সাইবার ক্রাইম

তথ্য ও প্রযুক্তি আধুনিক জীবনকে করে তুলেছে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় কিন্তু কিছু অসৎ ব্যক্তি তথ্য ও প্রযুক্তির অপব্যবহার করে চলেছে। যার নেতিবাচক প্রভাব ব্যক্তিজীবন ও সামাজিক জীবনে এসে পড়ছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিসীম। তথ্য ও প্রযুক্তির দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইতিবাচক ও নেতিবাচক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে কেন্দ্র করে সাইবার ক্রাইম সংঘটিত হচ্ছে। প্রচলিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে ফেসবুক সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। সাইবার অপরাধীরা হ্যাকিং-এর মাধ্যমে সমাজের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন ব্যক্তি ও মহিলাদের একাউন্টে প্রবেশ করে তাদের ছবি, ব্যক্তিগত ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে এবং এসব তথ্য দিয়ে তারা আইনবিরোধী কাজ করছে। হ্যাকিং হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কেউ কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়া কোনো কম্পিউটার বা কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে। যারা এ হ্যাকিং করে তাদের হ্যাকার বলা হয়। তথ্য ও প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে বিশ্বজুড়ে নারী নির্যাতন বাড়ছে। বিভিন্নভাবে নারী সমাজ সাইবার ক্রাইমের ফলে নির্যাতিত হচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায় একজনের ছবি ফেসবুক থেকে নিয়ে অন্যের ছবিতে প্রযুক্তির মাধ্যমে জুড়ে দেওয়া হয়। তৈরি করা হয় পর্ণোগ্রাফি। একদিকে বিজ্ঞানের আবিষ্কার মানুষের জীবনে অনাবিল সুখ বয়ে আনছে অপরদিকে বিজ্ঞানের অপপ্রয়োগ ধ্বংস ও ক্ষতির সম্ভাবনাও সৃষ্টি করছে। প্রায়ই দেখা যায়, ফেসবুক, ব্লগ, ইউটিউব, টুইটার প্রভৃতিতে মিথ্যা, অশ্লীল ও অবমাননাকর ছবি এবং সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এসব সংবাদ ও ছবি প্রকাশের পেছনে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য থাকে। আর উদ্দেশ্যটি হলো কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সম্প্রদায় বা দলকে জনসম্মুখে অবমাননা ও হেয় করা। এসব মাধ্যম ব্যবহারকারীরা অনেকে না বুঝে এ ধরনের ছবি ও সংবাদে লাইক প্রদান বা শেয়ার করেন এবং অপরাধকারীরা পরোক্ষ সহায়তাকারী হিসেবে বিবেচিত হোন। তথ্য প্রযুক্তির যুগে অপরাধী বেশ দক্ষতার সাথে পরিকল্পিত উপায়ে অপরাধ করে চলছে। প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে অনেক মানুষের জীবনকে সঙ্কটাপন্ন করে তুলেছে, অনেকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সমাজে তৈরি হয়েছে এক ধরনের প্রযুক্তি সন্ত্রাস। তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতাও অধিক জরুরি। প্রযুক্তি ব্যবহারে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বেশি তাই তাদের সচেতন করা সবচেয়ে জরুরি। উঠতি বয়সী কিশোর-কিশোরীরা অনেক অপরিচিত বিষয় তাদের বন্ধুদের কাছ থেকে শেখে, ফলে তাদের বিপথগামী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তার চেয়ে অভিভাবকরা সন্তানদের সাথে প্রযুক্তির ভাল এবং ক্ষতিকর দুটি দিক নিয়েই আলোচনা করতে পারে, এতে তরুণরা সচেতন হবে। আর তাহলে সমাজে তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

69 − 61 =