ইহুদি নিধন

ইহুদি জনগোষ্ঠী শুধু ধর্মের কারনে যত অত্যাচারের শিকার হয়েছে তার দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে বিরল। নাৎসি বাহিনির উত্থানের সাথে সাথেই তাদের কপাল পুড়তে লাগল। শিক্ষা, জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা, পেশা, ব্যবসা, অর্থনীতির সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা তৎকালীন ইহুদি জনগোষ্ঠী শুরু থেকেই নাৎসিবাদের চরম নির্যাতনের শিকার হতে লাগল। তাদেরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করা হলো, তাদের অর্জিত শিক্ষা সনদ বাতিল করে দেয়া হলো, চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো। সবথেকে ভয়ানক যে ব্যাপার ঘটল, সেটা হলো ইহুদি জনগোষ্ঠীকে নাম নিবন্ধন করা হলো। সেখানে সবার নাম, ধাম, পেশা, সম্পত্তির বিবরণ লিপিবদ্ধ করা হলো। আসলে একদিন সবাইকে ইউরোপকে ইহুদিশূন্য করার পূর্ব পরিকল্পনা হিসেবেই এটা করা হয়েছিল।

সর্বাত্মক ইহুদি নিধনের অংশ হিসেবে ১৯৩৮ সালের ৯-১০ নভেম্বর রাতের অন্ধকারে কোন উস্কানি ছাড়াই ইহুদি বসতি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সিনেগগে আগুন ধরিয়ে দেয়া এবং প্যারামিলিটারি বাহিনী ব্যাপক ভাংচুর চালায়। জার্মান জনগণ খুব আনন্দের সাথে সেই আগুন উপভোগ করেছিল হয়ত নিবারণ করেছিল শীতের কামড়। ঐ দুই রাতে প্রায় ১০০০ সিনেগগ আগুন পুড়িয়ে দেয়া হয়, লুটতরাজ করা হয় ৭০০০ ইহুদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। হিটলার এক জনসভায় বলেছিলো ”যদি সত্যিই আমি ক্ষমতায় যেতে পারি, আমার প্রথম এবং প্রধান কাজ হবে ইহুদি নিধন করা। রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার সাথে সাথে মিউনিখের প্রধান রাস্তায় আমি সারি সারি ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করব নগরের রাস্তায় একধারে যতগুলো সম্ভব। তখন ইহুদিদের নির্বিচারে ঝুলিয়ে দেয়া হবে এবং তাদেকে ঝুলিয়েই রাখা হবে মৃতদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানো পর্যন্ত। পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যগত ইস্যু মাথায় রেখে লাশ পচে যাওয়ার আগে নামিয়ে আর এক দলকে ঝুলিয়ে দিতে হবে। এভাবে মিউনিখে শেষ ইহুদি নিশ্চিহ্ন হওয়া পর্যন্ত হত্যা চলতেই থাকবে। অন্যান্য শহরেও একই কার্যক্রম চলবে। এভাবে পুরো জার্মানিকে ইহুদিমুক্ত করতে হবে। ইহুদি হলো পৃথিবীর প্লেগ”।

১৯৪১ সালের আগস্টের এক সুন্দর সকালে হিটলারের সবথেকে প্রিয়ভাজন হাইনরিখ হিমলার যিনি জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সশরীরে মিনস্কে গেলেন ইহুদি নিধনের অগ্রগতি দেখতে। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে ইহুদি যন্ত্রণাকেন্দ্র। পোল্যান্ড, রাশিয়া, বেলারুশ, ইউক্রেন থেকে ধরে আনা ইহুদিদের এখানেই বিদায় জানানো হবে চিরতরে। হিমলারের সম্মানে তার সামনে ১০০ ইহুদিকে নগরের অনতিদূরে একটা অগভীর খালের মধ্যে সারিবদ্ধভাবে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। বীভৎস যন্ত্রণায় অথবা সুখে নীলরক্তের আর্য হিমলারের মুখ নীলচে হয়ে গিয়েছিল। এমন রাজকীয় পরিদর্শনকে স্মরণীয় করে রাখতেই হয়ত এক ইহুদির মাথা থেকে ছিটকে একদলা ঘিলু হিমলারের মুখের উপর এসে পড়ে, তিনি পকেট থেকে অভিজাত রুমাল বের করে নোংরা ঘিলু মুছতে মুছতে বমি করে ফেললেন। এই সাময়িক বৈকল্য কাটিয়ে উঠেই তিনি গোপনবাহিনীর উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেছিলেন, এই কাজের জন্য তাদেরকে ব্যক্তিগত জীবনে আরও বেশি বেশি পার্টির সর্বোচ্চ নৈতিক নীতিমালার চর্চা করতে হবে।

ইহুদি নিধনের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন জৈব পরীক্ষা ইহুদিদের উপর চালানো। বোধহয় অন্যান্য পেশাজীবীদের তুলনায় জার্মান ডাক্তারগণ ছিলেন প্রায় সবাই মানসিকভাবে নাৎসিগ্রস্থ। যন্ত্রণাকেন্দ্রে ডাক্তারগণ ধরে আনা ইহুদি শিশুদেরকে খেলনা, মিষ্টি দিয়ে আদর করে ডেকে নিতেন একান্ত গবেষণাগারে। এমনই এক ডাক্তারের নাম জোসেফ মিঙ্গেল। ইহুদি শিশুরদল তাকে আংকেল বলে ডাকত। জোসেফ মিঙ্গেল শিশুদেরকে আদর করে শরীরে বাতাস ভরে দেখতেন তাদের শারীরিক পরিবর্তন, নতুন আবিষ্কৃত ওষুধ প্রয়োগ করে কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখতেন, জীবিত অবস্থায় হিমায়িত করে ফেলতেন, চোখে রাসায়নিক রঙ ইনজেকশন করে তাদের চোখের রঙ পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন, চেষ্টা করেছিলেন অঙ্গ প্রতিস্থাপন, কর্তন, বর্জন এরকম নানা অভিনব শৈল্য চিকিৎসা। ডাক্তার মিঙ্গেল তার কাজের পরিপূর্ণ বিবরণের ফিরিস্তি পাঠিয়েছিলেন ডাক্তার ওটমার ভন ভারশারের কাছে। নীল রক্তের ভদ্রলোকটি বোধহয় চিকিৎসা বিজ্ঞানের এত গবেষণা অথবা নিষ্ঠুরতা মেনে নিতে পারেন নি। তিনি সমস্ত গবেষণার স্তুপ পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। ডাক্তার মিঙ্গেলের পরীক্ষায় যারা তাৎক্ষনিক বেঁচে থাকত তাদের সবাইকেই গুলি করে মারা হত অথবা কিছুদিনের মধ্যেই জীবিত ময়নাতদন্ত করা হতো। ডাক্তার মিঙ্গেল যন্ত্রণাকেন্দ্রে পঞ্চাশজোড়া যমজ বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করেছিলেন। একদিন চার বছর বয়সী একজোড়া যমজ শিশুনিয়ে গবেষণাগারে গেলেন, যখন ফিরে এলেন শিশু দুইটির অবস্থা আর দেখার মত ছিল না। ডাক্তার মিঙ্গেল তাদেরকে মেরুদণ্ডসহ জোড়া লাগিয়ে দিয়েছেন। তাদের ক্ষত মারাত্মকভাবে জীবাণু সংক্রামিত হয়ে গেল, সেখান দিয়ে অবিরত পুঁজ-রক্ত বেরত। সারাদিন তাদের যন্ত্রণার চিৎকারে কান পাতা দায়। সহ্য করতে না পেরে যমজ বাচ্চা দুটির মা তাদের মুখে বিষ তুলে দিয়ে চির মুক্তি দিয়েছিলেন।

ইহুদি খুঁজতে জার্মান সৈনিকদল হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট শহরে খানা তল্লাশি চালাচ্ছে। বাড়ির সদর দরজায় ভারী বুটের শব্দ। ভয়ে জড়সড় হয়ে আছে একটি ইহুদি পরিবার। দরজায় ঘন ঘন আঘাত, বিকট আওয়াজের আতঙ্কে ছোট্ট একটা শিশু চিৎকার করে কান্না জুড়ে দিলো। কান্না থামানোর জন্য তার মা হাতের উপর হিসু করে শিশুর মুখে দিলো। তবুও কান্না থামেনা দেখে মা চেপে ধরেছে শিশুটির মুখ। ইতিমধ্যে জার্মান বীর সৈনিকেরা খুঁজে পেয়েছে ইহুদির অস্তিত্ব। ইহুদি নারীটিকে যখন লুকানো জায়গা থেকে বের করা হলো তখন দেখা গেল কোলের শিশুটি নিশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা গেছে। তবুও সেই হতভাগ্য মা এক নাগাড়ে মুছে যাচ্ছে মৃত শিশুর মুখে লেগে থাকা জলীয় অংশ।

সারিবদ্ধ ইহুদির দল দাঁড়িয়ে আছে কনসেনট্রেশ ক্যাম্পে। তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হলো পালানোর সময় যা নিয়ে নিয়ে এসেছিল ব্যাগ, সুটকেস, খাবারের বাটি, খেলার তাস। খুলে ফেলা হলো তাদের গায়ের কোট, পায়ের জুতো, হাতের আংটি, সোনা বাঁধানো দাঁত, চোখের চশমা, শার্ট, প্যান্ট এমনকি অন্তর্বাস। সম্পূর্ণ উলঙ্গ করে তাদের থেকে কিছু যুবককে লাগিয়ে দেয়া হলো মাটি কাটতে। দেখতে দেখতে ১৫০ মিটার দীর্ঘ ৩০ মিটার প্রস্থ এবং ১৫ মিটার গভীর একটা আয়তক্ষেত্র দেখা দিলো। যারা মাটি কাটছিল তারা সেখানেই লাইনে দাঁড়িয়ে গেল। প্রত্যেকের ঘাড়ের পিছনে অটোমেটিক সাবমেশিন গান দিয়ে গুলি করা হলো। সারি সারি সাজানো মৃতদেহের স্তুপ জমা হচ্ছে। সেই স্তুপের উপর দাঁড়িয়ে গেল আর একদল ইহুদি। তাদেরকেও এভাবেই গুলি করা হলো। সুশৃঙ্খলভাবে ভাবে তারা মরতে মরতে সাজাতে লাগল লাশের স্তর।

বেলজেক পোল্যান্ডের দক্ষিণপূর্বে অবস্থিত ছোট্ট শান্ত একটা গ্রাম। সেখানে মাত্র কয়েক হাজার মানুষের বাস। বর্তমানের কেউ হয়ত ধারণাও করতে পারবে না দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এখানে কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রায় একমিলিয়ন ইহুদিবন্দী ধরে আনা হয়েছিল যার থেকে বেঁচে গিয়েছিল মাত্রদুইজন। গবাদি পরিবহনের রেলগাড়িতে যখন তাদেরকে আনা হতো তখন স্টেশনমাস্টার টালিখাতায় লিখে রাখত তাদের সংখ্যা। অন্য যেকোন যন্ত্রণাকেন্দ্র থেকে বেলজেক মারাত্মক ভয়ানক সেখানে কেউ গেলে আর ফিরে আসে না। অশউইৎজ, মাথাউসেন থেকেও কেউ কেউ ফিরে এসেছে, অনেকের সাক্ষাৎকার দেখতে পাই। প্রাণে বেঁচে ফিরে এসেছে এমনকি ট্রেবলিংকা বা শবিবর থেকে, কিন্তু বেলজেক? নৈব চঃ । বেলজেক ফেরত কোন ইহুদিকে কেউ কখনো দেখেনি। রীতিমত গবেষণা করেও কেউ বলতে পারে না বেলজেক যন্ত্রণাকেন্দ্রের ভিতরে ঠিক কি হয়েছিল, কি ঘটেছিল সেই ভাগ্যহত ইহুদি জনগোষ্ঠীর ভাগ্যে। প্রতি তিন ঘন্টায় ৩০০০ মানুষকে গ্যাস দিয়ে হত্যা করে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলা হতো। আগতদের মধ্য থেকে প্রথমে বাছাই করা হতো শক্ত সমর্থদের শ্রমদাস হিসেবে ব্যবহার করার জন্য। যদিও তারা শেষ পর্যন্ত কেউই বাঁচবে না। বাছাইকৃতদের মাথার চুল কেটে জীবাণুমুক্ত করার কথা বলে নিয়ে যাওয়া হতো গোসলখানায়। জীবনের শেষ গোসল। বাকি সময়টাতে ইহুদিজনগোষ্ঠীর সাথে আনা জামাকাপড়, মুল্যবান জিনিসপত্র হস্তগত করে লুটেরমাল নিয়ে গবাদিপরিবহণের পরিষ্কার রেলগাড়ি নাৎসিবাহিনীর হেডকোয়ার্টারে পৌঁছে গেল নতুন ইহুদির মৃত্যু পরিবহনের জন্য। মাঝে মাঝেই বন্দুকের গুলির আওয়াজ, জার্মান শেফার্ডের প্রাণ হিম করা ঘেউঘেউ, পাহাড়ি ঢালু পথে উলঙ্গ ইহুদিরদল তাড়িয়ে নিয়ে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় জার্মান সমর্থক, তাদের হাতে লাঠি, তলোয়ার, চাবুক। তাদেরকে পশুর মত তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গ্যাস চেম্বারের দিকে। একবার হয়েছে কি, ছোট্ট গ্যাস চেম্বারে কয়েক হাজার মানুষ ঢোকানোর পর দেখা গেল হাইড্রোজেন সায়ানাইড জিকলন গ্যাসের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেছে। কি সৌভাগ্য তারা বেঁচেছিলো আরও কয়েক ঘন্টা, কি দুর্ভাগ্য কিছু মানুষ ঠ্যালাঠেলিতেই ঢলে পড়েছে মৃত্যুর কোলে!

বেলজেকে নাৎসিবাহিনীর ১২ জন নিরাপত্তাকর্মী কাজ করত আর সাথে স্থানীয় কিছু নাৎসি সমর্থক। হায় জেহোভা, তুমি কোথায়! হাতেগোনা কয়েকজন অত্যাচারী খুন করে ফেলতে পারে এক মিলিয়ন ইহুদি! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিবাহিনীর পরাজয় যখন নিশ্চিত তখন তারা বেলজেক ধ্বংস করে দিলো আর ধ্বংসস্তুপে লাগিয়ে দিলো উইলো, কনিফার, বার্চ গাছের সারি। মানুষের পোড়া হাড়ের সারে দ্রুত গড়ে উঠল পর্ণমোচী বৃক্ষের বনায়ন। ঢেকে গেল কি ঘটেছিল এখানে এতদিন, সত্যিই সেখানে নির্যাতনকেন্দ্রের কোন চিহ্ন পর্যন্ত রইল না। যেন একটা ভাঙা রেলপথ মিশে গেছে নির্জন ভূতুড়ে জঙ্গলে। এই জঙ্গলে কিছু মানুষ খুঁজে বেড়াতে লাগল ইহুদিদের থেকে লুট করে নেয়া সোনা, কোথায় সোনা? মাটি খুঁড়লেই পাওয়া যায় শুধু মানুষের পোড়া হাড় যত্রতত্র। গণকবরে পাওয়া যেতে লাগল মানুষের পরিপূর্ণ কংকাল, শিশু, যুবক, বৃদ্ধ সব বয়সের। অশউইৎজ, বারকানাউ ট্যুরিস্টদের কাছে আকর্ষণীয়স্থান হিসেবে তারকাখ্যাতি অর্জন করেছে, ট্রেবলিংকার হৃদয়বিদারক স্মৃতি আছে, কিন্তু শান্ত সুন্দর জঙ্গলের মধ্যে বেলজেকে পড়ে আছে শুধুই পোড়া হাড় আর ছাই। নির্জন বেলজেক যন্ত্রণাকেন্দ্রের কথা কারো মনেই নেই। ইহুদি নিধনের বীভৎসতার খণ্ড খণ্ড ছবি এঁকেছেন কত শত কবি, শিল্পী, চলচ্চিত্র কর্মী। এমনি একটি কবিতা দিয়ে মানবতার বিপুল অপমান ও নির্যাতনের বর্ণনা করেছেন কোন এক কাফের কবি।

প্রাণবন্ত নরক
========

মনে আছে যন্ত্রণাকেন্দ্রে মৃত্যু উপযোগীদের বাছাই যজ্ঞ?
গবাদি ট্রেনে আসছে ইহুদির দল; শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, সমকামী, ভবঘুরে।
ট্রেন ষ্টেশনে একদল বন্দি ইহুদি দাঁড়িয়ে আছে অভ্যর্থনা জানাতে।
ঈশ্বরের আশীর্বাদে কেউ কেউ বেঁচে যাবে শ্রম দাস হিসেবে,
নারী-শিশু আর পুরুষ আলাদা লাইনে সমবেত,
অপেক্ষমাণ জীবিতরা আশু অনন্ত যাত্রাপথে মূর্তি হয়ে গেছে, তারা বিবর্ণ।
মৃত্যু এখানে অতিপরিচিত শব্দ ডাইনে, বায়ে, সামনে, পিছনে।
বিদ্যুতায়িত কাঁটাতারের বেড়ার ভেতরে সুরক্ষিত যন্ত্রণালয়,
মৃত্যুর দায়িত্বপ্রাপ্ত দেবদূত জার্মান শেফার্ড ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে,
জান্তব ঘেউ ঘেউ শব্দে নরক হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত এবং আকর্ষণীয়।
মায়ের কোল থেকে কেড়ে নেয়া হল শিশু,
কলার ধরে উঁচু করে নিয়ে যাচ্ছে যেন এক হাতে বস্তা,
তারা আঁকড়ে ধরে আছে প্রিয় খেলনা,
ক্ষুধায় কাতর কিশোরকে জলভরা চোখে বিদায় জানাচ্ছে মা,
তাদের বাবা অক্ষম আক্রোশে কাঁপছে।
সারিবদ্ধ ইহুদিরদল ফ্যাকাসে হয়ে গেছে আতঙ্কে,
দলাপাকানো মৃত দেহের স্তুপের উপর অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছে মানবিকতা।
মাইকে ভেসে আসছে দরদী কণ্ঠ—- কাপড় খুলে তাড়াতাড়ি স্নান করে নাও,
তোমাদের স্যুপ কফি ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে।
খাবার! খাবার! কোথায়? সমবেত ক্ষুধার্তের দল হুড়োহুড়ি করে দৌড়ে গেল গ্যাস চেম্বারে,
কে কার আগে মরতে যাবে তার প্রতিযোগিতা চলছে।
নিশ্ছিদ্র দরজা বন্ধ হয়ে গেল, স্বর্গ থেকে নেমে এলো হাইড্রোজেন সায়ানাইড জিকলন বাতাস।
দেবদূতের সাক্ষাতে মৃতেরা জমে শক্ত হয়ে গেছে, তাদের গায়ে লাল, নীল, সবুজ রঙ্গিন ফোস্কা,
রক্তের আঠায় একজনের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, মাথা আটকে গেছে অন্যজনের সাথে।
আহ কি শান্তি! মুহূর্তে মহা নিঃশব্দতা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “ইহুদি নিধন

  1. এরা এমন এক অভাগা জাতি সকল
    এরা এমন এক অভাগা জাতি সকল সেমিটিক ধর্মের কাছে এরা মার খেয়েছে, ভিন্ন ভিন্ন জাতিগুলো থেকেও এরা মার খেয়েছে। মুসলমানরা এদের বিরুদ্ধে এখনো বিদ্বেষ ছড়ায়। কিন্তু পৃথিবীতে এরাই এখনো জ্ঞান-বিজ্ঞানে টিকে আছে বীরের মত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

72 − 71 =