আদিবাসীদের শিক্ষা,ভূমি ও জীবিকার অধিকার

যে আদিবাসী ভাষায় “শোষণ” শব্দের প্রতিশব্দ নেই,অথচ সেই আদিবাসীদের জীবনজুরে রয়েছে শোষণ আর বঞ্চনা।এই স্বাধীন বাংলাদেশে আজ তারা পরাধীন।কেন?কীসের জন্য তারা শোষিত নিপীরিত?এখন তো বৃটিশ শাসন নেই,পাকিস্তানী শাসনও নেই।এখন স্বাধীন বাংলাদেশ,তাও 45 বছর হয়ে গেল ।আজ কি দিনাজপুর-রাজশাহী-নওগাঁ-বরেন্দ্রভূমির মুন্ডা আদিবাসীরা সরকারকে এই প্রশ্ন করতে পারে না?কেন এখনো সাঁওতাল-ওরাও-মুন্ডারা তাদের শতবছরের আবাদি জমি হারায়,কেন তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়,কেন তারা আইনের আশ্রয় পায় না,কেন প্রশাসন ও পুলিশ আদিবাসীদের পক্ষে দাঁড়ায় না ,কেন আদিবাসীরা আজো দেশান্তর হয়?কেন মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসের স্বাক্ষর রেখেও মুক্তিযোদ্ধা বুদু ওরাও দেশত্যাগ করে,কেন পাহাড়ে গায়ে ধর্ষণ ,ভূমি দখল করা হয়?কে দেবে এসব প্রশ্নের উত্তর?আদিবাসীদের অধিকার ,অস্তিত্ব,মর্যাদা,সম্মান ও উন্নয়ন –সব এই প্রশ্নের জবাবে মধ্যেই নিহিত।

আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই আদিবাসীরা নানামুখী শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন।ঐতিহাসিকভাবে আদিবাসীরা অবিচার ও নিপীরনের শিকার হয়েছেন।ব্যাপক হত্যা,ধ্বংসলীলা ও মানবাধিকার লংঘিত হয়েছে এই আদিবাসী অঞ্চলে।তারা তাদের প্রথাগত ভূমি থেকে উচ্ছেদ হয়েছে। অনেক আদিবাসী হারিয়েছে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি।অনেক আদিবাসী গোষ্ঠী ইতিহাস থেকে বিলুপ্ত হচ্ছে।
নেই তাদের পর্যাপ্ত শিক্ষার অধিকার।দেশের নানা জায়গায় ,বিশেষকরে পাহাড় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার অধিকার থেকে আদিবাসীরা বঞ্চিত রয়েছে।
জাতীয় শিক্ষানীতির “আদিবাসী শিশু”অনুচ্ছেদে আছে “আদিবাসী শিশুরা যাতে নিজের মায়ের ভাষায় শিখতে পারে সেই লক্ষ্যে তাদের জন্য আদিবাসী শিক্ষক ও পুস্তকের ব্যাবস্থা করা হবে। অথচ আদৌ সম্ভব হয়নি।এখন যেহেতু এ বছরের মূলসুর আদিবাসীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা, তাই এ বিষয়ে এখনই আলাপ-আলোচনা করা দরকার।

এক সময় যেসব অঞ্চলে আদিবাসীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল,সেখানে নির্যাতন-নিপীরনের ফলে আদিবাসী জনগণ নিজভূমিতে সংখ্যলঘুতে পরিণত হয়েছে।পার্বত্য চট্টগ্রাম,গাড়ো পাহাড়,গাজীপুর,মধুপুর বনাঞ্চল,পটুয়াখালী-বরগুনা,খাসিয় অঞ্চলে সর্বত্র আদিবাসীরা তাদের ভূমি ও বন হারিয়েছে। আদিবাসীদের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা তো দুরের কথা,এখন আত্ম পরিচয় ও নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আদিবাসীদের বাঙালী আখ্যায়িত করা হয়েছে।চাকমা,মারমা,গাড়ো,সাওতাল ,মুন্ডা,খাসি ত্রিপুরা এরা কিভাবে বাঙালী হবে,কেন হবে?আগামী সংবিধান সংশোধন করে ভূল ভ্রান্তি দূর করে আদিবাসী পরিচয় ও অধিকারের স্বীকৃতি আমরা চেয়েছি।
পরিশেষে,জাতিসংঘের মূলসুরের সাথে মিল রেখে দেশে আদিবাসীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চত করার পদক্ষেপ নিতে হবে।আদিবাসীদের শিক্ষাবিস্তারে বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে।
আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে।আদিবাসীদের আত্ম-পরিচয় ও অধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করা সরকারের কাম্য।
এই দাবি রাখতে চাই যে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হোক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 3 =