বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উক্তি

১।”আমরা পরিস্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই যে,আমরা ক্ষমতার জন্যে রাজনীতি করি না।জনগণের অধিকার আদায়ের জন্যই আওয়ামিলীগ রাজনীতি করে।”

২।”প্রধানমন্ত্রী হবার কোন ইচ্ছা আমার নেই।প্রধানমন্ত্রী আসে এবং যায়।কিন্তু যে ভালোবাসা ও সম্মান দেশবাসী আমাকে দিয়েছেন,তা আমি সারাজীবন মনে রাখবো।অত্যাচার নিপীড়ন এবং কারাগারে নির্জন প্রকোষ্ঠকেও আমি ভয় করি না।কিন্তু জনগণের ভালোবাসা যেন আমাকে দূর্বল করে ফেলেছে।”

৩।”অযোগ্য নেতৃত্ব,নীতিহীন নেতা ও কাপুরুষ রাজনীতিবিদদের সাথে কোনোদিন একসাথে হয়ে দেশের কাজে নামতে নেই।তাতে দেশসেবার চেয়ে দেশের ও জনগণের সর্বনাশই বেশি হয়।”

৪।”মানুষকে ভালোবাসলে মানুষও ভালোবাসে।যদি সামান্য ত্যাগ স্বীকার করেন,তবে জনসাধারণ আপনার জন্য জীবন দিতেও পারে।”

৫।”পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না।যদি কেউ বলে যে,ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়েছে,আমি বলব ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়নি।সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করার ব্যবস্হা করেছি।কেউ যদি বলে গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার নাই,আমি বলব সাড়ে সাত কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা।”

৬।”ধর্মপ্রাণ বাঙ্গালী মুসলমানরা তাদের ধর্মকে ভালোবাসে;কিন্তু ধর্মের নামে ধোঁকা দিয়ে রাজনৈতিক কার্যসিদ্ধি করতে তারা দিবে না এ ধারণা অনেকেরই হয়েছিল।”

৭।”জনসাধারণ চায় শোষণহীন সমাজ এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতি করতে যদি গুটিকয়েক লোকের অধিকার হরণ করতে হয়,তা করতেই হবে।”

৮।”বাংলার উর্বর মাটিতে যেমন সোনা ফলে,ঠিক তেমনি পরগাছাও জন্মায়!একইভাবে বাংলাদেশে।” কতকগুলো রাজনৈতিক পরগাছা রয়েছে,যারা বাংলার মানুষের বর্তমান দু:খ দূর্দশার জন্য দায়ী।”

৯।”আমরা পরিস্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই যে,আমরা ক্ষমতার জন্যে রাজনীতি করি না।জনগণের অধিকার আদায়ের জন্যই আওয়ামিলীগ রাজনীতি করে।”

৯।”যদি আমরা বিভক্ত হয়ে যাই এবং স্বার্থের দ্বন্দ ও মতাদর্শের অনৈক্যের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে আত্বঘাতী সংঘাতে মেতে উঠি তাহলে যাঁরা এদেশের মানুষের ভালো চান না ও এখানাকার সম্পদের ওপর ভাগ বসাতে চান তাঁদেরই সুবিধা হবে এবং বাংলাদেশের নির্যাতিত,নিপীড়িত,ভাগ্যাহত ও দূ:খী মানুষের মুক্তির দিনটি পিছিয়ে যাবে।”

১০।”আমাদের চাষীরা হল সবচেয়ে দু:খী ও নির্যাতিত শ্রেণী এবং তাদের অবস্হার উন্নতির জন্যে আমাদের উদ্যোগের বিরাট অংশ অবশ্যই তাদের পেছনে “জনগণকে ছাড়া,জনগণকে সংঘবদ্ধ না করে,জনগণকে আন্দোলনমুখী না করে এবং পরিস্কার আদর্শ সামনে না রেখে কোনোরকম গণ আন্দোলন হতে পারেনা।”

১১।”আর সাম্প্রদায়িকতা যেন মাথাচারা দিয়ে উঠতে না পারে।ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র বাংলাদেশ।মুসলমান তার ধর্মকর্ম করবে।হিন্দু তার ধর্মকর্ম করবে।বৌদ্ধ তার ধর্মকর্ম করবে।কেউ কাউকে বাধা দিতে পারবে না।কিন্তু ইসলামের নামে আর বাংলাদেশের মানুষকে লুট করে খেতে দেওয়া হবে না।”

১২।”জনগণকে ছাড়া,জনগণকে সংঘবদ্ধ না করে,জনগণকে আন্দোলনমুখী না করে এবং পরিস্কার আদর্শ সামনে না রেখে কোনোরকম গণ আন্দোলন হতে পারেনা।”

১৩।”সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।তাই মাটি ও মানুষকে কেন্দ্র করে গণমানুষের সুখ শান্তি ও স্বপ্ন এবং আশা-আকাঙ্খাকে অবলম্বন করে গড়ে উঠবে বাংলার নিজস্ব সাহিত্য-সংস্কৃতি।”

১৪।”সরকারী কর্মচারীদের জনগণের সাথে মিশে যেতে হবে।তাঁরা জনগণের খাদেম,সেবক,ভাই।তাঁরা জনগণের বাপ,জনগণের ছেলে,জনগণের সন্তান।তাঁদের এই মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।”

১৫”আন্দোলন গাছের ফল নয়।আন্দোলন মুখ দিয়ে বললেই করা যায় না।আন্দোলনের জন্য জনমত সৃষ্টি করতে হয়।আন্দোলনের জন্য আদর্শ থাকতে হয়।আন্দোলনের জন্য নি:স্বার্থ কর্মী হতে হয়।ত্যাগী মানুষ থাকা দরকার।আর সর্বোপরি জনগণের সংঘবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ সমর্থন থাকা দরকার।”

১৬।”ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত থাকে না।বিদেশ থেকে ভিক্ষা করে এনে দেশকে গড়া যাবে না।দেশের মধ্যেই পয়সা করতে হবে।”

১৭।”আমরা পরিস্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই যে,আমরা ক্ষমতার জন্যে রাজনীতি করি না।জনগণের অধিকার আদায়ের জন্যই আওয়ামিলীগ রাজনীতি করে”

১৮।“প্রধানমন্ত্রী হবার কোন ইচ্ছা আমার নেই।প্রধানমন্ত্রী আসে এবং যায়।কিন্তু যে ভালোবাসা ও সম্মান দেশবাসী আমাকে দিয়েছেন,তা আমি সারাজীবন মনে রাখবো।অত্যাচার নিপীড়ন এবং কারাগারে নির্জন প্রকোষ্ঠকেও আমি ভয় করি না।কিন্তু জনগণের ভালোবাসা যেন আমাকে দূর্বল করে ফেলেছে।”

১৯।“মানুষকে ভালোবাসলে মানুষও ভালোবাসে।যদি সামান্য ত্যাগ স্বীকার করেন,তবে জনসাধারণ আপনার জন্য জীবন দিতেও পারে।”

২০।আমার সবচেয়ে বড় শক্তি আমার দেশের মানুষকে ভালবাসি, সবচেয়ে বড় দূর্বলতা আমি তাদেরকে খুব বেশী ভালবাসি।”

২১।”সাত কোটি বাঙ্গালির ভালোবাসার কাঙ্গাল আমি। আমি সব হারাতে পারি, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা হারাতে পারব না।”

২২।”গরীবের উপর অত্যাচার করলে আল্লাহর কাছে তার জবাব দিতে হবে।”

২৩।”আমি বা আপনারা সবাই মৃত্যুর পর সামান্য কয়েক গজ কাপড় ছাড়া সাথে আর কিছুই নিয়ে যাব না।”

২৪।“বাংলার উর্বর মাটিতে যেমন সোনা ফলে,ঠিক তেমনি পরগাছাও জন্মায় একইভাবে বাংলাদেশে।”

২৫।”কতকগুলো রাজনৈতিক পরগাছা রয়েছে,যারা বাংলার মানুষের বর্তমান দু:খ দূর্দশার জন্য দায়ী।”

২৬।“যদি আমরা বিভক্ত হয়ে যাই এবং স্বার্থের দ্বন্দ ও মতাদর্শের বিশ্ব দুই শিবিরে বিভক্ত – শোষক আর শোষিত।আমি শোষিতের পক্ষে।”

২৭।”এই স্বাধীন দেশে মানুষ যখন পেট ভরে খেতে পাবে, পাবে মর্যাদাপূর্ণ জীবন; তখনই এই লাখো শহীদের আত্মা তৃপ্তি পাবে।”

২৮।” দেশ থেকে সর্বপ্রকার অন্যায়, অবিচার ও শোষণ উচ্ছেদ করার জন্য দরকার হলে আমি আমার জীবন উৎসর্গ করব।”

২৯।“আমাদের চাষীরা হল সবচেয়ে দু:খী ও নির্যাতিত শ্রেণী এবং তাদের অবস্হার উন্নতির জন্যে আমাদের উদ্যোগের বিরাট অংশ অবশ্যই তাদের পেছনে।”

৩০।“জনগণকে ছাড়া,জনগণকে সংঘবদ্ধ না করে,জনগণকে আন্দোলনমুখী না করে এবং পরিস্কার আদর্শ সামনে না রেখে কোনোরকম গণ আন্দোলন হতে পারেনা।”

৩১।“আর সাম্প্রদায়িকতা যেন মাথাচারা দিয়ে উঠতে না পারে।ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র বাংলাদেশ।মুসলমান তার ধর্মকর্ম করবে।হিন্দু তার ধর্মকর্ম করবে।বৌদ্ধ তার ধর্মকর্ম করবে।কেউ কাউকে বাধা দিতে পারবে না।কিন্তু ইসলামের নামে আর বাংলাদেশের মানুষকে লুট করে খেতে দেওয়া হবে না।”

৩২।“জনগণকে ছাড়া,জনগণকে সংঘবদ্ধ না করে,জনগণকে আন্দোলনমুখী না করে এবং পরিস্কার আদর্শ সামনে না রেখে কোনোরকম গণ আন্দোলন হতে পারেনা।”

৩৩।“সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন।তাই মাটি ও মানুষকে কেন্দ্র করে গণমানুষের সুখ শান্তি ও স্বপ্ন এবং আশা-আকাঙ্খাকে অবলম্বন করে গড়ে উঠবে বাংলার নিজস্ব সাহিত্য-সংস্কৃতি।”

৩৪।“সরকারী কর্মচারীদের জনগণের সাথে মিশে যেতে হবে।তাঁরা জনগণের খাদেম,সেবক,ভাই।তাঁরা জনগণের বাপ,জনগণের ছেলে,জনগণের সন্তান।তাঁদের এই মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।”

৩৫।“আন্দোলন গাছের ফল নয়।আন্দোলন মুখ দিয়ে বললেই করা যায় না।আন্দোলনের জন্য জনমত সৃষ্টি করতে হয়।আন্দোলনের জন্য আদর্শ থাকতে হয়।আন্দোলনের জন্য নি:স্বার্থ কর্মী হতে হয়।ত্যাগী মানুষ থাকা দরকার।আর সর্বোপরি জনগণের সংঘবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ সমর্থন থাকা দরকার।”

৩৬।“ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত থাকে না।বিদেশ থেকে ভিক্ষা করে এনে দেশকে গড়া যাবে না।দেশের মধ্যেই পয়সা করতে হবে।”

৩৭।“যিনি যেখানে রয়েছেন, তিনি সেখানে আপন কর্তব্য পালন করলে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে না।”

৩৮।“বাংলার মাটি থেকে দুর্নীতি উৎখাত করতে হবে। দুর্নীতি আমার বাংলার কৃষক করে না। দুর্নীতি আমর বাংলার শ্রমিক করে না। দুর্নীতি করে আমাদের শিক্ষিত সমাজ।”

৩৯।”অযোগ্য নেতৃত্ব, নীতিহীন নেতা ও কাপুরুষ রাজনীতিবিদদের সাথে কোন দিন একসাথে হয়ে দেশের কাজে নামতে নেই। তাতে দেশসেবার চেয়ে দেশের ও জনগণের সর্বনাশই বেশি হয়।”

৪০”।রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের চারটি জিনিসের প্রয়োজন, তা হচ্ছে: নেতৃত্ব, ম্যানিফেস্টো বা আদর্শ, নিঃস্বার্থ কর্মী এবং সংগঠন।”

৪১।”বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ না থাকলে আমাদের স্বাধীনতার অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। গণআন্দোলন ছাড়া, গণবিপ্লব ছাড়া বিপ্লব হয় না।”

৪২।“আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।”

৪৩।”শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়।”

৪৪।”বাংলার মাটি দু্র্জয় ঘাঁটি জেনে নিক দুর্বৃত্তেরা।”

৪৫।” বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবেই।”

৪৬।”বাংলার মাটি থেকে দুর্নীতি উৎখাত করতে হবে। দুর্নীতি আমার বাংলার কৃষক করে না। দুর্নীতি আমর বাংলার শ্রমিক করে না। দুর্নীতি করে আমাদের শিক্ষিত সমাজ।”

৪৭।” বাবারা, একটু লেখাপড়া শিখ। যতই জিন্দাবাদ আর মুর্দাবাদ কর, ঠিকমত লেখাপড়া না শিখলে কোন লাভ নেই। আর লেখাপড়া শিখে যে সময়টুকু থাকে বাপ- মাকে সাহায্য কর। প্যান্ট পরা শিখেছো বলে বাবার সাথে হাল ধরতে লজ্জা করো না। দুনিয়ার দিকে চেয়ে দেখ।

কানাডায় দেখলাম ছাত্ররা ছুটির সময় লিফট চালায়। ছুটির সময় দু’পয়সা উপার্জন করতে চায়। আর আমাদের ছেলেরা বড় আরামে খান, আর তাস নিয়ে ফটাফট খেলতে বসে পড়েন। গ্রামে গ্রামে বাড়ীর পাশে বেগুন গাছ লাগিও, কয়টা মরিচ গাছ লাগিও, কয়টা লাউ গাছ ও কয়টা নারিকেলের চারা লাগিও।

বাপ-মারে একটু সাহায্য কর। কয়টা মুরগী পাল, কয়টা হাঁস পাল। জাতীয় সম্পদ বাড়বে। তোমার খরচ তুমি বহন করতে পারবে। বাবার কাছ থেকে যদি এতোটুকু জমি নিয়ে ১০ টি লাউ গাছ, ৫০ টা মরিচ গাছ, কয়টা নারিকেলের চারা লাগায়ে দেও, দেখবে ২/৩ শত টাকা আয় হয়ে গেছে। তোমরা ঐ টাকা দিয়ে বই কিনতে পারবে। কাজ কর, কঠোর পরিশ্রম কর, না হলে বাঁচতে পারবে না।

শুধু বিএ। এমএ পাস করে লাভ নেই। আমি চাই কৃষি কলেজ, কৃষি স্কুল, ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল, কলেজ ও স্কুল, যাতে সত্যিকারের মানুষ পয়দা হয়। বুনিয়াদি শিক্ষা নিলে কাজ করে খেয়ে বাঁচতে পারবে। কেরানী পয়দা করেই একবার ইংরেজ শেষকরে দিয়ে গেছে দেশটা। তোমাদের মানুষ হতে হবে ভাইরা আমার।

আমি কিন্তু সোজা সোজা কথা কই, রাগ করতে পারবে না। রাগ কর, আর যা কর, আমার কথাগুলো শোন।

লেখাপড়া কর আর নিজেরা নকল বন্ধ কর। আর এই ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি-ডাকাতির বিরুদ্ধে গ্রামে গ্রামে থানায় থানায় সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তোল। প্রশাসনকে ঠিকভাবে চালাতে সময় লাগবে। এর একেবারে পা থেমে মাথা পর্যন্ত গলদ আছে।

মাঝে মাঝে ছোট-খাট অপারেশন করছি। বড় অপারেশন এখনো করি নাই। সময় আসলে করা যাবে। তোমাদের আমি এইটুকু অনুরোধ করছি, তোমরা সংঘবদ্ধ হও।

আর মেহেরবানী করে আত্মকলহ করো না। এক হয়ে কাজ কর। দেশের দুর্দিনে স্বাধীনতার শত্রুরা সংঘবদ্ধ, সাম্প্রদায়িকতাবাদীরা দলবদ্ধ, তোমাদের সংঘবদ্ধহয়ে দেশকে রক্ষা করতে হবে ।”

৪৮।১১ই জানুয়ারী,১৯৭৫।-তৎকালীন কুমিল্লায় অবস্হিত বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমী(বিএমএ)-তে,বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ম ব্যাচ সেনাক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে,

“বহুকাল সংগ্রাম করেছিলাম যে বাংলাদেশে মিলিটারী একাডেমী হোক।কিন্তু আমরা পারিনাই তখন।আজ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন স্বার্বভৌম রাষ্ট্র।সেজন্যেই আজ বাংলাদেশের মাটিতে বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমী স্হাপিত হয়েছে…..

আমি আশা করি,ইনশাল্লাহ,এমন দিন আসবে,এই একাডেমীর নাম শুধু দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় নয়,সমস্ত দুনিয়াতে সম্মান অর্জন করবে….

তোমাদের মনে রাখা উচিৎ ক্যাডেট ভাইয়েরা,আজ তোমরা তোমাদের ট্রেনিং শেষ করলা।এক পর্যায় শেষ আরেক পর্যায় শুরু এবং এই পর্যায়ের দায়িত্ব অনেক বেশী।অনেক অসুবিধার মধ্যে তোমাদের ট্রেনিং নিতে হয়েছে।সবকিছু তোমাদের আমরা দিতে পারিনাই।তোমাদের কমান্ডাররা অনেক কষ্ট করে তোমাদের ট্রেনিং দিয়েছে।কিন্তু আজ যা আমি দেখলাম,তাতে আমি বিশ্বাস করতে পারি,যে,পূর্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যায়,আমার ছেলেদেরই শক্তি আছে,যেকোন দেশের যেকোন সৈনিকের সঙ্গে তারা মোকাবেলা করতে পারে।

ছেলেরা আমার,তোমরা নতুন জীবনে যাচ্ছ।মনে রেখ,তোমরা একেকজন সামরিক কর্মচারী যাদের নিচেই থাকবে আমার সৈনিক বাহিনী।তাদের কাছেও অনেক শেখার আছে।তাদের সঙ্গে মিশতে হবে,তাদের জানতে হবে,দু:খের সময় দাঁড়াতে হবে,তাদের পাশে থাকতে হবে।মনে রেখ শাসন করা তারই সাজে সোহাগ করে যে।তুমি যখন শাসন করবা সোহাগ করতে শেখ।তাদের দু:খের দিনে পাশে দাঁড়িও।তাদের ভালোবেস।কারণ তোমার হুকুমে সে জীবন দিবে…..

সৎ পথে থেক।আমি তোমাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কথা বলছিনা,আমি তোমাদের জাতির পিতা হিসেবে আদেশ দিচ্ছি।কারণ জাতির পিতা একবারই হয় দুবার হয়না।প্রধানমন্ত্রী অনেক হবে অনেক আসবে।প্রেসিডেন্ট অনেক হবে অনেক আসবে।সেই হিসেবে তোমাদের আমি ভালোবাসি তোমরা জান।তোমরা সৎ পথে থেক।মাতৃভূমিকে ভালোবাস।আমি নিশ্চয় আনন্দিত যে তিন বছরের মধ্যে,কিছু কিছু বন্দোবস্ত আমি আমার সামরিক বাহিনীর জন্য করতে পেরেছি সকলের জন্য করতে পেরেছি।অনেক দিন লাগে একটা একাডেমী একদিনে গড়ে তোলেনা,অনেক প্রয়োজন।ইনশাল্লাহ হবে,ভালোভাবে হবে,এমন হবে যে দুনিয়ার মানুষ দেখতে আসবে আমার একাডেমীকে এবিশ্বাস আমি রাখি।তোমাদের কাছে আমার শুভেচ্ছা রইল।আমার আদেশ তোমরা মনে রেখ।আমার স্নেহের আবেদন তোমরা মনে রেখ।আমি তোমাদের দোয়া করি।বাংলার জনগণ তোমাদের দোয়া করবে।তোমরা আমার ফার্স্ট ব্যাচ।তোমরা কাল থেকে সরকারী খাতায় অফিসার হয়ে যাবা।তোমরা আদর্শ সৃষ্টি করো যাতে তোমাদের যারা ফলো করে আসবে তারাও যেন আদর্শবান হয়।তোমাদের উপর আমার এই বিশ্বাস আছে।ইনশাল্লাহ,স্বাধীনদেশে রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি,এ স্বাধীনতা নিশ্চয় ইনশাল্লাহ থাকবে,কেউ ধ্বংস করতে পারবেনা।তবে স্বাধীনতা ফিকা হয়ে যাবে,যদি বাংলার দু:খী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে না পার।সেইজন্য তোমাদের কাছে আমার আবেদন রইল,সৎপথে থেকো।খোদা নিশ্চয় তোমাদের সাহায্য করবে।বিদায় নিচ্ছি।খোদা হাফেজ।জয় বাংলা।”

৪৯।”When you play with the gentlemen, you play like a gentlemen.But When you play with bastards,make sure you play like a bigger bastard.Otherwise you will lose.”

তথ্যসূত্রঃ

১. বঙ্গবন্ধুর ভাষণ – আনু মোহাম্মদ সম্পাদিত,

২. অসমাপ্ত আত্মজীবনী – বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,

৩. ইন্টারনেট।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 3 =