মেরিল – প্রথম আলো পুরষ্কার আর সাভার ট্র্যাজেডি

দুদিন আগের কাহিনী। ‘মা’ খ্যাত নন্দিত কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক এর মেরিল-প্রথম আলো তারকা পুরস্কারকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ জম্পেশ আলোচনা হল। প্রশ্ন কেন তিনি ‘মেরিল-প্রথম আলো তারকা পুরস্কার’-কে কনসার্ট ফর বাংলাদেশ এর সাথে তুলনা করলেন? আর প্রথম আলো কেন এমন শোকের সময় এমন অনুষ্ঠান না পিছিয়ে করল! প্রথম আলোর মুখোশ খুলে গেল, ব্লা… ব্লা… ব্লা…

গতপরশু পাভেল মুহিতুল আলম (একজন ফেসবুক সিলেব্রেটি) একটা কড়া জবাব দিল তার বয়সসুলভভাবে কিন্তু, শুরুটা ছিল আপত্তিকর ভাষাই! সে প্রথম আলোর প্রদায়ক, কোন বেতন ভুক্ত কর্মচারী না। সে জব করে বাংলা-লায়নে! গতকাল প্রথম আলোর আরেক পাঠক ও ভক্তের সমর্থণ দিল বা প্রথম আলোর অনেক ভালোর সাথে একটা ভুলকে ভুল বলে ভালোগুলো যাতে অবহেলিত না হয় তার জন্য আকুতিতে ভরা! তার প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাইঃ
১) যদি সমালোচকরা গঠনমূলক সমালোচনা করতেন তবে যথার্থভাবেই প্রথমেই তাদের ক্ষোভটা ঝাড়ত মেরিল অর্থাৎ, স্কয়ারের উপর! কারণ অনুষ্ঠানটার অর্থায়নের পুরাভাগেই আছে মেরিল! আর এই স্কয়ার-এই গার্মেন্টস ব্যবসায় অন্যতম পথিকৃৎ!! তবে, তারা শ্রমিকদের সব সুযোগ-সুবিধা হালের নীলকরদের মত করে দেন না! আর স্কয়ারের কোয়ালিটি আর, সৎ ব্যবসার কারণে সবার আস্থাভাজন আর, আস্থা স্কয়ার গ্রুপ!! তাই, ‘যাকে দেখতে নারী তার চলন বাকা’ প্রবাদটা সত্য করে প্রথম আলোর পিছনে ছুটল নিন্দুকেরা!!

২) আর সব-বারের মত এইবারও প্রথম আলোই প্রথম দৈনিক যে ফান্ড কালেক্ট করা শুরু করল। অর্থাৎ যারা উদ্দেশ্য নিয়েই ছিল প্রথম আলোর তিল মাত্র ভুলে পেলে তাল করবে তারাই সুযোগটা নিয়েছে!! এতে ‘আমার দেশ’ প্রেমিকদের সাথে অনেক প্রগতিশীলেরাও যোগ দিয়েছেন আবেগ তাড়িত হয়ে!! তাদের আবেগের প্রতি সম্মান রেখেই চুপ থাকা দরকার! আর প্রথম আলো যথারীতি ব্যতিক্রমী ধারাই সাহায্য দিয়ে সাভারের দুর্গতদের পাশে দাঁড়াবে আশা করি। এটাই যথার্থ জবাব!! কথায় নয় কাজেই জবাব দেয়া উচিৎ…

৩) ওয়ারফেজ এর ‘সত্য’ বা, আর্টসেলের ‘অনিকেত প্রান্তর’ অ্যালবাম-এর সব গান পছন্দ না হলেও আমি বাকি গানগুলো শুনি! অ্যালবাম ফেলে দেই না! অর্থাৎ, প্রথম আলোর প্রতি বছরের সফল আর, ভাল এই উদ্যোগটা এইবার সময়ের যথার্থতা বিচারে সাময়িক ভুল মনে হলেও এর জন্যে গুরুদণ্ড দিতে রাজি না।

৪) আমার মনে হয় প্রথম আলোর পাঠকদের এতে আঘাত না পেয়ে বরং কিছুটা খুশিই হাওয়া উচিৎ! কারণ, অন্য কোনো পত্রিকা নিয়ে এমনটা হয় না। প্রথম আলোর অনেক ভালো ভালো কাজ আছে বলেই আজ তাদের উপর জনগণের এত প্রত্যাশা! প্রথম আলো শুধু একটা পত্রিকা না, আজ একটা আন্দোলনের নাম!! এদেশে দৈনিক পত্রিকার একটা স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রথম আলো। আমরা দেখেছি, প্রথম আলো পরবর্তী যতগুলো পত্রিকা এসেছে বাজারে তারা কেউ এর বাইরে যেতে পারেনি। অনেক ক্ষেত্রেই হুবহু নকল করেছে প্রথম আলোকে, পুরা ফরমেট মাইরা দেই। পরিমল-পারসোনা, বা হালের আব্দুল হাই বিতর্কের পরেও প্রথম আলো অনেক বড় ব্যবধানেই সবার থেকে এগিয়ে!! তার অনেক কারণই আছে, ভেঙ্গে বলার প্রয়োজনবোধ করছি না!!

৫) হাজি-নান্না-ফখরুদ্দিন-মামুন-হাণ্ডির বিরিয়ানিও যেমন কেউ খাওয়া বন্ধ করেনি, তেমনি দেশের তাবৎ মিষ্টির দোকানের কোন মিষ্টিই অবিক্রিত থাকেনি!! এতে যেমন প্রমাণ হয় না, জনগণ সাভার হত্যাকাণ্ডে খুশি, তেমনি মেরিল-প্রথম আলো তারকা অনুষ্ঠানেও প্রমাণ হয়না প্রথম আলো শোকাহত না!! কোন দুর্ঘটনায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে দমায় রাখে না!! আজ আমি শোকাহত আবার, আমিই অফিস করি-চা খাই-আড্ডা মারি-বড় ভাইয়ের বাচ্চাদের নিয়ে হাসি এই সব নিয়েই মানুষের জীবন!! জাতি হিসেবে আমরা অনেক আবেগপ্রবণ। আবেগ দিয়ে অনেককিছুই অর্জন হয় আবার অনেককিছুই ভুল হয়। আমরাই পিটিয়ে মানুষ মারি আবার আমরাই নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসহায়ের জীবন বাঁচাই।

৬) আমারতো মনে হয় মেরিল-প্রথম আলোর অনুষ্ঠানটা পিছালেও সমালোচনা হত, এইভাবেঃ- “ওই পুঁজিবাদের আর, ব্যবসায়ীদের তাবেদারেরা শ্রমিকদের নিরাপত্তা না দিয়ে এখন জনগণের আবেগ কাজে লাগাই ভাব নিচ্ছে। সব শালাই ভণ্ডের দল!!” ব্লা… ব্লা… ব্লা… “তামাশা করতেছে এই পুঁজিবাদের তাঁবেদারেরা! মরার আগে কিছু করতে পারল না, আর আজ মরার পর মানুষের আবেগ নিয়ে ব্যবসার ধান্ধা!”

৭) কারো একহাত নেয়ার উদ্দেশ্য না থাকলে আনিসুল হককে কেউ অযথা অযাচিত এইভাবে আক্রমণ করতে পারেন না! কারণ, দোষত্রুটি খুঁজতে গেলে প্রতিটি মানুষের মধ্যেই কিছু না কিছু দোষত্রুটি পাওয়া যাবেই! এখন প্রশ্ন আমরা কি দোষত্রুটি খুঁজবো না এরমধ্যেই পজিটিভ কিছু আছে কিনা সেটাকে প্রাইওরিটি দিবো? সমালোচনা করতে চাইলে করেন সাম্রাজ্যবাদ আর, পুঁজিবাদের এই আগ্রাসন নিয়ে । যারা এই গরীব দুঃস্থদের শ্রমের টাকা দিয়ে পোরশে-বিএমডবলু-ক্যাডিলাক-পাজেরো হাঁকান!! তারচেয়ে বড় কথা পারলে শুধু সমালোচনা না করে মাথা খাটিয়ে এসবের হাত থেকে উত্তরণের পথ কী হতে পারে সেগুলো নিয়ে “brain storm” বা, চিন্তার ঝড় বসিয়ে ভাল কিছু করে দেখান।

আমরা বাংলাদেশে হাজারো সমস্যার মধ্যে ডুবে আছি। সেগুলো থেকে সবার আগে মুক্তি পেতে হবে একেক করে। শিক্ষা তার মধ্যে অন্যতম, জনসংখ্যার পরেই শিক্ষা। ছোট্ট একটা দেশে এত মানুষ কেন হবে? এতধরণের শিক্ষা ব্যবস্থা কেন হবে? আজ শ্রেণিবৈষম্য শুধু অর্থের বিচারে নয়, শিক্ষার মধ্যেও ডুকে গেছে। গরীবের স্কুল -বড়লোকের স্কুল। শিশুকাল থেকেই শেখানো হচ্ছে পুঁজিবাদ।শিক্ষার মূল উদ্যেশ্যকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে গাড়িঘোড়াতে চড়ার মধ্যেই সাফল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে শিক্ষার ! বিভক্ত করা হচ্ছে জাতিকে! ধনী-গরিব, ইংলিশ মিডিয়াম-বাংলামিডিয়াম, স্কুল-মাদ্রাসা ইত্যাদি শতশত ভাগে! কীভাবে দেশ এগিয়ে যাবে সামনের দিকে?
সেখানে প্রথম আলো কী এক ছাইপাশ অনুষ্ঠান করলো কেন, তাই নিয়ে আমরা নেচে যাচ্ছি ধাই ধাই করে!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “মেরিল – প্রথম আলো পুরষ্কার আর সাভার ট্র্যাজেডি

    1. প্রথম আলোর বর্তমান
      :প্রশ্ন: :প্রশ্ন: :প্রশ্ন: :প্রশ্ন: :প্রশ্ন:
      প্রথম আলোর বর্তমান গ্রহণযোগ্যতা ০ কোঠায় আমার কাছেও!
      কিন্তু ঐ বিতর্কটা অহেতুক ছিল…
      ধন্যবাদ ব্রহ্মপুত্র!!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

45 − 43 =