আপনি কি জানেন , আপনার সন্তানকে আপনি নিজেই জঙ্গি বানিয়েছেন?-পর্ব-২(পরিবেশ তৈরী)

কিভাবে আপনি শৈশবেই আপনার সন্তানের মাথায় হিংসা বিদ্বেষ ঢুকিয়েছিলেন সেটা ১ম পর্বে বলা হয়েছে। এবার জঙ্গিবাদের পরিবেশ কিভাবে তৈরী করেছেন সেটা বলা হবে। ব্যবসা চাকরি যাই করুন না কেন সারাদিন নানারকম ধান্ধা ফিকির করেন সমস্তরকম অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জনের। এইসব অসৎ কাজ করে মনে মনে একটা অপরাধবোধে ভোগেন যা থেকে বোধ থেকে , আপনারা সারা দেশের আনাচে কানাচে মসজিদ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন, ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে থাকেন। এসব করে দেশ থেকে সমস্ত রকম সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডকে ঝেটিয়ে বিদায় করেছেন।

অন্যদিকে সৌদি আরব সহ সকল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাদের বিপুল অলস পেট্রো ডলার সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে আপনাদেরকে মসজিদ মাদ্রাসা তৈরীতে সাহায্য করেছে, তাদের অর্থে তৈরী করা হয়েছে শত শত ইসলামী টিভি চ্যানেল, ইন্টারনেটে ব্লগ , ফেসবুক গ্রুপ ইত্যাদি। রাত দিন চব্বিশ ঘন্টা সেখানে শুধুই ইসলাম প্রচার করা হয়, আর ছড়ান হয় অমুসলিমদের প্রতি ঘৃনা বিদ্বেষ। তারা এসব করেছে মুলত: ইসলামের নামে আরবরা আমাদের ওপর তাদের আরব সাম্রাজ্যবাদ ও সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে। তারা জানে , ধর্ম হলো মানুষকে বশে রাখার শ্রেষ্ট উপায়। ইসলামের আফিম খাইয়ে তারা আমাদেরকে তাদের দাস বানাতে চায়, তারা হতে চায় প্রভু। তারা টের পেয়ে গেছে , তেল চিরকাল থাকবে না , তখন তো তাদের চলতে হবে। ইসলাম দিয়ে তো তারা কোন শিল্প সমৃদ্ধ দেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারে নি। পরন্তু তেল থেকে অর্জিত অর্থ তারা মূলত: ব্যয় করে ভোগ বিলাসে, জুয়া, মদ মাগিবাজিতে। তবে সেটা নিজ দেশে নয়। নিজ দেশে কঠিন ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা করে , নিজেরাই আবার ইসলামকে থোড়াই কেয়ার করে এসব আনন্দ উপভোগ করে অর্থের শ্রাদ্ধ করতে যায় , ব্যাংকক , সিঙ্গাপুর , পশ্চিমা দেশ সমূহে। আমাদের মত মানুষের মধ্যে ইসলামের ভুত ভালমত ঢুকিয়ে দিয়ে তারা হজ্জ সহ অন্যান্য ধর্ম বানিজ্য ভালমত প্রতিষ্ঠা করতে চায় যাতে আমরাই চিরকাল তাদের মদ ,মাগিবাজি , জুয়া এসবের অর্থের জোগান দেই। তারা তো আরব , কোরান হাদিস সব লেখা হয়েছে আরবীতে , তাই তারা ইসলামকে ভালমতই বোঝে আর জানে যে ইসলাম আসলে একটা আরব সাম্রাজ্যবাদ ছাড়া আর কিছুই না, যার মাধ্যমে তারা আরবী সংস্কৃতি প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করতে চায় দুনিয়া ব্যাপী। আমাদের মত দুর্বল চিত্তের মানুষের ধর্মভীরুতার সুযোগে তারা সেই সাম্রাজ্যবাদটা বিনা যুদ্ধে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, আর আমরাও তাদের দাস হওয়ার জন্যে আগ বাড়িয়ে বসে থাকি।

আরবদের দাসত্ব স্বীকার করে , আমরাই নিজেদের কষ্টাার্জিত অর্থ ব্যয় করে উন্মাদের মত ছুটি, হজ্জের নামে সৌদি আরবে গিয়ে তাদের কাছে আমাদের নি:শর্ত আনুগত্য প্রকাশ করতে। আমরা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ভুলে পরিত্যাগ করে , আরব্য সংস্কৃতি আত্মস্থ করার জন্যে প্রানপন চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু চরম আফশোসের বিষয় হলো যতই আমরা আলখাল্লা বা পাগড়ী মাথায় দিয়ে বা হিজাব বোরখা পরে আরব সাজি না কেন , সৌদিরা আমাদেরকে ফকির মিসকিন ছাড়া কিছুই ভাবে না। আর এসব জেনে শুনেও আমরা হাসিমূখে মূর্খের মত তাদের কাছি গিয়ে ধর্না দেই, তাদের পদলেহন করি। সভ্যতার, মানবতার এই ভয়ংকর পরাজয় , আমরা অনেক সময় বুঝেও না বোঝার ভান করে পড়ে থাকি। কোন রকম যুদ্ধ ছাড়াই এভাবে বিনা আয়াশে সাম্রাজ্য বিস্তার করার এই পদ্ধৃতি দুনিয়াতে এটাই প্রথম ও সব চাইতে বেশী সফল।

অতীতে দেশে নানা রকম সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড চলত যেমন – নাটক , সংগীত সন্ধ্যা, যাত্রা পালা , পুতুল নাচ ,জারি সারি ইত্যাদি। এছাড়া গ্রামে গ্রামে , শহরে বন্দরে বহু রকম ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। পয়লা বৈশাখ, পৌষ পার্বন এসব উদযাপিত হতো। সবাই সেসব নিয়ে বিনোদন করত। জঙ্গিবাদ কি জিনিস তারা শুনত না , জানত না। কিন্তু বর্তমানে সেসব প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে । পরিবর্তে সারা দেশে পাড়ায় পাড়ায় মহল্লায় চালু হয়েছে ওয়াজ মাহফিল , ইসলামী জলসা এইসব। আগে যে গ্রামে একটা ওয়াজ হতো , সেখানে এখন পাঁচটা ওয়াজ হয়। যে গ্রামে একটা মসজিদ ছিল , এখন সেখানে পাচ/সাতটি। এসব ওয়াজে ছড়ান হয় অমুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃনা, হিংসা , সেই সাথে তরুন যুবকদের আহ্বান করা হয় জিহাদে। এসব কিন্তু প্রচার করা হয়, কোরান হাদিসের ভিত্তিতেই। অর্থাৎ ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার ভিত্তিতেই করা হয়। এসব শিক্ষায় ইহুদি নাসারাদের কোনই হাত নেই।

মানুষজন , এসব শোনে , বার বার শোনে। তাদের মনের মধ্যে প্রতিক্রিয়া হয়। কারন অবশেষে তারাও মুসলমান , আল্লাহ , মুহাম্মদ, কোরান, হাদিস এসবের প্রতি বিশ্বাস আছে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন , তারা অবশেষে কিসে পরিনত হয়। পরিনত হয় এক একজন সুপ্ত জঙ্গিতে। তারা জিহাদ করে আত্মাহুতি দেয়ার জন্যে মনে মনে প্রস্তুত হয়ে যায়। ইহজগতের জীবন তাদের কাছে তুচ্ছ মনে হয়, শহিদ হয়ে বেহেস্তে গিয়ে আকন্ঠ মদ পান করে ৭২ হুরের সাথে অবাধ যৌনলীলা করার জন্যে ভিতরটা তাদের হু হু করতে থাকে। হায় রে , অসভ্য ও বর্বর আরবদের সংস্কৃতির জন্যে আমরা অকাতরে প্রান দেয়ার জন্যে উন্মুখ হয়ে থাকি। এই দলে আছে মূর্খ থেকে শিক্ষিত সবাই। কেউ বাদ যায় না। এসব আরবরা দেখে আর হাসে। নিজেদের মধ্যে মজা করে। ঠিক এজন্যেই তারা মুহাম্মদকে আকড়ে ধরে আছে , তাদেরকে এমন সফল একটা অস্ত্র দিয়ে যাওয়ার জন্যে।

সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে , প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বা ইংরেজী মাধ্যম স্কুল কলেজে পড়ুয় ধনীর সন্তানরাও জঙ্গি হচ্ছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন রাজনীতি নেই। কিন্তু সেখানে ইসলাম প্রচারে বাধা নেই। নানারকম রাজনীতির দল মত থাকলে তরুন তরুনীরা সেসব নিয়ে ব্যস্ত থাকত। কারন তারা তাদের বয়সের কারনে প্রকৃতিগত ভাবেই উত্তেজনা খোজে। কিন্তু এসবের অভাবে , তারা সহজেই জঙ্গিবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তাতেই উত্তেজনা খুজে পায়। যারা ইসলামী বিপ্লব করতে চায়, তারা কিন্তু ঠিকই এদের কাছে এসে তাদের বানী দিতে থাকে, ইসলামের নামে ,সেটাতে তো কোন বাধা নেই। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাই অনেক সময় এসব করে থাকে। এছাড়া তারা ফেসবুক , ইন্টারনেটের কল্যানে ইসলামের দাওয়াত পেতে থাকে , তারা উত্তেজনা খুজতে গিয়ে , এসব দাওয়াতে সাড়া দেয়। এরপর আস্তে আস্তে হয়ে ওঠে সুপ্ত জঙ্গি। অত:পর কোন গ্রুপ যদি তাকে সকল রকম সহায়তা দেয়, সে আত্মঘাতী হামলায় ঝাপিয়ে পড়ে। যা দেখা গেছে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনায়।

সুতরাং আপনারা , যারা আফশোস করছেন আপনার সন্তানরা জঙ্গিবাদে নাম লেখাচ্ছে , তাদের প্রতি আমার অনুরোধ , আপনারা ভাল করে আরবদের ইতিহাস পড়ুন , জানুন ইসলাম আসলে কি জিনিস। এটা কি ধর্ম, নাকি আরব সাম্রাজ্যবাদ , সেটা ভাল করে জানুন , যদি সেটা জানতে পারেন ,তাহলেই দেখবেন সমস্যার সমাধান সাথে সাথেই হয়ে যাবে।

আপনার আদরের সন্তান কেন হাজার হাজার কিলোমিটার দুরের এক অসভ্য ও বর্বর আরব জাতির দাসত্ব করতে গিয়ে আত্মাহুতি দেবে ?

চলবে ===============================================

আপনি কি জানেন, আপনার সন্তানকে আপনি নিজেই জঙ্গি বানিয়েছেন?- পর্ব-১(জঙ্গিবাদের হাতে খড়ি) – See more at: https://istishon.blog/?q=node/21873#sthash.ynQHfA2C.dpuf

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “আপনি কি জানেন , আপনার সন্তানকে আপনি নিজেই জঙ্গি বানিয়েছেন?-পর্ব-২(পরিবেশ তৈরী)

  1. এই লেখা পরে আমার এখনই শহিদ
    এই লেখা পরে আমার এখনই শহিদ হতে মন চাচ্ছে, আমি অনেক দিন যাবত চেষ্টা করছি কোন জিহাদি সংগঠনে যোগ দেয়ার জন্য কিন্তু খুজে পাচ্ছি না, যাদেরকে পাচ্ছি তারাও বলছে রিকক্রমেন্ট এখন বন্ধ,সব সিট ফিলাপ হয়ে গেছে,সময় হলে বলব, কি যে করি, আল্লাহ পাক কি আমাদের মত পাপিষ্টকে এত মহান সুযুগ কখনো দিবে?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 7 = 1