ধর্মের পাছা পাহাড় ঠেলে চলে

কথায় আছে গাঁজার নাও পাহাড় বাইয়া চলে। কারন গাঁজা খেলে না কি নিজেকে রাজা মনে হয়। ঠিক তেমনি ধর্মের পাছা পাহাড় ঠেলে সামনে চলে। কারন একটা বিশ্বাস যখন অন্ধ ভাবে মানুষের মনে গেঁথে যায় তখন তা মন থেকে সরানো দুঃসাধ্য হয়ে যায়। যেমন ছোটবেলা একটি শিশুকে ভাও এর ভয় দেখিয়ে খাবার খাওয়ালে তার মনে সেই ভাও এর ভয় অনেক অনেক বছর পর্যন্ত থেকে যায় খুব কম মানুষ আছেন যারা এই ভয়কে অতিক্রম অরে বেড়ে উঠতে পারে। বড় হয়ে ভুলে যায় বা সাহসী হয়ে ওঠে। অবস্য ভুলে যায় না, তারা সাহসী হয়ে ওঠে। তাই সেই ছোট মানুষগুলো বড় হয়ে কেউ কেউ অন্ধকারে ভয় পেয়ে আতকে ওঠে, কেউ বা নিজের সাহসের শক্তিতে ভয়কে নিজের বসে আনে। আসলে ভাও বলতে কিছুই নেই আমরা যখন বুঝতে পারি তখন খুব দেরি হয়ে যায়। কারন তখন ভাও মস্তিষ্কের নিউরনের এমন একটা যায়গা দখল করে নিয়েছে যে যা থেকে মুক্তি একেবারেই দুঃসাধ্য হয়ে যায়।

ধর্ম হলো এমন এক ভাও, যা আমাদের মস্তিষ্কে যায়গা করে নেয় পরিবার থেকে। ঠিক যেন ছোটবেলা মায়ের হাতে খাওয়ার সময় না খেতে চাওয়াতে ভাওয়ের ভয় দেখানো। ধর্মের ভাও কে অবহেলা করে যিনি সাহসী হয়ে সেই ভাওয়ের মুখোশ উন্মোচন করেন? তিনিই নাস্তিক ব্লগার বর্তমানে। কারন এখন ব্লগই ধর্মের মুখোশ উন্মোচনের প্রধান হাতিয়ার। আফসোস লাগে তখন , যখন দেখি ৫৭ ধারা নামের একটা ধারা প্রয়োগ করে সেই সব ভাওয়ের ভয়ে ভীত প্রশাসন। আফসোস লাগে তখন, যখন একটা দেশের প্রধান মন্ত্রী একটা পক্ষ টেনে কথা বলেন এবং তিনিও ভাওয়ের ভয়ে ভীত।

জঙ্গীবাদ আমাদের কারোরি কাম্য নয়। তাই সবাই একসাথে গলা ফাটিয়ে চিতকার করে যাচ্ছি জঙ্গিবাদী রুখে দাঁড়াও। জঙ্গীদের মেরে ফেলা উচিত। এরা খারাপ। জঙ্গিদের মেরে ফেললেই কি সকল সমস্যা সমাধান? তাই যদি হয়। তাহলে তো সকল মুসলমানকে মেরে ফেলা উচিত। কারন জঙ্গীবাদের উত্থান ইসলাম থেকে। মুসলিমরাই জঙ্গী হচ্ছে দিনে দিনে। আর হবেই বা না কেন? যেই পুস্তক খানা ঘিরে তাদের মানুষ থেকে মুসলিম হয়ে ওঠা। সেখেনি তো স্পষ্ট করে দেওয়া আছে জিহাদ করো। জাহেরী জেহাদ, বাতেনী যেহাদ। জাহেরী যেহাদ মানেই মানুষ খুন করো। রক্তের বন্যা বসিয়ে দাও। ইসলাম কায়েম করো। বাতেনী যেহাদ মানে মনের সাথে জিহাদ করো। মনে মনে জিহাদ করো। আমার কাছে তো এখন স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে বাতেনী যেহাদের মানে।

জঙ্গীবাদের মানুষিক শক্তি যাযোগানোই আজ মুসলমানের বাতেনী যেহাদ। একেই বলে ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’। আমার দেশের আইনী প্রশসন যখন এরকম ধরি মাছ না ছুঁই পানি ধরনেরর মন্তব্য করেন ভাওয়ের ভয়ে। তখনো আফসোস লাগে। প্রধান মন্ত্রী যখন জঙ্গিবাদ রুখে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে ব্যস্ত। ব্যস্ত সব ভাষণ প্রদান করে যাচ্ছেন মনের মধ্যে ভাওয়ের ভয় রেখে, ক্ষমতা হারানোর ভয় রেখে। ঠিক তখন তিনি যে দেশের উন্নয়নের বক্তব্যের আড়ালে দেশকে টেনে হেঁচড়ে আবার মধ্যযুগে নিয়ে যাচ্ছে তা কি আদৌ টের পাচ্ছেনা জনগণ? জঙ্গিবাদের পাশাপাশি যখন মুক্তচিন্তাকে অপরাধ বলে আখ্যা দেয়া হচ্ছে। তখন পরিবর্তনটা, উন্নয়নটা আসবে কার হাত ধরে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রইলো।

মডারেট মুসলিম দের দিয়ে যদি আপনি উন্নয়ন চান তাহলে আপনার উচিত জঙ্গীদের পাশাপাশি সকল মেধাবী ব্লগারদের ক্রসফায়ার করে দেওয়া। কারন তারা আপনাদের মত মডারেট সুবিধাবাদী মুসলমানদের মত ধর্মের ভাও কে ভয় পায় না। তাদের মেরে ফেলা যায় কারন তারা মুক্ত চিন্তা করেন। তাদের মেরে ফেলা যায় কারন তারা ধর্মের শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে সকল মানুষকে এক করে সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। যা ধর্ম কোন কালেই চায়নি। যাওদি চাইতোই তাহলে ধর্মের আলাদা আলাদা নাম হোতো না। সংস্কৃতি হতো না। কিতাব হতোনা।

গতকাল আমাদের মাননীয় আইজিপি সাহেব বললেন। “অতিরিক্ত মুক্ত চিন্তা করে বিপদ ডেকে আনছেন ব্লগাররা”। কথাটি দিয়ে তিনি কি বোঝাতে চাইছেন? আমরা যারা মুক্তচিন্তা করি তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ হচ্ছে তারা তারই ইঙ্গীত? (আসলে ব্যর্থ তো অনেক আগে থেকেই) না কি আমাদের জঙ্গীদের হাতে তুলে দেবেন তিনি? না কি তারাই আমাদের মেরে ফেলবেন? হা হাহাহাহা… না কি অর্ধেক মুক্তচিন্তার বাঘ আর অর্ধেক ধর্মের সরীসৃপ হয়ে জীবন পার করে দিতে বলছেন কম কম মুক্তচিন্তা করে?

আমরা নাকি নবীজিকে নিয়ে কটূক্তি করি, ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দেই এবং তা না কি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ওকে ফাইন ধরেন না কেন তাদের? ৫৭ ধারা কি বাল ফালাইতে রাখছেন? আমরা তো ব্লগে লিখি। মাইকে বলিনা। মাফতি আদবুর রাজ্জাক যখন মাইকে বলে আমি মুর্তি ভাঙতে এসছি, লাত্থি দিয়ে মূর্তি ভাঙা আমার রক্তের সাথে মিসে আছে। পহেলা বৈসাখকে আমি কবর দিতে এসেছি। তখন আপনার খুব ভালো লাগে? নারীর বর্ননা যখন চটি বইকেও হার মানায় তখন কই থাকে আপনাদের ধর্মীয় চিন্তা? সত্যি আশ্চর্য লাগে প্রশাসনে আপনার মত উর্ধতন কর্মকর্তা দেখে। আইন সবার জন্য যেদিন সমান ভাবে প্রয়োগ করতে পারবেন। তখন ঠিক আপনার এই কথাগুল মেনে নেবে জনগণ।

তবে আইন সামান ভাবে সবার জন্য প্রয়োগ করতে মুক্ত চিন্তা….

শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.