বিএনপি’র দ্বারা জনস্বার্থ রক্ষার জন্য আন্দোলন করা সম্ভব নয়।

কেউ কেউ বলছেন জনস্বার্থের পক্ষে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে বিএনপি কেন ঘুরে দাঁড়ানোর চেস্টা করছেনা? যে কথাটা আমরা কেউ বলিনা বা বলার মত অনুভূতি বা সক্ষমতা আমাদের নেই তা হচ্ছে, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় না থাকলেও ক্ষমতাহীন নয়।

কেউ কেউ বলছেন জনস্বার্থের পক্ষে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে বিএনপি কেন ঘুরে দাঁড়ানোর চেস্টা করছেনা? যে কথাটা আমরা কেউ বলিনা বা বলার মত অনুভুতি বা সক্ষমতা আমাদের নেই তা হচ্ছে, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় না থাকলেও ক্ষমতাহীন নয়। তারাও শাসক গোষ্ঠীর অপর অংশ যারা এখন সরাসরি লুটপাট না করলেও, সরকারি বৃহৎ ঠিকাদারি থেকে শুরু করে গারমেন্ট ব্যাংক বীমা আমদানি রফতানি সহ তাদের আগে থেকে চলমান সম্পদ আহরণ কমেনি বরং বেড়েছে। প্রপার অডিট করলে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বহু নেতার এরকম উন্নতির হিসাব পাওয়া যাবে। এমনকি স্থানীয় পর্যায়ে ফড়িয়া ও ট্রেডিং টাইপ ব্যবসায় তাদের অবস্থা ভালো।

নব্বইয়ের দশকেও বিএনপির যে পরিমান নিবেদিত কর্মী ছিল এখন অনেকেই নেই বা ক্ষমতার নিবিড় স্পর্শে তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তাদের অনেকেই আন্দোলনের ক্রেডিট নিতে চায় মিডিয়ার মাধ্যমে। রাস্তায় পুলিশের মার খাওয়ার ঝুকি নিতে চায়না। নিজস্ব ব্যবসা বানিজ্য ঠিক রাখতে চায়। সরকারি দলের সাথে তাদের এখনকার পার্থক্য হচ্ছে লুটপাটের একটা বড় অংশ তারা সুযোগের অভাবে নিতে পারছেনা। তা না হলে গ্যাস বিদ্যুতের অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধি সহ বহু ক্ষেত্রে দুই দলের সরকার পরিচালনা একই রকম।

বিএনপির আরো একটা অন্ধকার দিক আওয়ামী লীগকে সুবিধা দেয় তা হচ্ছে, পাকিস্থানি ভাবধারার পুরনো মুসলিম লীগের আবেগ কে নিজেদের দলে পুষে রাখা, আর স্রেফ সাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে অন্ধ ভারতবিরোধীতা যেগুলো এই সময়ে এসে সম্পূর্ণ অচল হোক না হোক, অনর্থক একটা জনসমর্থন পুষ্ট দলের জন্য দ্বায়িত্তজ্ঞানহীনতা। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতা, আধিপত্য বিরোধীতা, উপনিবেশ বিরোধীতা, আগ্রাসনের বিরোধীতা করতে হলে এই মুক্ত বাজারের দুনিয়ায় আমেরিকা চিন রাশিয়া সৌদিআরব সবার ক্ষেত্রেই সম্পর্কের ধরন নির্ণয়ের কর্তব্য রয়েছে। নিকট প্রতিবেশীর বৈরি আচরণ রেন্ডিয়া বা হিন্দুস্থান বলে গালি দিয়ে সমাধান করা যায়না।

মোটের ওপর দেশের ৯০ ভাগ জনগোষ্ঠী যাদের কেউ ক্ষমতাহীন/কেউ কেউ ক্ষমতাহীন, সুবিধাহীন/ কেউ কেউ কেউ ক্ষমতাহীন, সুবিধাহীন, অধিকারহীন হতদরিদ্র, এই মোট ৯০ ভাগের স্বার্থ রক্ষার জন্য তেমন পুর্নাঙ্গ কোনো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে নাই। সেনা সংস্থা সহ সরকারি ও বেসরকারি জোটের সব রাজনৈতিক দল ওই ১০ ভাগ (ক্ষমতাবান, সুবিধাভোগী, শক্তিধর) জনগোষ্ঠীর অংশ। সরকারি ও বেসরকারি জোটের সব রাজনৈতিক দল দুঃখী মানুষের উন্নতির জন্য মায়াকান্না দেখালেও,গরিবের উন্নতির কথা বলে নিজ ১০ ভাগের ক্ষমতা ও গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষা করাই তাদের রাজনীতি। নিজেদের ক্যারিয়ার প্রতিপত্তি বৈভব বৃদ্ধিই তাদের মূল লক্ষ। রাজনীতির মৌল চেতনা হচ্ছে নির্মোহ ও নির্লোভ জনসেবা এবং নিজের ব্যক্তিগত ও বৈষয়িক স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া,এই গুন সরকারি ও বেসরকারি জোটের সব রাজনৈতিক দলের মাঝে প্রায় নেই বলা যায়।

রাস্তা-ঘাট আর বিবিধ ভৌত উন্নয়ন মুলত ৯০ ভাগ মানুষকে প্রতিদিনের অনিশ্চিত অনিরাপদ জীবনযাপনের মাঝেও কর্মক্ষম রেখে মুনাফার বাজার ঠিক রাখার উন্নয়ন। দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই দল সমূহ চেতনা, মুল্যবোধ ও মতাদর্শের নাম ভাঙিয়ে ওই ৯০ ভাগ মানুষকেও সেন্টিমেন্টাল ভাবে তাদের অনুরক্ত বা নিরুপায় হয়ে বিভক্ত বানিয়ে রেখেছে। তাই বিএনপির মত দলের দ্বারা ক্ষমতা দখলের জন্য ঘৃণার বিষ মাখানো আন্দোলন আর প্রতিপক্ষের খারাপ কাজের সিঁড়ি বেয়ে ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করা সম্ভব। জনস্বার্থ তারা রক্ষা করবে বা রক্ষার চেষ্টা করবে এই আশা তাদের কাছে আমি করিনা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 + 7 =