তাহমিদ জঙ্গী কিনা প্রমাণের জন্য কী কী সাক্ষ্য-তথ্য প্রয়োজন?

গুলশানের হোলি আর্টিজ্যান ক্যাফেতে জিহাদী সন্ত্রাসী হামলার পর সেখানে উপস্থিত ফারাজ হোসেন নামক আমেরিকায় পড়ুয়া এক যুবককে অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়া জগতের গোয়েন্দারা নিশ্চিত জঙ্গী স্বাভ্যস্ত করে। ফারাজ জঙ্গী ছিল কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানা যায় নি এখনও, তবে জঙ্গী পরিচয় নিয়েই তাকে কবরে যেতে হয়েছে। আমাদের জাতীয় মানসে সে সম্ভবত জঙ্গী হয়েই থাকবে; তার পিতা-মাতা, পরিবার-পরিজন থাকবে জঙ্গী জন্মদাতা, উৎপাদক কুলাঙ্গার হিসেবে।

আক্রান্ত ক্যাফে থেকে মুসলিম পরিচয়ে ১৩ জন জিম্মিকে জঙ্গীরা হত্যা না করে ছেড়ে দেয়, যাদের মধ্যে ছিল তাহমিদ হাসিব খান নামের ক্যানাডায় পড়াশোনা করা এক যুবক এবং হাসনাত করিম নামের নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন শিক্ষক। অনলাইন জগতে এ দু’জনও ইতিমধ্যে জঙ্গী স্বাভ্যস্ত হয়েছে। তবে সংবাদ মাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলাটিতে তাদের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে সন্দেহমূলক কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ হচ্ছে একে একে, যা অনলাইন গোয়েন্দা গোষ্ঠীকে শঙ্কিত করে তুলেছে। আতাত করে সরকার তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ার পায়তারায় এসব প্রচারণা চালাচ্ছে আশঙ্কা করছে তারা। জনগণকে তারা সোচ্চার হতে আহবান জানাচ্ছে, যাতে সুস্পষ্ট প্রমাণিত এসব জঙ্গীকে সরকার ছেড়ে দিতে না পারে। এদেরকে সম্ভব হলে বরং ক্রস ফায়ারের মাধ্যমে হত্যা করার প্রস্তাবও উত্থাপিত হচ্ছে।

তাহমিদের জঙ্গী হওয়ার সম্ভাবনা

তাহমিদের মত বয়সী মুসলিম যুবকদেরকেই জিহাদী সন্ত্রাসের দিকে ঝুকে পড়তে দেখে আসছি আমরা। এবং হোলি আর্টিজ্যান ক্যাফের পাশের বিল্ডিং থেকে ধারনকৃত কিছু স্থির ও ভিডিও চিত্রে আমরা দেখতে পাই অস্ত্র হাতে তাহমিদ ও অস্ত্রহীন হাসনাত করিম আরেক জঙ্গীর সাথে ক্যাফের ছাদে কথা বলছে। এসব চিত্র থেকে তাহমিদের জঙ্গীদের অংশ হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা জাগে।

কিছু প্রতিবেদনে দাবী করা হয়েছে যে, সরকারী গোয়েন্দারা এসব চিত্র থেকে নিশ্চিত হয়েছে যে, তাহমিদ ও হাসনাত করিম দু’জনেই জঙ্গীদের অংশ ছিল। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা হাসনাত করিমকে জঙ্গী আক্রমণটির মূল হোতা (মাস্টারমাইন্ড) হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলেও দাবী করেছে কিছু প্রতিবেদন। তাদের মতে ছাদের ঐ আলাপে হাসনাত করিম জঙ্গীদেরকে চূড়ান্ত পরামর্শ দিচ্ছিলেন ক্যাফে থেকে বের হয়ে আসার আগে।

ওদিকে ক্যাফের ছাদে অস্ত্র হাতে তাহমিদের ছবি/ভিডিও পরীক্ষা করে ইংল্যান্ডের শারীরিক ভাবভঙ্গী নিরিক্ষক (বডি-ল্যাংগুয়েজ স্পেশালিস্ট) ইন্ডিয়া ফোর্ড রায় দিয়েছেন যে, তাহমিদ আসলে জঙ্গী নয়, সে ছিল পরিস্থিতির শিকার, জঙ্গীরা তাহমিদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিল এবং প্রাণ বাঁচাতে তাহমিদ অস্ত্র তুলে নিতে বাধ্য হয়েছিল। ফোর্ডের মতে, তাহমিদের শরীর ও মুখের ভাবভঙ্গীতে জিহাদী জোশ প্রতিফলিত হয় না, তাকে অস্ত্র চালাতে পারদর্শীও মনে হয় না ইত্যাদি।

ইন্ডিয়া ফোর্ডের পর্যবেক্ষণ সঠিক হলেও তাহমিদের জঙ্গীর হওয়ার সম্ভাবনা নাই হয়ে যায় না। ফোর্ডের পর্যবেক্ষণ বিবেচণায় নিলে হামলাটিতে তাহমিদের সংশ্লিষ্টতার দু’টো সম্ভাবনা থাকেঃ

(সম্ভাবনা ১) ফোর্ডের শারীরিক পর্যবেক্ষণ সঠিক, তবুও তাহমিদ জঙ্গীঃ ক্যাফের ছাদে তাহমিদের ছবিগুলো পর্যবেক্ষণ করলে কারও কারও চোখে ইন্ডিয়া ফোর্ডের মত অস্বাভাবিক কিছু পরিলক্ষিত হতেও পারে! তবে তার জঙ্গী হওয়া সত্ত্বেও এমনটা হতে পারে। ধর্মের সেবা বা জিহাদের আবেগের বশে নির্মম রক্তাক্ত ঘটনাটি ঘটানোর পর ১০-১২ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। এখন সে বুঝতে পেরেছে তাদের প্রাণে বাঁচার আর কোন সম্ভাবনা নেই। জীবনটা কি এখানেই শেষ হয়ে যাবে? বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধবরা, কী ভাবছে বা কী ভাববে? এরকম অনেক প্রশ্ন জঙ্গীদের কারও কারও মনে দোলা দিতে পারে। হয়ত এমনটা ঘটেছিল তাহমিদের মনে – যার প্রতিফলন শরীরের ভাবভঙ্গীতে, যা ইন্ডিয়া ফোর্ডের নিরিক্ষণে ধরা পড়েছে।

(সম্ভাবনা ২) ফোর্ডের শারীরিক পর্যবেক্ষণ সঠিক এবং তাহমিদ জঙ্গী নয়ঃ আমরা জেনেছি যে, তথাকথিত জিহাদী সন্ত্রাসীরা ক্যাফেতে ঢুকেই ইউরোপীয় ও জাপানীদেরকে হত্যা করে। এক জিম্মির ভাষ্য মতে, জঙ্গীরা ঘোষণা দেয়ঃ ‘আমাদের বিবেচনায় আপনারা যদি কাফের না হন, তাহলে আমরা আপনাদের কোনও ক্ষতি করবো না’।

যারা বাংলাদেশীদের মত দেখতে এবং নিজেদেরকে মুসলিম দাবী করেছে, তাদেরকে জঙ্গীরা হত্যা করে নি। ঢাকায় বসবাসকারী সাত প্রকাশ নামক এক ভারতীয় এবং এক শ্রীলঙ্কান দম্পতি – যারা কিছুটা বাংলা জানতো – নিজেদেরকে মুসলিম দাবী করে প্রাণে বেঁচে যায়। ফারাজের বান্ধবী আবিন্দা কবীর ও আরেক মহিলাকে মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও হত্যা করা হয় সম্ভবত তাদের গায়ে অনৈসলামিক পশ্চিমা বেশভূষার কারণে।

তাহমিদ মুসলিম হওয়ায় সঙ্গত কারণেই জঙ্গীরা তাকে হত্যা করে নি। তবে তাহমিদের ছিল আরেক সমস্যা। সে হামলাকারী জিহাদীদের মতই তারুণ্যে ভরা মুসলিম যুবক। আল্লাহর রাহে জিহাদ করা তার মত মুসলিম যুবকদের ধর্মীয় দায়িত্ব। ইসলামের শুরুতে তার মত যুবকেরা নবী (সঃ) পরিচালিত জিহাদী যুদ্ধে অগ্রনী ভূমিকা রাখতো। বদরের যুদ্ধে নবীর উৎসাহে এক নবীন জিহাদীকে দেহরক্ষাকারী বর্ম ছুড়ে ফেলে দিয়ে শত্রুদের উপর ঝাপিয়ে দেখি আমরা (Ibn Ishaq, The Life of Muhammad, p. 300)। আল্লাহ বলেছেন, জিহাদ করার দায়িত্ব মুসলিমদের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে, যদিও তা তাদের অপছন্দ হতে পারে (কোরান ২/২১৬)। কোরান বলছে, আল্লাহ মোমিনদের জান ও মাল কিনে নিয়েছেন, তারা শুধুই আল্লাহর রাহে জিহাদে কোতল করবে ও কোতল হবে (কোরান ৯/১১১)। তাবুক যুদ্ধে যেতে অনিচ্ছুক নবীর কিছু সাহাবাকে আল্লাহ কাফের ও মুনাফেক আখ্যা দিয়েছেন, যাদের জন্য আছে ইহকাল ও পরকালে আল্লাহর শাস্তি (কোরান ৯/৩৮-৩৯)।

কাজেই জঙ্গীরা তাহমিদকে শর্ত দিয়ে থাকতে পারে যে, তাকেও তাদের সাথে জিহাদে যোগ দিতে হবে, যা তার ধর্মীয় দায়িত্ব। এমন কিছু ঘটে থাকলে প্রাণ বাঁচাতে তাহমিদের অস্ত্র তুলে নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।

কাজেই তাহমিদের হাতের অস্ত্রটি যে তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় নি – সেটা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

তাহমিদকে জঙ্গী স্বাভ্যস্ত করতে কী কী সাক্ষ্য-প্রমাণ দরকার

(১) বেঁচে যাওয়া জিম্মিদের সাক্ষ্যঃ আক্রান্ত ক্যাফেটি থেকে ১৩ জন জিম্মি জীবন্ত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। তাহমিদ জঙ্গীদের অংশ ছিল কিনা, তা নিশ্চিত করতে দরকার এসব জিম্মিদের মধ্য থেকে এক বা একাধিক ব্যক্তির সাক্ষ্য। সাক্ষী হিসেবে ভারতীয় নাগরিক সাত প্রকাশ ও শ্রীলঙ্কান দম্পতিটি বেশী গ্রহণযোগ্য, কেননা তারা অমুসলিম। হতে পারে যে, জিম্মিরা সকলেই জঙ্গীদের সহযোগী ছিল এবং জোট বেধে সেখানে হাজির হয়েছিল জিহাদী খেলা উপভোগ করতে – যদিও এমনটা প্রায় অসম্ভব মনে হয়। গোয়েন্দা সংস্থার উচিত জিম্মিদের মধ্য থেকে সাত প্রকাশ বা শ্রীলঙ্কান সম্পতিটির সাক্ষ্যর উপর জোর দেওয়া। তাহমিদ (সেই সাথে হাসনাত করিম ও অন্য জিম্মিরা) জঙ্গীদের সহযোগী ছিল কিনা, সে বিষয়ে তাদেরকে যতটা সম্ভব বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা।

(২) জঙ্গীদের সাথে তাহমিদের পূর্ব সংযোগঃ হোলি আর্টিজ্যান কাফেতে হামলার মত বড় সন্ত্রাসী ঘটনার গোয়েন্দা অনুসন্ধানের বড় অংশ ঘটনাটির পরিকল্পনা পর্ব। এবং পরিকল্পনা পর্বের একটা বড় অংশ জড়িত সন্ত্রাসীদের মাঝে পূর্ব যোগাযোগ। এমন বড় সন্ত্রাসী কর্মের পরিকল্পনা পর্বে জড়িত জঙ্গীদের মাঝে বিস্তর যোগাযোগ হওয়া অপরিহার্য। হামলার আগে তাহমিদের সাথে মৃত জঙ্গীদের হয়েছে কিনা, কবে, কোথায়, কিভাবে যোগাযোগ হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তারা এক সাথে থেকেছে কিনা, একসাথে কোন রেস্টুরেন্ট বা ক্যাফেতে সাক্ষাত করে মন্ত্রনায় লিপ্ত হয়েছে কিনা, কিংবা ফোন, ইমেইল বা স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে বাকী জঙ্গীদের সাথে তাহমিদের কোন যোগাযোগ হয়েছে কিনা – এ রকম যাবতীয় তথ্য খতিয়ে দেখতে হবে। মৃত জঙ্গীদের কারও সাথে তাহমিদের পূর্ব যোগাযোগের কোন সাক্ষ্য পাওয়া গেলে আমরা প্রায় নিশ্চিত হতে পারি যে, ক্যাফের ছাদে তাহমিদের হাতের অস্ত্রটি তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় নি।

অবশ্য আক্রমণের সময় ক্যাফেটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা সক্রিয় থাকলে, তাতে ধারনকৃত তথ্য গোয়েন্দা অনুসন্ধানে খুবই সহায়ক হতো। মনে হচ্ছে, সিসিটিভি সক্রিয় ছিল না।
পরিশেষে বলতে হয়, তাহমিদের হাতের অস্ত্রটি তার উপর চাপিয়ের দেওয়ার অল্প হলেও সম্ভাবনা রয়েছে। সে সম্ভাবনাটুকু দূর করতে উপরোক্ত দু’টি সাক্ষ্যর অন্তত একটি অপরিহার্য।

ওদিকে হাসনাত করিমের স্ত্রী ও পরিবার দাবী করছে যে, হাসনাত করিম নির্দোষ। দাবীকৃত একাধিক জিম্মির সাক্ষ্যও তাকে দোষী স্বাভ্যস্ত করণের অনুকূল নয় সাক্ষ্য)। শোনা যায়, হাসনাত করিম হিজবুত তাহরীর-এর সদস্য। এটা সত্যি হলে ঘটনায় তার জড়িত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এমন সাংঘাতিক একটা সন্ত্রাসী আক্রমণের মাস্টারমাইন্ড নিজে, এমনকি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে আক্রমণটি পরিচালনা করবেন – এটা খুবই অস্বাভাবিক, তার জন্য চরম বোকামীর পরিচয় বহন করে। হাসনাত করিম সত্যি সত্যি মাস্টারমাইন্ড হয়ে থাকলে বেচে যাওয়া জিম্মিদের সাক্ষ্যই যথেষ্ট নয়, কেননা সেখানে তার ভাবভঙ্গী ছিল পূর্ব-পরিকল্পিত। তাকে দোষী স্বাভ্যস্ত করতে পরিকল্পনা পর্যায়ে তথা ঘটনার আগে এক বা একাধিক জঙ্গীর সাথে তার যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য উদ্ধার করা জরুরী।

এক কঠিন সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ আজ। এ সঙ্কট মানব প্রবৃত্তির অন্তর্নিহিত সাধারণ অপরাধ প্রবণতা প্রসূত নয়,; তা আদর্শিক এবং সে আদর্শের সূতোয় গাথা দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ। জাতির এ মহা-সঙ্কটের মুহূর্তের আমাদেরকে হতে হবে ধৈর্যশীল এবং আমাদের নিরাপত্তা সংস্থা সমূহকে হতে হবে সর্বোচ্চ চৌকস, পারঙ্গম – যাতে তারা প্রত্যেকটি সন্ত্রাসী ঘটনার সঠিক রহস্য উদ্ঘাটনে সক্ষম হয়। কোন নির্দোষ ব্যক্তি যেন অপরাধী স্বাভ্যস্ত না হয়, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তড়িঘড়ি করে নির্দোষ মানুষকে ফাসিতে ঝুলালে তা শুধু অন্যায়ই হবে না, অবিচারই হবে না, সন্ত্রাসী সঙ্কটকে আরও চাঙ্গা করে তুলার সমূহ সম্ভাবনাও রয়েছে। বিগত নির্বাচনের পর দেশের মাঠ-পর্যায়ের জনতা সিংহভাগ সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের প্রতি সন্দিহান। অনলাইন জগতের যেসব কর্মীদেরকে বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সমর্থক হতে দেখেছি, যে কোন মূল্যেই আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে উৎসাহী দেখেছি – তারাও আজ সরকারকে একদম বিশ্বাস করছে না। সরকারের প্রতি জনগণের এ অনাস্থার পরিবেশে বিগত ২-৩ বছরে দেশ হাজার-হাজার জঙ্গীর উর্বর ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে মনে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ৫ বছর পর লাখ-লাখ জঙ্গী সন্ত্রাসীর মোকাবিলা করতে হতে পারে জাতিকে।

জাতির এ সঙ্কটের মুহূর্তে চলমান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সফল মোকাবিলার জন্য এ বিষয়ে সরকার নেওয়া পদক্ষেপগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা অর্জন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, অপরিহার্য। কাজেই তাহমিদ হোলি আর্টিজ্যান ক্যাফে হামলার জঙ্গী চক্রের অংশ কিনা, দেশের দায়িত্বশীল নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যেন তা সম্ভাব্য সকল দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “তাহমিদ জঙ্গী কিনা প্রমাণের জন্য কী কী সাক্ষ্য-তথ্য প্রয়োজন?

  1. শুধুমাত্র শারিরীক ভাষার উপর
    শুধুমাত্র শারিরীক ভাষার উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্তে আসা ঠিক না। তাহমিদ এর সাথে জঙ্গিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অন্যান্য অনেক প্রমাণ দৃশ্যমান। এই ধরনের বড় অপারেশন চালানোর আগে দীর্ঘ মানসিক প্রস্ততি জঙ্গিরা নিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তাদের বডি ল্যাংগুয়েজ প্রতারিত করতে পারে।

    আপনার বিশ্লেষনগুলো চমৎকার।

    1. ধন্যবাদ। হ্যা, অনেক কিছুই
      ধন্যবাদ। হ্যা, অনেক কিছুই সম্ভব। আশা করি, দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনার মূলে পৌছাতে পারবে। এবং প্রকৃত ঘটনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবে। তার আগে ফারাজ, তাহমিদ কিংবা অন্য কাউকেই দোষী/জঙ্গী বলব না।

      1. এখন পর্যন্ত যতগুলো প্রমান
        এখন পর্যন্ত যতগুলো প্রমান দৃশ্যমান সেসব বিশ্লেষন করলে তাহমিদকে কি জঙ্গি হিসাবে প্রমান করা যায় না? আইন টাকায় বিকিকিন হয়। আইন ও তদন্তের উপর কিভাবে ভরসা করবেন?

        1. দৃশ্যমান প্রমানগুলো বিবেচনা
          দৃশ্যমান প্রমানগুলো বিবেচনা করেই এ বিশ্লেষণ। জঙ্গী তৎপরতা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তার উপর সরকারের ভাগ্য নির্ভরশীল। এরপরও যদি সরকার টাকা খেয়ে এদেরকে ছেড়ে দিয়ে নিজ পায়ে কুড়াল মারতে চায়, সেরকম বেকুব সরকারকে ক্ষমতায় বসানোও জাতির বেকুবির পরিচায়ক। সেক্ষেত্রে বেকুবির ফসল তুলি কিংবা সরকার উৎখাতের লড়াইয়ে নামি।

  2. আপনি ছবিতে যাকে তাহমিদ হিসেবে
    আপনি ছবিতে যাকে তাহমিদ হিসেবে চিন্হিত করেছেন, গলায় অস্ত্র ঝোলানো সেতো জঙ্গী রোহান । আর পাশে হাতে অস্ত্র নিয়ে দাড়িয়ে থাকা যুবক হচ্ছে তাহমিদ ।

  3. আমরা দেখতে পাই গলায় অস্ত্র

    আমরা দেখতে পাই গলায় অস্ত্র ঝুলিয়ে রাখা তাহমিদ ও অস্ত্রহীন হাসনাত করিম অস্ত্রধারী এক জঙ্গীর সাথে ক্যাফের ছাদে কথা বলছে

    এই লাইনের পর আর পড়ার ইচ্ছা হয় নাই। ছবিতে যারে মার্ক করেছেন সে “রোহান ইমতিয়াজ” আর যার হাতে অস্ত্র সে তাহমিদ।
    তাহমিদরে ভালো মত চিনেনই না, জংগী না সাধু এই কথা ক্যামনে বলেন? *mosking* *mosking*

    1. ধন্যবাদ। ব্যাপারটা নিয়ে
      ধন্যবাদ। ব্যাপারটা নিয়ে কিছুটা কনফিউজন ছিল। এডিট করে দিলাম।
      আমি কাউকে জঙ্গী বলি নি, সাধুও বলি নি। চলতি জঙ্গী-নির্দোষ বিতর্কের প্রেক্ষাপটে কি কি প্রমাণ দরকার তার উপর একটি আলোচনা মাত্র।

  4. আসলে এরা কেউ জঙ্গি না, আর এরা
    আসলে এরা কেউ জঙ্গি না, আর এরা কেউ বাংলাদেশের ছেলেও না। এসবই ইহুদি নাসারাদের ষড়যন্ত্র। মনে হয় এরা সবাই ইসরাইল থেকে এসেছে। আমাদের দেশের পুলিশ নিজেরা বাহবা নেয়ার জন্যে বানিয়ে বানিয়ে কিছু বাংলাদেশী ছেলেদের নিয়ে ভিডিও করে দেশের মানুষকে বোকা বানাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 5