আল্লামা সাঈদী ও কয়েকজনের ইসলাম ধর্ম গ্রহন

ভোর চারটা পনেরর দিকে এলার্মের শব্দে ঘুম ভাংল রফিকুলের। চোখ খুলে আশে পাশে তাকাল। নিকষ কালো অন্ধকারে শুধু পিসির ইউপিএসের ঝাপসা কমলা আলোয় আলোকিত একটা অংশ দেখা যাচ্ছে। সে বুকের উপর দু হাত দিয়ে শুয়ে থাকল। গত কয়েকদিন হল দু:স্বপ্ন দেখছে। যদিও হুজুরের কথা মত রাতে অযু করে ডান কাত হয়ে শুয়েছিল। মনে হয় ঘুমের মধ্যে অযু ভেঙে গেছে। হুজুরের সাথে আবার কথা বলতে হবে।
এভাবে প্রায় পনের মিনিট শুয়ে থাকল। দুরে মসজিদে আযান দিল।
–“ঘুমের চেয়ে নামায উত্তম” ,আপন মনেই বলে উঠল রফিকুল। আযান দেয়ার সাথে সাথেই কেন যেন কুকুর গুলো যত জোরে পারে চিৎকার দিয়ে ওঠে। রফিকুল উঠে বসল। নামায পড়িতে যেতে হবে। সে শিবিরে যোগ দেয়ার পরর এক ওয়াক্ত নামাযও কাযা করে নাই।

নামায পড়ে রফিকুল মসজিদ থেকে বের হয়ে দাড়াল। শিশির ভাই দাঁড়াতে বলেছেন। শিশির ভাই বের হলেন। তাদের মাঝে বেশী কথা হল না। যে কথা হল তার সারাংশ এই দাড়াল যে, রফিকুল যেন আজকের কাজটা ভাল মত করে। হ্যা, রফিকুলকে কাজটা ভাল মত করতে হবে। কিন্তু সে জানে না কি কাজ। কিন্তু জানে যা ঢাকা থেকে বড় আলেম আসবেন। তাদের মধ্যে নাকি সাঈদী সাহেবও থাকবেন। তাদের সাথেই কাজ। মনে হয় অনেক সম্মানের কাজ হবে। আর শিশির ভাই বলেই দিয়েছেন যে কাজটা ইসলাম প্রথিষ্ঠায় সহায়তা করবে। এর বেশী কিছুই আর জানার প্রয়জন মনে করে নাই রফিকুল।
বাসায় ফিরে রফিকুল আরেকটু ঘুমিয়ে নিল। ঘুম ভাংল মায়ের ডাকে। উঠে নাস্তা করে ভার্সিটির উদ্দেশ্য রওনা দিল। বের হবার সময় মাকে বলে বের হল যে আসতে দেরী হতে পারে আবার নাও আসতে পারে। মা কিছু বললেন না। জানেন বললেও কিছু হবে না। ছেলেটা কেমন যেন হয়ে গিয়েছে।

বিকালের দিকে শিশির ভাইয়ের সাথে রফিকুল তার গন্তব্যে পৌছল। অনেক বিরাট এক মাঠ। মাঠের এক পাশে বিরাট এক স্টেজ করা হয়েছে। অনেক মানুষ এসেছেন। স্টেজে কুরআন তেলাওয়াত চলছে। সে মুগ্ধ হয়ে কিছুক্ষন তেলাওয়াত শুনল। শিশির ভাই রফিকুলকে একটা রুমে নিয়ে গেলেন এবং বললেন সেখানে বসে থাকতে। কেউ একজন এসে তাকে কাজ বুঝিয়ে দেবে। রুমটা দেখে রফিকুলের কাছে কোন স্কুলের ক্লাসরুম মনে হল। আসলে সে আগে এ এলাকায় আসে নি। রুমে তার মত আরও কয়েকজন ছিল। সবাই প্রায় তার বয়সী। তাদের সাথে সালাম বিনিময় করল। তারপর কথা বার্তা বলে যা বুঝল যে কেউই জানে না তাদের কাজ কি।

মাইকের তেলাওয়াত বন্ধ হল। একজন মাইকে ঘোষণা দিল যে আল্লামা সাঈদী এখন স্টেজে আসবেন। কেন যেন এটা শুনে রফিকুলের হাতের লোম দাড়িয়ে গেল। সে এই লোকের ওয়াজ কম্পিউটারে শুনেছে। আর লোকে কিনা এই বিরাট ব্যাক্তিকে রাজাকার বলে গালী দেয়। ছি, ছি! এমন একজন মানুষ যার কিনা সম্পুর্ন কুরআন মুখস্ত?
রফিকুল মনোযোগ সহকারে ওয়াজ শুনতে লাগল। মাঝে মাঝে ‘আহা’ ‘মাশাল্লাহ’ বলতে লাগল। একপর্যায়ে সাঈদী সাহেব বলে উঠলেন,
–“যে ব্যক্তি আমাকে রাজাকার বলে সে জারজ সন্তান”
সাথে সাথে সম্পুর্ন জনতা সায় দিয়ে চিৎকার করে উঠল। সাথে রফিকুলও। তার রক্ত গরম হয়ে গেছে।
–” কত্ত বড় সাহস, সাঈদী সাহেবকে রাজাকার বলে”
রুমের বাকিরাও হ্যা, হ্যা করে উঠল। এই পর্যায়ে এক দাড়িওয়ালা লোক তাদের ঘরে ঢুকল। তারপর আল্লামা সাঈদীর গুনগান করল। এক পর্যায়ে বলল,
–“এইবার কাজের কথায় আসি। আজ তোমাদের এখানে আনা হয়েছে বিশেষ এক কাজের জন্য।কাজটা অনেকটা আমাদের ঈমানী দ্বায়ীত্বের মধ্যে পড়ে। তোমরা অনেকেই জান আল্লাম সাঈদীর অনেক ভক্ত আছে সমূর্ন দেশে। ইনাকে অনেকেই ভক্তি করে চলেন। তোমাদের কাজ হল, তোমরা আজ তার কাছে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করবে।”
–“কিন্তু আমরা তো আগে থেকেই মুসলমান।”-একজন বলে ওঠে।
–“হ্যা, কিন্তু তোমাদের ধর্ম পরিপুর্ণ হয় নাই। তার কাছে গ্রহন করে তা পুর্ন করবে। এখন তোমরা হচ্ছ এক দলের প্রতিনিধি। অর্থাৎ আরও অনেকেই করবে। শুধু তোমাদেরটা সকলের সামনে হবে। কেননা সাঈদী সাহেব তোমাদের নিজে পছন্দ করেছেন। তোমরা প্রস্তুত হও।”

রফিকুল সম্পুর্ণ থতমত খেয়ে গেল। কিন্তু জানে না সামনে আরও অবাক হবার মত জিনিস অপেক্ষা করছে। সে বসে থাকল। এবারে আরেকজন এল কিছু কাগজ নিয়ে। সবাইকে একটা একটা করে কাগজ ধরিয়ে দিয়ে চলে গেল। কেউ কিছু বলার সুযোগ পেল না। কাগজে শুধু একটা করে নাম লেখা ছিল। তাও আবার হিন্দু নাম। কিছু জিজ্ঞাসা করার পুর্বেই সে চলে গেল।
এবার আরো কিছুক্ষন অপেক্ষা। আবার সেই দাড়িওয়ালা লোকটা এল এবং তাদের সবাইকে সাথে করে ব্যাক স্টেজে নিয়ে গেল। তারপর বলল,
–“তোমাদের হাতের কাগজে যে নাম দেয়া আছে দেখেছ? যেই নাম বলা হবে সেই নাম লেখা কাগজ যার কাছে আছে সে সোজা স্টেজে উঠে যাবে। আর ধর্ম গ্রহন করবে। ঠিক আছে?”
বলে তিনি উত্তরের অপেক্ষাও করলেন না। কোন এক কারণে এক এক জন করে না গিয়ে সকলকে একসাথে স্টেজে নিয়ে যাওয়া হল। আর মাইকে কেউ একজন বলেই যাচ্ছে, “সাঈদী সাহেবের ওয়াজ শুনে মুগ্ধ হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করছেন কিছু হিন্দু ভাই”

রফিকুল মনে হয় হতবাক হবার শেষ পর্যায়ে পৌছে গিয়েছিল। আরর অবাক হচ্ছে না সে। যে ব্যক্তির প্রতি কিছুক্ষন আগে সে শ্রদ্ধা নিয়ে দেখছিল তার প্রতি ঘৃনায় এখন রফিকুলের মরে যেতে ইচ্ছে করছে। সে নির্বাক হয়ে রইল। চারিদিকে শুধু ক্যামেরার ফ্লাস পরার শব্দ।

পরদিন রফিকুলের বাবা কোন এক আঞ্চলিক পত্রিকা নিয়ে এল। সেখানে রফিকুলকে দেখা যাচ্ছে আরো সাত আট জনের সাথে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করতে। রফিকুলের পিতা কিছুই বললেন না।শুধু জিজ্ঞাসা করলেন,
–“এভাবে তোরা ইসলাম প্রথিষ্ঠা করবি?”
রফিকুল হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।

এরপর থেকে রফিকুলকে শুধু মসজিদে নামায পড়ার সময় দেখা যায়। পড়ালেখা করে কিনা কি করে কেউ জানে না। শিবিরের সাথেও নাকি আর কোন সম্পর্ক নেই তার।

[বি:দ্র: সকল চরিত্র কাল্পনিক তবে ধর্ম গ্রহনের পদ্ধতিটা সত্য। বিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাস করা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়]

এস.এম. তাসরিক আনাম পার্থ

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “আল্লামা সাঈদী ও কয়েকজনের ইসলাম ধর্ম গ্রহন

  1. কাল্পনিক গল্প হলেও যে মেসেজটা
    কাল্পনিক গল্প হলেও যে মেসেজটা দিতে চেয়েছেন সেটা বোঝা যায়। জামাতে ইসলামী এভাবেই ধর্ম নিয়ে সবসময় ব্যবসা করে এসেছে।

  2. অনেক আগে অন্য একটা ব্লগে একটা
    অনেক আগে অন্য একটা ব্লগে একটা পোস্টে একজনের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে এরকম একটা লেখা পড়েছিলাম। এভাবেই ধর্ম ব্যবসায়ীরা মানুষের অনুভূতি এবং সরলতাকে পুঁজি করেই তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে।

  3. এভাবেই সাইদির মত ধর্মগুরুরা
    এভাবেই সাইদির মত ধর্মগুরুরা ৬০০ এরর অধিক অমুসলিম কে মুসলিম বানাবার কাহিনী তৈরি করে !!!
    ধিক শত ধিক সব মিথ্যাবাদীর উপর।

  4. কাল্পনিক ঘটনাটি যদি সত্যের
    কাল্পনিক ঘটনাটি যদি সত্যের কাছাকাছিও হয়, তাহলে এসব ঘৃণ্য কাজের বিছার স্বয়ং মহান আল্লাহ তায়ালাই করবেন…..যা দেশের মুমিন ব্যক্তিগণ অবশ্যই প্রত্যক্ষ করবেন বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি…

  5. এই কাল্পনিক গল্প লিখতে
    এই কাল্পনিক গল্প লিখতে উৎসাহিত হয়েছিলাম এমন এক জনের কাছ থেকে যিনি আগে শিবির করতেন। তার সাথে অনেকটা এইরকমই হয়েছিল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 11 = 17