ফরাসি জ্যোতির্বিদ এর ভবিষ্যদ্বাণী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমীপে

আজ থেকে পাঁচশত বছর আগে ফরাসি জ্যোতির্বিদ মাইকেল দি নোতরদাম ওরফে নস্ত্রাদামস তাঁর ‘দি প্রফেসিস’ বইতে লেখা ভবিষ্যৎ বাণীগুলোর অনেকগুলিই ইতিমধ্যে সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে 2016 সাল বা তার আশেপাশের সময়গুলোতে পৃথিবীতে প্রকৃতি ও মনুষ্যসৃষ্ট বেশকিছু ব্যাপক ধ্বংসাত্মক ঘটনা ঘটবে। তার মধ্যে একটি হলো-প্রকৃতির বিপর্য্য়। নস্ত্রাদামস লিখে গিয়েছিলেন, 2016 সালেই অরণ্য ধ্বংস করবে মানুষ। অর্থাৎ বসবাসের প্রয়োজনে প্রাকৃতিক অরণ্য ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেবে রাষ্ট্রের মাথারা। এর ফলে বায়ুমন্ডলের ওজন স্তরে দেখা দেবে ছিদ্র। সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি প্রথিবীতে প্রবেশ করে ক্ষয়-ক্ষতি ঘটাবে জীবকুলের। প্রবল গরমে দগ্ধ হবে মাটি। কখনো বা আকাশ ফেটে নামবে প্রবল বৃষ্টি।

উপরোক্ত ভবিষ্যদ্বাণীর সাথে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের মাধ্যমে সুন্দরবন ধ্বংসের একটি চমৎকার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এর কারন, বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন যে, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে কেন্দ্রটি থেকে প্রতিদিন প্রায় 142 টন বিষাক্ত সালফার ডাই-অক্সাইড এবং 85 টন বিষাক্ত নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড নির্গ্ত হবে। এই বিশাল বিষাক্ত গ্যাস বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব তখনকার চেয়ে অনেকগুণ বাড়িয়ে দেবে। ফলে ভয়ানক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে সুন্দরবনসহ আশপাশের বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণ ও পরিবেশ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি সেদিন (31 জুলাই, 2016)‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা’ এবং ‘জাতীয় বৃ্ক্ষরোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলা-2016’ এর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেছেন- “পরিবেশ রক্ষা জাতি হিসেবে সবারই দায়িত্ব। আমাদের পরিবেশ দুষণ হচ্ছে, সেটা কমাতে কাজ করছে সরকার। তেল বা ডিজেলবাহী জলযানগুলোর কারনে ব্যাপক দুষন হয়ে থাকে। এগুলোর বিষয়ে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। বৈচিত্র্যপূর্ণ্ এই দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য করে তুলতে হবে।”

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে খুবই মুল্যবান ও সময়োপযোগী বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু আপনার কথার সাথে কাজের কোন মিল আমরা দেখতে পাই না। কেননা, আপনি একদিকে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার কথা বলছেন আবার আরেকদিকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের কাজে উঠে-পড়ে লেগেছেন, যে উদ্যোগের জন্য সচেতন নাররিক সমাজ মিডিয়াতে প্রতিদিনই সমালোচনার ঝড় তুলছে। যদিও রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশীপ পাওয়ার কোম্পানী লিমিটেড’ এর পক্ষ থেকে প্রকল্পের মাধ্যমে রামপাল ও আশপাশের এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্রের উপর যাতে বিরূপ প্রভাব না পড়ে তার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, সরঞ্জামাদি. কলাকৌশল ও পরিবেশ বান্ধব উপকরনাদি ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। অথচ কয়েক বছর (2010 সালে) আগে ন্যাশনাল থারমাল পাওয়ার কোম্পানী (এনটিপিসি) তার নিজ দেশ ভারতের মধ্যপ্রদেশে রামপালের ন্যায় কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য তৎকালীন ভারত সরকারের কাছে প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু এরূপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষি ও পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা থাকায় তৎকালীন ভারত সরকার এই প্রস্তাবটি বাতিল করেছেন। কিন্তু আমরা এরুপ প্রকল্পকে সাদরে গ্রহন করেছি। যদি কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতেই হয় তবে রামপাল ব্যতিত অন্য কোন নিরাপদ বিকল্প জায়গা কি ছিল না? হয়তো বা ছিল। শুধু নেই আমাদের দুরদর্শিতা। রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লাভ-ক্ষতির হিসাব এই মুহুর্তে আমার জানা না থাকলেও অন্তত একটি বিষয় পরিস্কার যে, রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ রাতারাতি একাট সমৃদ্ধশালী দেশেও পরিণত হবে না এবং সুন্দরবনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ্ জাতীয় সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেলে সেটা আর কোন কালেও ফিরে পাওয়া যাবে না।

কিন্তু কে শোনে কার কথা! সব সম্ভবের দেশ নাকি বাংলাদেশ। এদেশে যারা ক্ষমতায় থাকে তারা যা খুশি তায়ই করতে পারে, এটাই নাকি বাংলাদেশের তথাকথিত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা, এমনটাই তো দেখে আসছি। এরপরও বলতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি যদি সেই ফরাসি জ্যোতির্বিদ নস্ত্রাদমস এর ভবিষ্যদ্বাণীর জ্যোতিতে সম্মোহিত না হয়ে থাকেন তবে অনুগ্রহপূর্ব্ক রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন।

সহায়ক তথ্যসুত্র:
কালের কন্ঠ (অনলাইন)
http://www.istishon.com/?q=node/20079#sthash.V1EIMV5F.dpuf

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 1 =