Peepli [Live]: আমাদের গণমাধ্যম ও রাজনীতি

ডিসক্লেইমারঃ এই লেখাটিকে সাংবাদিক মহল কোনভাবেই জেনারালাইজ করে নেবেন না। কারন আমি জানি আমাদের সংবাদ মাধ্যমে এমন অনেক নিবেদিতপ্রান সাংবাদিক আছেন, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংগ্রহ করা নিউজ থেকেই আমরা প্রতিদিনের বিভিন্ন ঘটনার আপডেট জানতে পারি।

Peeli [Live] মুভিটার কথা মনে আছে? অনেকেই হয়ত দেখেননি। কারন বলিউডের হাজারো গ্ল্যামারাস মুভির ভিড়ে পিপলি লাইভের মতন মুভি চোখে পড়ার কথা না। আমীর খান প্রডাকশন্স এর প্রযোজিত এবং আনুশা রিজভি পরিচালিত এই মুভিতে দেখানো হয়েছে কোন ঘটনায় আমাদের মিডিয়া এবং রাজনৈতিক চরিত্র।

পিপলি ভারতের মুখ্য প্রদেশের (কাল্পনিক) একটি গ্রাম। সেখানে ঋনের দায়ে অহরহই আত্মহত্যা করে কৃষক। নাথা দাস মানিকপুরি তেমনই এক চরিত্র। নাথা এবং তার বড় ভাই বুধিয়া ব্যাংক ঋনের দায়ে যখন দিশেহারা। চাষের সামান্য জমিটুকু যখন নিলামে ওঠার পথে। কোন মতেই যখন ব্যাংক লোণ শোধ করার কোন রাস্তা খুঁজে পাচ্ছে না, নিরুপায় হয়ে দুই ভাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাথে দেখা করে। স্থানীয় সেই জনপ্রতিনিধি আবার কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় থাকা দলের অপোজিট পার্টির। হেসেই উড়িয়ে দেয় নাথা-বুধিয়ার মানবিক আবেদন। কৌতুক করে নাথা-বুধিয়াকে দেয় এক অদ্ভুত পরামর্শ। কোন কৃষক ঋনের দায়ে আত্মহত্যা করলে প্রদেশের মুখ্য মন্ত্রীর তরফ থেকে এক লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা ছিল। সেই নেতা নাথা-বুধিয়াকে আত্মহত্যার পরামর্শ দেয়। আত্মহত্যা করলে যে ক্ষতিপূরণ পাবে তা দিয়েই ঋন শোধ করার উপদেশ দেয় হায়েনার মতন হাসতে হাসতে। নেতার পায়ে ধরে হাজারো কাকুতি মিনতিও যখন ব্যর্থ হয়, তখন ফিরতি পথে নাথা তার বড় ভাইয়ের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয় আত্মহত্যা করার। চায়ের দোকানে বসে তারা যখন এই আলাপ চালাচ্ছে তখন পাশে বসা স্থানীয় এক সাংবাদিক এই কথা শুনে এটা স্থানীয় পত্রিকায় নিউজ করে। সেই নিউজ নজরে পড়ে দেশের নামীদামী এক ইংরেজি টিভি চ্যানেল রিপোর্টারের। কাল বিলম্ব না করে ছুটে আসে পিপলিতে। নাথার সুইসাইড করার দৃশ্য লাইভ কাভার করবে বলে। এরচে গরম লাইভ নিউজ আর কি হতে পারে?

এর পরই শুরু হয় এক আজীব কাণ্ড। কিভাবে কিভাবে যেন দেশের অন্য টিভি চ্যানেলগুলোও এই খবর পেয়ে যায়। পিলপিল করে ছুটে আসতে থাকে তারা। টিভি চ্যানেলের গাড়ি, লোকজন যন্ত্রাদি দিয়ে পিপলির মতন গণ্ডগ্রামে সে এক এলাহি কারবার। সত্যিকার অর্থেই সেখানে মেলা বসে যায়। নাগরদোলা থেকে শুরু করে ছোটদের খেলনার দোকান, বিভিন্ন খাবারের দোকান কিছুই বাদ থাকে না। ঋণের দায়ে জর্জরিত নাথার সুইসাইডের মতন করুন একটা ঘটনা বদলে যায় সুইসাইড উৎসবে। সুইসাইডের ঘটনাকে কিভাবে রংচঙ মাখিয়ে, নিত্য নতুন এঙ্গেলে দেখিয়ে দর্শক টানা যায় সেটাই মুখ্য হয়ে ওঠে। কারন বিবেক এই প্রশ্নে নাড়া খায় না, শুধুমাত্র ঋণের দায় মেটাতে কেন একজন কৃষক আত্মহননের পথ বেঁছে নিলো? কিভাবে তাকে থামানো যায় এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে? বরং সবার উৎসাহ কখন ঘটবে কাঙ্ক্ষিত সেই সুইসাইডের ঘটনা। বিভিন্ন চ্যানেলের ক্যামেরা চব্বিশ ঘণ্টা কাভারেজ দিতে থাকে। কিভাবে নাথা, নাথার মা-ভাই-ভাবী খাচ্ছে, গোসল করছে, ঘুমাচ্ছে কিছুই বাদ যায় না ক্যামেরার চতুর লেন্স থেকে। এর সাথে জড়িত হয় রাজনীতি। স্থানীয় সেই জনপ্রতিনিধি পড়ে বিপাকে। যদি সত্যিই নাথা সুইসাইড করে তাহলে পরবর্তি নির্বাচনে তার হেরে যাওয়া নিশ্চিত। এই লক্ষ্যে নাথাকে পয়সা দিয়ে কিনে নেওয়ার চেষ্টা চলতে থাকে অবিরাম। অথচ বিপাকে পড়ে নাথা আর তার ভাই যখন সেই নেতার কাছে গিয়েছিলো, তাদের দাবী এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়েছিল। এখন বিপাকে পড়ে টাকা দিয়ে কিনে নিতে চায় নাথাদের। অপোজিট পার্টিও এর সুযোগ নিতে থাকে। চলতে থাকে নোংরা রাজনৈতিক গেম। আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক চরিত্রের সাথে কি দারুন মিল!

পিপলি লাইভ মূলত আমাদের বর্তমান মিডিয়া চরিত্র এবং নোংরা রাজনীতির প্রতি চপেটাঘাত করে বানানো একটি স্যাটায়ার মুভি। স্যাটায়ার চরমে পৌঁছে যখন দেখা যায় খুব ভোরে নাথা প্রাকৃতিক কাজ সারতে জঙ্গলে যায় তখনও পিছু ছাড়ে না চ্যানেলের ক্যামেরা। এই অবস্থা দেখে নাথা পালিয়ে যায় তার বাড়ি থেকে। চারিদিকে হইহই রব পড়ে যায়- সুইসাইডের মঞ্চ থেকে পলাতক ঘটনার নায়ক। এবার মুভির স্যাটায়ার চরমে পৌঁছে। টিভি ক্যামেরা নাথার ভোরবেলার ত্যাগ করা মলের উপর ক্যামেরা তাক করে ধারা বিবরণী দিতে থাকে- এই বিষ্ঠা দেখে নাথার মানসিক অবস্থা কি হতে পারে তার বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে। বিশেষজ্ঞ মতামতও হাজির হয় চ্যানেলের স্টুডিয়োতে। এক পর্যায়ে স্থানীয় সেই সাংবাদিকের সাথে মতের অমিল ঘটে ইংরেজি চ্যানেলের সেই রিপোর্টারের। স্থানীয় সাংবাদিকের কাছে পুরো ঘটনাকে অপসাংবাদিকতা মনে হতে থাকে। এই জন্য লেখার শুরুতেই বলেছি, সব সংবাদ কর্মী অপসাংবাদিকতার সাথে জড়িত নন। অবশেষে, অপহরণ করে একটি গরুর গোয়ালে আটকে রাখা হয় নাথাকে। সবাই খোঁজাখুঁজি করতে করতে গভীর রাতে নাথাকে খুঁজে পায় সেখানে। হায়েনার মতন ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং সংবাদ মাধ্যম। সবাই ক্রেডিট নিজের ঝুলিতে নিতে চায়। একটা দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে কাহিনীর পরিসমাপ্তি ঘটে। হ্যাজাক বাতির বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায় গোয়ালে। সবাই নাথাকে মৃত ভেবে নেয়, কারন পুড়ে যাওয়া দেহ দেখে চেনার উপায় থাকে না। আসলে মৃত্যু ঘটে স্থানীয় ঐ সাংবাদিকের। সিনেমার শেষ দৃশ্যে দেখা যায় নাথা দিল্লীর গুরগাওয়ে দিনমজুরির কাজ করে বেড়াচ্ছে। নাথাদের শেষ পরিনতি তো এই হয়।

সরকারী হাসপাতালে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, কোন বড় দুর্ঘটনায় কিভাবে মিডিয়ার লোকজন চিকিৎসা সেবাকে ব্যহত করে। চরম আহত ব্যক্তিটির চিকিৎসার চেয়েও জরুরী হয়ে দাঁড়ায় সেই ব্যক্তির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া লাইভ চ্যানেলে দেখানো। এই নিয়ে বিভিন্ন চ্যানেলের সংবাদ কর্মীদের মধ্যে চলে প্রতিযোগিতা। মাঝখান থেকে ব্যহত হয় জরুরী চিকিৎসা সেবার কাজ। আর চিকিৎসকদের বিভিন্ন উদ্ভট প্রশ্নে বিব্রত করার কথা বাদই দিলাম। এক একজন সংবাদ কর্মী হয়ে যান চিকিৎসায় নোবেল পাওয়া জ্ঞ্যানি ব্যক্তির মতন। চিকিৎসা নিয়ে তাদের বিভিন্ন মন্তব্যে সেটাই মনে হয়। গত দুইদিন ধরে সাভারের ধ্বসে পড়া রানা প্লাজার উদ্ধার স্থলে টিভি চ্যানেলের কাজকর্ম দেখে কেবলই পিপলি লাইভ ছবির কথা মনে পড়ছে। সংবাদ সংগ্রহ করাটা নিঃসন্দেহে মহান এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কিন্তু তাই বলে একজন মানুষ, যে কিনা প্রায় ৩৬ ঘণ্টা কংক্রিটের আড়ালে চাপা পড়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফেরত আসার দ্বারপ্রান্তে, সেই সময় কংক্রিটের ফোঁকর গলে মাইক্রোফোন সেঁধিয়ে দিয়ে তার অনুভূতি জানতে চাওয়াটা কতটুকু মানবিক? উদ্ধার কাজের জায়গায় ৭ জন মানুষ থাকলে তার মাঝে ৪ জনই সংবাদ কর্মী। সংবাদ আমাদের দরকার আছে অবশ্যই, কিন্তু সেটা নিশ্চয়ই উদ্ধার কাজকে ব্যহত করে নয়? এর মধ্যে বিখ্যাত সাংবাদিক মুন্নি সাহা আবিষ্কার করে ফেলেছেন ঘটনাস্থলের স্বেচ্ছাসেবীরা নাকি ধ্বসে পড়া বিল্ডিং এর দামী জিনিস চুরির ধান্দায় আছে। কতোটা নিম্ন রুচির মানসিকতা। ইনিই নাকি দেশের বিখ্যাত রিপোর্টার! হলুদ সাংবাদিকতা আমরা অহরহই দেখেছি। দেখেছি কিভাবে কর্পোরেট সংবাদ মাধ্যম তাদের নিজেদের প্রয়োজন মতো সংবাদ বদলে দেয়। দেখেছি, দেশে মৌলবাদী জঙ্গি বাংলা ভাইয়ের অস্তিত্ব অস্বীকার করা রাজনীতিবিদ এবং সংবাদ মাধ্যম। সাংবাদিকতা এবং রাজনীতির উদ্দেশ্য কি বানিজ্য? নাকি গনমানুষের পক্ষে কাজ করা? এই প্রশ্ন আজ বিরাট হয়ে দেখা দিয়েছে। দেশের এতো বড় একটা দূর্ঘটনাকে দলীয় দৃষ্টিকোন থেকে যে যেভাবে পারছে ব্যাখ্যা করছে নিজেদের সুবিধামতন। কেউ বিল্ডিং নাড়ানো তত্ত্ব, কেউ তত্ত্বাবধায়ক তত্ত্ব, কেউ হরতাল তত্ত্ব, আবার ধর্ম ব্যবসায়ীর দল দিচ্ছে গজব তত্ত্ব। কিন্তু কেউই সমস্যার মূল বিষয়ে মুখ খুলতে রাজী না।

আমার এই লেখাকে কোন সংবাদ কর্মী ব্যক্তিগতভাবে নিজের গায়ে নেবেন না প্লীজ। কারন আমি জানি সবাই এরকম নন। ডাক্তারদের মধ্যে যেমন খারাপ ডাক্তার আছে, তেমনি ভালো ডাক্তারও যে বিরল প্রাণী নন সেটা আমরা সাভারের ঘটনা থেকেই দেখেছি। তাই ঢালাও ভাবে ডাক্তারদের গালি দেওয়াটা যেমন অন্যায়। তেমনি, ঢালাও ভাবে সকল সংবাদ কর্মীকে দোষারোপ করার পক্ষপাতীও আমি নই। কিন্তু সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে জরুরী পরিস্থিতিতে যারা কাজে বাঁধার সৃষ্টি করেন, তাদের এই ধরনের কাজ বন্ধ করতে হবে। এটা কোন পেশাগত চরিত্রের মধ্যে পড়ে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪৮ thoughts on “Peepli [Live]: আমাদের গণমাধ্যম ও রাজনীতি

  1. আমাদের মিডিয়াও আসলে মুভিটার
    আমাদের মিডিয়াও আসলে মুভিটার মত কাজ করেছে। চ্যানেল২৪ এর এক সাংবাদিক যা করেছে তা একজন সুস্থ মস্তিস্কের মানুষের পক্ষে করা সম্ভব না। সবার আগে দরকার ছিল এই মিডিয়া এবং অন্যান্য লোকদের কাছাকাছি ঘেঁষতে না দেয়া। তাহলে আরও দ্রুত উদ্ধার কাজ সম্ভব হত।

  2. স্যরি ভাই।মানতে পারলাম না।এই
    স্যরি ভাই।মানতে পারলাম না।এই চুতিয়া সম্প্রদায়কে নিয়ে আমার মনোভাব জানার কথা।জেনেরালাইজেশন করলে কি বাল ছেড়া যায়?এইট পাশ করে সাংবাদিক,ফানটা খেয়ে খবর চেইন্জ,ফুল প্রফেসরদের নাম ধরে ডাকা এগুলোকে আপনি কি বলবেন।আবার মুখে মানবতার গান চোদায়।

    1. স্থানীয় প্রতিনিধিদের চরিত্র
      স্থানীয় প্রতিনিধিদের চরিত্র সম্পর্কে কিন্তু পত্রিকার মূল অফিসের রিপোর্টাররাও খুব ভালো করেই জানে। একটা পেশার সবাই খারাপ না রে ভাই।

    2. ড.আতিক ঠিক লিখেছেন। সংবাদ
      ড.আতিক ঠিক লিখেছেন। সংবাদ মাধ্যম যখন লোকাল বাসের ট্রিপ ধরার মত করে মরণ রেসে মেতে ওঠে তখনই সাংবাদিকতা তার সংবেদনশীলতা হারিয়ে বসে, সাংবাদিকের ‘কমনসেন্স’ও প্রশ্নের মুখে পড়ে। ড.আতিক সেই প্রসঙ্গটাই চমৎকারভাবে তুলে এনেছেন। আমি একজন সাংবাদিক হিসেবে তার লেখার প্রশসংসা করছি। কিন্ত মি.ভবঘুরে, আপনার আজকের সাংবাদিকতা সম্পর্কে নূন্যতম জানাশোনা আছে বলে মনে হয় না। এখন যারা সাংবাদিকতায় আছে তার ৯০ ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী। বাকী ১০ ভাগ সাংবাদিকতায় আছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকের ভাই-ভাতিজা গোছের, যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা থাকে। আর ‘এইট পাশ’ ‘ফুল প্রফেসরদের নাম ধরে’ ডাকা এসব হাস্যকর প্রসঙ্গ তুলে আপনি নিজের অপরিপক্ক মানসিকতা এবং বোধের পরিচয় দিয়েছেন। আর আপনার শব্দ চয়ন দেখে এটাও বিবেচনা করা যায় যে আপনি প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা পারিবারিক কোনভাবেই শিক্ষিত হন নি। শিক্ষিতজনদের আলোচনায় অংশ নেওয়ার আগে নিজে শিক্ষিত হওয়াটা জরুরী।

      1. রাশেদ মেহেদী, আপনার সুচিন্তিত
        রাশেদ মেহেদী, আপনার সুচিন্তিত মতামতের জন্য ধন্যবাদ। ভবঘুরে ভাই আসলে তার নির্দিষ্ট একটা ক্ষোভের জায়গা থেকে উনার মন্তব্য দিয়েছেন। আমরা যারা উপজেলা বা মফস্বলে সরকারী হাসপাতালে কাজ করি, তারা সবচেয়ে বেশী নোংরা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হই স্থানীয় সাংবাদিকদের। যাদের বেশীর ভাগেরই নেই কোন প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি। একজনই একাধিক পত্রিকা ও নিউজ চ্যানেল কাভার করে। প্রায়শই এরা ডাক্তারদের নানাভাবে হয়রানী করে। আমি নিজেও এই জিনিস দেখেছি।
        তবে আমি বারবার কিন্তু একটা কথা বলছি, একটা পেশার সবাই খারাপ নয়। কিন্তু কিছু খারাপের জন্য ভালোদের অর্জনগুলো ম্লান হয়ে যায়। তাই খারাপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে সংশ্লিষ্ট পেশারই লাভ।

  3. সাভারে ধ্বংসস্তূপে আহত ও নিহত
    সাভারে ধ্বংসস্তূপে আহত ও নিহত ব্যক্তিরা আমার কেউ না, তবুও দেখে হাউ-মাউ করে কাঁদতে ইচ্ছা করতেসিল, আর এদের কি চ্যানেল চালানো এতটাই গুরত্ত্বপুর্ন যে মানবিকতা বলে শব্দটিও ভুলে গিয়েছে

  4. আচ্ছা পাব্লিকের একটা প্রবনতা
    আচ্ছা পাব্লিকের একটা প্রবনতা বুঝতে পারছি না। যাদের নামই আসে এরা টুট টুট দেয়া। ডাক্তারদের অনেক আগেই টুট টুট দিয়েছে। এখন স্যালুট জানাচ্ছে। গনজাগরন মঞ্চ চলাকালে এরাই আবার সাংবাদিকদের স্যালুট জানিয়েছিল। আজ টুট টুট দিচ্ছে। :কনফিউজড: :কনফিউজড: :কনফিউজড:
    যাউজ্ঞা বোমা ফাটাইছেন আতিক ভাই। যদিও আমার সাংবাদিকানুভুতিতে আঘাত কিঞ্চিৎ লেগেছে। ব্যাপার না। নামে সাংবাদিক হলেও সাংবাদিকতার এথিকস এদের জানা নেই।

  5. টিভি চ্যানেলের এখন মূখ্য খবর
    টিভি চ্যানেলের এখন মূখ্য খবর সাভার ট্র্যাজেডি আর সেখানে ভীড় জমাচ্ছে সাধারন জনতা। তবে অধিকাংশকেই দেখলাম ক্যামেরায় নিজেদের মুখখানা দেখাতে উৎসুক যতটা না সাহায্য করতে। এর ফলে ভীড় বাড়ছে আর বিভিন্ন কাজে ব্যাহত করছে এইসকল বাড়তি লোকজন।
    আবার সাথে যুক্ত রয়েছে তাদের টক-শো। ম্যালা কাম দিতাছে ঐখান দিয়াও।

  6. কি যে ভালো লাগলো লেখাটা বলে
    কি যে ভালো লাগলো লেখাটা বলে বুঝাতে পারবো না ভাই। এমন সময়োপযোগী একটা লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ না বলে পারলাম না। ভালো থাকবেন।

  7. পিপ্লি লাইভ যখন দেখেছিলাম মনে
    পিপ্লি লাইভ যখন দেখেছিলাম মনে হয়েছিল আসলেই কি মিডিয়া এমন অমানবিক আচরণ করতে পারে????
    হাতে নাতে প্রমাণ পেলাম সাভারের দুর্ঘটনায় কিছু অমানুষের সাংবাদিকতা দেখে। অফিসে একজনের কাছে শুনেছিলাম যে চ্যানেল ২৪ এর একজন সাংবাদিক আটক একজনকে প্রশ্ন করছে ” তার এখন কেমন লাগছে”
    আমি প্রথমে বিশ্বাস করি নি। এ সময়ে মানুষ এতটা বিবেকহীন হতে পারে না। ভুল ভাঙল যখন নেটে এর সত্যতা দেখলাম।
    আর “একাত্তর চ্যানেল” , যে চ্যানেলটাকে নিয়ে এতদিন সমালোচনার কিছু পাই নি, বরাবর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষেই ছিল, সেই চ্যানেল লাইভ কাভার করছে উদ্ধার কাজ, যেন মনে হয় এখানে কোন নাচ গান কনচার্ট চলছে। জীবন মরণ সন্ধিক্ষণে থেকে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে কিছু নিরীহ মানুষ, আর তা লাইভ কাভার করে কি ধরনের মানবিকতা দেখাচ্ছে খুব জানতে ইচ্ছে করে। আর উদ্ধারকাজ তো কোন বিনোদন না যে এটা মানুষ হা করে গিলবে।
    টিভি দেখতে ভয় লাগে, মানুষের আহাজারি দেখলে চোখে পানি আসে, কিভাবে আরও বেশি টাকা জমানো যায় সেই চিন্তা করছি, আর কিছু বোধশক্তিহীন প্রাণী এ নিয়ে বাণিজ্য করছে, ঘৃণা করতেও আজ ঘিন্না লাগছে।
    এমন অনেক সাংবাদিক আছে যাদের সাহসিকতার জন্য শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসে, আবার কিছু অমানুষ আছে যাদের সাংবাদিকতা দেখলে থু থু ছিটাতে ইচ্ছে করে।

  8. ‘সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে জরুরী
    ‘সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে জরুরী পরিস্থিতিতে যারা কাজে বাঁধার সৃষ্টি করেন, তাদের এই ধরনের কাজ বন্ধ করতে হবে। এটা কোন পেশাগত চরিত্রের মধ্যে পড়ে না।’

  9. অনুভূতি প্রকাশে ইচ্ছা নাই
    অনুভূতি প্রকাশে ইচ্ছা নাই ।আমার তো একটাই দাবি, হরতাল দেওয়া সাংবাদিক দের লাইগা ।৪ই মে অন্য কেও দিলে হয় ।৫ই মে ঢাকা অবরোধ করব হেফাজত ।২ই মে তো আছেই ।মন কয় আমি কেন চাপা পড়লাম না ।তা হইলেও তো মুক্তি মিলত এই উম্মাত্ত রাজ্য হতে

  10. পড়েছিলাম আগেই, মন্তব্য করা
    পড়েছিলাম আগেই, মন্তব্য করা হয়নি। সিনেমাটি দেখা আমার। আমি নিজেও কিছুক্ষন টিভি দেখে এরপর আর একটিবারের জন্যও কোনো চ্যানেলে ঢুকিনি…ফেসবুকেও ত একই রঙ। এখন শুধু সাংবাদিক না…এইটা হয়ত আমাদের জাতীয় চরিত্রের আরেকটি বহিপ্রকাশ।

    লেখায় পাচতারা

  11. সত্য লিখেছেন আতিক ভাই।
    :bow: :bow: :bow:
    সত্য লিখেছেন আতিক ভাই। সাংবাদিকতার রঙ এখন পুরোটাই হলুদ। কয় দিন আগে শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে এদের লাফালাফি দেখে মনে হচ্ছিল এরাও বুঝি রাজাকারের ফাঁসি চায় বা জামাত শিবির নিষিদ্ধ হোক এটা চায়। কিন্তু এরাযে আসলে কি চায়, তা বোঝা গেল হেফাজত নিয়ে এদের বাড়াবাড়ি দেখে।
    আর সাভার ট্র্যাজেডি নিয়ে এদের মন্তব্য প্রশ্ন সব দেখার পর মনে হয় জুতোপেটা করে আসি এগুলারে।
    শুধু তাই নয়, এরাই এখন পাবলিককে ব্রেইনওয়াশ দিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। এদের কারণে কাজ করাটাও এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।
    শিলাজিতের একখানা গান আছে, ব্যাপক রকমের সত্যি কথা,

    একটা ফ্রিজের ভেতরে আমি থাকি
    আমি শাক দিয়ে ঢাকা হয় রোজ
    আমার ঠান্ডা শরীরে বড় মজা
    আমি আগুন পেলেই হব ভোজ
    খুঁজে নে খুঁজে নে, খুঁজে নে খুঁজে নে
    কোন ফ্রিজে থাকে কত আঁশ।
    খুঁজে নে খুঁজে নে, খুঁজে নে খুঁজে নে
    কানে কানে দিয়ে যায় বাঁশ।

    1. ধন্যবাদ। কিন্তু ভাই আমি আগেই
      ধন্যবাদ। কিন্তু ভাই আমি আগেই বলেছি ঢালাও ভাবে একটা পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করাতে আমার আপত্তি আছে। ভালো খারাপ সবখানেই আছে। ভালকে ভালো, এবং মন্দকে মন্দ বলতে হবে। তাহলে সংশ্লিষ্ট পেশার উন্নতি হবে।

  12. একটা অপ্রিয় সত্য কথা চোখে
    একটা অপ্রিয় সত্য কথা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। অপসাংবাদিকতা বন্ধে শুভবুদ্ধির সাংবাদিকেরা এগিয়ে আসবেন আশা করি।

  13. পোস্ট পড়ছি প্রথম দিনেই।
    পোস্ট পড়ছি প্রথম দিনেই। মন্তব্য করা হয়ে উঠেনি। কিছু অযাচিত দৌড়াদৌড়ির কারণে ব্লগিং করা হয়ে না উঠলেও ব্লগ পড়া ছাড়তে পারি নাই। পারব বলেও মনে হয়না।

    বিশিষ্ট যুবলীগের সমাজসেবক সোহেল রানা’কে গ্রেফতার করার দৃশ্য, হেলিকাপ্টার থেকে নামিয়ে মাইক্রোতে উঠানো, এরপর তাকে র‍্যাব সদর দপ্তরে নেওয়ার দৃশ্য… সবকিছু সেদিন সময় টিভিতে লাইভ দেখিয়েছিল। তখন পিপলীলাইভ আর তোমার এই পোস্টের কথা মনে পড়েছে। একটি মুভির কাহিনীকে উপজীব্য করে আমাদের বর্তমান মিডিয়ার আসল রূপ খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছ। তবে আবার এই মিডিয়ার কারণেই আমরা অনেক কিছু জানতে পারছি। সরকার অনেক কিছু লুকোচাপা করতে চাইলেও পারছেনা। সব পেশায় ভাল-মন্দ আছে।

    ভাল একটা লেখা উপস্থাপন করার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। ইদানিং তোমার লেখায় আরো বৈচিত্রতা এসেছে। থেমে যেও না।

    1. ব্লগিং জীবনের হাতেখড়ি আপনার
      ব্লগিং জীবনের হাতেখড়ি আপনার হাত ধরেই। তাই আপনার কাছ থেকে এমন উৎসাহব্যঞ্জক মন্তব্য পেলে লেখার স্পৃহা আরও বাড়ে। ধন্যবাদ দুলাল ভাই। গুরুবাচ্য শিরোধার্য। :খুশি:

  14. সমস্যা আছে!আমার ফোন দিয়ে
    সমস্যা আছে!আমার ফোন দিয়ে বাংলা লেখা যায়না।কি করি তাই বাংলা টেক্সট। কম থেকে কনভার্ট করে আনি।কেউ কি বলবেন ব্লগ এ বাংলাতে লেখার জন্য কোন সফত্বার আছে কি না…আমি নতুন ঝালমুড়ি বানানো শুরু করি নাই..কেউ এমন মন্তব্য করবেন না যাতে ঝালমুড়ি বানানোর মসলা ব্যাহত হয়..আর জ্ঞানের কথা অবশ্যই দিবেন।

    1. আপনি আপনার ফোনে ridmic
      আপনি আপনার ফোনে ridmic keyboard সফটওয়্যারটি ইন্সটল করে নিতে পারেন। আমি এটাই ব্যাবহার করি। অভ্রের মতোই ফোনেটিকে টাইপ করা যায়। ইউনিবিজয় স্টাইলেও টাইপ করা যায়।

  15. আজকে মানুষ অনেক উপকৃত হচ্ছে
    আজকে মানুষ অনেক উপকৃত হচ্ছে মিডিয়ার মাধ্যমে ,বাট তারা পপুলার হওয়ার জন্য যেই নোংরামীগুলা করে তার জন্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বেশি ।ভাল বলেছেন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

30 − = 21