সরকার কি করতে বলেন আর মোল্লারা কি করেন !!

অনেক দিন পর দাদির মৃত্যুর খবরে নিজগ্রামে গেলাম।বহু দিন ধর্মকর্ম করিনা,কিন্তু গত শুক্রবার আমাদের গ্রামের মসজিদে আমার দাদির আত্নার শান্তি কামনায় আমাদের পরিবারের পক্ষথেকে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।আমি আর ঢাকা থেকে আগত আমার এক কাজিন মসজিদে গেলাম।মাওলানা সাহেব বয়ান করছেন মনযোগ দিয়ে শুনার চেষ্টা করলাম।

আমি যতটুকু জানি তাতে বলতে পারি মুওলানা সাহেবেরা ঘুরেফিরে একই বক্তব্য জনতার সামনে উপস্থাপন করেন যা ওয়াজ নামে পরিচিত। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু ব্যাতিক্রম বক্তব্য আশা করেছিলাম জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মসজিদের ঈমাম সাহেবর পজেটিভ কিছু কথাবার্তা শুনব মনে করেছিলাম, সরকারী নির্দেশ ও সেরকম। কিন্তু কে শুনে কার কথা? মুলুভি সাহেবের ওয়াজ শুনে পুরাই বিভ্রত হলাম আতংকিত হলাম।

ওয়াজের প্রসঙ্গ ইসলামের নবী মুহাম্মদ। হুজুর মাইকে চিৎকার করে বলছেন কোন মুসলমান নবি মোহাম্মদের সমালোচনা করলে তাকে ঘর থেকে ডেকে এনে প্রকাশ্যে জবাই করতে হবে এটা নাকি ঈমানি দায়িত্ব। উদাহরণ দিচ্ছেন চিল যেমন থাবা দিয়ে মুরগির বাচ্চা ঐ ভাবে নাস্তিকদের থাবা দিয়ে প্রান নিয়ে নিতে হবে। আর ভিন্নধর্ম অবলম্বীদের বিরুদ্ধে বিদ্ধেষ ছড়াচ্ছেন। আমি আর আমার কাজিন হুজুরের এমন বক্তব্যে হতবাক হলাম এমন বক্তব্য জনগনের মধ্যে হিংসে বিদ্ধেষ হানাহানি ছড়িয়ে পড়ে মসজিদে উপস্থিত জনতার ৯০% অশিক্ষিত তারা হুজুরের এই ধরনের বক্তব্য খন্ডন করতে পারবেনা তারা এগুলা মূলভিত্তি মনে করবে।

আমি বার বার বিরক্তির ভঙ্গিতে হুজুরের দিকে তাকাচ্ছিলাম তিনি আগে থেকেই মনেহয় আমার সম্পর্কে ইনফরমেশন পেয়েছিলেন তিনি আরো জোরে জোরে নাস্তিক ব্লগার মুরতাদ বলে তাদের হত্যার ও প্রতিহত করার হুংকার দিচ্ছেন। নবির বিরুদ্ধে কথা বলে নবীর আমলে কেউ প্রকাশ্যে দিবালোকে হাটাচলা করতে পারিনি এখনো পারবেনা……ইত্যাদি ইত্যাদি।

কেউ কৌতহল বশত হউক আর জানার জন্যই হউক নবি মোহাম্মাদের জীবন সম্পর্কে অনেক রকমের প্রশ্ন করতেই পারে, এই ধরনের ধর্মিয় ওয়াজ কিংবা আলোচনাই অনেক নতুন প্রশ্নের জম্ম দেয় সেটাকে সসমালোচনা ধরে আপনি একজন মানুষকে জবাই করতে বলবেন এটা কি উস্কানি নয়? ইসলাম যদি শান্তির ধর্ম হয় এখানে আপনি শান্তির কি বাণী শুনালেন? এই ধরনের হত্যাকান্ড সম্পর্কে নবী মুহাম্মদ কি বলেছিলেন, কোরানের কোন সুরা ও কত নম্বর আয়াতে এই সমালোচনার জন্য ঘর থেকে ধরে এনে হত্যা করতে বলেছে তার কোন কিছুর ব্যাখ্যা আপনি দেন নি। যিশু খ্রিষ্টের সমালোচনা করলে বাইবেলে কি ঐ সমালোচক কে প্রকাশ্যে হত্যার অনুমোদন আছে? বা কোন চার্চের ফাদার কি বলেন যিশুখ্রিষ্টের সমালোচনা কারীকে প্রকাশ্যে হত্য করতে হবে আমার জানা নাই।

হত্যাকান্ড ঘটিয়ে যদি পৃথিবীর সব সমস্যা সমাধান হত তাহলে অনেক আগেই পৃথিবীর সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।
এই ধরনের ধর্মীয় ওয়াজ নিষিদ্ধ করা উচিত এবং এসব মোল্লাদের আইনের আওতাই আনা উচিত যারা প্রকাশ্যে ধর্মিয় বিদ্ধেষ ছড়ায়,

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 2