জঙ্গীবাদের উত্থান! অনেকেই ভোল পাল্টে জঙ্গীবাদের সপক্ষে সাফাই গাইছে! এদের ধৃষ্টতা দিনের-পর-দিন বাড়ছেই। এরা নিজেদের কায়েমীস্বার্থের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে দেশকে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত করে তুলতে চাইছে। আর যারা জন্মজন্মান্তরে পাকিস্তানের সাপোর্টার, তারা দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলিপ্রদর্শন করে নিজেদের ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে। এদেরই নব্যসংস্করণ হামিন-শাফিনগং।

বাংলাদেশে যারা জঙ্গীবাদকে সমর্থন করেছে—এরা তাদের মধ্যে প্রথম সারির লোক। শুধু সঙ্গীতকে পুঁজি করে তারা এখনও নিজেদের আড়াল করে রেখেছে। তাদের সমস্ত কার্যকলাপে জঙ্গীপনা আর জঙ্গীভাবের উদ্দাম-নৃত্য! এরা সস্তা-রাজনীতির ডামাডোলে নিজেদের ভাসিয়ে দিয়ে বাংলাদেশরাষ্ট্রকে অশান্ত করে তুলতে চায়। আর এরাই কিনা ইসলামের লেবাসে নিজেদের এখনও মুসলমান ভাবে! ধিক্ এই কুলাঙ্গারদের, ধিক্।

[বি.দ্র. ভারত আমাদের প্রতিবেশীরাষ্ট্র মাত্র। আর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত আমাদের প্রায় দুই-কোটি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছিলো—আর তারা আমাদের মুক্তিসংগ্রামে বিজয়-অর্জনে সবদিক দিয়ে বিরাটবড় সাহায্য-সহযোগিতা করেছিলো। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আমরা ভারতপন্থী। আমরা যেকোনো-সময়ে আর যেকোনো সুনির্দিষ্ট-কারণে ভারতের গঠনমূলক সমালোচনা করবো। আমরা প্রয়োজনে দিন-রাত শিষ্টাচারসম্মতভাবে ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলবো। কিন্তু পাকিস্তানের স্বার্থে আর পাকিস্তানের সেবাদাস হয়ে ভারতের বিরুদ্ধে যারা আবোলতাবোল ও আজেবাজে কথা বলবে তারা সবসময় পাকিস্তানের দালাল। আর এদের উদ্দেশ্য কখনও ভালো নয়। হামিন-শাফিনরা এইজাতীয় পাকিস্তানীদালাল। এরা ভারতকে অশালীনভাবে আক্রমণ করে বাংলাদেশে পাকিস্তানের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করার অপচেষ্টায় নিয়োজিত। এরা ব্যক্তিগতভাবে ও পারিবারিক-জীবনে চরম-সাম্প্রদায়িক। আর তাই, এদের ব্যক্তিগত-ফেসবুকে, এদের মদদপুষ্ট-ওয়েবসাইটে রয়েছে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক-চেতনা-বিনষ্ট করার অভিপ্রায়ে অহেতুক ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগার! এরা এমনই সাম্প্রদায়িক যে—এরা ‘হেফাজতে ইসলাম’ নামক ‘হেফাজতে শয়তানদের’ ঘোর সমর্থক। এরা ভারতবিরোধিতার নাম করে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক-অপশক্তির অন্যতম-উস্কানিদাতা। অতএব সাধু সাবধান।]

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০৫/০৮/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “সঙ্গীতের আড়ালে হামিন-শাফিন নামক দুই আগাছা-পরগাছা আসলে সন্ত্রাসবাদী?

    1. সত্যকে কুরুচিপূর্ণ বলা আইনতঃ
      সত্যকে কুরুচিপূর্ণ বলা আইনতঃ অপরাধ। আর সত্য সবাই ভালোবাসতে পারে না।সত্য সবার সহ্য হয় না।এখানে সত্য তুলে ধরা হয়েছে।অনেক প্রমাণ রয়েছে আমাদের হাতে।

      ধন্যবাদ আপনাকে।

  1. মনের ঝাল ঝাড়বেন ভালো কথা ,
    মনের ঝাল ঝাড়বেন ভালো কথা , ঠিক করে তো ঝাড়েন! এতগুলা ফ্যাক্ট দিলেন একটারও তো কোন রেফারেন্স নেই কিংবা যথাযথ উৎস উল্লেখ করেননি । মাইলসের নাহয় পাইলস হয়েছে , তাই বলে কি আপনিও নিজের বিবেক বুদ্ধি সব শরবত বানিয়ে খেয়ে ফেলেছেন?

  2. হিজড়া শব্দটি ব্যবহার করে আপনি
    হিজড়া শব্দটি ব্যবহার করে আপনি তৃতীয়লিঙের মানুষদের অপমান করেছেন। লিঙ্গ বৈষম্যের মাধ্যমে অন্যের সমালোচনা গ্রহনযোগ্য নয়।

    1. আপনার পরামর্শক্রমে “হিজড়া”
      আপনার পরামর্শক্রমে “হিজড়া” শব্দটি বাদ দিলাম ভাই।
      আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। সঙ্গে শুভেচ্ছা রইলো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

60 + = 66