**** রক্তাক্ত ১৫ই আগস্ট, ১৯৭৫এর পথে – পর্ব – ২ ****

?w=640&h=361″ width=”600″ />
৩০টি টি-৫৪ ট্যাঙ্ক এবং ৪০০ রাউন্ড ট্যাঙ্কের গোলা ১৯৭৪ সালের জুলাই মাসে দেশে এসে পৌছালো। এর সাথে সাথেই সেনাবাহিনীর শক্তি একলাফে অনেকটাই বেড়ে গেলো। ইন্ডাকশন প্যারেডের মাধ্যমে এই ট্যাঙ্কগুলো ১ম বেঙ্গল ল্যান্সারে যুক্ত হলো। গঠিত হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম পুর্ন শক্তির ট্যাঙ্ক রেজিমেন্ট। রেজিমেন্টের পক্ষ থেকে ট্যাঙ্কগুলো গ্রহন অনুষ্ঠানে ছিলেন মেজর ফারুক রহমানও। যদিও তিনি রেজিমেনের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড, তবুও সবচেয়ে অভিজ্ঞ অফিসার হিসেবে সেগুলো সরাসরি তার নিয়ন্ত্রনে চলে এলো।

অদ্ভুত এক উপহারের প্রতিদান দেয়া হলো আরো অদ্ভুতভাবেই। আর এই অদ্ভুত উপহারই মাত্র এক বছর পর বাংলাদশের ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে বড় ভুমিকা রাখবে।

?w=640&h=361″ width=”600″ />
প্রথম পর্ব
২৭শে অক্টোবর, ১৯৭৩
ঢাকা, বাংলাদেশ
বাংলাদেশ বিমানের চা বোঝাই একটি বোয়িং-৭০৭ বিমান এইমাত্র টেক-অফ করলো মিসরের রাজধানী কায়রোর উদ্দেশ্যে। চলমান আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকার তার আরব ভাইদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চাইছিলো, কিন্তু দেশের যে অবস্থা তাতে অর্থ কিংবা অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করবার সামর্থ্য নেই। তবে বাঙ্গালী মুসলমান ভাইয়েরা যে আরবদের সাথেই আছে তা জানাতে এই বিমানে করে পাঠানো হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে উন্নতমানের চা পাতা। বিমানটি কায়রোতে অবতরনের চেষ্টা করলেও তা বন্ধ থাকবার কারনে লিবিয়ার বেনগাজীতে অবতরন করলো। সেখান্থেকে এই চা আনলোড করে মিসরে পাঠানো হলো।

মিসরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত বাঙ্গালীদের আন্তরিকতার কথা ভুললেননা। তিনি এর আরো ভালো প্রতিদান দিতে চাইলেন যুদ্ধ শেষ হবার পর। তিনি জানতেন বাংলাদেশের তেমন কোন ভালো অস্ত্র নেই। তাই তিনি বাংলাদেশকে ৩০ টি রাশিয়ায় তৈরী টি-৫৪ ট্যাঙ্ক উপহার দেবার সিদ্ধান্ত নিলেন। মিসরের হাতে যুদ্ধের পরেও হাজার খানেক ট্যাঙ্ক ছিলো। এই প্রস্তাব মার্চ-এপ্রিলের দিকে বঙ্গবন্ধুকে জানানো হয়। তিনি কিছুটা দ্বিধাগ্রস্থ এবং অপ্রস্তুত ছিলেন এই উপহার গ্রহনের ব্যাপারে। কারন তিনি জানতেন এমন মারনাস্ত্র সেনাবাহিনীর হাতে পরলে কি পরিনতি হতে পারে। তিনি সেনাবাহিনীকে যে পর্যায়ে রাখতে চাইছিলেন সেই ধারনার পরিপন্থি হলো এই অদ্ভুত প্রতিদান। এই অস্ত্র হাতে পেলে সেনাবাহিনীর শক্তি অনেকাংশে বেড়ে যেতো। কারন তখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় শক্তি বলতে ছিলো মাত্র ৩টি এম-৪৮ ট্যাঙ্ক। তবে পররাস্ট্র মন্ত্রনালয় এবং তার মন্ত্রীদের পরামর্শে তিনি এই উপহার গ্রহনে রাজী হলেন, কারন এই উপহার গ্রহন না করার কোন যুক্তি সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা সম্ভব ছিলোনা।

৩০টি টি-৫৪ ট্যাঙ্ক এবং ৪০০ রাউন্ড ট্যাঙ্কের গোলা ১৯৭৪ সালের জুলাই মাসে দেশে এসে পৌছালো। এর সাথে সাথেই সেনাবাহিনীর শক্তি একলাফে অনেকটাই বেড়ে গেলো। ইন্ডাকশন প্যারেডের মাধ্যমে এই ট্যাঙ্কগুলো ১ম বেঙ্গল ল্যান্সারে যুক্ত হলো। গঠিত হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম পুর্ন শক্তির ট্যাঙ্ক রেজিমেন্ট। রেজিমেন্টের পক্ষ থেকে ট্যাঙ্কগুলো গ্রহন অনুষ্ঠানে ছিলেন মেজর ফারুক রহমানও। যদিও তিনি রেজিমেনের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড, তবুও সবচেয়ে অভিজ্ঞ অফিসার হিসেবে সেগুলো সরাসরি তার নিয়ন্ত্রনে চলে এলো।

অদ্ভুত এক উপহারের প্রতিদান দেয়া হলো আরো অদ্ভুতভাবেই। আর এই অদ্ভুত উপহারই মাত্র এক বছর পর বাংলাদশের ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে বড় ভুমিকা রাখবে।

জানুয়ারী (শেষ সপ্তাহ), ১৯৭৪
ঢাকা, বাংলাদেশ
মেজর ডালিমের (বীর উত্তম) খালাতো বোন তাহমিনার বিয়ে ঠিক হয়েছে কর্নেল রেজার সাথে। দুপক্ষই মেজর ডালিমের বিশেষ ঘনিষ্ট। ঢাকা লেডিস ক্লাবে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। বিয়েতে উপস্থিত আছেন অনেক গন্যমান্য সামরিক এবং বেসামরিক ব্যক্তি। । পুরো অনুষ্ঠানটাই তদারক করছেন মেজর ডালিমের রুপবতী স্ত্রী নিম্মী এবং মেজর ডালিম নিজেই। উনার শ্যালক বাপ্পীও ছুটিতে এসেছে ক্যানাডা থেকে, সেও বিয়েতে সেও উপস্থিত। বিয়ের কাজ সুষ্ঠভাবেই এগিয়ে চলেছে। রেডক্রস চ্যেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফার ওরফে ‘গুন্ডা রাজা’র পরিবারও উপস্থিত রয়েছেন আমন্ত্রিতদের মধ্যে। বাইরের হলে পুরুষদের বসার জায়গায় বাপ্পী বসেছিল, তার ঠিক পেছনের সারিতেই বসেছিল গাজীর সাগপাঙ্গরা। বয়সে তারা সবাই কমবয়সী ছেলে-ছোকরা। বাপ্পী মেজর ডালিমের সমবয়সী। হঠাৎ করে গাজীর ছেলেরা পেছন থেকে কৌতুকচ্ছলে বাপ্পীর মাথার চুল টানলে সে পেছনে তাকালে ওরা নির্বাক বসে থাকে। এভাবে দু’তিনবার চুলে টান পড়ার পর বাপ্পী রাগান্বিত হয়ে ওদের জিজ্ঞেস করে,

– “চুল টানছে কে?”

ওই সাংপাঙ্গদের একজন জবাব দেয়,

– “আমরা পরখ করে দেখছিলাম আপনার চুল আসল নাকি পরচুলা লাগিয়েছেন।“

এদের এমন অযৌকিক রসিকতায় বাপ্পী যুক্তিসঙ্গত কারণেই ভীষণ ক্ষেপে গেলেন, কিন্তু কিছুই বললেন না। তবে মাথা ঘুরিয়ে নিতেই আবার চুলে টান পরে। এবার বাপ্পী যে ছেলেটি চুলে টান দিয়েছিল তাকে ধরে ঘর থেকে বের করে দিয়ে বলে,

– “বেয়াদব ছেলে, মশকরা করার জায়গা পাওনি? খবরদার তুমি আর এ জায়গায় বসতে পারবেনা।“

এরপর বাপ্পী আবার তার জায়গায় ফিরে আসে। তবে বিয়ের আনুষ্ঠিকতার প্রায় সবকিছুই যখন প্রায় শেষ এবং অতিথিরা ফিরে যাচ্ছিলেন দ্রুতই। কারন টেলিভিশনে সত্যজিৎ রায়ের পুরষ্কার প্রাপ্ত ছবি ‘মহানগর’ সিনেমা দেখাবার কথা আজকেই। অল্প সময়ের মধ্যেই লেডিস ক্লাব প্রায় ফাঁকা হয়ে গেল। এরপর ঘনিষ্ট আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে অখন সবেমাত্র খেতে বসেছেন মেজর ডালিম। হঠাৎ দু’টো মাইক্রোবাস এবং একটা প্রাইভেটকার এসে ঢুকল লেডিস ক্লাবে। কার থেকে নামলেন স্বয়ং গাজী গোলাম মোস্তফা আর মাইক্রোবাস দু’টো থেকে নামল প্রায় ১০-১২ জন অস্ত্রধারী সাঙ্গপাঙ্গ। গাড়ি থেকেই প্রায় চিৎকার করতে করতে বের হলেন গাজী গোলাম মোস্তফা,

– “কোথায় মেজর ডালিম? বেশি বার বেড়েছে। আজ তোকে আমি শায়েস্তা করব। কোথায় সে?”

মেজর ডালিম তখন ভেতরে সবার সাথে খাবার খাচ্ছিলেন। কে যেন এসে বলল গাজী এসেছে। মেজর ডালিম তাকে অর্ভ্যথনা করার জন্য বাইরে বেরিয়ে এলেন। বারান্দায় আসতেই ৬-৭জন স্টেনগানধারী যুবক তার শরিরে অস্ত্র ঠেকিয়ে ঘিরে দাড়াল। ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি হতবাক! এরপর সামনে এসে দাড়ালেন স্বয়ং গাজী। মেজর ডালিম তাকে জিজ্ঞেস করলেন,

– “ব্যাপার কি? এসব কিছুর মানে কি?”

তবে গাজী তখন ভীষণভাবে ক্ষীপ্ত। একনাগাড়ে শুধু বলে চলেছেন,

– “গাজীরে চেন না। আমি বঙ্গবন্ধু না। চল শালারে লইয়া চল। আইজ আমি তোরে মজা দেখামু। তুই নিজেরে কি মনে করছস?”

অশালীনভাবে কথা বলছিলেন বস্তির রাজা। মেজর ডালিম প্রশ্ন করলেন,

– “কোথায় কেন নিয়ে যাবেন আমাকে?”

তার প্রশ্নের কোন জবাব না দিয়ে তিনি নির্দেশ দিলেন তার অস্ত্রধারী অনুচরদের। তার ইশারায় অস্ত্রধারীরা সবাই তখন মেজর ডালিমকে টানাহেচড়া করে মাইক্রোবাসের দিকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছে। বিয়ের উপলক্ষ্যে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের বন্দোবস্ত করা হয়েছিলো। গাড়িতে মেজর ডালিমের এসকর্ট সিপাহীরাও ছিলো। মেজর ডালিম ঠিক বুঝতে পারলেননা না কি করা উচিত। হঠাৎ উনি দেখলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আলম এবং চুল্লুকে মারতে মারতে একটি মাইক্রোবাসে উঠাচ্ছে ৩-৪ জন অস্ত্রধারী। ইতিমধ্যে বাইরে হৈ চৈ শুনে নিম্মী এবং তাহমিনার মা বেরিয়ে এসেছেন অন্দরমহল থেকে। তাহমিনার মা ছুটে এসে গাজীকে বললেন,

– “ভাই সাহেব একি করছেন আপনি? ওকে কেন অপদস্ত করছেন? কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন ওকে? কি দোষ করেছে ও?”

গাজী তার কোন কথারই জবাব দিলেন না। তার হুকুমের তামিল হলো, জোর করে ঠেলে উঠানো হলো মাইক্রোবাসে। বাসে উঠে মেজর ডালিম দেখলেন আলম ও চুল্লু দু’জনেই গুরুতরভাবে আহত। ওদের মাথা এবং মুখ থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল। তাকে গাড়িতে তুলতেই তাহমিনার মা এবং নিম্মী দু’জনেই গাজীকে বলল,

– “ওদের সাথে আমাদেরকেও নিতে হবে আপনাকে। ওদের একা নিয়ে যেতে দেব না আমরা।“

– “ঠিক আছে, তাই হবে।“

গাজীর ইশারায় তাদেরকেও ধাক্কা দিয়ে উঠান হল মাইক্রোবাসে। অস্ত্র তাক করে দাড়িয়ে থাকলো পাঁচজন অস্ত্রধারী; গাজীর সন্ত্রাস বাহিনীর মাস্তান। গাজী গিয়ে উঠল তার কারে। বাকি মাস্তানদের নিয়ে দ্বিতীয় মাইক্রোবাসটা কোথায় যেন চলে গেল। মাইক্রোবাস দুটি ছিল সাদা রং এর এবং তাদের গায়ে ছিল রেডক্রসের চিহ্ন আঁকা। গাজীর গাড়ি চললো আগে আগে আর মেজর ডালিমদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি চললো তার পেছনে।

এসকল ঘটনা যখন ঘটছিলো, তখন মেজর ডালিমের ছোটভাই মুক্তিযোদ্ধা কামরুল হক স্বপন (বীর বিক্রম) ও বাপ্পী লেডিস ক্লাবে উপস্থিত ছিল না। তারা গিয়েছিলেন কোন এক অতিথিকে ড্রপ করতে। গাজী তার দলবলসহ লেডিস ক্লাব থেকে বেরিয়ে যাবার পর তারা ফিরে এসে সমস্ত ঘটনা জানতে পারলেন। সবকিছু জানার পরমুহুর্তেই তারা যোগাযোগ করলেন রেসকোর্সে আর্মি কন্ট্রোল রুমে তারপর ক্যান্টনমেন্টের এমপি ইউনিটে। ঢাকা ব্রিগেড মেসেও খবরটা পৌঁছে দিলেন স্বপন। তারপর তিনি বেরিয়ে গেল ঢাকা শহরের মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগাযোগ করে আমাদের খুঁজে বের করার জন্য। আবুল খায়ের লিটু মেজর ডালিমের ছোট বোন মহুয়ার স্বামী এবং তার বন্ধু। তিনি ছুটে গেলেন এসপি মাহবুবের বাসায় বেইলী রোডে। উদ্দেশ্য মাহবুবের সাহায্যে গাজীকে খুঁজে বের করা।

এদিকে আমাদের কাফেলা গিয়ে থামল রমনা থানায়। গাজী তার গাড়ি থেকে নেমে চলে গেল থানার ভিতরে। অল্প কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে নিজের গাড়িতে উঠে বসলেন গাজী। কাফেলা আবার চলতে শুরু করল। কাফেলা এবার চলছে সেকেন্ড ক্যাপিটালের (রক্ষী বাহিনী সদর দফতর) দিকে। সেকেন্ড ক্যাপিটালের দিকে আমাদের নিয়ে যাচ্ছে মেজর ডালিম চিন্তিত হয়ে পড়লেন। রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে হত্যা করবে নাতো উনাদের এই চিন্তা মাথায় আসলো। গাজীর মতো লোকের পক্ষে সবকিছুই করা সম্ভব। হঠাৎ মেজর ডালিম বলে উঠলেন,

– “গাড়ি থামাও!”

মেজর ডালিমের বলার ধরণে ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে দিল। তাদের গাড়িটা থেমে পড়ায় সামনের গাজীর গাড়িটাও থেমে পড়ল। মেজর ডালিম তখন অস্ত্রধারী একজনকে লক্ষ্য করে বললেন গাজী সাহেবকে ডেকে আনতে। সে গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে গাজীকে গিয়ে কিছু বললো। এরপর গাজী নেমে আসলো। কাছে এলে মেজর ডালিম তাকে বললেন,
– “গাজী সাহেব, আপনি আমাদের নিয়ে যাই চিন্তা করে থাকেন না কেন; লেডিস ক্লাব থেকে আমাদের উঠিয়ে আনতে কিন্তু সবাই আপনাকে দেখেছে। তাই কোন কিছু করে সেটাকে বেমালুম হজম করে যাওয়া আপনার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব হবে না।“

মেজর ডালিমের কথা শুনে কি যেন ভেবে নিয়ে গাজী আবার তার গাড়িতে গিয়ে উঠলেন। কাফেলা আবার চলা শুরু করল। তবে এবার রক্ষীবাহিনীর ক্যাম্পের দিকে নয়, গাড়ি ঘুরিয়ে তিনি চললেন ধানমন্ডী ৩২নং সড়কের প্রধানমন্ত্রীর বাসার দিকে। মেজর ডালিমরা হাফ ছেড়ে বাচলেন।

কলাবাগান দিয়ে ৩২নং রোডে ঢুকে মাইক্রোবাসটা বঙ্গবন্ধুর বাসার গেট থেকে একটু দূরে একটা গাছের ছায়ায় থামতে ইশারা করে গাজী তার গাড়ি নিয়ে সোজা গেট দিয়ে ঢুকে গেলেন ৩২নং এর ভেতরে। সেকেন্ড ফিল্ড রেজিমেন্ট তখন শেখ সাহেবের বাড়ি পাহারা দিচ্ছে। মেজর ডালিম একবার ভাবলেন ওদের ডাকবেন, তবে এর ফলে যদি গোলাগুলি শুরু হয়ে যায় তবে ক্রসফায়ারে বিপদের ঝুঁকি বেশি বলে তা বাদ দিলেন। হঠাৎ উনি দেখলেন লিটুর (ঢাকা মেট্রো ক-৩১৫) সাদা টয়োটা কারটা পাশ দিয়ে হুশ করে এগিয়ে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাসার গেটে গিয়ে থামল। লিটুই চালাচ্ছিলেন গাড়িটা, গাড়ি থেকে নামলেন এসপি মাহবুবও। নেমেই প্রায় দৌড়ে ভিতরে চলে গেলেন এসপি মাহবুব। তবে লিটু একটু এগিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে অপেক্ষায় রইলেন। লিটু এবং এসপি মাহ্বুবকে দেখে মেজর ডালিমরা সবাই আস্বস্ত হলেন।

এর আগে লিটু গিয়ে এসপি মাহবুবকে এসব ঘটনা জানালে তা শুনে মাহবুব স্তম্ভিত হয়ে যান। প্রধানমন্ত্রীকেই খবরটা সবচেয়ে আগে দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন অঘটন ঘটে যাবার আগেই। গাজীর উপর কোন বিশ্বাস ছিলনা, তার দ্বারা সবকিছুই সম্ভব ছিলো। এসপি মাহবুব টেলিফোনের দিকে এগিয়ে যান তবে তখনই হঠাৎ টেলিফোন বেজে উঠে, রেড টেলিফোন। রিসিভার তুলতেই অপ্রপ্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রীর কন্ঠ শুনতে পান। উনি বললেন,

– “মাহবুব তুই জলদি চলে আয় আমার বাসায়। গাজী এক মেজর আর তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের ধইরা আনছে এক বিয়ার অনুষ্ঠান থ্যাইকা। ঐ মেজর গাজীর বউ এর সাথে ইয়ার্কি মারার চেষ্টা করছিল। উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে। বেশি বাড় বাড়ছে সেনাবাহিনীর অফিসারগুলির।“

সব শুনে মাহবুব জানতে চাইলো,

– “স্যার গাজী সাহেবকে জিজ্ঞেস করুন মেজর ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের কোথায় রেখেছেন তিনি?”

জবাবে বঙ্গবন্ধু বললেন,

– “ওদের সাথে কইরা লইয়া আইছে গাজী। গেইটের বাইরেই গাড়িতে রাখা হইছে বদমাইশগুলারে। জানালেন প্রধানমন্ত্রী।“

জবাবে এসপি মাহবুব বলেন,

– “স্যার গাজী সাহেব ডালিম আর নিম্মীকেই তুলে এনেছে লেডিস ক্লাব থেকে। ওখানে ডালিমের খালাতো বোনের বিয়ে হচ্ছিল আজ।“

বঙ্গবন্ধু অবাক হয়ে বলেন,

– “কছ কি তুই!”

এসপি মাহবুব বললেন,

– “আমি সত্যিই বলছি স্যার। আপনি ওদের খবর নেন আমি এক্ষুণি আসছি।“

এই কথোপকথনের পরই এসপি মাহবুব লিটুকে সঙ্গে করে চলে আসেন এখানে। মাহ্বুবের ভিতরে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর কন্যা রেহানা, ছেলে শেখ কামাল ছুটে বাইরে এসে তাদের ভিতরে নিয়ে যায়। আলম ও চুল্লুর রক্তক্ষরণ দেখে বঙ্গবন্ধু ও অন্যান্য সবাই শংকিত হয়ে পড়লেন। গাজীকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

– “হারামজাদা, এইডা কি করছস তুই?”

চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে নিম্মী এবং মেজর ডালিমকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। তাহমিনার মা ঠিকমত হাটতে পারছিলেন না। শেখ কামাল, রেহানারা সবাই ধরাধরি করে তাদের উপরে নিয়ে গেলেন। বঙ্গবন্ধুর কামরায় তখন মেজর ডালিম, নিম্মী আর গাজী ছাড়া অন্য কেউ ছিল না। নিম্মী দুঃখে-গ্ল্যানিতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। বঙ্গবন্ধু তাকে জড়িয়ে ধরে সান্তনা দিতে চেষ্টা করছিলেন। অদূরে গাজী ভেজা বেড়ালের মত কুকড়ে দাড়িয়ে কাঁপছিল।

হঠাৎ ফোন বেজে উঠল, রেড ফোন। বঙ্গবন্ধু নিজেই তুলে নিলেন রিসিভার। গাজীর বাসা থেকে ফোন এসেছে এবার। জানানো হলো আর্মি গাজীর বাসা রেইড করে সবাইকে ধরে নিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, পুরো শহরে আর্মি চেকপোষ্ট বসিয়ে প্রতিটি গাড়ি চেক করা হচ্ছে। ক্যান্টনমেন্ট থেকে কিডন্যাপিং এর খবর পাওয়ার পরপরই তরুন অফিসাররা যে যেখনেই ছিল সবাই বেরিয়ে পড়েছেন এবং খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে মেজর ডালিম ও তার স্ত্রী নিম্মীকে। গাজীকে এবং তার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদেরও খুঁজছে আর্মি তন্নতন্ন করে সম্ভাব্য সব জায়গায়। টেলিফোন পাওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর মুখটা কালো হয়ে গেল। ফোন পেয়েই তিনি আর্মি চীফ শফিউল্লাহকে হটলাইনে বললেন,

– “ডালিম, নিম্মী, গাজী সবাই আমার এখানে আছে, তুমি জলদি চলে আসো আমার এখানে।“

ফোন রেখে বঙ্গবন্ধু গাজীকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

– “মাফ চা নিম্মীর কাছে।“

গাজী নিম্মীর দিকে এক পা এগুতেই সিংহীর মত গর্জে উঠলেন নিম্মী,

– “খবরদার! তোর মত ইতর লোকের মাফ চাইবার কোন অধিকার নাই; বদমাইশ।“

এরপর শেখ মুজিবের দিকে ফিরে বলল নিম্মী,

– “কাদের রক্তের বদলে আজ আপনি প্রধানমন্ত্রী? আমি জানতে চাই। আপনি নিজেকে জাতির পিতা বলে দাবি করেন। আমি আজ আপনার কাছে বিচার চাই। আজ আমার জায়গায় শেখ হাসিনা কিংবা রেহানার যদি এমন অসম্মান হত তবে যে বিচার আপনি করতেন আমি ঠিক সেই বিচারই চাই।“

মেজর ডালিম অনেক চেষ্টা করেও স্ত্রীকে শান্ত করতে পারলেননা। বঙ্গবন্ধু নিম্মীর কথা শুনে তাকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বলেছিলেন,

– “মা তুই শান্ত ’হ। হাসিনা রেহানার মত তুইও আমার মেয়েই। আমি নিশ্চয়ই এর উপযুক্ত বিচার করব। অন্যায়! ভীষণ অন্যায় করছে গাজী কিন্তু তুই মা শান্ত ’হ।“

এরপর তিনি তার মেয়ে রেহানাকে ডেকে নিম্মীকে উপরে নিয়ে যেতে বললেন।

ইতিমধ্যে জেনারেল শফিউল্লাহ এবং ঢাকা ব্রিগেড কমান্ডার সাফায়াত জামিল এসে পৌঁছেছেন। বঙ্গবন্ধু তাদের অনুরোধ করলেন গাজীর পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দেবার বন্দোবস্ত করতে। জেনারেল শফিউল্লাহ রেসকোর্স কন্ট্রোল রুমে অপারেশন কমান্ডার মেজর মোমেনের সাথে কথা বলার জন্য টেলিফোন তুলে নিলেন,

-হ্যালো মোমেন, আমি শফিউল্লাহ বলছি প্রাইম মিনিষ্টারের বাসা থেকে। ডালিম, নিম্মী, গাজী ওরা সবাই এখানেই আছে। প্রাইম মিনিষ্টারও এখানেই উপস্থিত আছেন। Everything is going to be all right. Order your troops to stand down এবং গাজী সাহেবের পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দাও।“

অপরপ্রান্ত থেকে মেজর মোমেন জেনারেল শফিউল্লাকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিলেন কিডন্যাপ করে নিয়ে যাওয়া অফিসার এবং তার স্ত্রীকে না দেখা পর্যন্ত এবং গাজী ও তার ১৭জন অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তার হাতে সমর্পন না করা পর্যন্ত তার পক্ষে গাজীর পরিবারের কাউকেই ছাড়া সম্ভব নয়। জেঃ শফিউল্লাহ তাকে অনেক বোঝাতে চেষ্টা করলেন কিন্তু মেজর মোমেন তার অবস্থানে অটল থাকলেন শফিউল্লাহর সব যুক্তিকে অসাড় প্রমাণিত করে। অবশেষে শফিউল্লাহ ইচ্ছার বিরুদ্ধে অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রধানমন্ত্রীকে অপারেশন কমান্ডার এর শর্তগুলো জানালেন। বঙ্গবন্ধুর মুখ শুকিয়ে গেল। তিনি মেজর ডালিমকে অনুরোধ করলেন মেজর মোমেনের সাথে কথা বলতে। মেজর ডালিম টেলিফোন হাতে তুলে নিয়ে বললেন,

– “হ্যালো স্যার। মেজর ডালিম বলছি। Things are under control। প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছেন তিনি ন্যায় বিচার করবেন।“

জবাবে মেজর মোমেন বললেন,

– “ঠিক আছে ডালিম, তোমার কথা শুনে ভালোলাগছে। কিন্তু অপারেশন কমান্ডার হিসেবে আমি আমার দাবীগুলো থেকে সরে আসতে পারিনা। সেনাবাহিনী যতক্ষন পর্যন্ত দুস্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নিয়োজিত রয়েছে ততক্ষন পর্যন্ত আমি আবার দ্বায়িত্বের প্রতি নিষ্ঠাবান থাকবো। চিহ্নিত সশস্ত্র দুস্কৃতিকারীদের এভাবে মুক্তভাবে চলতে দেয়া যায়না। আমি যতদুর জানি আইন সবার জন্য সমান, তাই এর কোন ব্যত্যয় ঘটতে দেয়া যাবেনা। সেনাপ্রধানকে এটা বুঝতে হবে।”

জবাবে মেজর ডালিম বললেন,

– “প্লিজ স্যার, আপনি নিজে এসেই পরিস্থিতিটা বোঝার চেষ্টা করেন।”

মেজর মোমেন নির্লিপ্ত কন্ঠে উত্তর দিলেন,

– “আমার যাবার দরকার নেই। যাইহোক, আমি ক্যাপ্টেন ফিরোজকে পাঠাচ্ছি।”

এই বলে ফোন ছেড়ে দিলেন মেজর মোমেন। অল্পক্ষণের মধ্যেই ক্যাপ্টেন ফিরোজ এসে পড়লেন। উনি মেজর ডালিমের বাল্যবন্ধু। তবে বঙ্গবন্ধু আপোষ করবার চেষ্টা চালিয়ে গেলেন।

– “তুই গাজীরে মাফ কইরা দে। আর গাজী তুই নিজে খোদ উপস্থিত থাকবি কন্যা সম্প্রদানের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত।“

মেজর ডালিম জবাব দিলেন,

– “আমার বোনের সম্প্রদানের জন্য গাজীর বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবার কোন প্রয়োজন নেই। ওকে মাফ করাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সেটা হবে আমার জন্য নীতি বিরোধীতা। আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে কথা দিয়েছেন এর উচিত বিচার করবেন। আমরা আপনি কি বিচার করেন সেই অপেক্ষায় থাকব।“

এরপর মেজর ডালিম ক্যাপ্টেন ফিরোজকে উদ্দেশ্য করে সবার সামনেই বললেন,

– “দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন বিচারের ওয়াদা করেছেন সেক্ষেত্রে গাজীর পরিবারের সদস্যদের আর আটকে রাখার প্রয়োজন কি? কর্নেল মোমেনকে বুঝিয়ে তাদের ছেড়ে দেবার বন্দোবস্ত করিস।“

সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে আসছিলাম ঠিক সেই সময় বঙ্গবন্ধু বললেন,

– “আমার গাড়ি তোদের পৌঁছে দেবে।“

– “তার প্রয়োজন হবে না চাচা। বাইরে লিটু-স্বপনরা রয়েছে তাদের সাথেই চলে যেতে পারবো।“

সরাসরি এমন একটা কাঁচা কাজের সাথে গাজী সরাসরি নিজেকে কিভাবে জড়িয়ে ফেলেছিলো তার জন্য মেজর ডালিম ধারনা প্রকাশ করেন যে, তাদের কুমিল্লা অপারেশনের পর পার্টির তরফ থেকে বঙ্গবন্ধুর উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল তাদের, বিশেষ করে মেজর ডালিমের ঔদ্ধত্বের উপযুক্ত শিক্ষা দেবার জন্য। কিন্তু শেখ মুজিব ঐ চাপের পরিপ্রেক্ষিতে বলেছিলেন, “আর্মি কোন কাঁচা কাজ করে নাই। তারা আইন অনুযায়ী সবকিছু করছে, প্রত্যেককে ধরেছে হাতেনাতে প্রমাণসহ। সে ক্ষেত্রে আমি কি করতে পারি?” তার ঐ কথায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ আওয়ামী নেতাদের একাংশ। আইনের মাধ্যমে যদি কোন কিছু করা না যায় তবে অন্য কোনভাবে হলেও শিক্ষা তাদের দিতেই হবে এবং সেই দায়িত্বটাই গ্রহণ করেছিলেন সেই সময়ের গুন্ডা রাজা বলে পরিচিত গাজী গোলাম মোস্তফা। তখন থেকেই নাকি যে সুযোগ খুঁজছিলো জিঘাংসা মিটাতে। বিয়ে বাড়িতে বাপ্পি এবং তার ছেলেদের মাঝে যে সামান্য ঘটনা ঘটে সেটাকেই সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করে গাজী চেয়েছিল মেজর ডালিমকে উচিত শিক্ষা দিতে। এ বিষয়ে মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি তার বই ‘বাংলাদেশ! সামরিক শাসন এবং গণতন্ত্রের সংকট’ এ লিখেছেন,

– “গাজী সমর্থক লোকদের সম্ভবতঃ মেজর ডালিম ও তার স্ত্রীকে হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল।”

এই ঘটনার প্রধানত তিনটা ভার্সন আছে, সবগুলোতেই গাজী ভিলেন হিসেবেই উপস্থাপিত হয়েছেন। একটায় বলা হয় মেজর ডালিমের স্ত্রীকে গাজীর সাঙ্গপাঙ্গরা উত্তক্ত করে এবং এক পর্যায়ে উঠিয়ে নিয়ে যায়। আরেকটায় আছে গাজী নিজে মেজর ডালিমের স্ত্রীর প্রতি কটূক্তি করেন এবং তুলে নিয়ে যাবার চেষ্টা করেন।

এরপর মেজর ডালিমকে কুমিল্লায় ১ম ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারীতে বদলী করা হয়। সেখানে তার পরিচয় হবে সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, ক্যাপ্টেন বজলুল হুদা এবং মেজর আজিজ পাশার সাথে। তবে কোন এক ঘটনার পর প্রেসিডেন্টের নির্দেশে সেনাবাহিনীর তদন্ত হয়, এবং সেই তদন্তের সুপারিশক্রমে ২২জন তরুন কর্মকর্তাকে শৃংখলা ভঙ্গের জন্য বরখাস্ত করা হয় এদের মধ্যে ছিলেন মেজর ডালিম, জেঃ ওসমানীর এডিসি মেজর নুর চৌধুরী এবং ক্যাপ্টেন বজলুল হুদাও (এন্থনী মাসকারেনহাসের লিগ্যাসী অফ ব্লাড থেকে)। মেজর ডালিমের মতে তা ঘটে গাজীর চক্রান্তেই। সে প্রতিশোঢ নিতে ভেতরে ভেতরে মরিয়া ছিলো।

গাজী কি শাস্তি পেয়েছিলো আমাদের জানা নেই, তবে বাকশালের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে পরে তাকে স্থান দেয়া হয়। মেজর ডালিমকেও পারিবারিক পরিচয়ের সুত্র ধরে ব্যবসায় সাহায্য করার ব্যবস্থা করেন বঙ্গবন্ধু, তবে এই তিনজন সেনা কর্মকর্তার মনের ক্ষোভ কিছুতেই প্রশমিত হবার ছিলনা। যদিও তারা ততদিনে আর চাকরিতে নেই।

তবে মেজর ডালিমের উদাহরন অনেক তরুন অফিসারই মেনে নিতে পারেনি। তারা মনে করছিলো কেবল বঙ্গবন্ধুই নয়, বরং সেনাবাহিনীর উপরের স্তরের অফিসারদের দিয়েও প্রতারিত হয়েছেন। তারা এরপর থেকে নিজেদের সাথে ব্যক্তিগত অস্ত্র রাখা শুরু করেন এবং নিজেদের অসন্তোষের কথা প্রকাশ্যেই বলতেন। বঙ্গবন্ধুও গোয়েন্দা সুত্রে এসব জানতেন, তবে না প্রশমিত না করে তিনি আরো বেশি রকমভাবে রক্ষী বাহিনীর দিকে ঝুকে পরলেন এসব হুমকীর মোকাবেলা করতে। যতটাই তিনি রক্ষী বাহিনীর উপর নির্ভরশীল হচ্ছিলেন, সেনাবাহিনী থেকে তার ততটাই দুরত্বের সৃষ্টি হচ্ছিলো।

চলবে…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

75 + = 80