হিন্দু পুরোহিত হত্যায় আইএসআইএস এর অবস্থান

২০১৩ সালে ‘আনসারুল্লাহ বাংলা’ ব্লগার রাজীব হায়দারকে হত্যা করে। এরপর ২০১৫ সালে অভিজিৎ রায়কে হত্যার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ মৃত্যুর হাইওয়তে যাত্রা শুরু করে। ইসলামপন্থী জঙ্গিদের হাতে ২০১৫ সালে ৪ জন ব্লগার ও ১ জন প্রকাশক খুন, আহত হোন ৪ জন। আনসারুল্লাহ টিমের নিজেদের ভারতীয় উপমহাদেশের আলকায়দার অনুসারী দাবী করে আসছে। আনসারুল্লাহ তাত্ত্বিকগুরু জসীমউদ্দিন রাহমানীকে তারা বাংলাদেশের আনোয়ার আল আওলাকি মনে করে থাকে! আওলাকি হচ্ছেন- ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত-মার্কিন জঙ্গি। যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, আরব উপদ্বীপে আল কায়েদা গোষ্ঠীর (একিউএপি) সক্রিয় নেতা ছিলেন আওলাকি। ইয়েমেনের আল কায়েদা শাখার সঙ্গে তার যোগসাজশ ছিল। ওসামা বিন মৃত্যুর পর থেকে আওলাকি ছিলেন আল কায়দার সবচাইতে সোচ্চার ও অন্যতম মুখ্য সদস্য। ২০১১ সালে পূর্ব ইয়েমেনের মারিব প্রদেশে খাশিফ শহর থেকে পাঁচ মাইল দূরে বিমান হামলায় কয়েকজন সঙ্গী এবং শিশুসহ আওলাকি মারা যায়। আনসারুল্লাহ বাংলা ওহাবী মতবাদের অনুসারী হওয়ায় তারা আলকায়দার অনুসারী হয়। আনসারুল্লাহ গোষ্ঠী যখন নাস্তিক হত্যা করে যাচ্ছে ঠিক সেসময় সালাফি জঙ্গি সংগঠন আইএআইএস বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধদের উপর আঘাত হানে। সালাফি মতবাদের পক্ষে বাংলাদেশে কাজ করছে জেএমবি’র মতন আহলে হাদিস গোষ্ঠীগুলো। জেএমবি যেসব হত্যায় গত এক বছর জড়িত ছিল সেই হত্যাকাণ্ডগুলোর দায় স্বীকার করে সিরিয়ার জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএস।

এবছরের ফেব্রুয়ারিতে পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর রায়কে হত্যা করার পর আইএস-পর পক্ষ থেকে এই হিন্দু সম্প্রদায় হত্যাকাণ্ডের বৈধতা দান করে আবু মুসলিম আল-বাঙ্গালী নামে এক জিহাদি আইএস এর বাংলা তর্জমা করা একটি সাইটে এই বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে কেন এই হত্যাকাণ্ডগুলো বৈধ, ইসলাম এসব হত্যাকাণ্ডকে কীভাবে দেখে তার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়। আবু মুসলিম আল-বাঙালি হচ্ছে ১ জুলাই ঢাকার শুনশানে হামলাকারী ও পরবর্তীতে সেনা বাহিনীর অভিযানে নিহত বগুড়ার উজ্জ্বল। উজ্জ্বল আবু মুসলিম আল-বাঙালি নামে আইএস এর পক্ষে লিখত।

যাই হোক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক লক্ষ্য আলেম জঙ্গিবাদের বিপক্ষে স্বাক্ষর করেন। সেখানে তারা বলেন-জঙ্গিবাদ ও আত্মঘাতী হামলা হারাম। এছাড়াও স্বাক্ষরের পূর্বে আলেমদের উদ্দেশ্যে ১০টি প্রশ্ন ছিল সেখানে ইসলাম অমুসলিমদের উপাসনালয়ের উপর হামলা, গণহত্যা, আত্মঘাতী হামলাসহ, নবী মুহাম্মদ কোন হিংস্র ও বর্বর হামলা করে ইসলাম কায়েম করেছিলেন কিনা এসব প্রশ্নগুলো জানতে চাওয়া হয়। আলেমরা সমাজে সচেতনতার উদ্দেশ্যে কোরান হাদিস দেখিয়ে যেমন জঙ্গিবাদের বিপক্ষে অবস্থান নেয় তেমনি জঙ্গি-গোষ্ঠীগুলো তাদের হামলা যে ইসলামে বৈধ তার প্রমাণ ঐ কোরান হাদিস থেকে হাজির করে। এছাড়া সরকার থেকে খুৎবায় কী বলা হবে তার দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়। যদিও হেফাজতে ইসলাম তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। মজার বিষয় হচ্ছে আনসারুল্লাহ তাদের সাইটে হেফাজত ইসলাম ও আল্লামা শফির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে হেফাজতের বক্তব্যও প্রচার করছে। যাই হোক খুৎবায় কী বলা হবে কী বলা হবে না তা সবসময় শাসক শ্রেণি নির্ধারণ করে। মুয়াবিয়া ও ইয়াজিদের শাসন আমলের ৮৮ বছর খুৎবায় হযরত আলি ও তার বংশধরদের অর্থাৎ মূলত হাশেমি বংশের বিরুদ্ধে গালমন্দ করে খুৎবা পাঠের হুকুম দিয়েছিল উমাইয়া শাসকেরা। খুৎবা হতো নামাজের পরে কিন্তু এসব গালাগালের জন্যে পাবলিক উঠে চলে যেত তাই মুয়াবিয়া নামাজের আগে খুৎবার নিয়ম করে! যা আজো মানুষ অনুসরণ করে চলছে।

অনেক ইসলামিক স্কলার নবী মুহাম্মদের হাতে ইহুদি গোত্রের যে গণহত্যা সংগঠিত হয় তা অস্বীকার করলেও ইসলামপন্থী মোল্লারা এমনকি আই্‌এসও এসব হামলার কথা স্বীকার করে বিবৃতি দেয়। জিজিয়া কর, ধর্মান্তরিত করা, যৌন-দাসীর যে বিষয়গুলো তারা কোরান-হাদিসের আলোকেই নিজেদের এলাকায় আইন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মুসলিম খলিফার অধীনে অমুসলিমদের বসবাস করার কয়েকটা স্ট্যাটাস আছে তার মধ্যে একটি ধিম্মি ক্যাটাগরি। এছাড়া অমুসলিমরা জিজিয়া কর প্রদান করে নিজেদের ধর্ম পালন করার সুযোগ আছে। তবে মুসলিম সাম্রাজ্যের অধীনে অমুসলিমদের বসবাস কিংবা ধর্ম পালনের অধিকারটি যতোটা না ধর্মীয় তার থেকে বড় ছিল রাজনৈতিক। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন খলিফার অধীনে বিভিন্নভাবে অমুসলিমরা বসবাস করে আসছে। যেমন ধিম্মি ক্যাটাগরিতে খ্রিস্টান, ইহুদিরা পড়ে। আইএস তার পত্রিকা দাবিক-এ বলেছে ইয়াজিদদের মুশরিক (পৌত্তলিক) ক্যাটাগরিতে পড়ে। মুশরিক যেহেতু ধিম্মি ক্যাটাগরিতে পড়ে না সুতরাং তাদের পুরুষদের হত্যা ও নারীদের যৌন দাসীতে পরিণত করা ইসলাম সম্মত হিসেবে মত দেয় আইএস পণ্ডিতরা। আইএস যদি ইয়াজিদদের মুরতাদ ক্যাটাগরিতেও ফেলত, তাহলেও সম্ভবত তারা যৌন দাসী হওয়া থেকে মুক্তি পেত না। কারণ আইএস স্বীকার করেছে যে, মুরতাদ নারীদের দাস বানানো যায় না তবে ইবনে তায়মিয়ার মতামত উল্লেখ করে বলেছে-সাহাবিরা মুরতাদ নারীদের যৌন দাসী বানিয়েছে এমন প্রমাণ আছে। আর যেসব ইয়াজিদ নারী জিহাদিদের যৌন দাসীতে সম্মত হয়নি তাদের হত্যা কিংবা জ্যান্ত পুড়িয়ে মারছে আইএস এর জিহাদিরা। সুতরাং স্পষ্টভাবে বলা যায় যে, ভারতীয় অঞ্চলে আইএস যদি কোন অঞ্চল দখল করে সেখানে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মেয়েরা একমাত্র যৌন-দাসী হিসেবে বন্দি হবে।

চলুন এবার দেখি কোন কোন কোরান হাদিসের ভিত্তিতে সালাফিরা হিন্দুদের উপর আক্রমণ করছে এবং কেন তা বৈধ হিসেবে প্রচার করছে। তাদের আদর্শিক অবস্থান যখন আমরা জানতে পারব, তখনই আসলে আদর্শিকভাবে তাদের পরাজিত করা সক্ষম হবো। কারণ জঙ্গিবাদের সাথে সন্ত্রাসের মূল পার্থক্য হল জঙ্গিবাদের সাথে আদর্শ ও পরকালের দেনা-পাওয়ার একটি শক্ত সম্পর্ক রয়েছে।

আইএসআইএস/আহলে হাদিসপন্থীদের বয়ান:

সুন্নি চার মাজহাবের মধ্যে আইএস বা আহলে হাদিসপন্থীরা ইমাম হাম্বলকেও নিজেদের অন্যতম গুরু মানে। ইমাম হাম্বলের লিখিত হাদিস সংকলনের পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার। তিনি কোরানের বাহিরে একমাত্র হাদিসকেই আইনের উৎস হিসেবে গণ্য করতেন। সুন্নি চার মাজহাবের মধ্যে হাম্বলিবাদীরাই সবচেয়ে কট্টরপন্থী। আইএস (বাংলাদেশের আইএস) বলছে- মুশরিকদের ব্যাপারে খিলাফাহ’র মানহাজ হল তাদের থেকে জিযয়া কবুল করা হবে না, চাই তারা আরব হোক বা আজম হোক। এটি অধিকাংশ শাফেয়ী ফুকাহাদের মত। এবং ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের প্রসিদ্ধ মত ও অধিকাংশ হাম্বলী ফুকাহাদের মত। এবং মালেকীদের মধ্য থেকে ইবনুল মাজশূনের মত। [আল মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ১৭০]

এবিষয়ে তারা কোরানের দলিলও হাজির করছে-“তোমরা আল্লাহর রাস্তায় লড়াই কর তাদের বিরুদ্ধে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম করে না এবং সত্য দ্বীন গ্রহণ করে না তাদের মধ্য থেকে যাদেরকে কিতাব প্রদান করা হয়েছে, যতক্ষণ না তারা হাত দিয়ে লাঞ্ছিত অবস্থায় জিজিয়া প্রদান না করে।” [আত-তাওবাহঃ ২৯]। তারা বলছে- এটি জিজিয়ার বিধানের আয়াত। আর এই আয়াতে শুধু কিতাবীদের থেকে জিযয়া নেয়ার বৈধতার কথা বলা হয়েছে। এই আয়াতে মুশরিকদের থেকে জিজিয়া নেয়ার কোন দলিল নেই। ফলে আইএস মুশরিকদের জিজিয়া করের আওতায় আসছে না। তাদের যুক্তির পক্ষে তারা হাদিস উল্লেখ করছে- আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আমাকে মানুষের সাথে লড়াই করতে আদেশ করা হয়েছে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। যে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এ সাক্ষ্য দেবে, সে আমার থেকে নিজের জান-মাল নিরাপদ করে নেবে, তবে তাঁর অধিকারের ক্ষেত্র ব্যতিত। আর তাঁর হিসাব আল্লাহর কাছে।” [বুখারীঃ ১৩৯৯, মুসলিম: ২০]

এসব কোরান হাদিসের ভিত্তিতে তারা স্পষ্ট করে বলছে-তাই খিলাফাহ’র অনুসরণীয় মত অনুযায়ী কুফরের সর্দার যজ্ঞেশ্বর রায়কে হত্যা করা শুধু বৈধই নয় বরং অনেক বড় ফজিলতের কাজ ছিল। যেমন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “কোন কাফির ও তার হত্যাকারী কখনো জাহান্নামে একত্র হবে না।” [মুসলিম: ১৮৯১]। শুধু নবী মুহাম্মদই নয় ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর বিন খাত্তাবের বক্তব্যও তারা হাজির করছে।এছাড়াও উমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবু জান্দাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) –কে বলেন,“মূলত ওরা হচ্ছে মুশরিক, তাই ওদের রক্ত কুকুরের রক্তের মতো।”[ইমাম আহমাদ ও ইমাম বাইহাকী হতে বর্ণিত]

হিন্দুদের উপর হামলা প্রেক্ষিতে তারা আরো বলে- “হানাফী ফকিহরা, এক রিওয়ায়াতে ইমাম মালেক ও আরেক রিওয়ায়াত অনুযায়ী ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত। মতটি হল মুশরিকদের থেকে জিযয়া নেয়া হবে। [আল মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাতুল কুয়েতিয়্যাহ খণ্ড ১৫, পৃষ্ঠা ১৭১] যদিও খিলাফার মত প্রথমটি (উপরের অংশ) , কিন্তু তর্কের খাতিরে এটি মেনে নিলেও বাংলাদেশের সকল কাজের বৈধতা প্রমাণিত হয়। ওয়ালিল্লাহিল হামদ। আর তা কয়েকভাবে হতে পারে: মহান আল্লাহর নিকট তাওহীদ সবচেয়ে প্রিয় ও শিরক ও কুফর সবচেয়ে ঘৃণ্য আর বিশ্ব জগতের সৃষ্টিকর্তা মহান রাব্বুল আলামীনের বান্দা হয়েও যেহেতু দুনিয়ায় তারা শিরক করে বেড়ায় তাই দুনিয়ায় তাদের মূলত: বেঁচে থাকার অধিকার না দেয়াটাই ছিল ইনসাফের দাবী। কিন্তু আল্লাহ বান্দার প্রতি পরম করুণাময়, চিরদয়ালু তাই তিনি তাদের জিযয়া দেয়ার মাধ্যমে থাকার অনুমতি প্রদান করেছেন। আর যেহেতু তারা জিযয়া দিচ্ছে না সেহেতু তাদের উপর ইসলামের ৩য় বিধান (হত্যা) কার্যকর করা হবে।”

সুতরাং বাংলাদেশে তারা যেসব হামলা চালাচ্ছে তা শুধু একটি সন্ত্রাস এমনটি ভাবা ভুল। কারণ এই সন্ত্রাসের সাথে আদর্শ আছে, আছে মতবাদ। ফলে মিডিয়াতে আইএস কিংবা তালেবানকে যতোই সহি জঙ্গি সংগঠন নয় বলে প্রচার করা হোক না কেন মুসলিম তরুণদের এই গোষ্ঠীগুলোতে যোগদান থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না। জঙ্গিরা যেসকল কোরান হাদিসের ভিত্তিতে তাদের ইসলাম আইন পরিচলন করছে সেগুলোর বিপক্ষে কোন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছে না কিংবা তাদের এসব বক্তব্য কীভাবে ভুল তা প্রচার করতে আমরা দেখি না। জঙ্গিরা কোরান হাদিসের আইন অনুযায়ী তারা তাদের টার্গেট ঠিক করছে, হামলা করছে। তাদের অস্ত্রের বিপক্ষে নাহয় রাষ্ট্র অস্ত্র ব্যবহার করছে কিন্তু তাদের আদর্শের বিপক্ষে আমাদের অবস্থান কোথায়? তাদের আদর্শিক অবস্থান মোকাবেলার সাহস কী আমাদের আছে?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “হিন্দু পুরোহিত হত্যায় আইএসআইএস এর অবস্থান

  1. কেন মুসলিমরা কাফের মুশরিকদের
    কেন মুসলিমরা কাফের মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করে তাদের অপমানিত লাঞ্চিত ও হত্যা করবে এর কারন দুটি :
    সুরা আত্ তাওবা
    ৯:১৪। তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর। আল্লাহ তোমাদের হাতে তাদেরকে শাস্তি প্রদান করবেন এবং তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন, আর তোমাদেরকে তাদের উপর বিজয়ী করবেন এবং মু’মিনের অন্তরসমুহকে প্রশান্ত ও ঠান্ডা করবেন।
    ৯:১৫। আর তাদের অন্তরসমুহের ক্ষোভ দুর করে দিবেন এবং যার প্রতি ইচ্ছা, আল্লাহ করুনা প্রদর্শন করবেন, আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
    ৯:১৬। তোমরা কি ধারনা করেছ যে, তোমাদেরকে এভাবেই ছেড়ে দেয়া হবে? অথচ আল্লাহতো এখনো তোমাদেরকে পরিক্ষা করেননি যে, কারা তোমাদের মধ্য হতে জিহাদ করেছে এবং আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মু’মিনগন ছাড়া অন্য কেহকেও অন্তরঙ্গ বন্ধু রুপে গ্রহন করেনি? আর আল্লাহ তোমাদের সমস্ত কর্মের পূর্ণ খবর রাখেন।
    ৯:২৪। (হে নবী) বলো, যদি তোমাদের পিতা , তোমাদের সন্তানাদি, তোমাদের ভাই, তোমাদের পরিবার পরিজন, তোমাদের বংশ-গোত্র এবং তোমাদের ধন-সম্পদ যা তোমরা অর্জন করেছো এবং ব্যবসা-বানিজ্য যা অচল হয়ে যাবে বলে তোমরা ভয় করো, তোমাদের বাড়ীঘর সমূহ, যা তোমরা (একান্তভাবে) কামনা করো, যদি (এগুলো) তোমরা আল্লাহ তায়ালা, তাঁর রসুল ও তাঁর পথে জেহাদ করার চাইতে বেশী ভালবাস, তাহলে তোমরা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তাঁর (আজাব) ঘোষনা আসা পর্যুন্ত অপেক্ষা করো (জেনে রেখো); আল্লাহ তায়ালা কখনো ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়ত করেন না
    প্রথমত: আগেকার দিনে মানুষ হাজার বছর বেঁচে থাকত, তখন নবী- রাসুলগন তাদেরকে বছরের পর বছর ধরে দ্বীনের দাওয়াত দিত তারপরও যদি তারা ইমান না আনতো তাহলে তাদেরকে আল্লাহ পাক গজবের মাধ্যমে তুলেমুলে শেষ করে দিত, কিন্তু এখন নবি রসুলগন স্বশরিরে কাউকে দাওয়াত দেন না আর এই উম্মাতের উপর নবী মোহাম্মাদ স: এর বিষেশ দোয়ার বরকতে এবং তাদের কম হায়াতের কারনে তাদেরকে আল্লাহ পাক গজব দিয়ে একেবারে শেষ করে দেন না,বরং তাদেরকে মুসলমানদের হাত দিয়ে অপমানিত লাঞ্চিত করেন যাতে তারপরও তারা আল্লাহর পথে ফিরে আসে নয়ত গজবদিয়ে একেবারে শেষ করেদিলে তাদের আর দ্বিতীয়বার সু পথে ফিরারা কোন চান্স থাকে না । এর ফলে তারা চিরকালের জন্য জাহান্নামি হয়ে যাবে, তখন তারা কেয়ামতের দিন বলবে আমাদের কে এত কম হায়াত দিলে আর তাদের কে এত বেশি হায়াত দিলে, আমাদের কে বেশি হায়াত দিলে হয়ত আমরা ইমান আনতাম। তাই যুদ্ধের মাধ্যমে তাদেরকে বারবার আল্লাহ পাক শাস্তি দিয়ে সতর্ক করছেন।
    দ্বিতীয়ত : এটা মুসলমানদের জন্য একটা কঠিন পরিক্ষা , আল্লাহ পাক দেখতে চান কে সব কিছুর উপরে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলকে বেশি ভালবাসে। মুখে মুখে ইমানের দাবি করা খুব সহজ, কিন্তু মানুষের সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ- জীবন হাতে নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে হাজির হওয়া সহজ বিষয় নয়। মৃত্যু অবধারিত বিষয় ,কিন্তু নিজের ইচ্ছায় জীবন দিয়ে দেয়া খুবই কঠিন।
    কোন মানুষই যুদ্ধ-বিগ্রহ পছন্দ করে না সবাই শান্তিতে দুনিয়া ভোগ করতে চায়, কিন্তু এ দুনিয়া ভোগ স্থায়ী কোন বিষয় নয়, এ দুনিয়ার এই যে সৌন্দর্য চাকচিক্ক এত সুখ হাসি আনন্দ ভোগ-বিলাস এগুলিতো কখন শেষ হয়না অথচ মানুষের জীবনটা শেষ হয়ে যায় কেন? পৃথিবীতে কেন এত সুখ-শান্তি এত সৌন্দর্য্য মায়া মমতা ভালবাসা অথচ হায়াত নেই, প্রতিটা মানুষ যা সে কামাই করে, তা কি সে ভোগ করে যেতে পারে? কেন পারে না?
    কারন এটা কোন ভোগের যায়গা নয়, আর মানুষের শরিরও এত ভোগের উপযুগি নয়, যা কিছু সে দেখে এই পৃথিবীতে, ভোগের আসল যায়গা তো পরকালে জান্নাতে সে পাবে।, সেখানে তার শরিরকে সমস্ত সুখ-শান্তি ভোগের উপযুগি করে তৈরি করা হবে হায়াতও দেয়া হবে অনন্তকাল, ফলে সে কখন বিষন্ন হবে না।

    1. এটা ভোগের জায়গা নয়, মরে গেলে
      এটা ভোগের জায়গা নয়, মরে গেলে পঁচা শরীর নিয়ে ভোগ করবেন। এজন্য এখন ১৩টা, মরার পর ৭২ টা। একটা মানুষের মৃত্যুর সাথে সব শেষ হয়ে যায়।

      আত্মার কোন অবয়ব নাই। তার ভোগেরও কোন দরকার নাই। ভোগ যা করার শারিরীক অবয়ব, মস্তিষ্ক সচল থাকা অবস্থায় করা উচিত। শরীর ও মস্তিস্কবিহীন ভোগের কল্পনা অলীক ধারনা মাত্র।

  2. ভালো লাগলো লেখাটা পড়ে।
    ভালো লাগলো লেখাটা পড়ে। কিন্তু চোখ বুঁজে থাকার পর্বটা মনে হয় এখনও কাটেনি। যুক্তিকে মনের বাইরে ঠেকিয়ে অন্ধত্বের সুখে সুখীরা এখনও বেশ সুখেই আছে।

  3. একবারও কি মনে প্রশ্নজাগে না
    একবারও কি মনে প্রশ্নজাগে না পৃথিবীর এত অনন্ত সুখ কেন ছেড়ে যেতে হয় ? সবইতো ঠিক থাকে শুধু আমরা কেন চলে যাই ? আমরা কেন অপাংতেও হয়ে যাই সকলের কাছে? কেন আমাদের সন্তানরাও বাধ্য হয় এক সময় আমাদের মৃত্যু কামনা করতে? কেন মানুষ অসহায়ের মত তাকিয়ে থাকে মৃত্যু পথ যাত্রীর দিকে কেন বেরিয়ে যাওয়া প্রান বায়ু ফিরিয়ে আনতে পারেনা পুনরায় তার দেহে ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

51 − 45 =