যেথায় আমার নেই আমন্ত্রণ

যেথায় আমার নেই আমন্ত্রণ

দীপাকে প্রথম বারের মতোই কোনো নাটক এর মঞ্চ সাজানোর দায়িত্ব দিলাম। তাও যেনতেন না! রবীন্দ্রনাথ এর “পোস্টমাস্টার”।এখন রাত বারোটা! দীপার ফোন পেয়েই ছুটে গেলাম! ওপাশ থেকেই দীপা,
“জান, হারিকেন টা কোথায় রাখব? কর্ণারে ঝুলিয়ে?”সে হয়তো মঞ্চ এর কোথায় কি করবে তার নকশা তৈরি করছে।আমিও চাই সে শিখুক। তাই বললাম, “আরোও ভাবো তো! গ্রামের মানুষ হারিকেন তো ফ্যান্সী হিসেবে ব্যবহার করত না, চাঁদের আলো যতটুকু আলো ছড়াতো তাতেই দিব্যি চলে যেতো।কিন্তু ততদিনে গ্রামের রাত হয়ে উঠে কর্মময়! আর হারিকেন থাকত মাটিতে, কিংবা যেখানে কাজ করত সেখানে! ”
“আরে তুমি তো দেখি লণ্ঠনের ইতিবৃত্ত লুণ্ঠন করে দিচ্ছ!এই শোনো আমাদের ঘরেও একটা হারিকেন নিয়ে আসব বুঝলে! লাইট বন্ধ করে, সন্ধ্যায় হারিকেন জ্বালাব!”
“নাহ, তার আর কি দরকার? তুমি আছ না! খোদ চাঁদের কণায় আমার ঘরে!”
“সবকিছুতেই ইয়ার্কি!”
“সবকিছুতেই তোমার ছেলেমানুষি!”
“শব্দটা পাল্টানো দরকার!”
“তার আগে পোস্টঅফিস এর মঞ্চ সাজানো দরকার!”
“আচ্ছা শোনো, দেয়ালে কি হিন্দুদের ঠাকুর দেবতার ফটো থাকবে? আগে যেমন ছিলো হিন্দু বাড়িতে।”
“একটু ইউনিভার্সাল করে ভাবো ব্যপার টা”
“লেখকতো একটা হিন্দু ছেলের গল্প লিখেছিল।তাহলে দেবদেবীর ছবি থাকায় সমস্যা কই? রাজা রবি ভার্মা তো আরোও আগেই তাঁদের দেবদেবীর ছবি এঁকেছেন! ”
“দেবদেবীর ছবি তো আরোও আগেও ছিলো! অজান্তা, ইলোরা গুহাতে ও ছিলো। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ কি শুধুই হিন্দু ছেলেরই গল্প বলেছেন, নাকি কলকাতার শহরের কোনো এক তরুণ পোস্টমাস্টার এর গল্প?”
“ঠিক আছে! অ্যাবস্ট্রাক্টই দিই? ”
“না, আরোও ভাবো!”
“জান, তুমি এতো ভাব নাও কেন? কেন যে ইন্টালেকচুয়াল ছেলেকে ভালোবাসলাম!”
“ভালোবেসেছ সত্যি?”
“সন্দেহ?”
“তা হবে না! সুন্দরীদের হারানোর ভয় তো জন্ম থেকেই। ইশশ! আদম ইভের হাতের আপেল খেয়েই স্বর্গচ্যুত! সত্যিই আদম যদি তোমাকে স্বর্গে পেতো না! বেচারা আদম! ”
“ফাজলামো করো না!”
“বোদ্ধাদের বুঝি প্রেম এ অধিকার নেই? বল তো প্রেম কি? ”
“প্রশ্ন করো না! অনুভব করো! ”
“সে তো করছিই!”
“শোনো, তুমি ঘুম আসার আগেই স্বপ্ন এনে দাও! আরেকটু হলেই মায়ের কাছেই ধরা খেতাম। ঘুমেও তোমার সাথে কথা বলছিলাম।”
“এত প্রেম!”
“আমার স্বপ্নের রাজকুমার না তুমি।
সেই ছোটবেলা থেকেই ভাবতাম, একটা পঙ্খিরাজ ঘোড়ায় চেপে আমার রাজা টা আমাকে মুক্ত করবে! বিশ্বাস করো, আমাকে মুক্তি দাও নি, বন্দি করেছ! এই প্রথম বন্দি হয়ে এত সুখ! ”
“আচ্ছা বলো তো, রাজকুমার ছাড়া আর কারো কি প্রেমে অধিকার নেই? আমি লিটারেললি রাজকুমার নই? ”
“সে তো জানি বুদ্ধু! কিন্তু জানো আমাদের কল্পনারা সাম্যবাদী! সেখানে আমরা সবাই রাজা -এই নীতিই চলে, দাসত্ব নয়, পরাধীনতা নয়! ”
“সত্যিই এভাবে আর কেউ বলে নি!”
“আচ্ছা রতনই কি পোস্টমাস্টার কে ভালোবেসেছিলো? পোস্টমাস্টার এর মনে শুধুই করুণা হয়েছিল? ”
এই প্রশ্নের উত্তর আমিও জানতাম না। আমিও জানতাম না, মানবীহৃদয় বড়ই অবুঝ।যুক্তি নয়, সংস্কার নয়, সমাজ নয়, যেনো যুক্তিহীনতার উর্ধ্বে গিয়ে এক পবিত্র জগত! এ জগত মায়েদের, মেয়েদের!

***************

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

74 − = 71