” তন্বীর গল্প ”

মেয়েটি আবার ঘুরে দাঁড়ায়! খুব যত্ন করে বাঁচতে শেখে। সে এখন হাসতে পারে, হাসাতেও! ছেলেটিকে ভীষণ ভালবাসত। একটি ভুলে ২ মাসের বিচ্ছেদের পর আবার যখন ফিরলো ছেলেটা মেয়েটা অসীম আগ্রহ ভরে চেয়ে ছিল ছেলেটার চোখে “আবার বুঝি ভালবাসবে!” না ছেলেটি নিছক নিজের দূর্নাম ঘোচাতে ফিরে এসেছিল, ফিরে আসার ভান করেছিল! অপেক্ষা করতো মেয়েটা “আবার আগের মতই ভালবাসবে ছেলেটা”। না তা হয়নি! প্রায়ই শোনায় ছেলেটা “আমাকে দিয়ে ঘর সংসার হবেনা।” মেয়েটি ভাবে ও বোধ হয় কথার কথা! বাড়ি থেকে ইদানিং বড্ড জ্বালাতন করছে সব! “বিয়ে, বিয়ে আর বিয়ে”। আবার আরেকবার বিয়ে করতে রাজি হয়না মেয়েটা!

সে একদিন খুব রাগ করে বেরিয়ে আসে বাড়ি থেকে। এইবারই শেষবার। বাবাকে দিব্বি জানিয়ে এসেছে ” যদি স্বিদ্ধান্ত বদলাও জানিও, আমি ফিরেআসব”। ছেলেটিকে বলে। এবার ছেলেটা সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। প্রথম মাসে পাঁচ হাজার টাকা দেয় মেয়েটার হাতে। নিজে ২ টা টিউশনি পড়াতে শুরু করে। ভর্তির টাকা লাগবে, হাতখরচ লাগবে। সব মিলিয়ে হিমসিম খাওয়া মেয়েটা নিজের গলায় থাকা ভালবাসার শেষ চিহ্নটাকে বেঁচে দেয়। স্বর্ণের চেইনটার বাজার মূল্য যদিও পাওয়া গেল, ভালবাসার মূল্য টা কেউই দিল না! আপাতত বাজার মূল্য দিয়েই প্রয়োজন মেটাল সে। হঠাৎ একদিন কথায় কথায় ছেলেটা বলে “ঘর সংসার হবেনা আমাকে দিয়ে, তুমি বরং বাবা মায়ের সাথে মিটিয়ে নাও”! পায়ের নীচের মাটিটা আবার দুলে ওঠে। কাজ নেয় একটা কল সেন্টারে। সন্ধ্যায় ডিউটি। তবুও থামেনা সে। কানে বাজে একটাই কথা “ঘর সংসার হবেনা আমাকে দিয়ে, তুমি বরং বাবা মায়ের সাথে মিটিয়ে নাও”!

যেদিন সোনার হারটা বেঁচতে গিয়েছিল সে সেদিনই ফোন করে করে পেলনা ছেলেটা। ইচ্ছে করেই ধরেনি সে। পাছে ছেলেটিকে বলতে হয় এ কথা! ছেলেটি ভাবে মেয়েটা বোধ হয় কোথাও বসে জীবনের অনবদ্য স্বাদ নিচ্ছে! মেয়েটি তখন তার ভালবাসার বিনিময়ে স্বপ্ন কিনছে গহনার দোকানে! ছেলেটি এদিকে ভাবতে থাকে সে’ই বোধ হয় মেয়েটির উপরে ওঠবার প্রথম ধাঁপ! মেয়েটি তখন জীবনযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে!

কল সেন্টারের চাকরীর অফারটা যেদিন নিয়ে নিল, সেদিনই ছেলেটিকে বললো তার দেয়া পাঁচ হাজার টাকাটা লাগলে যেন চেয়ে নেয় সে! ভীষণ অভিমানে সেদিন জগৎ টাকে একটা নরক মনে হচ্ছিল। তবুও উঠে দাঁড়ায় সে। কারও সাহায্য নিয়ে নয়, নিজেকে নিয়েই পথ চলবে সে। ছেলেটিকে কিছুই বুঝতে দেয়না। বিদ্ধস্ত জগতটাকে গড়তে থাকে নতুন করে। জীবন নিয়ে জুয়া খেলবার অবসর নেই তার। ওসব বিলাসীতা এখন ছেলেটিকে মানায়। মেয়েটি চায় স্রেফ উঠে দাঁড়িয়ে চলতে! মানুষের মত বাঁচতে এখনও যে বড় স্বাদ জাগে মনে!

ভীষণ উদ্যমে বেঁচে থাকা মেয়েটি তাই বিশ্বাস করে ” সময় কে সময় দিতে হয়! তবেই সুসময় এসে দরজায় কড়া নাড়ে!”

উৎসর্গ: মানুষের মত বেঁচে থাকার অদম্য বাসনায় যে মেয়েটি বেঁচে আছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 15 = 21