ভুয়া সিমকার্ড নিয়ে জালিয়াত চক্রের রমরমা ব্যবসা

মোবাইল ফোনের সিমকার্ড বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পুনঃনিবন্ধনের যে বিশাল কর্মকাণ্ড সরকার সম্প্রতি সম্পন্ন করেছে, তার উদ্দেশ্যকে কার্যত ব্যর্থ করে দিচ্ছে এক বা একাধিক জালিয়াত চক্র। তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কৌশলে একাধিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে নাম, ঠিকানা ও ছবি জালিয়াতি করে বিক্রি করছে প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিম। জানা গেছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬৫০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে এসব ভুয়া সিম পাওয়া যাচ্ছে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে সিমগুলো সচল। অর্থাৎ কেনার সঙ্গে সঙ্গে যে কেউ এর অপব্যবহার করতে পারবে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ এসব সিমকার্ড সন্ত্রাসী তৎপরতা, অর্থ আত্মসাৎ, চাঁদাবাজি ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কাছে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যেই এটি করা হয়েছে। ফলে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম পুনঃনিবন্ধনের সরকারের মূল উদ্দেশ্যটিই ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।গত জুনে রাজধানী ঢাকা ও ময়মনসিংহ শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার সিমকার্ড জব্দ করে পুলিশ। আটক করা হয় বেশ কয়েকজনকে। তখনই আন্দাজ করা গিয়েছিল, এভাবে সারা দেশেই সিম নিবন্ধনে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। সে সময় খবরে জানা যায়, অসাধু উপায়ে নেয়া আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে যেসব সিম সচল রাখা হয়েছে, সেসব সিম বন্ধ করতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে বিটিআরসি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এ অভিযান সত্ত্বেও টাকা দিলে সহজেই এসব ভুয়া সিম মিলছে। এতে বোঝা যায়, শুধু অভিযান চালিয়ে এ অপকর্ম রোধ করা যাবে না। কেননা অভিযান চালিয়ে হয়তো সচল সিমগুলো জব্দ করে নিষ্ক্রিয় করা যাবে; কিন্তু যেসব অবৈধ সিম এখন হয়তো সচল রাখা হয়নি, তবে পরে সচল করে অপরাধকর্মে ব্যবহার হতে পারে। ফোন কোম্পানিগুলোর কারও না কারও সম্পৃক্ততা ছাড়া এভাবে প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিম পাওয়া সম্ভব নয়। আমরা মনে করি, যারাই এ অপকর্মে জড়িত থাকুক না কেন, তারা ভয়াবহ অসৎ উদ্দেশ্য নিয়েই তা করেছে। এর সঙ্গে জনগণ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। কাজেই এ অপরাধীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 87 = 92