‘আদিবাসীদের শিক্ষা, ভূমি ও জীবনের অধিকার’ নিশ্চিত কর, করতে হবে।

আদিবাসী সম্পর্কে সরকারের বৈষম্যমুলক আচরন বন্ধ করতে হবে এবং আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ আদিবাসীদের শিক্ষা, ভূমি ও জীবনের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।


1994 সালে জাতিসংঘ কর্তৃক 9 আগষ্টকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষনার মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোতে (যে সমস্ত দেশে আদিবাসী রয়েছে) প্রতি বছর 9 আগষ্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। দিবসটি উদযাপনের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা রকম সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে যে, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকেছেন তাদের সকলেই দিবসটি উদযাপনের ক্ষেত্রে নানান কৌশল অবলম্বন করে, নানান অজুহাত দেখিয়ে অসহযোগিতামূলক আচরনই করে আসছেন। যেমন- সরকারী ভাবেই কখনো বলা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নেই। আবার কখনো বলা হচ্ছে যে, ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার করা যাবে না ইত্যাদি। জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত ‘আদিবাসী দিবস’ এর প্রতি যে সব সদস্য রাষ্ট্রের শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার বা মানবাধিকারকে যারা বিশ্বাস করে তারা কখনো এমন আচরন করতে পারে না। এর একটি জ্বলন্ত উদাহরন হচ্ছে তাইওয়ান সরকার। তাইওয়ানে বসবাসরত আদিবাসীদের উপর অতীতে বিভিন্ন সময় শাসকগোষ্ঠী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মূলস্রোতধারার জনগণ কর্তৃক চালানো শোষণ, বঞ্চনা, অত্যাচার ও নির্যাতনের জন্য কিকছুদিন আগে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট আদিবাসীদের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। অথচ বাংলাদেশের সরকার প্রধানগণ বাংলাদেশে বসবাসরত আদিবাসীদেরকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া তো দুরের কথা, বরং আদিবাসীদেরকে ‘আদিবাসী’ না বলে বরং ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেছেন। হয়তো অদুর ভবিষ্যতে এমনও বলা হতে পারে যে, বাংলাদেশে কোন ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠীও নেই।

রাষ্ট্রীয় কর্ণধারগণ যখন আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও তাদের অধিকারের স্বীকৃতি নিয়ে এমন নেতিবাচক আচরন করছেন তখন এই আচরনই আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি জবরদখলকারী চক্রের দৌরাত্ম ও গতিশীলতাকে অনেকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলশ্রুতিতে ঘটছে আদিবাসীদের উপর জুলুম, অত্যাচারসহ আদিবাসী নারীর সম্ভ্রমহানি। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমেও আদিবাসীরা নানা রকম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এক কথায় বলতে গেলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করার পায়তারা চলছে। আদিবাসীদের এই জীবন-মরণ সমস্যা একটি রাজনৈতিক ইস্যু। রাজনৈতিক আন্দোলন ছাড়া এই সমস্যা মোকাবিলা করা অসম্ভব। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যেসকল আদিবাসী নেতাগণ নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদেরকেই অগ্রনী ভুমিকা পালন করতে হবে। সেই সাথে সকল আদিবাসীদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতাও একানন্ত জরুরী।

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-2016 উপলক্ষ্যে সরকার প্রধানদের কাছে দাবী জানাই, আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে এবং এই দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় “আদিবাসীদের শিক্ষা, ভূমি ও জীবনের অধিকার” নিশ্চিতকরণে আগামী এক ববছরের মধ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

52 + = 60