এতিমের কোনো মাটি নাই

&imgrefurl=http%3A%2F%2Fwww.bangladeshsupremecourtbar.com%2FBangabandhu_murder_case.php&docid=ULka2WKBinyjnM&tbnid=j2ID6x9xb9D9KM%3A&w=216&h=285&bih=667&biw=1366&ved=0ahUKEwigoL6G3cHOAhWHOY8KHfyWC1YQMwgeKAIwAg&iact=mrc&uact=8#h=285&imgdii=j2ID6x9xb9D9KM%3A%3Bj2ID6x9xb9D9KM%3A%3B-e0dYcuHMsYczM%3A&w=216″ width=”400″ />

সিঁড়ির ওপর ঝাঁজরা বুকের জমিন
লালে লাল ছয় ফুটি মানব দেহের বাইরে
এতিমের কোনো দেশ নাই


পিতা যার খুন হয়ে যায়
তার মত দুর্ভাগা আর কে হয়?

ওরা যখন আমার মুখের ভাষা
কাইড়া নিতে চায়ছিল, তখন
আমার পিতা ছিল, পিতামহ ছিল,
ছিল জ্ঞাতি গুষ্টি যৌথ পরিবার,
ওরা আমার মায়ের ভাষা
কাইড়া নিতে পারে নাই।

ওরা যখন আমার জ্ঞাতি গুষ্টি
সব মাটির তলে লোপাট কইরা
পোড়া মাটির রাজত্ব চাইছিল, তখন
আমার পিতা ছিল, পিতামহ ছিল,
ছিল জ্ঞাতি গুষ্টি যৌথ পরিবার,
ওরা আমার মায়ের দ্যাশের মাটি থাইকা
আমারে লোপাট করতে পারে নাই।

যখন আমার ঘরের খুটিতে ঘুণ ধরছিলো
বাস্তুভিটায় কালসাপ আর শকুনের থাবা
তখন আমার অসহায় দিশাহীন পিতা ছিল,
ছিল পিতার অফুরন্ত অন্ধ ভালোবাসা
ছিল পিতার মানবিক দুর্বলতা আর অপত্য স্নেহ,
তবুও ছিল ঘুন ধরা খুঁটি বদলে নিতে
পিতার চূড়ান্ত চেষ্টা, বিপরীতে কোনো
বিপ্লব ছিলোনা, প্রতি বিপ্লব ছিলোনা
ছিলো কুৎসিত প্রতিক্রিয়াশীল ভ্রান্ত জিঘাংসা আর
সেই রাতে আকাশে শ্রাবণের মেঘ ছিল, ছিলোনা চাঁদ
তাই আমাদের পিতা পারে নাই।
পিতার নিকটে আমরা স্বাভাবিক
মৃত্যুর গ্যারান্টি চাইছিলাম কিন্তু আমারাই
পিতার অস্বাভাবিক মৃত্যু ঠেকাইতে পারি নাই।
সেই থেকে নিজভূমে পরবাসী এতিম
পিতার রক্তে কান্দে যাহার হিয়া ।

যে পিতার সন্তান সে নিপীড়ক হতে পারেনা,
যে পিতার সন্তান সে জাতি ধর্মের নাম ভাঙায়ে
মানব জাতিতে বিভেদ তৈরি করেনা,
যে পিতার সন্তান সে আগ্রাসন আর শুকুনের
থাবা থেকে ঘরের মাটি বাঁচিয়ে রাখে।
যে পিতার সন্তান সে পিতাকে
দানব বা দেবতা বানায়ে ফন্দি ফিকির করেনা।
যে পিতার সন্তান সে দুনিয়ার দিকে দিকে
দাবায়ে রাখা নিপীড়িতের মুক্তি চায়। কিন্তু,
১৫ই আগস্ট ৭৫ থেকে নিজভূমে পরবাসী এতিম
পিতার রক্তে কান্দে যাহার হিয়া।

পিতার খুনিরা সাজা পাইলেও
কারাবন্দি পিতার দ্যাশ, মাঝে মাঝে
জামিন পায়, খালাস পায়না।
বছরের পর বছর ধরে
তত্ত্বকথা আর যুক্তি তর্কের মারপ্যাঁচে
বেনিয়ার বাজার শকুনের বেসাতি ঘরের ভিটায়।
সেই থেকে নিজভূমে পরবাসী এতিম
পিতার রক্তে কান্দে যাহার হিয়া।

আমার হিয়ায় ক্ষত বিক্ষত ছবি
সিঁড়ির ওপর ঝাঁজরা বুকের জমিন
লালে লাল ছয় ফুটি মানব দেহ।
ওই ঝাঁজরা দেহের বাইরে আপাততঃ
আমার কোনো দেশ নাই
আমার কোনো মাটি নাই।

আমার কৃষক আছে, শ্রমিক আছে
শিক্ষক আছে কারিগর আছে
কোনোরকম মাথা গুঁজে থাকার জায়গা আছে
মুখে রক্ত তুলে খেটে খাওয়া আছে
নিজভূমে এতিম হবার জ্বালা আছে
সিঁড়ির ওপর ঝাঁজরা বুকের জমিন
লালে লাল ছয় ফুটি মানব দেহের পিতা আছে
কিন্তু আমার স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নাই
সামাজিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নাই।

আমার চারপাশে ক্ষমতার আস্ফালন আছে
মূর্খের লোভী মগজের গরিমা আছে
পিতার অপত্য স্নেহ নাই,
আমি এক তস্য এতিম
সিঁড়ির ওপর ঝাঁজরা বুকের জমিন
লালে লাল ছয় ফুটি মানব দেহের বাইরে
এতিমের কোনো দেশ নাই
এতিমের কথা শোনার কেহ নাই
এতিমের বেদনা বোঝার কেহ নাই
সাড়ে তিন হাত মাটি ছাড়া
এতিমের কোনো মাটি নাই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 6 = 2