আসুন কুকুর পুষি

কিছুদিন আগে আমি ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসে লিখেছিলাম-

“হাজার হাজার টাকা খরচ করে দেব-দেবী না পুষে হিন্দুদের উচিত কুকুর পোষা, তাহলে অন্তত প্রভু ভক্ত কুকুর মনিবের বিপদে নিজের জীবন দিয়ে হলেও মনিবের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করবে ।”

এই স্ট্যাটাসের বিপরীতে কয়েকজন শিক্ষিত-উচ্চশিক্ষিত হিন্দু ধার্মিকগন আমার কথার বিরোধীতা করেছিলেন, কেউ কেউ আমাকে গালাগালি করেছিলেন; কেউ কমেন্টে, কেউ ইনবক্সে । বাধ্য হয়ে কিছু কমেন্ট আমাকে ডিলিট করতে হয়েছিলো, কাউকে বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দিতে হয়েছিলো ।

কিন্তু কথাটা আমি কেন বলেছিলাম, কি অর্থে বলেছিলাম তা উনারা তাদের অসামান্য জ্ঞান-বুদ্ধি দ্বারা বোঝার চেষ্টা করেননি । কিন্তু তাতে আমি একটুও বিচলিত হইনি, বরং আমি এখনও আমার বক্তব্যের সাথে শতভাগ সহমত ।

আচ্ছা আমাকে একটা কথা বলুন তো-
এই যে দেশে হিন্দুদের উপর এত অত্যাচার হচ্ছে, সংখ্যাগুরুদের দ্বারা প্রতিনিয়ত সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে, অত্যাচারিত হয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাচ্ছেন; এসব কি আপনার পোষা দেব-দেবীগুলো দেখে না ? দেখে থাকলে রক্ষা করেনা কেন ? নিয়মিত তাদের পিছনে এত টাকা ব্যয় করছেন কোন কাজে ? তাদের প্রত্যেকের হাতেই তো অস্ত্র আছে, এক মহিলার তো আবার দশ হাতে দশ অস্ত্র; এসব কোন কাজে লাগে ? না কি আমার মত আপনারও ঐসব মাটির পুতুলকে শুধু মাটির পুতুলই ভাবেন ? না, আপনারা তো তা ভাবেন না । আমার মত ভাবলে তো আর ঐ মূর্তির সামনে বসে এটা-সেটা চাইতে পারতেন না, মূর্তির কাছে দয়া ভিক্ষা করতেন না, মূর্তিকে রক্ষা কর্তা ভাবতেন না । আপনারা তো ‘মৃন্ময়ী মাঝে চিন্ময়ী হেরিয়া’ আত্মহারা হয়ে মূর্তিকে পূজা করেন । তাহলে সেই চিন্ময়ী রূপ কোথায় ? এত ডাকার পরেও সে রক্ষা করতে আসে না কেন ? আর যদি এত সেবা করার পরেও, টাকা খরচ করার পরেও আপনার আরাধ্য দেবতা মূর্তি থেকে প্রকট হয়ে আপনাকে বিপদ হতে রক্ষা করতে না পারে, তবে সেই অকৃতজ্ঞকে পূজা করার মত মূর্খতা কেন ?

ঘরের মাঝে প্রতিষ্ঠিত প্রাণহীন পুতুল কি আর বাইরে থেকে আসা শেয়াল-শকুন তাড়াতে পারে ? শেয়াল-শকুনের উৎপাত থেকে রক্ষা পেতে হলে বাড়িতে রাখতে হয় সবথেকে বিশ্বস্ত, কৃতজ্ঞ, অল্পতে তুষ্ট এবং প্রভু ভক্ত প্রাণী কুকুর ।
দেশের আনাচে-কানাচে সবখানে এখন দূর্বৃত্ত নামের শেয়াল-শকুনেরা লোলুপ দৃষ্টি নিয়ে ওৎ পেতে বসে আছে, সুযোগ পেলেই কার্যসিদ্ধি করে নেবে । এদের হাত থেকে বাঁচতে বাড়িতে একটি-দুইটি প্রশিক্ষিত কুকুরই যথেষ্ট ।

আমার কথায় যদি আস্থা না থাকে তবে সত্য-মিথ্যা প্রমাণ হয়ে যাক । দেখি কার পোষ্য বিপদে রক্ষা করতে আসে; পোষা কুকুর, না কি মাটির তৈরী দেবতা ? যদি আপনার দেবতার উপর আপনার এতই আস্থা ও বিশ্বাস থাকে তবে গ্রহণ করুন আমার চ্যালেঞ্জ ।

আর যদি চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সাহস না থাকে তবে দেবতা পোষা বাদ দিয়ে কুকুর পুষুন, তাকে প্রশিক্ষণ দিন; বিপদে কাজে আসবে ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

89 − = 87