সৃষ্টিশীল মানুষ ‘কবি প্রান্ত পলাশের’ মুক্তি চাই।

অ্যালেক্সা র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকার প্রতিযোগিতায় ইঁদুরদৌড় দৌড়ানো একটি নিউজপোর্টালে চাকরির কারণে কবি প্রান্ত পলাশ এখন কারাগারে। সাংবাদিকতার নামে অসুস্থ প্রতিযোগিতার দায় এখন তার ঘাড়ে। আইসিটি আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কতদিন তাকে জেলে থাকতে হবে কে জানে। একজন সৃষ্টিশীল মানুষের জন্য কারাগার কী ভয়াবহ তা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারি।

প্রান্ত পলাশ কবি হওয়ার এক দুর্মর স্বপ্ন নিয়ে এই শহরে এসেছিলেন। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। সামান্য টাকা বেতনে চাকরি করে টিকে থাকার চেষ্টা করছিলেন। চোখেমুখে স্বপ্ন একদিন বড় কবি হবেন। কবিতা লেখেন অসাধারণ। দ্বিতীয় দশকের যে কজন কবির নিবেদন আছে কবিতার প্রতি, তাদের একজন প্রান্ত। আমি তার কবিতার মনোযোগী পাঠক। তার পাঠের গভীরতাও বিস্তর। তার চিন্তা স্বচ্ছ। ধর্মান্ধতা, যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আপোসহীন। এমন একজন মানুষকে জেলে যেতে হলো, ভাবতেই কেমন অসহায় বোধ হচ্ছে। ভাবছি, এই দেশের কবি-সাহিত্যিকরা কত না অসহায়। সামান্য ক’টা টাকার জন্য কত নষ্ট-ভ্রষ্ট প্রতিষ্ঠানে তাদের কাজ করতে হয়। যে নিউজটির কারণে তিনি অভিযুক্ত, আমি মোটেই বিশ্বাস করি না নিউজটা তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে করেছেন।

তার স্বভাবের সঙ্গে, দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে এই নিউজ মোটেই যায় না। নিউজটি তাকে করতে বাধ্য করেছে তার কর্তাব্যক্তিরা। নিউজটি লেখার সময় বা আপলোডের সময় নিশ্চয়ই তার কপালে বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠেছিল। নিশ্চয় তিনি ভাবছিলেন এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি আর নয়।

কতদিন পর ছাড়া পাবেন পলাশ তার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই। পলাশের সব স্বপ্ন কি ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে? চোর-ডাকাত-খুনীদের সঙ্গে জেলে থাকতে কী মানসিক কষ্টই না হবে তার! একজন সৃজনশীল মানুষের জন্য কারাগার তো নরকেরই নামান্তর। আচ্ছা, আমরা যারা সাহিত্যকর্মী, আমরা কি পারি না তার মুক্তির দাবি জানাতে? কত বড় বড় অপরাধ করে দাগি অপরাধীরা মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে, পলাশের অপরাধ তো গৌণ। একজন কবি জেলে, এটা মর্মান্তিক। মানা যাচ্ছে না। মানবিক দিক বিবেচনায় প্রান্ত পলাশের অনিচ্ছাকৃত গৌণ অপরাধ মার্জনার জন্য আমাদের দাবি জানানো উচিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই তাঁর পিতার মতো মহৎ হৃদয়ের অধিকারী। তার সুযোগ্য সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়ও নিশ্চয়ই উদার। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে পলাশের মুক্তির দাবি জানালে নিশ্চয়ই তাঁদের দৃষ্টিগোচর হবে। এবং তাতে পলাশের মুক্তির পথটা সহজ হবে বলে মনে করি। আসুন, আমরা পলাশের মুক্তির দাবি জানাই। পলাশ তো আমাদেরই ভাই। তার বিপদে তো আমাদেরই দাঁড়াতে হবে।
০১৩.০৮.২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

28 − 22 =