বলগারদের মিথ্যাবাদিতা ও ধর্মের রাজনীতি নিয়ে কিছু আবলামী চিন্তা –

ব্লগাররা এক এক জন এক একটা হারামী । তারা শুধু মিথ্যা লেখে, তারা প্রায় বেশীর ভাগই বংগবন্ধুকে ভালবাসে কিন্তু তার সমালোচনা করে । এইডা কি কোন ভালবাসা হইল ? এরা জানে না যে অন্ধের মত ভালবাসাকেই আমাদের দেশে প্রকৃত ভালবাসা বলে, সমালোচনা মানেই বিরোধিতা । স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজাকাররা ধর্ম নিয়ে কিছু বলেছে ? বলে নাই। গনিমতের মাল বলে ইসলামে কিচ্ছু আছে ? নাই । অথচ ব্লগাররা গনিমত, বুদ্ধিজীবি নিধন, হত্যা, গুম, ধর্ষনের মত মিথ্যা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে , ইসলাম অনুভুতিতে আঘাত দেয় । তারা জানেই না যে , হত্যা, ধর্ষন, জ্বালাও পোড়াও সবই ঐ কাফের ভারতীয় সৈন্যরাই করেছিল । আরে বাবা স্বাধীনতা যুদ্ধে যদি ধর্মকে ব্যবহার করেই তারা খ্রাপ কিছু করত তাইলে কি স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু স্বয়ং ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিতে পাকিস্তানে যেতো ? উনি কি শুধুই বাংগালী ছিলেন ! ধার্মিক মুসলিম ছিলেন না ? স্বাধীনতার আগে বাংগালী থাকলেও স্বাধীনতার পরে অবশ্যই উনি আগে মুসলিম ছিলেন পরে বাংগালী হয়েছিলেন , প্রমান হিসাবে স্বাধীনতা যুদ্ধের আগের উনার ভাষন ও ১০ই জানিয়ারী ১৯৭২ এর ভাষণএর ভিডিও । এই ভাষণে কিন্তু তিনি নিজেকে সবার আগে মুসলিম বলেই পরিচয় দিয়েছেন । উনি বলেছিলেন – আমি মুসলমান, আমি বাংগালী ,মুসলমান একবার মরে দুবার মরে না । কিছুদিন আগেই লীগের একজন নেতা তথ্য দিয়েছেন – বঙ্গবন্ধু আরব থেকে আগত খাঁটি মুসলিম পরিবারের সদস্য । তাইলে তিনি নিশ্চয় জানতেন ইসলামে হত্যা, ধর্ষন কিছুই নাই । তাই না ? তাইলে ব্লগাররা মিথ্যা বলে কেন সেটাই বুঝি না । বর্তমানে যারা নিজেদেরকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক বা সেনাপতি ভাবছেন তারাও কিন্তু সেই একই লাইনেই আছেন ।

বঙ্গবন্ধু জেলখানায় বসে বসে নামাজ আদায় করেছেন ও আল্লাহর কাছে দেশের স্বাধীনতার জন্য মোনাজাত করেছেন বলেই তো দেশ স্বাধীন হইছে । তা না হলে কি একটা শক্তিশালী রাষ্ট্রের নিয়মিত বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা এই ভেতো বাংগালীর বাপের সাধ্যি ছিল ? উনি আল্লাহর কাছে মুনাজাতের ফল হিসাবে স্বাধীনতা পেয়েছিলেন বলেই তাড়াতাড়ি ইসলামিক ফাউন্ডেশন গঠন করে আল্লাহর রহমত হাসিলের ব্যবস্থা করেছেন এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছেন । যার কারনে শুধু ইসলাম রক্ষার্থেই কবি দাউদ হায়দারকে শুন্য হাতে এক কাপড়ে দেশ থেকে বহিষ্কার হতে হয়েছিল । অথচ এই নাস্তিক ব্লগাররা এসবের কিছু না বলে শুধুই মিথ্যা তথ্য দেয় । বলে ভারতের সাহায্যেই নাকি এই দেশ স্বাধীন হইছে । কিন্তু এই কাফের অবিশ্বাসীরা জানে না আল্লাহর ঈশারা ছাড়া কিছুই হয় না । অতএব আমরাও চাই এই বাংলার প্রতিটা মানুষই যেন বঙ্গবন্ধুর মত ইসলামী আদর্শে আদর্শিত হোক । বঙ্গবন্ধু যেমন তাজউদ্দিনের মত পরীক্ষিত নেতাকে দূরে সরিয়ে দিয়ে চাটুকার পরিবেষ্ঠিত হয়েছিলেন তেমনি আমরাও তাই করে চলেছি এবং নিজেদের ঈমানদার হিসাবে প্রমান করছি ।

শুধু একটা বিষয় আমি বুঝি না , ইসলামের তাজ সৌদি আরব কেন ১৫ই আগষ্টের নারকীয় হত্যাকান্ডের পরেই বাংলাদেশকে স্বাধীন রাস্ট্র হিসাবে স্বীকৃতী দিয়েছিল ? তবে কি ইসলামের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল ১৫ই আগষ্টের হত্যা নীতি ? যে জুজুর ভয়ে আজ এই সরকারও ভীত ? অথচ ৭২-সালে বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্ব ছিল বিশ্বজনীন ও আকাশচুম্বী। তিনি সহজেই এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে ৩৭,০০০ বাংলাদেশ বিরোধী রাজাকার তথা যুদ্ধোপরাধীকে ‘নিধন’ করে দিয়ে দেশকে রাজাকার মুক্ত রাখতে পারতেন চিনের আদলে । তাহলে আজ বিচার নিয়ে এতো রাজনীতি ও দেশকে জিম্মি করার প্রশ্নই উঠতো না। একই ভাবে ইসলামী ফাউন্ডেশন না করে তিনি দেশে স্কুল-মাদ্রাসা কেন্দ্রিক নানাবিধ ‘জগাখিচুড়ী’ শিক্ষার বদলে চালু করতে পারতেন একই মানের ‘সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থা’ । যেখানে একই বইতে সবাইকেই সকল ধর্ম পড়াটা বাধ্যতা মূলক করতেও পারতেন । তাতে সবাই অন্য ধর্মকে যেমন জানতে পারতো ঠিক একই ভাবে ধর্মান্ধ হওয়ার হাত থেকেও জাতি রক্ষা পেত । সেই সময় উনার বিরধিতা করার কেউ ছিল না বরং তাতে উনার জন্মপ্রিয়তা অক্ষুন্ন থাকতো বলেই অনেকেই মত দেন । কিন্তু দুর্ভাগ্য জাতির!! তিনি তা না করে সহজ সরল মানুষের মত আলাহর উপরেই ভরসা রেখেছেন । পাশাপাশি ৫৪ ধারার “লাল ঘোড়া বাদড়িয়েছেন ”ভিন্ন মতাবলম্বীদের উপর । কারন উনি আইন শৃঙ্খলা ঠিক রাখার জন্য একদিকে যেমন ৫৪ ধারার মত অগনতান্ত্রিক আইনকে লালন করেছিলেন ঠিক তেমনি রক্ষী বাহিনিও মাঠে নামিয়েছিলেন ছেলেদের চুল কাটানোর জন্য এবং মেয়েদের পেটে আলকাতরা দেওয়ার জন্য ।

এই ব্লগারদের একটাই দোষ তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে অন্যের অনুভুতিতে আঘাত করে । রাজাকারদেরকে খারাপ বলে , অথচ ইতিহাস স্বাক্ষী “রাজাকারের তাজ” ইসলামের সেবক অধ্যাপক গোলাম আযমের জানাজায় লক্ষ লক্ষ মুসল্লী সশরীরে হাজির হয়েছে, তাকে বেহেস্তবাসী করার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশও করেছে । রাজাকাররা হত্যা, ধর্ষণ এসব জঘন্য কাজ করলে কি সাধারন মানুষ তার জান্নাতের জন্য দোয়া করত ? মুসলিমরা কি একেবারেই গাধা? তারা না বুঝেই ধর্ম পালন করে ? ওলামা মাশায়েখের চেয়েও কি এই নাস্তিক ব্লগাররা ইসলাম সম্মন্ধ্যে বেশী জানে ? এই ব্লগাররা জানে না, রাজাকারদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে ও ইসলাম ধর্ম কে হেয় করার জন্য ভারতের কাফের হিন্দুরাই এসব করিয়েছে । ওলামালীগও বংগবন্ধুকে জাতির পিতা মানে – এই তথ্যটা ব্লগাররা কোথাও বলে না কেন ? তাই আসুন সবাই মিলে এই হিন্দু ও নাস্তিকদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তুলে এই দেশকে হিন্দু, নাস্তিক ও ব্লগার মুক্ত করে এই সরকারকে চিরস্থায়ী করি । এবং ধার্মিক উতপাদন করে রাজাকারের তত্ত্বকে শক্তিশালী করি । সরকার বাহাদুর ও আল্লাহ আমাদের সহায় হউন , আমিন ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “বলগারদের মিথ্যাবাদিতা ও ধর্মের রাজনীতি নিয়ে কিছু আবলামী চিন্তা –

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

49 − 45 =