রক্ত দিয়ে শোধ করলেন ভালোবাসার ঋণ

“অামার বাঙালী অাজ স্বাধীন, অামার বাঙালী অাজ মুক্ত। ভায়েরা অামার, তোমাদের রক্তে দেশ স্বাধীন হয়েছে, অামি মুক্ত হয়েছি। অামি কৃতজ্ঞ, ঋণী। রক্ত দিয়ে হলেও এ ঋণ শোধ করবো।” কথা রেখেছেন, পরিবারের সবার রক্তে সে ঋণ শোধ করে গেছেন। দেশের মানুষকে ভালবাসার জন্য এমন চড়া মূল্য বঙ্গবন্ধুকে ছাড়া কোথায়, কে দিয়েছে জানিনা। জাতির পিতা তোমাকে সেল্যুট।

সদ্য-স্বাধীন দেশের মাটিতে ফিরে অত্যন্ত অাবেগতাড়িত হয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধু। কান্নাভেজা কণ্ঠে সবাইকে জড়িয়ে ধরছেন অার ঘন ঘন চোখ মুছেন। যেন কত যুগ পর দেখছেন তাঁর প্রিয় জনগনকে। তাঁর যে স্ত্রী-পুত্র-কন্যা অাছে তা বেমালুম ভুলে গেছেন। হবে না-ই বা কেন, সাতকোটি বাঙালীর সবাই তো তাঁর পরিবারের সদস্য। তাঁর কি ব্যক্তিগত পরিবার-পরিজন নিয়ে ভাবলে চলে?

চারদিকে শুধুই ধ্বংসজজ্ঞ, শুন্য রাজকোষ, সাহসে ভর করে শুরু হলো দেশ গড়ার কাজ। প্রতিটি বক্তৃতায় তিনি মানুষের সাহায্য চাইলেন। বললেন, “এই মুহুর্তে কিছুই দিতে পারবো না অামি। অাগে দেশটা গড়ি, তারপরে সকলের চাহিদাও মিটাবো।” কিন্তু এই সরল কথার উল্টো অর্থ করলো বিরুদ্ধবাদিরা। দায়িত্বের মানুষও দেশবিরোধি কর্মকান্ড শুরু করলো। মন্ত্রীসভার অনেকে লিপ্ত হলো গোপন ষড়যন্ত্রে।

তিয়াত্তরে অনাবৃষ্টি, ৭৪’র বন্যায় নাজুক বাংলাদেশ। প্রানহানির খবর বাড়িয়ে প্রচার হয় গণমাধ্যম। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশকে পি.এল. ৪৮০-এর অাওতায় গম সাহায্য দিলেও দুর্ভাগ্যক্রমে অামাদের গম মাঝ সমুদ্র থেকে ফিরিয়ে নেয় অামেরিকা, উদ্দেশ্য বঙ্গবন্ধুর সরকারকে অজনপ্রিয় করা, যা অান্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।

বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রীসভার মীরজাফর মোশতাক সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। ‘সিনিয়র হয়েও বঙ্গবন্ধুর অান্ডারে মন্ত্রী’ এটি সে মানতে পারেনি। এই পরশ্রীকাতরের সাথে যুক্ত হলো জিয়ার মতো কুলাঙ্গার। ব্যস, দুয়ে দুয়ে চার, এর সাথে পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ তো ছিলই। ঘটলো মর্মান্তিক ১৫ অাগস্ট, অামরা হারালাম জাতির পিতা, বিশ্ব হারাল, মানবদরদী মহামানবকে। হে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, তোমার মৃত্যুদিবস সামনে রেখে তোমার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।

খোরশেদ আলম, লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 4